Sunday, February 15, 2026
Dhaka, Bangladesh
শিরোনাম
জাতীয় শেখ হাসিনা-মোজাম্মেলসহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে আরও দুই হত্যা মামলা

শেখ হাসিনা-মোজাম্মেলসহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে আরও দুই হত্যা মামলা

জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় জড়িত থাকা ও প্ররোচনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খানসহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে কালিয়াকৈর থানায় আরও ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের আগমুহূর্তে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার একাডেমির ৩নং গেটের সামনে পাকা রাস্তার উপর পুলিশের গুলিতে নিহত হন দুইজন। তারা হলেন- স্থানীয় একটি বাড়ির নিরপত্তাকর্মী নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার নারাচাতল গ্রামের মো. রোস্তম মিয়া (৪৬) ও বগুড়া সদর থানার কুটুরবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার মজনু প্রামাণিকের ছেলে মো. মাহফুজ (৩৫)। মাহফুজ স্থানীয় ইন্টারসফট লিমিটেড কারখানার সুইং সেকশনে চাকরি করতেন।

নেত্রকোনার রোস্তম মিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সবার সম্পৃক্ততা ও সুনির্দিষ্ট অপরাধের ধরন উল্লেখ করে তার স্ত্রী শেফালী বেগম কালিয়াকৈর থানায় মামলাটি করেন গত ২ জুন।

এর আগে পোশাক কারখানার শ্রমিক মো. মাহফুজকে হত্যার ঘটনায় তার ভাই আপেল মাহমুদ বাদী হয়ে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩০ মে আবেদন করলে আদালতের বিচারক কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে মামলাটি রুজু করার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার আপেল মাহমুদ তার মামলায় উল্লেখ করেছেন, তার ভাই মো. মাহফুজ পরিবার নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকায় বসবাস করে ইন্টার সফট কারখানায় চাকরি করতেন। অন্যান্য দিনের মতো গত বছরের ৫ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কাজ থেকে বের হয়ে ছাত্র জনতার মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সফিপুর আনসার একাডেমির ৩নং গেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছালে মামলার আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাটিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর ও গুলি করতে থাকে। পরবর্তীতে তার ভাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ছোড়া গুলিতে মারা যান।

ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সরকার মোশারফ হোসেন, জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর আলী। এতে ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

অপরদিকে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার নারাচাতল গ্রামের মো. রোস্তম মিয়াকে হত্যার ঘটনায় বাদী শেফালী বেগম উল্লেখ করেছেন, তার স্বামী কালিয়াকৈর উপজেলার আহাম্মনগর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বড়িতে নিরাপত্তার কাজ করতেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে মিছিলে সফিপুর আনসার একাডেমির সামনে পৌঁছলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার স্বামীকে এলোপাতাড়ি মারধর ও গুলি করে হত্যা করে। ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান, কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুরাদ কবীর, মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মোশারফ হোসেন সিকদার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম আজাদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন, তার বড়ভাই সারোয়ার হোসেন, মৌচাক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রফিকুল ইসলামসহ ৩১৬ জন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হক জানান, দুইটি মামলা আদালতের নির্দেশে দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে শেখ হাসিনাকে। অন্যটিতে প্রধান আসামি করা হয়েছে আ ক ম মোজাম্মেল হককে।