সেই নামি ফুটবলার এখন ফেরিওয়ালা!

Thursday, May 21st, 2020
ফেরিওয়ালা

 

ডেস্ক নিউজঃ মিসরের অন্যতম উঠতি প্রতিভা তিনি। ভবিষ্যতে মোহামেদ সালাহর সঙ্গে তাকে জাতীয় দলে খেলতে দেখা যেতে পারে। সেই তরুণ ফুটবলারই এখন পুরোদস্তুর রাস্তার ফেরিওয়ালা।

গল্পটা মাহরুস মাহমুদের। গেল শনিবার প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কায়রোর রাস্তায় তাকে জিনিসপত্র ফেরি করতে দেখা গেছে। সর্বনাশা করোনাভাইরাস সবাইকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। তবে উদীয়মান এ ফুটবলারকেও যে তা রাস্তায় নামিয়ে দেবে, তা ছিল কল্পনার বাইরে।

মিসরের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব বেনি সুয়েফের হয়ে মাঠ কাঁপান মাহরুস। তবে করোনায় সৃষ্ট আর্থিক পরিস্থিতি তাকে ফেরিওয়ালা বানিয়ে দিয়েছে। নিজে হাতে প্যানকেক ও পেস্ট্রি বানিয়ে উত্তর ইজিপ্টের বাজারে বিক্রি করছেন তিনি।

মহামারীর আগে ক্লাবের হয়ে খেলে প্রতিমাসে ২০০ মার্কিন ডলার আয় করতেন মাহরুস। সেই সঙ্গে পার্টটাইম কাজ করতেন তিনি। তাতেই চলে যেত তাদের চারজনের সংসার। ফুটবলই ছিল তার উপার্জনের প্রধান উৎস।

মিসরে দ্বিতীয় ডিভিশনের ফুটবল লিগ চালু হওয়ার কথা ছিল গেল মার্চের মাঝামাঝিতে। ঠিক সেই সময় দেশটিতে করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটে। ফলে মানবঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সারাদেশে কঠোরভাবে কারফিউ জারি করে সরকার। স্বাভাবিকভাবেই ক্যাফে, শপিংমল এবং অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

বেনি সুয়েফ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঘরেই থাকতে হবে ফুটবলার ও সংশ্লিষ্টদের। তবে ক্ষুধার জ্বালায় মাহরুসকে বাইরে বের হতেই হচ্ছে।

নীল নদের পাশে অবস্থিত আসিউত। এমনিতে ছোট শহরটি দারিদ্র্যতায় পরিপূর্ণ। করোনা দুর্যোগের আগে থেকেই এখানে আর্থিক মন্দা বিরাজ করছে।

পরিসংখ্যান বলছে, আসিউতে ৩৩ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। প্রাত্যহিক উপার্জন গড়ে মাত্র ১.৪৫ মার্কিন ডলার।

মাহরুস পরিবারের দুই সন্তানের মধ্যে বড়। পার্টটাইম ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন তার বাবা। তবে হৃদরোগের কারণে এখন বাড়িতেই থাকেন উনি। তিনতলা বাড়ির একতলায় ভাই, বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার।

মাহরুস বলেন, পরিবারের সবাইকে খাওয়াতে আমাকে বাইরে বের হতেই হবে।

ফুটবলার হওয়ার আগে স্থানীয় ক্লাবে বক্সিং করতেন ২৮ বছর বয়সী ফুটবলার। এর পর হ্যান্ডবল এবং সবশেষে ফুটবলকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন তিনি।

মাহরুস মূলত রক্ষণসেনা। শক্ত হাতে সামলান ডিফেন্স। রক্ষণভাগে নির্ভরযোগ্য হওয়ার কারণে তাকে ভিনসেন্ট কোম্পানি বলে ডাকেন দলের সতীর্থরা। তার মধ্যে বেলজিয়ামের বিখ্যাত ডিফেন্ডারের ছায়া দেখতে পাওয়া যায়।

তবে মাহরুসের আদর্শ লিভারপুলের ভার্জিল ভ্যান জিক। দুরন্ত পারফরম্যান্সে নিজের দলকে দ্বিতীয় ডিভিশনের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিলেন মিসরীয় সম্ভাবনাময়ী ফুটবলার। এবার প্রথম ডিভিশনে খেলার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু এর আগেই বিপর্যয়। ফুটবল নয়, ওর সঙ্গী এখন ঝোলা ব্যাগ আর কেক-পেস্ট্রি।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস