তানোরে খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদুকের মামলা

Saturday, September 26th, 2020

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি রাজশাহীর তানোর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) আলাউল কবিরসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক)। কমারগাঁ সরকারি খাদ্য গুদামে প্রায় ৬০ মেট্টিক টন ধান (খাদ্যশস্য) আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি উন নবী বাদি হয়ে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনে এই মামলা করেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।মামলায় আসামি করা হয়েছে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) আলাউল কবির, কামারগাঁ খাদ্য গুদামের (তৎকালীন) কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নয়ন কুমার, সহকারী উপ খাদ্য পরিদর্শক আজিজুর রহমান ও নিরাপত্তাকর্মী কুরবান আলী। এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন দুদুকের ১২০৩/১(৪) নম্বর স্বাক্ষরিত একটি বার্তায় এই মামলার বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরকে অবহিত করা হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি করে ৬০ মেট্টিক টন ধান, (যার সরকারি মূল্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার ২৬০ টাকা) ও খালি বস্তা ৩ হাজার ৩৪৬টি, (যার সরকারি মূল্য ২লাখ ৬৭ হাজার ৬৮০ টাকা) আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পায় দুর্নীতি দমন কমিশন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপসহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি উন নবী বাদি হয়ে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনে এই মামলা করেন। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৫ মার্চ কামারগাঁ খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নয়ন কুমার মজুদকৃত গুদামের ধানের মধ্যে ৬০ মেট্রিক টন ধান অন্যত্র বিক্রি করে দেন। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তৎকালিন রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হকের নির্দেশে রাজশাহী জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ডিসিফুড) নাজমুল হক ও জেলা কারিগরি খাদ্যপরির্দক সিহাবুল ইসলাম কামারগাঁ খাদ্যগুদামে পরিদর্শন করে আত্মসাতের প্রমাণ পায়।আত্মসাতের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হলে জেলা প্রশাসক তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতোকে ঘটনাস্থলে গিয়ে কামারগাঁ খাদ্যগুদাম সিলগালা করার নির্দেশ দেন। পরে বিষয়টি রাজশাহী জেলার দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে সত্যতা পেলে ওই চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সংশ্লিস্ট বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, এই ঘটনার পুরো দায় টিসিএফ সাহেবের তার মৌখিক নির্দেশে এমন ঘটনা ঘটেছে,তবে ধরা পড়ার পর তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সব দায় তার অধিনস্তদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এবিষয়ে রাজশাহী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ধান ও খালি বস্তা আত্মসাতের দায়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ চার জনের নামে মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আরো কিছু তদন্ত বাকি আছে, এরপর তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করা হবে।#