Sunday, February 15, 2026
Dhaka, Bangladesh
শিরোনাম
সারা বাংলা রংপুরে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

রংপুরে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার সরেয়ারতলে যৌতুকের টাকা জন্য গৃহবধূ রেজোয়ানা দিল আফরোজকে (২৩) পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আব্দুল করিমের (২৮) বিরুদ্ধে। 

শনিবার দুপুরে নগরীর মাহিগঞ্জ থানার সামনে অপেক্ষার এ দৃশ্য অনেকেরই নজর কাড়ে। 

গৃহবধূর বাবার অভিযোগ, লাশ নিয়ে থানায় মামলার অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নিতে বিলম্ব করেছে। শুধু তাই নয়, ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে আদালতে মামলা দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন থানার ওসি। তবে মেয়ের লাশ বাড়িতে রেখে মামলা করতে থানার সামনে প্রায় ১২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন ওই গৃহবধূর বাবা ও স্বজনরা। 

ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগ সূত্র ধরে জানা গেছে, যৌতুকের টাকা না পেয়ে গত রোববার দুপুরে রেজোয়ানার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে মারা যান। রাতে লাশ নিয়ে বাসায় আসেন নিহতের পরিবার। এরপর এ ঘটনায় মামলা করতে যান মাহিগঞ্জ থানায়। কিন্তু শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা তারা থানায় অপেক্ষা করেছেন, তবুও মামলা রেকর্ড করা হয়নি।

নিহতের বাবা রেজাউল করিম ও স্বজনরা জানিয়েছেন, ঈদের পরদিন দুপুরে ঘরের দরজা বন্ধ করে হাত বেঁধে রেজোয়ানার গায়ে আগুন দেন তার স্বামী আব্দুল করিম। ওই সময় রেজোয়ানার বাবা জামাতার বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন। 

তাদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে যৌতুকের ৬ লাখ টাকার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন আব্দুল করিম। টাকার জন্য তাকে নানাভাবে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

রেজাউল করিম জানান, ঈদের দিন রাতে মেয়ের বাড়িতে কুরবানির মাংস নিয়ে গিয়েছিলেন। পরদিন দুপুরে তিনি খাওয়া-দাওয়া করে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় তার মেয়ে, জামাই ও তার মা খেতে বসেন। তিনি শুনতে পান তার মেয়ে বলছিলেন, ‘আমার খেতে বসেও শান্তি নাই।' তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন তার মেয়ে-জামাই সেখানে নেই। একটু পর ঘরের ভেতর থেকে তার মেয়ে চিত্কার করে ‘আমাকে বাঁচাও'। এ সময় তিনি ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করলে দেখেন ভেতর থেকে বন্ধ করা। পরে বারান্দায় গিয়ে দেখেন মেয়ের শরীরে আগুন জ্বলছে। সে নিজেকে বাঁচাতে চিত্কার করছিল। স্থানীয়রা সেখানে এসে পানি ঢেলে আগুন নেভায়। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সকরা তাত্ক্ষণিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেলে ৪ দিন চিকিত্সাধীন থাকার পর শুক্রবার ভোরে মেয়ে মারা যায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে আসার সময় ফোন করে পুলিশ তাদের নগরীর মাহিগঞ্জ থানায় যেতে বলে। স্বজনরা লাশ বাসায় রেখে থানায় আসেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মেয়ের স্বামী আব্দুল করিম, তার বোন পারভীন ও দুলাভাই ফখরুল সঙ্গে ছিলেন।

নিহতের চাচা মুকুল মিয়া বলেন, ভাতিজির মারা যাওয়ার খবর পেয়ে শুক্রবার তিনি থানায় যান। থানায় ওসিকে না পেয়ে তাকে ফোনে কল দিয়ে মামলা করবেন বলে জানান। কিন্তু ওসি তাকে বলেন, ‘আপনার ভাতিজি আত্মহত্যা করেছেন। এ মামলা নেওয়া যাবে না। আপনারা আদালতে গিয়ে মামলা করেন।'

অভিযোগ অস্বীকার করে মাহিগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এজাহারে তথ্যগত ভুলের জন্য থাকায় মামলা রেকর্ড করতে বিলম্ব হয়েছে। শুক্রবার রাতেই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এ নিয়ে বাদীপক্ষের ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়েছে। গৃহবধূর স্বামী আব্দুল করিম, বোন পারভীন ও দুলাভাই ফখরুল  ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) মারুফ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। ওসির বিরুদ্ধে মামলা বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত করে এ রকম কোনো ঘটনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।