উইন্ডোজ ও লিনাক্স সিস্টেমের ভয় ‘টাইকুন’

Saturday, June 6th, 2020

সাইবার দুর্বৃত্তরা পিসিরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ দাবি করতে পারে। ছবি: রয়টার্সসাইবার দুর্বৃত্তরা পিসিরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ দাবি করতে পারে। ছবি: রয়টার্স

ডেস্ক নিউজঃ উইন্ডোজ ও লিনাক্স পিসিতে নতুন ধরনের হামলা শুরু করতে পারে সাইবার দুর্বৃত্তরা। তারা বিশেষ ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার দিয়ে পিসিতে আক্রমণ করে অর্থ দাবি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বিশেষ কৌশলে আড়ালে থাকতে সক্ষম এ র্যানসমওয়্যার বা ক্ষতিকর প্রোগ্রামটির নাম দিয়েছেন ‘টাইকুন’।

প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট জেডডিনেট জানিয়েছে, ব্ল্যাকবেরির গবেষকেরা কেপিএমজির সিকিউরিটি বিশ্লেষকদের সঙ্গে কাজ করার সময় টাইকুন আবিষ্কার করেছেন এবং এর বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

উইন্ডোজ এবং লিনাক্স সিস্টেমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে এ র্যানসমওয়্যার দিয়ে হামলা চালাতে পারে সাইবার দুর্বৃত্তরা। এর কোড রেফারেন্স দেখে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইকুন’। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এটি সক্রিয়। এটি মূলত নির্বাচিত লক্ষ্য ধরে আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করে থাকে হ্যাকাররা। এতে অপরিচিত প্রয়োগ কৌশল যুক্ত থাকায় কোনো নেটওয়ার্ক হ্যাক হলেও সহজে ধরা যায় না।

টাইকুনের মূল লক্ষ্য থাকে শিক্ষা ও সফটওয়্যার খাতের বিভিন্ন সংস্থা। এটি মূলত জাভা প্রোগ্রামিং ভাষায় লেখা প্রোগ্রাম, যা সহজে ধরা যায় না।

ব্ল্যাকবেরিতে গবেষণা এবং বুদ্ধিমত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক মিলাম বলেন, ‘হামলাকারীরা অস্বাভাবিক প্রোগ্রামিং ভাষা এবং অস্পষ্ট ডেটা ফর্ম্যাটগুলোর দিকে এগিয়ে চলেছে। এখানে হামলাকারীদের তাদের কোডটি অস্পষ্ট করার দরকার ছিল না তবুও তাদের লক্ষ্য অর্জনে তারা সফল হয়েছিল।’

প্রথম পর্যায়ে টাইকুন র্যানসমওয়্যার হামলা অস্বাভাবিক নয়, ইন্টারনেট-ফেসিং আরডিপি সার্ভারগুলো থেকে প্রথম হামলা আসতে পারে। নেটওয়ার্কে আক্রমণের পর টাইকুন সক্রিয় হয়ে পিসিরি ফাইল এনক্রিপ্ট করে দেয় এবং ডিসক্রিপট করার জন্য অর্থ দাবি করে।

হামলাকারীরা বিটকয়েনে অর্থ প্রদানের জন্য বলে এবং যোগাযোগের ভিত্তিতে দর বাড়াতে থাকে।

গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন, টাইকুন র্যানসমওয়্যারটি আরেক র্যানসমওয়্যার ধর্মা বা ক্রাইসিসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকতে পারে।
গবেষকেরা নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপকদের সচেতনতা, আরডিপি সার্ভারের সঠিক ব্যবস্থাপনা, দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করা ও নেটওয়ার্ক ব্যাক আপের পরামর্শ দেন।