মামলা নথিভুক্ত হলে মুঠোফোনে বার্তা পাচ্ছেন  বাদী

Wednesday, November 18th, 2020
পঞ্চগড় হতে মোঃ বাবুল হোসেন  : পঞ্চগড় সদর উপজেলার ফেরদৌসী আক্তার (২০) গত ২৯ অক্টোবর স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছিলেন। থানায় এজাহার জমা দিয়ে বাড়িতে পৌঁছার পর তাঁর মুঠোফোনে একটি খুদে বার্তা (এসএমএস) আসে। ওই বার্তায় তাঁর এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে মামলার নম্বর এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার নামসহ মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হয়।
শুধু ফেরদৌসী আক্তার নন, পঞ্চগড় জেলার পাঁচটি থানায় যাঁরাই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা মামলা করছেন; প্রত্যেকেই পাচ্ছেন এমন খুদে বার্তা। এতে বাদীরা সহজেই পাচ্ছেন মামলা নম্বর, তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম ও মুঠোফোন নম্বর। এ ছাড়া আদালত থেকে থানায় আসা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার আদেশসংক্রান্ত মামলার বাদীরাও পাচ্ছেন এমন সুবিধা।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ মামলার বাদীদের জন্য এই সেবা চালু করেছে। এমন সেবা পেয়ে বিচারের আশায় মামলা করতে আসা ব্যক্তিরা খুশি হচ্ছেন।
পঞ্চগড় জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটা সময় সাধারণ মানুষ থানায় মামলা করার পর তাঁদের জানতে আসতে হতো তাঁর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম। এমনকি এই সুযোগ নিয়ে বাইরের কিছু অসাধু ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে কথা বলে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছে আর্থিক সুবিধাও নিতেন। মূলত সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও সহজ করতে এবং মানুষের হয়রানি কমাতে জেলা পুলিশ বাদীকে খুদে বার্তা পাঠানোর এই উদ্যোগ নিয়েছে।
জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার রুহুল আমিন (৬২) বলেন, ‘সম্প্রতি আমি জমিজমাসংক্রান্ত মারামারির ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছিলাম। মামলা করে বাড়িতে আসতে না আসতেই থানা থেকে আমার মোবাইলে মেসেজ আসে। সেখানে মামলার নম্বর, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নামসহ মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল। এতে আমার অনেক উপকার হয়েছে। নতুন করে থানায় আমার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার নাম জানতে যেতে হয়নি।’
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের যতনপুকুরী এলাকার আবদুর রাজ্জাক বলেন, পুলিশের এমন উদ্যোগে তাঁদের মতো প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। হয়রানিও কমে যাচ্ছে।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমরা চাই সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে আসুক এবং তাদের সমস্যার কথা বলুক। মানুষ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়ে পুলিশের সেবা নেবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য। এ জন্যই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ পুলিশের কাছে সেবা নিতে এসে কোনো ব্যক্তি যেন কাউকে কোনো অর্থ না দেন, সে জন্য সবার প্রতি তিনি অনুরোধ জানান।