জগন্নাথপুরে মানছে না সামাজিক দূরত্ব; ঈদের কেনাকাটায় নারী পুরুষদের উপচে পড়া ভীড়

Thursday, May 21st, 2020

 

আলী জহুর (জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সব কটি হাট-বাজারে ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে চলছে জমজমাট বেচা-কেনা। ক্রেতা-বিক্রেতা মানছেন না সরকারি নির্দেশনা। বজায় রাখা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্ব ও সঠিকভাবে করছেন না মাস্ক ব্যবহার। ঈদের কেনাকাটার জন্য একজনের সাথে আসছেন পাঁচজন। বাজারে বাজারে ব্যাপক হারে বাড়ছে মানুষের সমাগম। ব্যবসা প্রতিষ্টানের সামনে নেই জীবানুনাশক কোন প্রকার ব্যবস্থা। ক্রেতা বিক্রেতার ক্রয়-বিক্রয় দেখে দেশে করোনা নামক কোন কিছু আছে বলে মনে হচ্ছেনা।

এদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনের পর দিন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সচেতনতা মূলক প্রচার-প্রচারণা সাবধানতা অবলম্বন করে চলা-ফেরা ঘরে থাকা মানুষদের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া সহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশা-পাশি স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও হৃদয়বান ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না উপজেলাবাসী মানছেন না যমের দোহাই। প্রশাসন কোন ভাবে পারছেনা বাজার মুখি এ সমস্ত নারী-পুরুষের লাগাম টানতে। দিন-দিন বেড়েই চলছে মানুষের উপচে পড়া ভীড়। জন-সমাগম ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

করোনার প্রভাব যেনো বিন্দুমাত্র নেই জগন্নাথপুর কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের জমজমাট কেনাকাটা। হাট-বাজারে যেমন হাঁটা মুশকিল তেমনি দোকানে দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। নারী-পুরুষ-শিশু বাজারে ভিড় আর জমজমাট কেনাকাটা হলেও ক্রেতারা খুঁজছেন কমদামে ভালো পোশাক। করোনা বিরুপ প্রভাব আর লকডাউনে টাকার ঘাটতি মেটাতেই কম দামেই পোশাক কিনে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষদের।

বুধবার (২০ মে) জগন্নাথপুরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের জটলা। করোনার বিরূপ প্রভাবে আর্থিক মন্দায় বেশিভাগ ক্রেতারা খুঁজছেন কমদামে ভালো পোশাক এবং এবার ভারতীয় সিরিয়াল কিংবা মুভির নামে নামকার পোশাকগুলোর উপস্থিতি নেই বাজারে। এবার বাজারে ইন্ডিয়ান কিংবা পাকিস্তানি কাপড়ের স্থলে বেশি বিক্রি হচ্ছে দেশি সুতির কাপড়গুলো। নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে চলছে কেনা-কাটার প্রতিযোগিতা এবং প্রতিদিন জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং সহ জেল-জরিমানা অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন। এতে কোন প্রকার পাত্তাই দিচ্ছেন না হাট-বাজারে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা। দোকানে দোকানে ক্রেতাদের মাস্ক ছাড়া এবং বাচ্চাকে নিয়ে আসা ক্রেতারা রয়েছেন করোনা ঝুঁকির মধ্যে।

গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরুত্ব বজায় রেখে জনসমাগম না করে সীমিত আকারে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকান-পাট খোলা রাখার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু এই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সকাল থেকে রাতভর খোলা থাকছে বাজারের দোকান-পাট। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর্থিক মন্দা আর গরমকাল থাকার কারণে কম দামে দেশি সুতি থ্রি-পিসগুলোই পছন্দ আর বিক্রির শীর্ষে রয়েছে। এসব থ্রি-পিস ৫০০ থেকে ৭০০ শাড়ি ১৫০০ সিল্ক শাড়ি ২০০০ থেকে ৭০০০ শার্ট ৪৫০ জিনস প্যান্ট ৭৫০ ছোট সোনামনিদের থ্রি-কোয়াটার জিনস প্যান্ট ৩৫০ গেঞ্জির সেট ৫০০ ফ্রক ও টপস ৬০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

ফুটপাতে দোকানগুলোতে নিম্নবিত্তদের প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতারা বলেন, ছোট ছেলে-মেয়ের জন্য নিয়েছেন শার্ট প্যান্ট, ঈদের নতুন জামার বায়না ধরে ছিল ছেলে-মেয়ে। কম দামে শার্ট প্যান্ট কিনে জুতা এখন কিনতে পেড়েছি। জগন্নাথপুর উপজেলায় এ যাবৎ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ জন এর মধ্যে রোগমুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪জন। যদিও করোনা ভাইরাসের তেমন একটা প্রভাব পরেনি উপজেলায় কিন্তু না পরলেও আসতে কতক্ষণ। লোকান্তরে একজনের শরীরে রোগটি চড়ালেই যতেষ্ট।

অবিলম্বে উপজেলাবাসীকে মরণঘাতী (কোভিট ১৯) করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষার্থে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও উপজেলা প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ ও বাজার তদারকি দিকে নজরদারী বাড়ানো একান্ত জরুরী বলে অবিজ্ঞ মহল মনে করছেন।