সাপাহারে দুই বছরেও শেষ হয়নি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ কাজ

Saturday, September 26th, 2020
নয়ন বাবু, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় গুরুত্বপুর্ন দুইটি ভূমি অফিস ভবনের নির্মাণ কাজ মন্থর গতিতে চলায় দীর্ঘ দুই বছরেও সমাপ্ত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ফলে কষ্ট করে ছোট ঘরে বসেই যাবতীয় কাজ সারতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। সেবা নিতে আসা সাধারণ জনগনও বসার কোন জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ভুমি সেবা নিয়েই ফিরে যাচ্ছে নিজ নিজ গন্তব্যে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দফায় দফায় লিখিত ও মৌখিক ভাবে তাগাদা দেয়া হলেও এখনো পর্যন্ত ভবন গুলো নির্মাণে কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। এদিকে ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণে বিলম্ব হবার ফলে পুরনো ভবনে কাজ করতে গিয়ে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী ও এলাকার সাধারণ জনগণ।
স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য মতে জানা গেছে, উপজেলার শিরন্টী-গোয়ালা ও সাপাহার-তিলনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস দুটির ভবনের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম কে ২৮ মে ২০১৮ তারিখে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। চুক্তি মোতাবেক ১৭ মার্চ ২০১৯ তারিখে উক্ত অফিস দু’টোর ভবন নির্মাণ কাজ সমাপ্তির সময় নির্ধারণ করা হয়। যথা সময়ে কাজ সম্পূর্ণ করতে না পারার ফলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত তার কাজের জন্য সময়সীমা বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের নির্দেশনাকে অমান্য করে অদ্যবধি ওই ভবন দুইটি নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেননি ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম। যার ফলে জায়গা সঙ্কটসহ নানাবিধ সমস্যার কারনে পুরনো ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
সাপাহার উপজেলার তিলনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও গোয়ালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নির্মাণ কাজ শুরুর দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের গড়িমসির কারনে এখনো পর্যন্ত ওই ভবন দুটি নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছেনা বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতি সাধারণ জনগন ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, ওই ভবন গুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় দুই বছর ধরে চললেও তারা কখনোই কাজের দেখভাল করতে ঠিকাদারকে আসতে দেখেননি। মাঝে মধ্যে দু’একজন মিস্ত্রি এসে টুকটাক কাজ করে চলে যায়। তারপর দীর্ঘদিন ধরে আর মিস্ত্রীদের সেখানে দেখা যায়না। নিম্ন মানের কাজ করার কারনে লাগানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যে ওয়ালের টাইলস খসে পড়েছে,মেইনগেটের দরজা এখনি ভেঙ্গে পড়েছে। রং বার্নিস,টাইলস ও বৈদ্যুতিক ওয়ারিং , ওয়াল প্লাস্টারসহ ভবণ গুলোর বাইরে ও ভিতরের অনেক কাজ বাঁকী রয়েছে। একে বারে নড়বড়ে মন্থরগতিতে ঠিকাদারের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে ।
এ ব্যাপারে গোয়ালা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি যোগদান করা প্রায় তিন বছর হতে চলেছে। এর মধ্যে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় কিন্তু এখনো পর্যন্ত অজ্ঞাত কারনে ওই কাজ শেষ হচ্ছেনা। বহু পুরাতন একটি ঘরে জায়গা সঙ্কটের কারনে অতি কষ্টে আগত জনগনকে ভুমি সেবা দিতে হচ্ছে”।
অপরদিকে একই কথা বলছেন তিলনা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম।