পঞ্চগড়ে এমপির উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে মারপিট 

Tuesday, August 4th, 2020
মো. বাবুল হোসেন পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:  নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য সোহেল রানার সাথে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মৃত মাহাবুবার রহমান প্রধান দুলুর পরিবারের সাথে জমি নিয়ে দ্বন্দ চলছে গত ২০১৩ সাল হতে।  জমিজমার মালিকানাকে কেন্দ্র করে গত রোববার বিকেলে সংঘর্ষ বাধে দুই পক্ষের মধ্যে। এতে দুই পক্ষের আটজন আহত হয়েছে।
এদের মধ্যে চেয়ারম্যন পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষাকৃতবেশি আহত হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা। দুলু পরিবারের আহতদের তিনজন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে রোববার রাতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার হলেন দুলু চেয়ারম্যান এর মেজো ভাই মইনুর রহমান তরু (৬০) সবচেয়ে বেশি মাথায় গুরুতর আঘাপ্রাপ্ত হয়েছে। দুলু চেয়ারম্যান চাচাত ভাইয়ের ছেলে মখলেছুর রহমান (৫০) পিঠে জখম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দুলু চেয়ারম্যান এর চাচাত ভাই মতলুবার রহমান এর মেয়ে মমতাজ প্রধান (৪২) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের পরিবার জানায় আরও তিনজন আহত হয়েছে তারা ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার হলেন দুলু চেয়ারম্যান এর মেয়ে মারসিয়ার রহমান (৪০), দুলু চেয়ারম্যান এর স্ত্রী মমতাজ দৌলতানা প্রধান (৫৬) এবং মইনুর রহমান তরুর স্ত্রী ফারজানা (৪৫)।

উভয় পক্ষে আহত হন বলে জানা যায়। এবং দুলু  পরিবারের সদস্যরাই গুরুতর আহত হন।
পরিবারের অভিযোগ এমপি সোহেল রানা ক্ষমতার জোর দেখিয়ে  ফিল্মি স্টাইলে লোকজন নিয়ে এসে অন্যায় ভাবে মারপিট এ থেকে মহিলারাও রেহাই পাননি সংসদের উপস্থিতিতে মহিলাদের শ্লীলতা হানি করেছে সাঙ্গ-পাঙ্গরা আমরা একজন সাংসদের প্রভাব-প্রতিপত্তির কাছে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছি জমি  নিয়ে আদালতে মামলা চলমান।
বিচারাধীন অবস্থায় এই মুহূর্তে জমিতে দখলের পাঁয়তারা স্থানীয় ভূমিদস্যুদের  নিয়ে আমরা এর সঠিক বিচার আশা করছি। দুলু চেয়ারম্যান এর চাচাতো ভাই ফুলু জানান এমপি সোহেল রানা কে জিজ্ঞাসা করেছি  কেন আমাদের জমিতে দলবল নিয়ে প্রবেশ করছেন তখনই এমপি সোহেল রানা নির্দেশে তার বাহিনীর সদস্যরা আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত   করে নারী সদস্যদের পরনের কাপড় টেনে  নির্যাতন দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু করে ।
এবং এমপি সোহেল রানার  নিজের লোক দিয়ে গাড়ির কাচ ভেঙ্গে ফেলে   আমাদের ফাসানোর চেষ্টা করেছে। আমরা পুলিশকে খবর দেই পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমরা এমপি সোহেল রানা ও তার বাহিনীর সদস্যদের আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য তহিদুল ইসলাম জানান সোহেল রানার এমপি সাথে এলাকার বাসিন্দা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দুলুর পরিবারের সাথে গত ২০১৩ সাল থেকে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল আমি শুনেছি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ১০ একর জমি ক্রয় করে  সোহেল রানা। হঠাৎ করে ৫০জন লোক নিয়ে  নালাগঞ্জে রোববার বিকেল বেলা প্রবেশ করে এবং এমপি সোহেল রানা   সরকারি গাড়ি পার্কিং কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এবং দুলু  পরিবারের লোকজন আহত বেশি হন।ইউপি সদস্য আরো জানান একজন সংসদ সদস্য সীমান্ত এলাকা আসলে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার কথা আমার জানা মতে কিন্তু আমাদেরকে কিছু জানান নি।
এদিকে আহতরা পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় আছেন। এবিষয়ে এমপি সোহেল  রানা জানান
আমি আমার ক্রয় করা জমিতে গিয়েছি আবাদ দেখার জন্য । গাড়িটি পার্কিং করে জমিতে যাই তখন শুনি আমার গাড়িটি ভাঙচুর হচ্ছে পুলিশে খবর দেই পুলিশ এসে সবাইকে শান্ত করে। আমার কোন বাহিনী নেই আমি যাদের কাছে জমি ক্রয় করেছি উনাদের সাথে চেয়ারম্যান পরিবারের মারধর হয়। আমি কোন সংঘর্ষে জড়িত নই।
স্থানীয়রা জানান ইজমাইলি জমি বাটোয়ারা না করে জমি কেনা ঠিক করেননি।
জমি নিয়ে এমপি সোহেল  রানার উপস্থিতিতে দুলু পরিবারের সংঘর্ষের খবর পেয়ে  পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ দুই দফায়  ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি  তদন্ত জামাল হোসেন জানান  সাংসদ  উপস্থিতিতে জমি নিয়ে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে  গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করেছি। সংঘর্ষে গাড়ির কাচ ভেঙ্গে যায়। দুলু পরিবারের আহত সদস্যদের এম্বুলেন্স গাড়িতে চিকিৎসার জন্য তুলে দেওয়া হয় । এবং সাংসদ সোহেল রানাকে নিরাপদে নিয়ে আনা হয়। উভয়পক্ষকে অভিযোগ নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।