এখন আশঙ্কামুক্ত করোনায় আক্রান্ত সেই বার্সা তারকা

Tuesday, April 7th, 2020

রুস্তু রেকবার। ছবি : এএফপিরুস্তু রেকবার। ছবি : এএফপি

 

ডেস্ক নিউজঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তুরস্কের সাবেক গোলরক্ষক রুস্তু রেকবার। অবস্থা ছিল বেশ সংকটাপন্ন। কিন্তু সাবেক এই বার্সা তারকা এবার খুশির খবরই শোনালেন।

রুস্তু রেকবারের নাম শুনলে অনেক দিন ধরে ফুটবল দেখা ভক্তরা নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হতে বাধ্য।

২০০২ বিশ্বকাপের চমক ছিল তুরস্ক। সেমিফাইনালে ওঠা সেই দলটার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন লম্বা চুলের গোলরক্ষক রুস্তু রেকবার। সে বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে বেশ ভুগিয়েছিলেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার স্বরূপ ২০০৩ সালে তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচে থেকে নাম লিখিয়েছিলেন বার্সেলোনায়। গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে একের পর এক শট ঠেকিয়ে যেতেন। কিন্তু কিছুদিন আগে করোনাভাইরাসকে ঠেকাতে পারেননি রেকবার। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

খবরটা জানিয়েছিলেন রুস্তুর স্ত্রী ইসিল রেকবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছিলেন মন খারাপ করা সংবাদটা, ‘আপনাদের কোনো একটা সুখের সংবাদ জানাতে পারলে হয়তো ভালো লাগত আমার। কিন্তু সত্যের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকতে হচ্ছে আমাকে। আমার স্বামী হাসপাতালে ভর্তি। কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছে সে।’

হুট করেই জীবনটা ওলট-পালট হয়ে গেছে রেকবার পরিবারের, জানিয়েছিলেন ইসিল, ‘সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। রুস্তু সুস্থ ছিল। কিন্তু হুট করে সবকিছু পালটে গেল। ওর মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিল। হুট করে সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হলো রুস্তু। ব্যাপারগুলো এত তাড়াতাড়ি ঘটেছে যে, আমরা এখনো ধাক্কা সামলে উঠতে পারছি না। আমাদের পরিবারের অনেক কঠিন সময় এটা।’

কিন্তু রেকবার পরিবারে এখন আবারও ফিরে এসেছে আনন্দ। সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন রুস্তু। রুস্তুর সুস্থ হওয়ার সংবাদটাও সবাইকে জানিয়েছেন ইসিলই, ‘দিনটা কী অস্বাভাবিক সুন্দর! ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ১১টা কঠিন দিন পার করার পর অবশেষে আমার স্বামী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে।’ তবে নিজের স্বামী সুস্থ হয়ে ফিরলেও দেশের হাজার হাজার মানুষ যে এখনো দিন-রাত করোনার সঙ্গে লড়ছে, ব্যাপারটা একদমই ভালো লাগছে না ইসিলের, ‘তবে আমি এখনও পুরোপুরি খুশি হতে পারছি না, কেননা হাসপাতালে এখনও অনেক রোগী অপেক্ষমাণ আছে, সুস্থ হওয়ার জন্য। তাঁদের জন্য আমি সব সময় প্রার্থনা করে যাব যেন তাঁরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে।’

২০০৩ সালে বার্সায় এসে রোনালদিনহো-জাভি-পুয়োলদের সতীর্থ ছিলেন রেকবার। স্প্যানিশ বলতে পারতেন না, এই ‘অপরাধে’ তাঁকে দলের মূল গোলরক্ষক বানাতে চাননি তৎকালীন কোচ ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড। ফলে কপাল খুলে যায় স্প্যানিশ গোলরক্ষক ভিক্টর ভালদেসের। তিন বছর বার্সায় থেকে মাত্র চারটা লিগ ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন রেকবার। পরে আবারও ফেনেরবাচেতে ফিরে যান ১৮ বছর ধরে তুরস্কের গোলবার আগলে রাখা এই তারকা।

শুধু বিশ্বকাপই নয়, ২০০৮ ইউরোতেও সমান উজ্জ্বল ছিলেন রেকবার। রেকবারের জাদুতেই কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি শুট আউটে হার মানে ক্রোয়েশিয়া, তুরস্ক ওঠে সেমিতে। ৪৬ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ১২০ ম্যাচ।

শুধু রুস্তুই নয়, তুরস্কের ফুটবল গতকাল সুসংবাদ পেয়েছে আরও একজনের কাছ থেকে। তিনি দেশটার কিংবদন্তি ম্যানেজার ফাতিহ তেরিম। গ্যালাতাসারাইয়ের কিংবদন্তি এই খেলোয়াড়-ম্যানেজারও করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়েছেন আপাতত।