দেশে সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিলেন্সার কয়েক শত মিলিয়ন ডলার আয় করছে: জুনাইদ আহমেদ পলক

Friday, September 25th, 2020
সুজন মহিনুল : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য আগামী ৫ বছরে নতুন করে ১০ লাখ তরুন-তরুণীর আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। আমরা চাই শ্রম নির্ভর অর্থনীতির দেশ থেকে বেরিয়ে এসে মেধা নির্ভর ডিজিটাল ইকোনমির দেশে পরিণত করতে।”
প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে নীলফামারীতে হাইটেক পার্ক ও শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা সদরের দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল ও নীলফামারী ৫৬ বিজিবির পাশে ডাঙ্গাপাড়া পিলার এলাকায় ডাক,  টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক হাইটেক পার্কের ১৫ একর জায়গা পরিদর্শণকালে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন,“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীলফামারীসহ দেশের ৬৪ জেলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হাইটেক পার্ক স্থাপনে আন্তরিক। আমাদেরকে একটি উন্নত দেশ গড়তে বিশ্বের যে চাহিদা সেটিকে পূরণ করতে প্রযুক্তিতে জ্ঞানসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। যে রকমভাবে গত ১১ বছরে তৃণমূলে ইউনিয়ন পর্যন্ত ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল গেছে। শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব থেকে প্রযুক্তিতে শিক্ষা গ্রহণ করেছে আমাদের মেয়ে-ছেলেরা, যার ফলে আজকে সাড়ে ছয় লাখ আইটি ফ্রিলেন্সার কয়েকশ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। এখন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক অনলাইন কর্মীর দেশ বাংলাদেশ। এছাড়া করোনাকালিন সময় অনলাইনের মাধ্যমে নতুন তরুণ-তরুণী উদ্যোক্তাও তৈরি হয়েছে।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টায় মন্ত্রী নীলফামারী সার্কিট হাউসের সভা কক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় মন্ত্রীর উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল মোতালেব সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খন্দকার নাহিদ হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ প্রমুখ।
উল্লেখ:- ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারী উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পের বিকাশ, আইটি ভিলেজ তথা সফটওয়্যার টেকনোলজির হাইটেক পার্কের জায়গা পরিদর্শন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি।
দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলের অধিনে ১০৮ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি রয়েছে ৪০ একর জমির উপর। বাকী জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় তা বিটিএমসির কাছ থেকে অধিগ্রহন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ একরে হবে হাইটেক পার্ক। হাইটেক পার্কের পাশে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন মোট ১২টি দাগের ২ একর জমি অধিগ্রহণের নিম্নিতে সম্ভাব্য মূল্য বাবদ দুই কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকা প্রাক্কলন পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বরাবরে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।