শিবগঞ্জে মাঝিহট্ট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবার পরিধি ধীরগতি, ভোগান্তিতে রোগীরা

Tuesday, September 29th, 2020
রশিদুর রহমান রানা শিবগঞ্জ  (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যও পরিবার কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবার পরিধি ধীরগতি। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ১৯৮৫ সালে ০১ একর জায়গা নিয়ে স্থানীয় সমাজসেবক জসিম উদ্দিন নামের ব্যক্তির প্রচেষ্টায় স্থাপিত হয়। মাঝিহট্ট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। কেন্দ্রটিতে সরকারিভাবে জনবল সংখ্যা ০৫ জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে জনবল আছে ০৪ জন। স্থাপিত হবার পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন চিকিৎসক এর পরিবর্তন হলেও কেন্দ্রটির চিকিৎসা সেবায় তেমন কোন পরিবর্তন চোখে পড়ে না।
প্রথমত, কেন্দ্রটির প্রধান ফটকে নেই কোন সাইন বোর্ড। সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৪০-৫০ জন জ্বর, সর্দ্দি, কাশিসহ নানা ধরণের রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। তবে এসব রোগীর মধ্যে নারী রোগীর সংখ্যাই বেশি।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটির অফিস কক্ষ বন্ধ করে জানালা দিয়ে রোগীর দেখছেন ও ওষুধ দিচ্ছেন। ভিতরে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার ইউনুস আলী, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার চেয়ারে বসেই সেলামি নিয়ে অন্যান্য রোগীর ডাক্তারী পরীক্ষা রিপোর্ট দেখছেন।
স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ইউনুস আলী একই স্থানে দীর্ঘদিন চাকরিতে থাকায় অজ্ঞাত কারণে মাঝে মধ্যেই কর্মস্থলে আসেন না। এছাড়াও কেন্দ্রে দেড়িতে আসার ঘটনা তার অহরহ। অপরদিকে নারী স্বাস্থ্য কর্মী মোছাঃ জুঁই সেবা নিতে আশা গর্ভবর্তী নারীদের ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট দেয়না এবং অ-সৌজন্যমূলক আচারণ করার ঘটনা হর হামেশায় করে থাকে। সূত্র থেকে আরও জানা যায়, কেন্দ্রে চাকরিরত জঁই সরকারি সরবরাহকৃত ক্যালশিয়াম ট্যাবলেট গর্ভবতীদের না দিয়ে তার ব্যাগে করে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ইউনুস আলীর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি সড়ক দূর্ঘটনায় বেশ কিছু দিন অসুস্থ্য থাকায় কেন্দ্রে কিছু কিছু অনিয়ম হতে পারে। সেলামি নিয়ে রোগীর রিপোর্ট দেখার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কেউ যদি খুশি হয়ে কিছু দেয় সেটা নেওয়া যাবে। সবমিলিয়ে মাঝিহট্ট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যও পরিবার কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবার পরিধি চরম ধীরগতি!
মাঝিহট্ট ইউনিয়ন জুড়ে ৩০ হাজার মানুষের গ্রাম্য এলাকায় একমাত্র স্বাস্থ্যও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে একটি মেডিক্যাল অফিসার (এমবিবিএস) ডাক্তারের যোগদানসহ কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারী ও চিকিৎসা সেবার পরিধি জোরালো করতে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেন সচেতন মহল।