রাণীশংকৈলে সরকারী কর্মকর্তাকে মারপিট আসামী গ্রেফতারের দাবিতে ইউএনওকে স্মারকলিপি

Thursday, July 30th, 2020


বিজয় রায়, রাণীশংকৈল প্রতিনিধিঃ- ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায়কে মারপিট করার ৭২ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও। পুলিশ আসামীদের এখনো আটক না করার। প্রতিবাদের অংশ হিসাবে এবং দ্রুত আসামীদের আটকের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও)কে স্মারক লিপি দিয়েছেন উপজেলার কর্মকর্তা কর্মচারীরা।  বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী আফরিদার অনুপস্থিতিতে এ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রীতম সাহা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা চিকিৎসক রায়হান আলী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আমির আলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোকসেদুল ইসলাম সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল জলিল সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ চৌধুরী সহ অনেকে।
স্মারক লিপি প্রদানের আগে উপজেলা পরিষদের প্রধান চত্বরের সামনে “পুলিশ প্রশাসন নিরব কেন জবাব চাই’ দিতে হবে’ সন্ত্রাসী ফারুক ও লেমনের দ্রুত বিচার চাই” রাণীশংকৈলে সুষ্ঠু কর্ম পরিবেশ চাই ইত্যাদি লেখা ফেষ্টুন নিয়ে দাড়িয়ে প্রতিবাদ জানান উপজেলা পরিষদে কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, মামলা করার ৭২ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখনো দোষী ব্যক্তিদের পুলিশ আটক করতে পারেনি। তাই আসামীদের দ্রুত আটকের দাবী জানিয়ে ইউএনওকে স্মারক লিপি দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, এতেও যদি আসামীদের পুলিশ আটক করতে না পারে। পরবর্তীতে আলোচনা সাপেক্ষে কর্মসুচি দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আব্দুল মালেক গতকাল বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে বলেন, আসামীদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জানতে চাইলে অফিসার ইনর্চাজ(তদন্ত) আব্দুল লতিফ মুঠোফোনে বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি,তাকে আটকের জন্য আমাদের টিম প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত সড়কে সাইড নেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায়কে মারপিট করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঐ দিন রাতেই থানায় দুই জনের নামে মামলা দায়ের করেছে ঐ কর্মকর্তা। আসামীরা হলেন, পৌর শহরের ভান্ডারা গ্রামের মৃত আম্বর হাজ্বীর ছেলে ফারুক হোসেন(৩০) ও আবুল কালামের ছেলে লেমন হোসেন(২৫)। ঘটনাটি গত সোমবার(২৭জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের বন্দর চৌরাস্তা নামক এলাকায় ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, বেহাল সড়কের কারণে বন্দর চৌরাস্তা মোড় সব সময় যানজট লেগে থাকে। ঠিক যানজট লেগে থাকা অবস্থায় বন্দর ডাবতলী মোড় যাওয়ার প্রাক্কালে ঐ যানজটে আটকে পড়েন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা । সে সময় অপরদিক থেকে মোটরসাইকেল যোগে আসছিলেন ফারুক হোসেন ও লেমন হোসেন। তারাও যানজেট পড়েন। এমন সময় অতর্কিতভাবে তারা কৃষি কর্মকর্তার মোটরসাইকেল সরিয়ে নিয়ে তাদের সাইড দিতে বলছিলেন। তবে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তাদের জানান তিনি এ পথ দিয়ে সামনে যাবেন। এতেই বাধ সাধে যুবকদের সাথে এই কর্মকর্তার। এসময় যুবকদ্বয় নিজেদের এলাকার ডন পরিচয় দিয়ে কথাকাটির এক পর্যায়ে এই সরকারী কর্মকর্তাকে চড় থাপ্পর মেরে দেন।
অপরদিকে মারপিট করার অভিযোগে অভিযুক্ত ফারুক বলেন, উনার কারণে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। তাই উনাকে সরে যেতে বলেছিলাম। এ কারণে তিনি আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ কারণে কথাকাটি হয়েছে। তবে আমি তাকে মারপিট করিনি।
এই ফারুক হোসেন বর্তমানে আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সে উদ্ভট বদ মেজাজী এবং মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করাই তার নিত্যদিনের কাজ বলে নাম প্রকাশে অইচ্ছুক অনেকে জানান। বিএনপি থেকে আ’লীগের রাজনীতিতে আসা ফারুক পৌর যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলনের সভাপতি প্রার্থী দাড়িয়েছিলেন। যদিও তিনি সভাপতি হতে পারেন নি। তবে নিজেকে এখন পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়ান। তবে পৌর কমিটির সভাপতি আলী জানান, আমার কোন কমিটিতে সে নাই।