লকডাউনে বন্ধ প্রতিষ্ঠানের বিল ৬৯ হাজার টাকা

Wednesday, May 20th, 2020
লকডাউনে বন্ধ প্রতিষ্ঠানের বিল ৬৯ হাজার টাকা

 

ডেস্ক নিউজঃ রাজশাহীর নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এপ্রিলের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। মিটার রিডিং না দেখে অফিস থেকে মনগড়া বিদ্যুতের বিল করার জন্য হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, নেসকোতে এমন ঘটনার শিকার শত শত গ্রাহক। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। গত দুই মাসের লকডাউনে দুই লক্ষাধিক মানুষ রাজশাহী শহরে নেই সেই মার্চ থেকে। কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ থাকার পরও তাদের বাসাবাড়ি, মেস ছাত্রাবাস হোস্টেলে ঠিক আগের মতোই বিদ্যুৎ বিল দেয়া হয়েছে। নেসকোর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিল প্রিন্ট করার সময় এমন ভুল হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর শিক্ষা স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের পর থেকে স্কুলে জ্বলে না লাইট, চলে না ফ্যান। তারপরও মার্চে এই প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিল দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ২০০ টাকা। শুধু তা-ই নয়, অবাক করে দিয়ে মার্চের ৫ হাজার ২০০ টাকার জায়গায় এপ্রিলে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৬৯ হাজার ১৮০ টাকা।

প্রতিষ্ঠান চলমান অবস্থায় ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ বিল ছিল ৪ হাজার ৩০০ টাকা। নগরীর ষষ্ঠিতলার জাহিদ হোসেনের ছাত্রাবাসে গত মার্চে বিল আসে ১ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু এপ্রিলের বিল এসেছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। ফেব্রুয়ারির শেষে তার ছাত্রাবাসটি বন্ধ হয়েছে।

সেখানে গত দুই মাসে কেউ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেনি। প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ থাকার পরও শিক্ষা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আগের মাসের সঙ্গে পরের মাসের বিদ্যুৎ বিলের কিছু কমবেশি হতে পারে; কিন্তু ৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৬৯ হাজার টাকা কীভাবে হয়। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানই তো বন্ধ আছে। অভিযোগ করলেও নেসকো থেকে এখনও কোনো সংশোধিত বিল তিনি পাননি।

নেসকোর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) তিনটি ডিভিশনের আওতায় ২ লাখ ৫৬ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। হড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, তার বাসাবাড়ির মিটারটি ব্যক্তিগত ক্যাটাগরির। ফেব্রুয়ারিতে ৪৫৬ টাকা বিল এসেছে। মার্চেও এসেছে প্রায় সমান বিল। তিনি ১৫ মার্চ থেকে পরিবার নিয়ে গ্রামে থাকছেন। কিন্তু এপ্রিলে বিল এসেছে ৭৪২ টাকা।

এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ দিলেও মিটার চেক করে প্রকৃত রিডিং অনুযায়ী বিল সংশোধন করা হচ্ছে না। নগরীর হেতেমখাঁ এলাকার গ্রাহক সাইফুদ্দিন অভিযোগে বলেন, তিনতলা বাড়ির উপর নিচতলায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। নিচের দুটি তলায় মেস। মার্চের ১৩ তারিখ থেকে মেস ফাঁকা। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে চলে গেছেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে তার ১ হাজার ৯০০ টাকা বিল এলেও মার্চে এসেছে ২ হাজার ২৩ টাকা।

এপ্রিলে বিল এসেছে ২ হাজার ৪৫৬ টাকা। বাসাবাড়ি ও ছাত্রাবাস বন্ধ থাকার পরও এমন ভুতুড়ে বিলের শিকার হয়েছেন সুলতানাবাদ এলাকার গ্রাহক আবদুর রহিম। বরং পুরোপুরি বাসাবাড়ি ও মেস বন্ধ থাকার পরও এপ্রিলে বিল এসেছে আগের দুই মাসের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি। কী করে এমন বিল আসছে, তা জানতে করোনার মধ্যেও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা নেসকোর বিভিন্ন ডিভিশন অফিসে গিয়ে অভিযোগ জমা করছেন।

নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রশিদ বলেন, মহামারী করোনার কারণে নেসেকার সব কর্মীই স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না। যাদের বিলে অসামঞ্জস্য ঘটেছে সেগুলো ঠিক করে দেয়া হবে। এ মহামারী কেটে গেলেই আমরা বিলগুলো সংশোধন করে দিতে পারব। সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্যধারণের জন্য অনুরোধ করেন তিনি।