১৪ কোটি টাকায় তিনি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন, তবে…

Wednesday, April 8th, 2020

প্যারাগুয়েতে জেল–জরিমানা করে কাটছে রোনালদিনহোর। ছবি: এএফপিপ্যারাগুয়েতে জেল–জরিমানা করে কাটছে রোনালদিনহোর। ছবি: এএফপি

 

ডেস্ক নিউজঃ ৩২ দিন জেলের ঘানি টানার পর অবশেষে ছাড়া পেয়েছেন সাবেক ব্রাজিল তারকা রোনালদিনহো। তবে তাই বলে তাঁর যে মুক্তি হয়েছে, তা নয়। গৃহবন্দী অবস্থায় থাকতে হবে বাকী সময়।

৩২ দিন জেলে কাটানোর পর অবশেষে ছাড়া পেয়েছেন রোনালদিনহো। ব্রাজিল কিংবদন্তি পুরোপুরি মুক্ত হয়েছেন, তা নয়। প্রায় ১৪ কোটি টাকায় (১.৩ মিলিয়ন পাউন্ড) জেল থেকে জামিন পেলেও প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের একটি হোটেলে গৃহবন্দী অবস্থায় থাকতে হবে তাঁকে।

একটি দাতব্য সংস্থার আহ্বানে প্যারাগুয়ে গিয়ে মহাবিপদে পড়েছেন রোনালদিনহো। জাল পাসপোর্ট বহনের দায়ে এত দিন প্যারাগুয়ের জেলে আটক ছিলেন এই ব্রাজিল তারকা। রোনালদিনহোর দাবি, তাঁর হাতে থাকা জাল কাগজপত্র আমন্ত্রণ জানানো প্রতিষ্ঠানই সরবরাহ করেছিল। এ নিয়ে তাঁর আইনজীবী ও প্যারাগুয়ের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির মধ্যে চলছিল আইনি লড়াই।

প্রথমে খুব একটা ঝামেলা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছিল। পরে জানা যায়, শুধু জাল পাসপোর্ট বহন করার নয়, আরও বেশ কিছু আইন ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে ব্রাজিলিয়ান বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলারের বিপক্ষে। প্যারাগুয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের সহযোগিতায় সাবেক বার্সেলোনা খেলোয়াড়ের প্রেসিডেনশিয়াল স্যুটে তল্লাশি চালিয়েছিল। রোনালদিনহো ও তাঁর ভাই রবার্তোর বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র দেখিয়ে প্যারাগুয়ে প্রবেশের অভিযোগ করা হয়েছিল। দেশটি প্রবেশের সময় তারা যে কাগজপত্র দেখিয়েছিলেন, সেগুলো দেখে সন্দেহ হয়েছিল দেশটির অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এতেই কপাল পোড়ে রোনালদিনহোর।

রোনালদিনহোর আইনজীবী অ্যাডলফো মারিন দাবি করেছিলেন, পাসপোর্টের কাগজপত্র যে জাল সেটি জানতেন না তাঁর মক্কেল। বার্সেলোনা ও এসি মিলানের সাবেক মিডফিল্ডারকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে। প্যারাগুয়ের আইন অনুযায়ী ছয় মাস ধরে তদন্তকাজ চালানো যায়। মারিন অবশ্য তাঁর মক্কেলের পক্ষসমর্থন করে বকেই দিয়েছিলেন, ‘রোনালদিনহো কোনো অপরাধ করেনি, সে বুঝতে পারেনি যে কাগজপত্র জাল। আদালত এসব বিবেচনায় নেয়নি। সে একজন বেকুব।’

প্রথমে ছয় মাসের জেল দেওয়া হলেও এখন বাকি সময়টা রোনালদিনহো হোটেলে কাটাবেন। সে সময়ে তাঁর আইনজীবীরা তাঁকে পুরোপুরি মুক্ত করার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বিচারক গুস্তাভো আমারিয়া।