তাপসের জিরো টলারেন্সে তটস্থ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা

Tuesday, May 19th, 2020
ঢাকা দক্ষিণ সিটি

 

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। এতে তটস্থ হয়ে পড়েছেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে রোববার সংস্থার দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অপসারণ করার পর থেকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে অপসারণ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর ধরে ডিএসসিসির সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এবং তার ঘনিষ্ঠজনদের ছত্রছায়ায় দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এমন কর্মকর্তাদের টার্গেট করেছেন বর্তমান মেয়র। ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ডিএসসিসির বর্তমান মেয়র সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে নিখুঁতভাবে খোঁজখবর করেছেন। এ কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংস্থার অগ্রগতিতে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন, তাদের সরিয়ে দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে আইন বা বিধি-বিধান অনুসরণ করেই তিনি সব কার্যক্রম করবেন।

আরও জানা যায়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি আগামী পাঁচ বছরে ডিএসসিসিকে দুর্নীতিমুক্ত করে এ এলাকার ঐতিহ্য ধরে রেখে, সবুজ, সচল এবং সুশাসিত ঢাকা গড়ে তুলতে কাজ করবেন। সে লক্ষ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেই সাংবাদিকদের কাছে পাঁচটি অগ্রাধিকার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, করোনাভাইরাস মোকাবেলা, মশা নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসন, আবর্জনা পরিষ্কার এবং যানজট নিরসন। এ কার্যক্রম যাদেরকে নিয়ে করবেন সেই কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতেই তিনি প্রাথমিকভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। করোনা দুর্যোগের কারণে আংশিকভাবে সরকারি অফিস খোলা থাকার বিধান থাকলেও জনসেবা সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে তিনি নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা অফিস করছেন। একই সঙ্গে ডিএসসিসির প্রয়োজনীয় বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অফিস করছেন। নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে তিনি শুরু থেকেই সক্রিয় থেকে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে চান।

দুর্নীতির বিষয়ে রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, সবাইকে নিয়ে আমরা নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করে ডিএসসিসিকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, মানুষের আস্থা, গর্ব এবং মর্যাদাশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ডিএসসিসির মেয়রের উদ্যোগ যেন বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা না হয় বা কোনো ব্যক্তিবিশেষের কারণে না হয়ে থাকে। যাদেরকে অপসারণ করা হল, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্নীতি প্রমাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) এগিয়ে আসতে পারে। নগর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, সংস্থার প্রয়োজনে মেয়র যে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অপসারণ করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে তাদেরকে চাকরি জীবনের সব সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।’

নগর ভবনে সোমবার গিয়ে দেখা যায়, ডিএসসিসির সকল বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা অফিসে কাজ করছেন। কর্মকর্তারা বিভাগীয় তথ্য সংবলিত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশন তৈরি করছেন, যাতে মেয়র জানতে চাইলে যেকোনো বিভাগ সম্পর্কে একনজরে তিনি অবগত হতে পারেন। সকালে নগর ভবনে ঢুকেই ভান্ডার ও ক্রয় বিভাগ পরিদর্শন করেছেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় তিনি মশার ওষুধ কতটুকু মজুদ আছে, কোথায় আছে, সেসব সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এছাড়া সকাল থেকে নগর ভবনে অবস্থান করে সংস্থার কার্যক্রম বুঝে বিভাগভিত্তিক নির্দেশনা দিয়েছেন। ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা জানান, পাঁচ বছরে চোখের সামনে অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি দেখেছি। সিনিয়রিটি লঙ্ঘন করে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার লেনদেন হয়েছে। ডিএসসিসির একজন ঠিকাদার জানান, গত পাঁচ বছরে তেমন কোনো কাজ পাইনি। পুরান ঢাকার অপেশাদার কিছু ঠিকাদারের কাছে জিম্মি ছিল পুরো নগরভবন। সিন্ডিকেট করে তারা দরপত্র ভাগিয়ে নিত। দুঃখ করে তিনি বলেন, রাজধানীতে বিলবোর্ডের ব্যবসা গড়ে উঠেছিল। সেখানে অনেক মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা হয়েছিল। মেয়র সাঈদ খোকন ও আনিসুল হক সব বিলবোর্ড বাতিল করে সরিয়ে ফেলেন। পরে ডিএসসিসি মেয়রের ঘনিষ্ঠজনকে নিয়মবহির্ভূত অনেক এলইডি বিলবোর্ড দেয়া হয়েছে, যা এখনও বহাল তবিয়তে।