Logo
শিরোনাম

১২ বছর অপেক্ষার পর এলো ভোট

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ৫৮জন দেখেছেন
Image

‘ঈদের দিনে মানুষ যেমন খুশি হয়, আইজ আমাগো হেমন খুশি লাগতেছে। আইজ ১২ বছর ধইরা নির্বাচন হয় না। অন্য এলাকা যেকানে নির্বাচন হইছে, টিভিতে দেখছি মানসে ভোট দেয়, হেই সময় খারাপ লাগছে।’

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়ন পরিষদের বিএলপি ডিগ্রি কলেজ ভোটকেন্দ্রে এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন ৫৫ বছর বয়সী জাহানারা বেগম।

১২ বছর অপেক্ষার পর এলো ভোট

তবে শুধু মৌকরন ইউনিয়নেই নয় সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের সবগুলোতেই ১২ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে লাউকাঠী ইউনিয়ন ভেঙে লাউকাঠী এবং মৌকরন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া, জৈনকাঠী এবং কালিকাপুর ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সীমানা জটিলতা ও মামলার কারণে গত ১২ বছরে এসব ইউনিয়নে নির্বাচন বন্ধ ছিল।

১২ বছর অপেক্ষার পর এলো ভোট

এই ধাপে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ছাড়াও কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলি, ধুলারসর এবং দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

১২ বছর অপেক্ষার পর এলো ভোট

বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৮টায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে ঘণ্টা বাজিয়ে ভোটগ্রহণ শুরুর বিষয়টি জানানো হয়। বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। এবার সব ইউনিয়নেই ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


আরও খবর



চাষের মাছ উৎপাদনে সেরা তিন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ | ১২জন দেখেছেন
Image

মৎস্য খাতে বাংলাদেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসারে অবদান রাখছে মৎস্য খাত। এছাড়াও বর্তমানে দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে মাছ।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বিশ্বে স্বাদুপানির মাছের ১১ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে। চাষের মাছ উৎপাদনে সেরা তিন দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকার অন্য দুই দেশ ভিয়েতনাম এবং মিশর।

মৎস্য আহরণ ও উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ তৃতীয়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম, ইলিশ আহরণে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে। ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার, ২০২২’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও চাষের মাছ উৎপাদনে তিনটি দেশ বিশ্বের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করছে। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম এবং আফ্রিকায় মিশর এই সাফল্য দেখিয়েছে।

বর্তমানে দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে মাছ। মাথাপিছু প্রতিদিন ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে মানুষ এখন ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম মাছ গ্রহণ করছে। দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এখন মৎস্য খাতের অবদান। বিগত ১২ বছরে মৎস্য খাতে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ দশমিক ১ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ৪৬ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছের অবদান ৬ দশমিক ৮১ লাখ মেট্রিক টন, যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

ইলিশ আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল

বিশ্বে ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের ১২ দশমিক ২২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের অধিক, যা একক প্রজাতি হিসেবে সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালে ‘বাংলাদেশের ইলিশ’ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই সনদ লাভ করেছে। ফলে পৃথিবীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের অধিক ইলিশ আহরণকারী বাংলাদেশ এখন থেকে বিশ্বে উপস্থাপিত হবে ইলিশের দেশ হিসেবে।

ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এবং উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা কর্মসূচি নিয়েছে। জাটকা সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের চার মাস ভিজিএফ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মা-ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুমে মোট ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন ও মজুত বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

jagonews24সরকারের নানা উদ্যোগে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে

সরকারের এ ব্যাপক কর্মযজ্ঞের কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ হয়েছে। এটি ২০১০-১১ অর্থবছরে ইলিশের মোট উৎপাদনের (৩ দশমিক ৪০ লাখ মেট্রিক টন) চেয়ে ৬৬ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। এছাড়াও ‘হিলশা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ফলে ইলিশের উৎপাদন ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৪-১৫ সাল পর্যন্ত গড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ফেরাতে উদ্যোগ

দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ বাঙালির পাতে ফিরিয়ে আনতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গবেষণা এবং উদ্ভাবনে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশীয় মাছ সংরক্ষণে এ পর্যন্ত ৩৬ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন কৌশল ও চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠা করেছে দেশীয় মাছের লাইভ জিন ব্যাংক। এই জিন ব্যাংকে এখন পর্যন্ত ১০২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সম্প্রতি দেশের ১০ জেলার ৪৯ উপজেলায় ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও চাষ সম্প্রসারণ, শামুক ও ঝিনুক সংরক্ষণ এবং মুক্তা চাষ সম্প্রসারণে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

jagonews24

বাংলাদেশে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি দ্রুত বর্ধনশীল ও প্রায় ২০ শতাংশ অধিক উৎপাদনশীল উন্নত জাতের ‘বিএফআরআই-সুবর্ণ রুই’ উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজাতি বৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে পোনা অবমুক্ত ও বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিপন্নপ্রায় মৎস্য প্রজাতির সংরক্ষণ, অবাধ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে ৪৯৪টি অভয়াশ্রম রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের রপ্তানি নিশ্চিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় তিনটি মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানি অব্যাহত রাখতে চাষি পর্যায়ে রোগমুক্ত এবং মানসম্পন্ন পোনা সরবরাহে কক্সবাজার, সাতক্ষীরা ও খুলনায় তিনটি পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মৎস্যচাষ পর্যায়ে ওষুধের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ‘অ্যাকোয়াকালচার মেডিসিনাল প্রোডাক্টস নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

রপ্তানিতে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের অবদান

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য। বর্তমানে বিশ্বের ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন এবং এসব পণ্যের রপ্তানি উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী কাঁকড়া, কুঁচিয়া ও সিউইডের চাষ সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান।

jagonews24২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম লাইভ জিন ব্যাংকের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

বাংলাদেশ থেকে প্রধানত গলদা, বাগদা, হরিণাসহ বিভিন্ন জাতের চিংড়ি; স্বাদুপানির মাছ যেমন- রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, টেংরা, বোয়াল, পাবদা, কৈ প্রভৃতি এবং সামুদ্রিক মাছের মধ্যে ভেটকি, দাতিনা, রূপচাঁদা, কাটল ফিশ, কাঁকড়া ইত্যাদি রপ্তানি হয়। এছাড়াও শুঁটকি মাছ, মাছের আঁশ এবং চিংড়ির খোলসও রপ্তানি হয়। বর্তমানে চাষসহ প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরিত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

রপ্তানি করা এসব মৎস্যজাত পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশই ভ্যালু অ্যাডেড প্রোডাক্টস। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত আইকিউএফ, কুকড, ফিশ ফিলেট ইত্যাদি ভ্যালু অ্যাডেড মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, চীনসহ বিশ্বের ৫২টি দেশে বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়। কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা থাকা সত্ত্বেও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ফলে সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৪ হাজার ৪২ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মাধ্যমে ৫ হাজার ১৯১ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা বিগত বছরের চেয়ে ২৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি।

১৯৭৪ সালে ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর মাধ্যমে সমুদ্র ও এর সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকারের দাবি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক জলসীমায় আমাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে।

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের মজুত নিরূপণ, এ খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি, যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন এবং গভীর সমুদ্রে মাছের টেকসই আহরণের মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব। এই লক্ষ্যে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উপকূলীয় জলাশয়ে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া ও সিউইড চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এ বিষয়ে কাজ করছে।

‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের আওতায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সর্বোত্তম আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরে এ পর্যন্ত ৩৮টি সার্ভে ক্রুজ পরিচালনা করা হয়েছে। আরভি ‘মীন সন্ধানী’ নামক মৎস্য গবেষণা ও জরিপ জাহাজের মাধ্যমে চালানো অনুসন্ধানে ৪৫৭ প্রজাতির মৎস্য ও মৎস্যজাতীয় প্রাণী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও সমুদ্রে টুনা ও পেলাজিক মৎস্য আহরণের জন্য আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় প্রতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের নৌযান দিয়ে মৎস্য আহরণ বন্ধ হচ্ছে। ফলে বঙ্গোপসাগরে বিলুপ্তপ্রায় মাছের মজুত বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন মাছ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছে। সরকার গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে সামুদ্র্রিক মাছের উৎপাদন ৬ দশমিক ৮১ লাখ মেট্রিক টনে উন্নিত হয়েছে, যা ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট উৎপাদনের (৫ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন) চেয়ে ২৪ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।

jagonews24সাগরের মাছ আহরণ ও রপ্তানিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রোজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, দেশের মৎস্য খাতে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় সরকারের সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ, মৎস্য গবেষণার উন্নয়ন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্যোগে দেশীয় মাছের লাইভ জিন ব্যাংক করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ১০২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। দেশের কোনো অঞ্চল থেকে কোনো বিশেষ প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেলে জিন ব্যাংক থেকে সেসব অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া মাছ আবার চাষ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজাতি-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে পোনা অবমুক্তি ও বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে আমরা মাছে-ভাতে বাঙালির পুরনো ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চাই।

পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে আমরা মৎস্য খাতকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তবে শুধু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, বরং মানসম্মত ও নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও সরবরাহে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ, উত্তম মৎস্য চাষ অনুশীলনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে- যোগ করেন মন্ত্রী।


আরও খবর



ট্রেনে চড়লো ষাঁড়!

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ | ১৯জন দেখেছেন
Image

চার-পাঁচজন সাধারণ যাত্রীর মতো ট্রেনে চড়েছে একটি ষাঁড়। এমন দৃশ্যই ধরা পড়েছে ঝাড়খণ্ড-বিহারগামী একটি যাত্রিবাহী ট্রেনের কামরায়।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, মির্জা চৌকি স্টেশনে ১০-১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক ট্রেনের মধ্যে ষাঁড়টিকে তুলে দেন। শুধু তাই নয়, ষাঁড়টিকে সাহেবগঞ্জ স্টেশনে নামানোর জন্য যাত্রীদের বলেন তারা।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের কামরায় বাঁধা রয়েছে একটি ষাঁড়। ষাঁড় দেখে অনেকে আতঙ্কে ওই কামরা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন।


আরও খবর



৯ আসনে একাই লড়বেন ইমরান খান, পাকিস্তানের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ১৫জন দেখেছেন
Image

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে খালি হওয়া নয়টি আসনের উপ-নির্বাচনে একই লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, যা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হতে যাচ্ছে। কারণ এর আগে কোনো প্রার্থী এক সঙ্গে এতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। এরই মধ্যে মনোনয়পত্র দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ। খবর জিও নিউজের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি পাঞ্জাবের উপ-নির্বাচনের পর পাকিস্তানের রাজনীতিতে এ নির্বাচনকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের জন্য এটি আরও একটি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। কারণ পাঞ্জাবে বড় জয় পেয়েছে ইমরানের দল।

জানা গেছে, ইমরান খান মারদান, চরসাদ্দা, পেশোয়ার, কুররাম, ফয়সালাবাদ, নানকানা, মালির, কোরাঙ্গি ও করাচি দক্ষিণ আসনে নির্বাচন করবেন।

এক প্রার্থী কত সংখ্যক আসনে লড়বেন, এ নিয়ে কোনো আইনি বিধিনিষেধ নেই পাকিস্তানে।
তবে নির্বাচনের পর শুধু মাত্র একটি আসনই দখলে রাখতে পারবেন কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এ ক্ষেত্রে যদি একের বেশি আসনে জেতেন ইমরান, তা হলে বাকি আসনগুলিতে আবারও নির্বাচন করতে হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বাকি আসনে নির্বাচন করতে হবে কমিশনকে।

অনাস্থা ভোটে ইমরানের পরাজয়ের পর গত ১১ এপ্রিল কমপক্ষে ১২৩ জন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের নেতা পদত্যাগ করেন। গত ২৮ জুলাই তাদের মধ্যে ১১ জনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন স্পিকার। ওই ১১ আসনের মধ্যে দুটি আসনে দুই জনপ্রতিনিধি এরই মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন।

তাই বাকি ৯ আসনে নির্বাচন ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এই ৯ আসনে উপ-নির্বাচন।


আরও খবর



‘রাখি বন্ধনে’ শেখ হাসিনাকে উপহার পাঠালো ভারত

প্রকাশিত:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ১১জন দেখেছেন
Image

‘রাখি বন্ধন’ উৎসব উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার পাঠিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে দুটি প্যাকেটে উপহারগুলো বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করেন বনগাঁ পৌরসভার মেয়র। এ সময় উভয় দেশের জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপহার প্রদানের সময় ভারতের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পে উপস্থিত হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ পৌরসভার মেয়র গোপাল শেঠ।

jagonews24

বাংলাদেশের পক্ষে উপহার গ্রহণ করেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন। এ সময় ভারত থেকে আসা প্রতিনিধি দলের প্রত্যেককে উপহার প্রদান করা হয় সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে।

উপহার গ্রহণকালে সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, ‘রাখি বন্ধন’ উৎসবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পাশাপাশি আমরাও ভারত থেকে আসা ভারতীয় প্রতিনিধিদেরকে উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ সুসংহত রাখতে উভয় দেশ বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবগুলোতে একে অপরকে মিষ্টি ও বিভিন্ন সামগ্রী উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকে। এমন কর্মকাণ্ডের ফলে দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা করেন।


আরও খবর



বগুড়ায় কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় কিশোর গ্রেফতার

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

বগুড়ার শেরপুরে স্কুল পড়ুয়া কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পরে এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলা করেছেন। সেই মামলায় ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরকে গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে গত ৮ জুন বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ করে ওই কিশোর। একইভাবে গত রোববার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে একই কিশোর। এসময় কিশোরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে আটক করে। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর আটক কিশোরকে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।

কিশোরীর মা বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। সেই টাকা দিয়েই সংসার চালান। তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ওই কিশোর তার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করেন তিনি।

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সোমবার দুপুরেই বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেইসঙ্গে স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতে আটক কিশোরকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর