১০০ ছাড়াল করোনাযুদ্ধে আক্রান্ত সংবাদকর্মীর সংখ্যা

Wednesday, May 13th, 2020

ডেস্ক নিউজঃ বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে সংবাদকর্মীদের কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ১০০ ছাড়াল। সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পরিসংখ্যান এটি। এরা দেশের ৪৭টি গণমাধ্যমে কর্মরত। আক্রান্তদের মধ্যে ৮৯ জন ঢাকায় এবং ১১ জন ঢাকার বাইরে কর্মরত। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ্য হয়েছেন ২৪ জন। এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে একজন এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে দুইজন সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষায় যাদের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে তাদেরকেই কেবল এই হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। আরো অনেক সংবাদকর্মী করোনার উপসর্গ নিয়ে অসুস্থতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। ফলে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণ করা হচ্ছে।

‘আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের অধিকার’ নামের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ সংবাদকর্মীদের কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করছে। সংগৃহীত তথ্য অনুসারে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ৫ জন, যমুনা’র ২ জন, দীপ্ত টিভির ৬ জন, এটিএন নিউজের ১ জন, আমাদের নতুন সময়ের ১ জন, একাত্তর টিভির ৩ জন, বাংলাদেশের খবরের ১ জন, সংগ্রামের ১ জন, মাছরাঙা টিভির ১ জন, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা’র ১ জন, রেডিও টুডের ১ জন, ভোরের কাগজের ১ জন, চ্যানেল আই’র ১ জন, প্রথম আলোর ২ জন, আলোকিত বাংলাদেশের ২ জন, নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিমের ১ জন, আজকালের খবরের ১ জন, নিউজ পোর্টাল বিবার্তার একজন, ইনকিলাবের একজন, জনতার একজন, কালের কণ্ঠের একজন, এনটিভির ১৫ জন, আমার বার্তা’র একজন, আরটিভির ৪ জন, বাংলাভিশনের একজন, এসএ টিভির ২ জন, সময়ের আলোর ৭ জন, যশোরের লোকসমাজের একজন, প্রতিদিনের সংবাদের একজন, নতুন সময় টিভির (আইপিটিভি) একজন, দেশ রূপান্তরের ১ জন, রেডিও আমারের একজন, ইত্তেফাকের ১৩ জন, দেশ টিভির একজন, বিটিভির একজন, ডিবিসি নিউজের ১ জন, মানবজমিনের ১ জন, এটিএন বাংলার ১ জন, সময় টিভির ২ জন, ডেইলি সানের ২ জন, যায়যায়দিনের ১ জন, ঢাকা ট্রিবিউনের ১ জন, বাংলা ট্রিবিউনের ১ জন, একুশে টিভির ২ জন, চ্যানেল ২৪ এর ১ জন, ডেইলি স্টারের ১ জন, ও বার্তা সংস্থা ইউএনবির ১ জনের কভিড-১৯ পজিটিভ।

গতকাল রবিবার পর্যন্ত দেশের ৪০টি সংবাদ মাধ্যমের ৮৪ জন সংবাদকর্মী আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে গত ৪ এপ্রিল ৩৫টি গণমাধ্যমের ৫৮ জন সংবাদকর্মী আক্রান্ত ছিলেন।

করোনাযুদ্ধে প্রাণ হারানো দেশের প্রথম সাংবাদিক হলেন সময়ের আলো পত্রিকার নগর সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুন কবীর খোকন। তিনি গত ২৮ এপ্রিল রাতে মারা যান। করোনা আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ৬ মে করোনার উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারান একই পত্রিকার সিনিয়র সাব এডিটর মাহমুদুদল হাকিম অপু। ৭ এপ্রিল করোনার উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারান ভোরের কাগজের ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র রিপোর্টার আসলাম রহমান। শেষ দুই জনের মৃত্যুও পর করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

স্বাস্থ্যসেবী, নিরাপত্তাকর্মীদের মতো পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন সংবাদকর্মীরাও।

মাঠ পর্যায়ে সংবাদ এবং ছবি সংগ্রহ কারতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন সংবাদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সাংবাদিকরাও। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে সংবাদকর্মীদের।

কভিড-১৯ আক্রান্ত হলেও অনেক সংবাদকর্মী পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) তাদের সদস্যদের পরীক্ষার জন্য গত সোমবার ডিআরইউ প্রাঙ্গণে এবং টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্যও মহাখালী কমিউনিটি সেন্টারে গতকাল মঙ্গলবার আরেকটি করোনাভাইরাস পরীক্ষা বুথ স্থাপন করা হয়েছে।