জাতীয় পতাকার অবমাননা, এ দায় কার?

Tuesday, October 13th, 2020

মো: মহসিন হাছান খান ‍বুলবুল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকন্ঠে যে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন “এবারে সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম” তার সেই ডাকে সারা দেওয়া এদেশের মুক্তি পাগল কৃষক শ্রমিক মজুর ছাত্র-জনতা এক কাতারে কাধে কাধ মিলিযে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে ৯মাস অবিরাম যুদ্ধ করে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ।৩০লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ আর নাম না জানা অসংখ্য মা-বোনের সম্ভমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক লাল সবুজের পতাকা।যেটি বিশ্বের বুকে আমাদের পরিচয় বহন করে।যার সামনে দাড়ালেই আমরা প্রত্যেকেই মাথা নত করে সন্মান করি শ্রদ্ধা আর ভালবাসার সাথে।

কিন্ত স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো জাতীয় পতাকার সঠিক ব্যবহার করতে শিখিনি।জাতীয় পতাকা উত্তোলন, নামানো, তৈরি ও এর ব্যবহারের বিষয়ে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের  পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ রয়েছে। কিন্ত আমরা এই বিধিমালাটি পুরো না জেনে নিজেদের ইচ্ছামাফিক জাতীয় পতাকা তৈরি ও ব্যবহার করে এর অবমাননা করছি ।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ এ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে  ৪ ধারায় এর উপধারা ১এ বলা আছে ক)মহানবীর জন্ম দিবস (ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী);খ)২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস;গ)১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস;ঘ) সরকার কতৃক প্রজ্ঞাপিত অন্য যে কোন দিবস সমূতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে এছাড়া উপধারা ২ এ বলা আছে ক) ২১শে ফেব্রুয়ারী শহিদ দিবস;খ)১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক ‍দিবস এবং গ)সরকার কতৃক প্রজ্ঞাপিত অন্য যে কোন দিবস জাতীয় পতাকা অধর্নমিত থাকবে।

আমাদের দেশে সচারাচর যেটি দেখা যায় ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী, শহিদ দিবস,স্বাধীনতা দিবস,,জাতীয় শোক দিবস, বিজয় দিবসগুলোতে বিভিন্ন বেসরকারী ভবন, দোকান,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার পর আর সেটিকে যথাযথ ভাবে নামানো হয়না।ফলে মাসের পর মাস পতাকাগুলো উত্তোলনরত অবস্থা থাকতে থাকতে বৃস্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়ে এর রং বিবর্ন্ আকার ধারন করে এবং আস্তে আস্তে ছিড়তে ছিড়তে সেটিকে আর পতাকা বলে মনে হয় না।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ এ বিধিমালা ৭ এর ২২ ধারায় বলা আছে যে ক্ষেত্রে পতাকার অবস্থা এমন হয় যে উহা আর ব্যবহার করা যায় না যায়, সেই ক্ষেত্রে উহা মযার্দাপূর্নভাবে,বিশেষ করিয়া সমাধিস্থ করিয়া, নিস্পত্তি করিতে হইবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণ  জয়ন্তী পালনের দাড় প্রান্তে আমরা দাড়িযে আছি কিন্ত এখোনো আমরা যদি  আমাদের শৌর্য-বীর্যর  প্রতিক জাতীয় পতাকার সঠিক ব্যবহার করতে না পারি তাহলে এ দায় কার আমার আপনার নাকি রাস্ট্রের প্রশ্ন রইলো।