Logo
শিরোনাম

১৭ বছর বয়সে মা হওয়া নিয়ে যা বললেন শ্রাবন্তী

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪২জন দেখেছেন
Image

টলিউডের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। মাত্র ১০ বছর বয়সে কলকাতার ছবিতে অভিষেক ঘটে এ অভিনেত্রীর। এই কয়েক বছরের মধ্যে নিজেকে নায়িকা রূপে প্রতিষ্ঠিতও করে ফেলেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের এমন উঠতি পর্যায়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন নির্মাতা রাজীব বিশ্বাসের সঙ্গে শ্রাবন্তী।

বিয়ের এক বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৭ বছর বয়সে তার কোলজুড়ে আসে সন্তান অভিমন্যু চ্যাটার্জি ওরফে ঝিনুক। বলিউড, টালিউড ও ঢালিউডে ১৭ বছরের নায়িকার মা হওয়ার রেকর্ড হয়তো নেই।

এ বয়সে মা হলেও নায়িকা হিসেবে ঠিকই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন শ্রাবন্তী। টালিউডে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন পাকাপোক্তভাবেই। এরই মধ্যে ছেলেও বড় করেছেন।

ভারতের এক গণমাধ্যমকে শ্রাবন্তী বলেন, ‘আমি যে কত কম বয়সে মা হয়েছি! এখন ভাবলেই কেমন লাগে। তবে আমি ওর মা, আমিই ওর বাবা। এভাবেই আমাদের দুজনের জীবন এগিয়েছে। আমার ছেলেও খুব পরিণত। আমার সব পদক্ষেপে ঝিনুক পাশে থাকে।’

ঝিনুক এখন অনেক বড় হয়েছে। চুটিয়ে প্রেমও করছে সে। অভিমন্যুর প্রেমিকা মডেল দামিনী ঘোষ।

ঝিনুককে কদিন আগে দেখা গিয়েছিল শ্রীজাতের ‘মানবজমিন’ ছবির সেটে। তাই প্রশ্ন উঠে— মায়ের পথ ধরে ছেলেও সিনেমাজগতে আসবে?

শ্রাবন্তী বলেন, ‘ঝিনুক ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করবে। তবে ক্যামেরার সামনে নয়। ক্যামেরার পেছনে। কিছু দিন আগে তো সহকারী হিসেবে শ্রীজাতের সঙ্গে কাজ করল। তবে এখন পড়াশোনার খুব চাপ, আগে ওটা সামলাক। তারপর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করবে। হ্যাঁ, মা নয় পেশা হিসাবে বাবার পথেই হাঁটতে চায় অভিমন্যু।’

২০০৩ সালে রাজীব বিশ্বাসকে বিয়ে করেন শ্রাবন্তী। দীর্ঘ ১৩ বছর পর সেই সংসারে ইতি টানেন ২০১৬ সালে। একই বছর অভিনেত্রী বিয়ে করেন মডেল কৃষাণ বিরাজকে। সে বিয়ে এক বছরও টেকেনি। এরপর ২০১৯ সালে রোশান সিংকে বিয়ে করেন শ্রাবন্তী। কিন্তু এই সংসারও ভেঙে গেছে।


আরও খবর



অস্ত্রোপচারে মা-নবজাতকের মৃত্যু, সেই পশুচিকিৎসক গ্রেফতার

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে প্রসূতি শরিফা আক্তার (১৯) ও তার নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পশুচিকিৎসক আবুল কাশেমকে (৬০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ওই পশু চিকিৎসককের চিকিৎসা ও সিজারিয়ান-অস্ত্রোপচারের কারণে প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যু এই অভিযোগে

বৃহস্পতিবার (৫ মে) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে বুধবার (৪ মে) বিকেলে ওই প্রসূতিকে অস্ত্রোপচার করেছিলেন পশুচিকিৎসক আবুল কাশেম। এতে রক্তক্ষরণে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত প্রসূতি শরিফা আক্তার চন্দ্রপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী হাইছ উদ্দিনের মেয়ে। গতবছর সুনামগঞ্জের তাহেরপুর এলাকায় মহসিন মিয়া নামের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। প্রসবের সময়কাল নিকটবর্তী হওয়ায় নিরাপদ ডেলিভারির জন্য তিনি গত সপ্তাহে বাবার বাড়িতে আসেন।

বুধবার সকালের দিকে শরিফার প্রসবব্যথা শুরু হলে তার স্বজনরা আবুল কাশেম নামের ওই পশুচিকিৎসককে খবর দেন। তিনি প্রসূতিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন এবং অস্ত্রোপচার করে বাচ্চা বের করেন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়।

কাশেমের বাড়ি পাশের জীবনপুর গ্রামে। তিনি এলাকায় পশু চিকিৎসার পাশাপাশি মানুষের চিকিৎসাও করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মৃত শরিফার স্বামী মহসিন মিয়া বলেন, ‘সকালে প্রসবব্যথা শুরু হলে কাশেম ডাক্তারকে খবর দেওয়া হয়। তিনি শরিফার শরীরে ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করেন এবং তলপেটের নিচে অস্ত্রোপচার করেন।’

মহসিন মিয়ার অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে ওই হাতুড়ে চিকিৎসকের প্রস্তুতি ছিল না। পরে ওষুধ আনতে দেরি হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শরিফা মারা যান।


আরও খবর



১০ মাসেই রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে ফার্নিচার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৮জন দেখেছেন
Image

ধীরে ধীরে বিদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশে তৈরি আসবাব ও গৃহস্থালি পণ্য। গত এক দশক ধরে এই পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বাড়ছে। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পণ্যটি রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার।

বিগত চার বছরে দেশের ফার্নিচার খাতের রপ্তানি দেড়গুণ বেড়েছে। বিগত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ফার্নিচার রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৭ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার।

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ফার্নিচার রপ্তানি করে ৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছেন উদ্যোক্তারা। যদিও এ বছর রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ কোটি ডলার।

অর্থাৎ চলতি অর্থবছর শেষ হবার দুমাস আগেই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি।

স্থানীয় বাজারেও চাহিদা বাড়ছে দেশি ব্র্যান্ডের ফার্নিচারের। উদ্যোক্তারা বলছেন, কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কমালে রপ্তানিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে ফার্নিচার। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, অন্য রপ্তানি শিল্পের মতো এ খাতেও যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করে কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফআইওএ) চেয়ারম্যান ও হাতিল ফার্নিচার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান জাগো নিউজকে বলেন, করোনা পরবর্তী স্বাভাবিক বিশ্বে ফার্নিচারের চাহিদা একটু একটু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের একটা প্রভাব এখানে পড়েছে। চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা কিছু অর্ডার পাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কেউ কেউ নতুন করে রপ্তানি করছে। অনেক দেশই আগে ফার্নিচার কিনতে শুধু চায়নার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তারা এখন দ্বিতীয় বা তৃতীয় সোর্স (উৎস) হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে। ম্যাট্রেস ও পিলো এগুলোও কিন্তু ফার্নিচার ক্যাটাগরির। এ ধরনের পণ্যের চাহিদাও বিশ্ব বাজারে বাড়ছে।


আরও খবর



নিখোঁজের পরদিন মিললো যুবকের মরদেহ

প্রকাশিত:সোমবার ০২ মে 2০২2 | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
Image

 

কুড়িগ্রাম সদরের ধরলা নদীরক্ষা বাঁধ সংলগ্ন এলাকা থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ মে) দুপুর ১২টার দিকে জেলা সদরের ধরলা নদীরক্ষা বাঁধ সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই যুবকের নাম জিয়াউল হক (৩২)। তিনি ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের খামার আন্ধারীঝাড় গ্রামের মৃত বাহাদুর মন্ডলের ছেলে। জিয়াউল পেশায় একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার (২ মে) সকালে পথচারীরা ধরলা নদীরক্ষা বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় মরদেহটি দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাঈদ বাবলা জানান, নিহত জিয়াউল রোববার বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে তার সন্ধানে পরিবার থেকে মাইকিং করেও খোঁজ মেলেনি। নিহত যুবকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার জানান, আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।


আরও খবর



হঠাৎ বেড়েছে ডিমের দাম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
Image

অশনির প্রভাবে কয়েকদিন বৃষ্টি। তাতেই বাজারে বেড়ে গেছে ডিমের দাম। এখন খুচরা পর্যায়ে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১২০ টাকা। যা দুদিন আগেও ১১০ টাকা ছিল।

পাইকারি ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে ডিমের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়েছে। বৃষ্টি হলে বাজারে ডিমের চাহিদাও বাড়ে বলে জানান তারা।

এদিকে নিত্যদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম অনুষঙ্গ ডিমের দাম বাড়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। রামপুরা বাজারে ফরিদা ইয়াসমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘কম দামে এটিই খাওয়া যায়। তাও আবার বেড়ে গেল।’

এদিকে মুরগির ডিমের দাম বাড়ায় অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে হাঁসের ডিমের দামও। বাজারে হাঁসের একেকটি ডিম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। প্রতি হালি ৬৫ টাকা আর ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রতিদিন মুরগি, হাঁস, কবুতর ও কোয়েলের প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি ডিম উৎপাদন হয়। পৃথক হিসাবে, কেবল মুরগির ডিম উৎপাদন হয় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি। হাঁসের ডিমের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে করোনার পর থেকে এ উৎপাদন অনেক কমেছে বলে দারি খামারিদের। তারা বলছেন, করোনার সময় লোকসানে প্রচুর খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

মালিবাগ কাঁচাবাজারের বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, দুদিনে দাম বেড়ে গেল ডিমের। পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা কী করবো? পাইকারি বিক্রেতার একদাম-এককথা। নিলে নেন, না নিলে নাই।

সেগুনবাগিচা বাজারে দীর্ঘদিন ডিম বিক্রি করেন সালাম মিয়া। তিনি বলেন, সাধারণত শীতকালে ডিমের চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়ে। এ কারণেই কিন্তু এখন দাম বাড়াটা স্বাভাবিক নয়। এ সময় সাধারণত পর্যাপ্ত ডিম থাকে।

অন্যদিকে করোনাকালে বিধিনিষেধের ফলে একদিকে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, দিনমজুর ও গরিব মানুষের বড় একটি অংশের আয় কমেছে। চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস-পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীন। এর মধ্যে ডিমের মূল্যবৃদ্ধি প্রভাব ফেলছে দরিদ্র মানুষের জীবনে।

এদিকে তেজগাঁও ডিমের আড়তের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বৃষ্টি হলে ডিমের চাহিদা বাড়ে। মানুষ বাজারে কম যায়। ডিম খায় বেশি। এখন চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। সে কারণে দাম বেশি।

এখন ডিমের দাম কেন বেড়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ এগ প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহের আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, দেশের খামারিরা চাহিদা অনুযায়ী ডিম উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে। কিন্তু এ খাতটি নানা সংকটে ভুগছে। বর্তমানে করোনা এ খাতকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অনেক খামার বন্ধ। সে কারণে চাহিদা অনুয়ায়ী উৎপাদন হচ্ছে না।

ডিমের দাম বাড়ার বিষয়টি দেখা গেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজরের চিত্রেও। সংস্থাটির তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১২ শতাংশ দাম বেড়েছে ডিমের। বর্তমানে সর্বনিম্ন ১০৫ থেকে সর্বোচ্চ ১২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ডিমের ডজন।


আরও খবর



জোর যার নিয়ন্ত্রণ তার!

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪১জন দেখেছেন
Image

জোর যার নিয়ন্ত্রণ তার— এই স্টাইলে চলছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতারা জড়িয়ে গেছেন নিজস্ব বলয় গড়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায়। দলের সিনিয়র নেতাদের নামে প্রকাশ্যে বিষদগার, নেতাকর্মীদের সভার মধ্যে মারধর কিংবা ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশ নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের রীতিনীতি, আদর্শ, শিষ্টাচারের প্রসঙ্গ তুলে দায়িত্বশীলরা বলছেন এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, হবে।

জানা যায়, নিজস্ব বলয়ের স্বার্থে দুর্দিনের ত্যাগী কর্মীটিকেও ছুড়ে ফেলতে দ্বিধা করেন না অনেকেই। এমনকি নেতাদের মারধর, হামলা-মামলার নজিরও সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকাশ্য সভায় দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশ্যেও তীর্যক মন্তব্য ছোড়েন জেলা পর্যায়ের নেতারা। যে কারণে চেইন অব কমান্ডের অবস্থাও নাজুক।

তবে টানা ১২ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকায় দলের এই অবস্থাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে, ৭ মে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা ও দুর্দিনের এই আওয়ামী লীগের নেতা গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ নেতার রোষানলে পড়েছেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ‘কাজী ভাই (কাজী আজাদ জাহান শামীম) খুব জনপ্রিয়, সৎ ও আদর্শবান নেতা। তার সততা ও স্পষ্টবাদিতাই কাল হলো।’

২২ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে দলীয় সভায় পিটিয়েছেন সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুর রহমান বদি। ওই মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। তারা বলছেন, বিষয়টি দেখে মনে হলো- ‘জোর যার নিয়ন্ত্রণ তার’। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণের শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান হাবু মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসনের টিম সদস্যদের পিটিয়েছেন। এ নিয়ে টিমের প্রধান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দিলীপ রায় শাখা সভাপতি-সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন।

এদিকে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কুমিল্লার বরুড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছিমুল আলম চৌধুরী এমপিকে তার সামনেই ‘রাজাকারপুত্র ও দেশদ্রোহীর ভাতিজা’ আখ্যা দিয়ে উৎখাতের ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলাম। এ নিয়ে এলাকায় দুই গ্রুপের থমথমে অবস্থা ছিল। একজন এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘রাজাকারপুত্র ও দেশদ্রোহীর ভাতিজা’ বলে প্রকাশ্য সভায় অপদস্থ করার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে দাবি করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে বিপক্ষে বেশ সমালোচনার ঝড় ওঠে। কিছুদিন পরে বরুড়া পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর হকও এ নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন।

গেলো বছরের ১৪ জুন মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলায় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সমর্থকরা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপকমিটির সদস্য এবং ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের গাড়িবহরে হামলা করে। সেসময় তার সঙ্গে তার বৃদ্ধ বাবা-মাও গাড়িতে ছিলেন। এ নিয়ে সারাদেশের সাবেক ছাত্রলীগের নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তোলেন। যদিও ফলাফল কিছুই হয়নি।

১২ এপ্রিল ২০২২ কুমিল্লার লাকসামে নিজ বাড়িতে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপকমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন ফারুকের ছেলের আকিকার অনুষ্ঠানে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও ফরিদপুরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্যাহকে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপি প্রকাশ্য বক্তৃতায় যা তা ভাষায় কটুক্তি করেন। মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের প্রেডিয়াম সদস্য শাহজাহান খান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমের বলয় নিয়ে তো খোদ দলীয় সভাপতির সামনে তাদের ত্রিমুখী বাহাস হয়।

নোয়াখালীতে ইকরামুল করিম চৌধুরী এমপি ও বসুরহাট পৌরমেয়র মির্জা আবদুল কাদের যাচ্ছেতাই বলে যাচ্ছেন। দুজনেই নানা সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়েও তীর্যক মন্তব্যও করেন। রাজনৈতিক পাড়ায় গল্প আছে- ‘নোয়াখালীতে ইকরাম ও ফেনীতে নিজাম- এরাই দেন সকল কাজের আঞ্জাম।’ স্থানীয়রা বলছেন, তাদের নৈতিক ও অনৈতিক সব কাজই মুখ বুজে সহ্য করেন নেতাকর্মীরা। মুখ খুললেই নেমে আসে খড়গ।

এভাবে সারাদেশে আওয়ামী লীগে ‘জোর যার নিয়ন্ত্রণ তার’ অবস্থা চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এরকম ঘটনা দলকে বিব্রত করে ঠিক। কিন্তু জোর যার দল তার, বিষয়টি এমন নয়। এসব বিষয়ে আমরা আমাদের সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। দল সব সময় নেতাকর্মীদের পক্ষে, ক্ষমতাবানদের নয়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘জোর যার নিয়ন্ত্রণ তার, বিষয়টি তা নয়। সবার বিষয়ে সাংগঠনিক বিধি ব্যবস্থা একই রকম এবং অভিন্ন। আগামী ৭ মে আমাদের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক আছে। সেখানে এসব বিষয়ে আলোচনা হবে।’

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘জোর যার নিয়ন্ত্রণ তার— এরকম কিছু নয়। আওয়ামী লীগ টানা ১২ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায়। সে কারণে হয়তো অনেক জায়গায় অনেকেই নিজেদের বেশি ক্ষমতাবান মনে করে কিছু কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছে। এদের বিষয়ে আমরা সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। পটিয়াতে যারা আওয়ামী লীগ নেতাদের মারধর করেছে, ২৯ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। আমরা বদির বিরুদ্ধেও মামলা দিতে বলেছি, মামলা দিলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এরকম দু’একটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা দলকে বিব্রত করে এটা সত্য। তবে এটার মানে এই নয় যে, যার ক্ষমতা বেশি দল তার পক্ষে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন কিছু ঘটনা দেখছি। আমি মনে করি, আওয়ামী লীগে কেউই দলীয় গঠনতন্ত্রের রীতিনীতির ঊর্ধ্বে নয়। গঠনতন্ত্র সবচেয়ে শক্তিশালী। কেউ ব্যক্তিগতভাবে যতই ক্ষমতা দেখাক না কেন, দলের নিয়মনীতি ও আদর্শের কাছে কোনো দম্ভ টিকে থাকে না। সীমালঙ্ঘনকারীকে যেমন আল্লাহ পছন্দ করেন না, দলীয়ভাবেও তাকে এক সময়ে নিয়মনীতির মধ্যে আসতেই হবে। কেউ সীমালঙ্ঘন করলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটিই দলের নিয়ম।’

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। নিজের দম্ভ ও প্রতিপত্তি প্রকাশ করার চেষ্টা করে— এটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন ও শেখ হাসিনার সংগঠনের দীর্ঘ সাত দশকের রীতিনীতি, সংস্কৃতি, আদর্শ ও শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। এগুলো যারা করে, তারা কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে। তাদের ব্যাপারে নিশ্চয় দলীয় ফোরামে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আরও খবর