ছ’মাসের মধ্যে নয়া কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচন, আপাতত দায়িত্বে রইলেন সনিয়াই

Tuesday, August 25th, 2020

যেমনটা আশা করা হয়েছিল, ঠিক তা-ই হল। কংগ্রেস আবার বুঝিয়ে দিল, গাঁধী পরিবার ছাড়া দলের গতি নেই।‘সনিয়া, আপনি সভানেত্রীর পদ ছেড়ে যাবেন না’ এবং ‘রাহুল, ফের সভাপতির দায়িত্ব নিন’— এই স্লোগান তুলে সনিয়া ও রাহুল গাঁধীর নেতৃত্বেই আস্থা জানাল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি। এক দিকে মনমোহন সিংহ, এ কে অ্যান্টনির নেতৃত্বে প্রবীণ নেতারা সনিয়াকেই আপাতত সভানেত্রীর পদে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানালেন। অন্য দিকে কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা থেকে আহমেদ পটেল পর্যন্ত ওয়ার্কিং কমিটির প্রায় সকলে রাহুলকে ফের কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আর্জি জানালেন। গাঁধী পরিবারের বাইরের কারও সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়ে তাঁরা বললেন, রাহুল দায়িত্ব নিয়ে নিজের মতো সংগঠন সাজিয়ে নিন।

কংগ্রেসের ২৩ জন নেতা সনিয়াকে চিঠি লিখে পুরো সময়ের সক্রিয় নেতৃত্ব, সংগঠন ঢেলে সাজানো, ওয়ার্কিং কমিটির নির্বাচন এবং সর্বোপরি সকলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছিলেন। দু’সপ্তাহ আগে লেখা সেই চিঠি ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের আগে ফাঁস হয়। সনিয়া তার আগেই দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, তিনি অন্তর্বর্তী সভানেত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চাইছেন। তিনি লেখেন, ‘দলের স্বার্থে আমি ওয়ার্কিং কমিটিকে অনুরোধ করছি, আমাকে অব্যাহতি দিতে দায়িত্ব বদলের প্রক্রিয়া শুরু করা হোক’।

এই দুই চিঠি নিয়ে সাড়ে ছয় ঘণ্টার বৈঠকে বাদানুবাদ-তর্কবিতর্ক, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের শেষে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একমত হয়ে প্রস্তাব নিল, যত দিন না এআইসিসি-র অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, সনিয়া গাঁধীকেই আপাতত কংগ্রেস সভানেত্রী পদে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বিক্ষুব্ধদের চিঠি প্রসঙ্গে এ দিন সনিয়া জানান, তিনি ‘আহত’। কিন্তু ‘সহকর্মী’-দের প্রতি মনে কোনও ‘বিদ্বেষ’ রাখছেন না। বৈঠকে অম্বিকা সোনি বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু সনিয়া বলেন, যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। অতীতেও তাঁকে আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু তিনি দলের স্বার্থে সে সবের ঊর্ধ্বে উঠেছেন।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, করোনার প্রকোপ কমলে মাস ছয়েক পরে সভাপতি নির্বাচনের জন্য এআইসিসি-র অধিবেশন ডাকা হবে। আপাতত সনিয়ার অধীনে একটি কমিটি তৈরি করা হতে পারে।

দলের ২৩ জন নেতা সনিয়াকে চিঠি লিখলেও তাঁদের অভিযোগের আঙুল ছিল রাহুল গাঁধীর দিকে। কারণ রাহুল সভাপতির পদ না-নিলেও পিছন থেকে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু নিজের ‘কোর টিম’-এর বাইরে কারও সঙ্গে আলোচনা করছেন না। সনিয়ার অধীনে কমিটি তৈরি হলে সেই ক্ষোভ মেটানো যাবে।

রাহুল এ দিনও সভাপতি পদের দায়িত্ব নিতে সম্মতি দেননি। তবে কংগ্রেস নেতাদের আশা, ছ’মাসের মধ্যে তিনি রাজি হয়ে যাবেন। প্রথমে এক বছর পরে সভাপতি পদে নির্বাচনের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকে রাহুল নিজেই বলেন, ছ’মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হোক।

এ দিন ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের শুরুতে বেণুগোপাল সনিয়ার চিঠিটি পড়ে শোনাতেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, এ কে অ্যান্টনি, পি চিদম্বরম ও আহমেদ পটেলরা তাঁকে সভানেত্রীর পদে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেন। বস্তুত, রবিবার রাত থেকেই কংগ্রেসের শীর্ষনেতারা সনিয়া-রাহুলকেই নেতৃত্বে দরকার বলে সরব হয়েছিলেন। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী থেকে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা সনিয়াকেই সভানেত্রীর পদে থেকে যেতে অনুরোধ করেন। অশোক গহলৌত, ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংহ, ভূপেশ বাঘেলরা দাবি তোলেন, সনিয়া না-চাইলে রাহুল আসুন। একাধিক রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি, কংগ্রেসের বিভিন্ন বিভাগীয় কমিটিও রাহুলকে সভাপতি পদে ফেরানোর দাবি তুলে প্রস্তাব নেয়।

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির নেতা রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘কংগ্রেসের লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী চায়, রাহুল ফের সভাপতির দায়িত্ব নিন। কংগ্রেস গণতান্ত্রিক দল। এআইসিসি-র নির্বাচনের মাধ্যমেই সভাপতি নির্বাচন হবে। সেখানে কী হবে, তার ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়।’’-আনন্দবাজার