বেসরকারি হাসপাতালে টাকা নিয়ে নমুনা সংগ্রহ

Tuesday, May 19th, 2020

 

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীতে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহে সাড়ে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করছে কয়েকটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। টাকা নিলেও সেবাগ্রহীতাদের তারা কোনো রসিদ দিচ্ছে না। সবার স্যাম্পল সংগ্রহের মানও যথাযথ নয়। অনেক নমুনায় আইডি নম্বর এবং নাম-ঠিকানাও দেয়া থাকে না। এরা সংগ্রহ করে সরকারি পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে।

যদিও নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকেই বিনা মূল্যে প্রদান করা হয়। তাছাড়া সন্দেহভাজন রোগীদের কাছ থেকে ফি আদায়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা বা অনুমতি দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদফতর। ইতোমধ্যে বিষয়টি নজরে আসায় কয়েকটি সরকারি ল্যাবের পরিচালক আপত্তি জানিয়েছেন। তারপরও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু নমুনা সংগ্রহে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় থেকে সরছে না। এতে অনেক সাধারণ রোগীকে পড়তে হচ্ছে বিব্রতকর অবস্থায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বেশকিছু বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান করোনা মোকাবেলায় সরকারকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে তারা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণে অর্থ আদায় করছে। অথবা তাদের হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দিলেও রোগীদের টাকা দিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো শৃঙ্খলা মানা হচ্ছে না। এসব বিষয়ে সতর্ক করলেও তারা শুনছেন না। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, প্রাভা হেলথ বাংলাদেশ, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জের গাজী কোভিড-৯১ ডিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতাল (মিরপুর, উত্তরা), এএমজেড হাসপাতাল এবং প্রাভা হেলথ বাংলাদেশ লি. বাড়িতে গিয়ে এবং হাসপাতালে এসে উভয়ভাবেই সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করছে।

কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, গত ১৪ মে ইফতারের পর মিরপুরের বাসিন্দা এসএম শহিদুল ইসলাম (৫৭), রাশিদা ইসলাম (৪৫), ফাইরুজ হুমায়রা (২০)-এর নমুনা সংগ্রহ করেন রিজেন্ট হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা নমুনা সংগ্রহ বাবদ এই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা আদায় করেন। তবে কেন টাকা নিচ্ছেন তার কোনো ব্যাখ্যা তারা দেননি। এমনকি কোনো রশিদও দেননি। ওইদিন রিজেন্টের নমুনা সংগ্রহের খাতায় ৪, ৫ ও ৬ সিরিয়াল ছিল। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত ওই নমুনার কোনো ফলাফল জানানো হয়নি।

একইদিন বাসায় গিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন ও নিলুফার আক্তারের নমুনা সংগ্রহ করেন রাজধানীর বাড্ডার এএমজেড হাসপাতালের কর্মীরা। তারা নমুনা সংগ্রহ বাবদ রোগীদের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে আদায় করেন। পরে ওই হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করালে রোগীদের ৬শ’ টাকা করে দিতে হয়। এ ছাড়া প্রাভা হেলথ রোগীদের বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহের জন্য সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা কে বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ মেডিসিন-নিপসম ল্যাবে প্রদান করে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি এসব নমুনা পরীক্ষা বিনা মূল্যে করে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিপসমের এক কর্মকর্তা বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যে নমুনা পাঠানো হয়, তার বেশিরভাগের কোনো আইডি নম্বর থাকে না, এমনকি স্যাম্পলে কোনো নাম-ঠিকানাও থাকে না। ফলে নমুনাগুলো শনাক্তে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা নমুনা সংগ্রহ করতে যান, তারা প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কি না, সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

এসব বিষয়ে জানতে রিজেন্ট হাসপাতালের ইনচার্য সৌম্যকে দফায় দফায় ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। প্রাভা হেলথের কমিউনিকেশন লিড কুতুব উদ্দিন কামালকে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ততার কারণে কথা বলতে পারেননি।

অধিদফতরের তথ্যমতে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছে। এসব হাসপাতালের কয়েকটিতে নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগীদের ভর্তি হতে হয়। তারপর তাদের অন্যান্য পরীক্ষার সঙ্গে কোভিড পরীক্ষা করা হয়। এতে যেসব রোগী কোভিড-১৯ পরীক্ষা করাতে যান তাদের বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়। এমনকি হাসপাতালগুলোয় অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কোনো রোগী গেলেও তাকে বাধ্যতামূলক কোভিড পরীক্ষা করানো হয়। এমনও ঘটেছে নিয়মিত কিডনি ডায়ালিসিস করে থাকে এমন রোগী ডায়ালিসিস করতে গেলে তাকে কোভিড পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়। এতে রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নমুনা সংগ্রহের জন্য কোনো ফি নির্ধারণ করা হয়নি। এমনকি নমুনা সংগ্রহে কোনো ফি নেয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। তাই এ ধরনের ফি নেয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন তিনি। অধ্যাপক নাসিমা বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ)-কে তিনি বলবেন।