মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া কাবিননামা, পেনশন অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

Tuesday, September 29th, 2020


রাজেকুল ইসলাম,রাণীনগর,নওগাঁ ঃ এবার মৃত সরকারী কর্মচারীর পেনশনসহ অন্যান্য অর্থে ভাগ বসানোর কৌশল হিসেবে রহিমা @ আইমনি (৪৫) নামের বহুরুপি ভবঘুরে মহিলার সাথে বিয়ের ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগও উঠেছে কথিত ভুয়া কাজী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে বেলাল হোসেন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার।
প্রাপ্ত অভিযোগে মতে, নওগাঁ সদর পৌর এলাকার বাঙ্গাবাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা মরহুম আমীর আলীর ছেলে আজাহার আলী (৫০) জারিকারক (প্রসেস সার্ভার) হিসেবে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় ২০১৮সালের ৮আগস্ট মারা যায়। পরে আজাহারের পরিবার পেনশনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করে।
কিন্তু হঠাৎ করে বাঁধ সাধে রাণীনগর সদর উপজেলার পশ্চিম বালুভরা গ্রামের আজিবর শাহর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বহুরুপি মোছা: রহিমা/আইমুনি বিবি (৪৫)। রহিমা নিজের নাম গোপন করে আইমনি সেজে ২০১২ সালের ৩ জানুয়ারী ১ম স্বামী আজিবরকে তালাক দেয়। পরে নওগাঁ পৌরসভা থেকে আইমনি খাতুন নামে জন্ম সনদ নিয়ে রাণীনগর নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত ঝাড়–দার শ্রী মুন্না হাড়িকে ইসলাম ধর্মে ধমান্তরিত করে খালেক নাম দিয়ে ২০১৩সালের ৭ফ্রেবুয়ারী তাকে বিয়ে করেন। ২০১৪ সালের ২৬ আগষ্ট ২য় স্বামী মুন্না হাড়ি মারা গেলে পেনশনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাভোগী হয় রহিমা ওরফে আইমুনি বিবি।
আজাহার আলীর মৃত্যুর দীর্ঘদিন পর রহিমা ২নং কাশিমপুর ইউনিয়নের কথিত ভুয়া কাজী বেলাল হোসেনের স্বাক্ষর করা ২০১৭ সালের একটি নিকাহ নামার নকল দাখিল করে নিজেকে আজাহারের ৩য় স্ত্রী দাবী করে পেনশনসহ যাবতীয় অর্থের দাবী করে। আর এতেই পেনশনের পুরো প্রক্রিয়া আটকে যায়।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন তদন্ত ও শুনানী অন্তে ২০১৯ সালের ১২ মে (স্মারক নং-০৫.৪৩.৬৪৮৫.০০০.০২.০০৯.১৯-৬৫৯) বিশদ প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।এতে বলা হয়েছে, রহিমার জন্ম নিবন্ধনের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম এবং জন্ম তারিখের মিল নাই। জাতীয় পরিচয়পত্রে রহিমা নাম থাকলেও তার ২য় মৃত স্বামী শ্রী মুন্না হাড়ির পেনশনের কাগজপত্রে আইমুনি নাম রয়েছে। ২নং কাশিমপুর ইউনিয়নের মোঃ বেলাল হোসেন স্বাক্ষরে যে নিকাহ রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তার কোন কার্যালয় নেই এবং উক্ত ব্যক্তি সরকার কর্তৃক অনুমোদন প্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার নয়। ১৬/৫/২০১৭তারিখে ওই নামের বর ও কনের নিকাহ রেজিস্ট্রেশন ২নং কাশিমপুর নিকাহ রেজিস্ট্রারের অনুকুলে সম্পাদন হয় নাই অর্থাৎ দাখিলকৃত নিকাহ রেজিস্ট্রেশনের ও অন্যান্য কাগজপত্রের কোন সত্যতা নেই। মৃত আজাহার আলীর পরিবারের দাখিল করা কাগজপত্রের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেন।
মৃত আজাহার আলীর ১ম স্ত্রী জোসনা বিবি অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের ভুয়া কাবিননামা দিয়ে স্বামীর পেনশনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিতে ভ’য়া কাজী বেলালের সহায়তায় রহিমা ও তার সহযোগী চক্ররা পায়তারা করেছে। ইউএনও’র প্রতিবেদনে সুবিধা করতে না পেরে রহিমা ভ’য়া কাগজপত্র দিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা করায় পেনশন তুলতে পারছিনা। ফলে,চরম হয়রানী ও অভাবের সংসারে ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি।
ভবঘুরে রহিমা আইমুনি বিবি নিরুদ্দেশ এবং ফোন নম্বর না পাওয়ার কারণে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুন বলেন, রহিমার দাখিল করা নিকাহ রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য কাগজপত্র সঠিক পাওয়া যায়নি মর্মে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।