ইন্দুরকানীতে হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন কর্মী ও আয়ার হাতে প্রসবিত সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ, প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন

Saturday, June 27th, 2020


কে. এম শামীম রেজা, ইন্দুরকানী(পিরোজপুর) প্রতিনিধি ঃ  পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে এক প্রসূতির সন্তান প্রসব করালেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়া। আর তাতেই প্রসবিত পুত্র সন্তানটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মৃত সন্তাননের বাবা মোতালেব হোসেন। ইন্দুরকানী উপজেলার ভবানিপুরর গ্রামের সুপারি ব্যবসায়ী মোতালেব জানান, আমার স্ত্রী রেকসোনা বেগম (৩৫) গর্ববতী। তার সন্তান প্রসবের জন্য যেন ইন্দুরকানী হাসপাতালের আয়া কহিনুর বেগমকে ডাকা হয় সে জন্য কহিনুর দীর্ঘ দিন ধরে অনুরোধ করেছে আমাকে। তাই রবিবার রাতে আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে কহিনুরকে জানাই। তবে আমার চাচীকে তার সাথে থেকে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু কহিনুর আমার বাড়িতে গিয়ে সে আবার ফিরে এসে হাপাতালের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী পারভিন বেগমকে অনেকগুলো ওষুধসহ নিয়ে যায়। তারা আমার স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করে সবাইকে বের করে দেয়। তাদের ইচ্ছামত ইনজেকশন দিতে থাকে আমার স্ত্রীকে। এক পর্যায়ে সন্তান প্রসবের সময় হওয়ার আগেই জোর করে অনেক শক্তি প্রয়োগে পুত্র সন্তাননের প্রসব ঘটায়। এর পরেই আমার স্ত্রী ও সন্তান অসুস্থ হয় পড়ে। তখন রাতেই ইন্দুরকানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ আমিন উল ইসলাম বলেন, কি করছেন আপনাকে এখন এরেস্ট করানো দরকার । পরে অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন । পথে মধ্যেই সন্তান মারা যায়। পরের দিন সোমবার মুমুর্শ অবস্থায় স্ত্রীকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। তার অবস্থা শংকটাপন্ন। মোতালেব আরো বলেন,আমার ৪টি কন্যা সন্তান রয়েছে । এবার একটি পুত্র সন্তান হলো তাও আবার ভুল চিকিৎসায় মারা গেল ।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিছন্ন কর্মি পারভিন জানান, আমি ডেলিভারি করিয়ে চলে আসছি। পরে শুনছি নাকি বাচ্চা মারা গেছে । এ বিষয় আমি কিছু জানি না ।
এ বিষয় অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া কহিনুর এ ঘটনার কিছ্ইু জানেন না বলে জানান। কথায় এক পর্যায় তিনি সন্তান প্রসবের সময় উপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেন । তবে তিনি প্রসূতি বিদ্যায় পারদর্শী নন বলেও জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার মোঃ আমিন উল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া কহিনুর ও পরিছন্ন কর্মী পারভিন এর ভুলের কারনে প্রসবিত পুত্র সন্তানটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি । তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।