করোনা পরিস্থিতির উন্নতি নেই নিউইয়র্কে

Saturday, April 4th, 2020

নিউইয়র্কের হাসপাতালগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। তাই দ্রুত হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে অতিরিক্ত বেড। ২ এপ্রিল, ব্রুকলিন মাইমনিডেস মেডিকেল সেন্টার। ছবি: এএফপিনিউইয়র্কের হাসপাতালগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। তাই দ্রুত হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে অতিরিক্ত বেড। ২ এপ্রিল, ব্রুকলিন মাইমনিডেস মেডিকেল সেন্টার। ছবি: এএফপি

 

ডেস্ক নিউজঃ নিউইয়র্কে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ও আরিফ তালুকদার নামের আরও দুই প্রবাসীর। এ নিয়ে আমেরিকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হলো। আগামী দুই সপ্তাহে এই পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে—এমন আশঙ্কাই করছে সবাই।

আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ এখন কর্মহীন। এক সপ্তাহে আমেরিকায় ৬৬ লাখ মানুষ কর্মহীন ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। কেবল নিউইয়র্কে বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন প্রায় চার লাখ লোক।

নিউইয়র্ক, নিউজার্সির লোকজন জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে আবেদন করার কথা বলা হলেও, বিষয়টি খুব সহজ নয়। এত আবেদনের চাপ নিতে পারছে না সাইটগুলো। বারবার চেষ্টা করে অনেকেই বিফল হচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন করেও কোনো জবাব পাওয়া যাচ্ছে না।

২ এপ্রিল জানানো হয়েছে, নাগরিক সুবিধার অর্থ দুই সপ্তাহের মধ্যেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। যাদের ২০১৯ বা ২০১৮ সালের ট্যাক্স রিটার্নের সঙ্গে ব্যাংকের তথ্য দেওয়া নেই, তাঁদের ব্যাংকের তথ্য দেওয়ার জন্য আইআরএস ওয়েবসাইটে নির্দেশনা দিচ্ছে। যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা স্বেচ্ছাকর্মী, তাঁরা এই সময় এসবিএ অনুদান বা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজে বা কারও সহযোগিতা নিয়ে এসব অনলাইন আবেদন দ্রুত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কবে আবার লোকজন কাজে ফিরবে—তা কেউ জানে না।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ এপ্রিল মৃত্যু হওয়া বাংলাদেশি মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ও আরিফ তালুকদারকরোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ এপ্রিল মৃত্যু হওয়া বাংলাদেশি মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ও আরিফ তালুকদার

এর মধ্যে রাজ্য গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ২ এপ্রিল বলেছেন, তাঁদের হাতে আর মাত্র ছয় দিনের ভেন্টিলেশন দেওয়ার মতো সরঞ্জাম মজুত আছে। আতঙ্কের এ সংবাদের মধ্যে ফেডারেল সরকার থেকে দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রবাহ না বাড়ানো হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

এর মধ্যে নিউইয়র্ক নগরীতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের জন্য রোগীকে প্যারামেডিকরা ‘অন দ্য স্পট’ ফেরাতে না পারলে হাসপাতালে না আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো হাসপাতালেই নিয়মিত রোগীদের ঠাঁই নেই। আগে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার পর চিকিৎসকেরা শেষ চেষ্টা করতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালে স্থান না থাকার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়ায় নাগরিকদের মধ্যে আরও উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

নিউইয়র্কে সাংবাদিক ফরিদ আলম ও ইলিয়াস খসরুসহ বেশ কয়েকজনের সুস্থ হয়ে ওঠার সংবাদে কমিউনিটির লোকজন আশাবাদী হয়েছেন। এনওয়াইপিডিতে কর্মরত একাধিক বাংলাদেশি করোনা মুক্ত হয়েছেন বা হচ্ছেন।

এদিকে নিউইয়র্ক থেকে মিশিগানে ছড়িয়ে পরা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ লকডাউন কড়াকড়ি করা হয়েছে। ফারজানা চৌধুরী জানিয়েছেন, হ্যামট্রামিক ও ডেট্রয়েট নগরীতে প্রবাসীরা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। লকডাউনের নীতিমালা ভঙ্গ করলে রাজ্য গভর্নর এক হাজার ডলার জরিমানার ঘোষণা দিয়েছেন।

নিউইয়র্কে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪৩২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নিউইয়র্কে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৫৩৮ জনের। আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৯৩ হাজার ৫৫ জন। আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬ হাজার ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৮৪ জন।

বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক রায়হান ফারুকী বলেছেন, ‘পরিবারগুলো এখনো পুরো কোয়ারেন্টিন মেনে চলছে না। অনেকে নিজেই জানেন না, তিনি ভাইরাস বহন করছেন। অনেকের শরীরে এ ভাইরাসের লক্ষণ তীব্র নয়। কিন্তু তাঁর মাধ্যমে অন্যদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশিদের মধ্যে বেশি ডায়াবেটিক রোগী। ডায়াবেটিক ও অ্যাজমা রোগীদের বেশি করে কাবু করছে ভাইরাসটি।’

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে একদম ফাঁকা হয়ে গেছে নিউইয়র্কের পথ। ৩ এপ্রিল, লোয়ার ম্যানহাটন। ছবি: রয়টার্সকরোনাভাইরাসের আতঙ্কে একদম ফাঁকা হয়ে গেছে নিউইয়র্কের পথ। ৩ এপ্রিল, লোয়ার ম্যানহাটন। ছবি: রয়টার্স

নাহিদ খান নামের আরেকজন বাংলাদেশি চিকিৎসক জানিয়েছেন, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেলেও রোগীদের মধ্যে ৩০ শতাংশের ফলাফল নেগেটিভ আসছে। নেগেটিভ আসলেই করোনামুক্ত বলা যাবে না। এ বাহকের কাছ থেকে অন্যদের শরীরে তা ছড়িয়ে পড়ছে অজান্তে। তাই এ সময়ে সব ক্ষেত্রে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা, এমনকি ঘরে তৈরি মাস্ক পরে প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন।

ডাক্তার রায়হান পরামর্শ দিয়েছেন, সম্ভব হলে প্রত্যেক ঘরে থার্মোমিটার রাখার জন্য। এতে শরীরের জ্বর মাপা সম্ভব হবে। এ ছাড়া পালস অক্সিমিটার নামের একটি ছোট যন্ত্র রাখতে হবে, যা সহজলভ্য। অক্সিমিটার দিয়ে সহজেই রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করা যাবে।