ঈদের ছুটি উপভোগ করতে হাকালুকিতে পর্যটকদের সমাগম

Thursday, August 6th, 2020

জোবায়ের আহমদ, জেলা প্রতিনিধিঃ নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মানুষজন কে এক ধরনের বন্দি জীবন যাপন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মৌলভীবাজার জেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত,লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ করে রেখেছে বন বিভাগ। ঈদের খুশি কাটাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগে হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসেন হাকালুকিতে।

এশিয়ার বৃহত্তর হাওর হাকালুকির সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদের দিন থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতি প্রেমি পর্যটক। বৃহত্তর সিলেটের গৃহবন্দি মানুষজন একটু হাফ ছাড়তে করোনার আতঙ্ককে দূরে ঠেলে পরিবার পরিজন নিয়ে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে তাই আসছেন বর্ষায় হাওরের মুগ্ধতা দেখতে। হাকালুকি যেন দর্শকদের চোখে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। হাকালুকি হাওরের বিশাল অংশই পড়েছে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা জুড়ে।

এদিকে হাকালুকি মুখী হয়ে কেউবা ছুটছেন রাস্তার পাশের সবুজের গালিচা বিছানো চা বাগানগুলোতে। কেউবা হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে আর সেল্ফি তুলে নির্মল বাতাস নিচ্ছেন বুক ভরে, আবার কেউ বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় পরিজন নিয়ে ইঞ্জিন নৌকায় চড়ে হাওরের বুকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

জিজ্ঞেস করলে প্রকৃতি প্রেমি এক পর্যটক সুনিয়া বেগম বলেন, করোনার লাগি ঘর থাকি বাইরে যাওয়া আসা বন্ধ থাকায় অনেক দিন পর হাকালুকির হাওর ও আইতাম পারছি।আমার কাছে মনে হর যেমন জেল থাকি বার হইছি।মন চারনা আর ঘরে যাওয়ার(করোনার জন্য বাসা থেকে বের হতে পারিনি অনেকদিন পরে আজ বের হয়ে নিজে খুবই আনন্দিত, মনে হচ্ছে যেন জেল থেকে ছাড়া পেলাম,মন চাচ্ছে না ঘরে ফিরে যেতে)।

এলাকা ঘুরে দেখাযায়, স্থানীয় বন বিভাগের পর্যটন টাওয়ার, বিট কর্মকর্তার অফিসের ছাদ এবং হাওর পাড়ের পাকা সড়কে ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের দিন থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ ছুটে গেছেন হাকালুকির নৈসর্গিক মুগ্ধতা দুচোখ ভরে দেখতে এসেছেন।

পর্যটকের বেশি ভিড় ছিল কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের পালের মোড়া সেল্ফি ব্রিজ এলাকায়, ভুকশিমইল বাজার সংলগ্ন এলাকায়, জুড়ীর কন্টিনালা ব্রিজ ও বড়লেখার তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা এলাকায়। হাওরের দিগন্ত জোড়া বিশাল জলরাশি আর হালকা ঢেউয়ে ফুরফুরে বাতাস পর্যটকদের মন জুড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিকেলের আকাশে নানান রং এর মেলা, থোকা থোকা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য হাওরে আসা লোকজনের মনকে চাঙ্গা করে দিয়েছে। সাথে রয়েছে শেষ বিকেলের সূর্যাস্ত, নানান পাখির ঝাঁক উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য পর্যটকদের বাড়তি চাহিদাও পুরণ করে দিয়েছে। দিনশেষে ক্লান্ত শ্রান্ত মানুষজন হাওরের এই রুপ দেখে মুগ্ধ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।