ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় স্বাক্ষী হওয়ায় ইমাম চাকরীচ্যুত

Monday, October 19th, 2020
মো.বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি:পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নে গৃহবধূ ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে নাম উল্লেখ থাকায় এক মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুত করেছেন মাহাবুব আলম নামের এক ব্যক্তি। এঘটনায় ওই মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মাহাবুব ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার মৃত কাদের আলীর ছেলে এবং বড়বাড়ি বাজার জামে মসজিদের জমি দাতা।
এদিকে, ন্যায় বিচারের দাবিতে ডাঙ্গাপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মোহিদুল ইসলাম নামের ওই ইমাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি জানান, একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে নাম উল্লেখ থাকায় নিয়ম বহির্ভুত ভাবে তার ইমাম পদ বাতিল করেছে মাহাবুব। অথচ, মসজিদের কেবল জমিদাতা হলেও সভাপতি/সম্পাদক এমনকি কমিটির কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন তিনি।
চাকরিচ্যুত ইমাম মোহিদুল বলেন, ‘গত দেড় মাস আগে আমার বড় ভাই জীবিকার তাগিদে শরীয়তপুরে কাজে যান। এদিকে, সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে ভাবি একাই থাকেন। এই সুযোগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে প্রতিবেশি ভোগোম উদ্দীনের ছেলে ফারুক হোসেন পরিকল্পিত ভাবে ভাবির ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ চেষ্টা করেন। পরে চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে গেলে কৌশলে লম্পট ফারুক পালিয়ে যায়।’
মোহিদুল বলেন, ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় আমার ভাবি বাদী হয়ে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে একটি মামলা করেন। সেখানে প্রত্যক্ষদর্শি হিসেবে আমাকে স্বাক্ষী করা হয়।
মোহিদুল আরো বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে মাহাবুব আমার বিরুদ্ধে ষরযন্ত্র চালাতে থাকেন। এক পর্যায়ে জমি দাতা হিসেবে প্রভাব দেখিয়ে আমার চাকরি হরন করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জমি দান করেও কর্তৃত্ব খাটিয়ে নিরপরাধ ইমামকে অব্যহতি দেয়া নিয়মবহির্ভূত ঘটনা।
তবে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মাহাবুব বলেন, ইমামের তেলোয়াতে ভুল থাকায় ওই ইমামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
 এদিকে, ধর্ষণ চেষ্টার আসামী ফারুক হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, ফারুক এলাকার বখাটে, নারী লোভী ও উশৃংখল চরিত্রের ব্যক্তি। তার অত্যাচারে এলাকার নারীরা নিরাপদহীন। তিনি নারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ড করে চলেন। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার গ্রাম্য শালিসও হয়েছে। সম্প্রতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর তার বিরুদ্ধে গণ স্বাক্ষরের ভিত্তিতে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই-আলম বলেন, ইমামের চাকরিচ্যুত বিষয়ের একটি অভিযোগ পেয়ছি এবং ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ফারুকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে সেই বিষয়েও অবগত রয়েছি।