তানোরে স্বঘোষিত পীরের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

Saturday, November 21st, 2020

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি:  রাজশাহীর তানোরে বে-সরকারী সংস্থা রুলফা’ও  তানোর উপজেলা শাখার কর্মকর্তা ও স্বঘোষিত পীর ইয়াসিন আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তানোর  পৌর এলাকার শিতলী পাড়া গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত লিখিত অভিযোগ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এবং তানোর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর প্ররণ করা হয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ,  বে-সরকারী সংস্থা রুলফাও তানোর শাখার কর্মকর্তা শেখ ইয়াসিন আলী ওয়ারেছী চাকরীর সুবাদে তানোর উপজেলা ডাক বাংলো সংলগ্ন শিতলী পাড়ায়  বসবাস করছেন এবং নিজেকে পীর দাবি করে বাড়িতে আস্থানা গড়ে  তুলেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথিত পীরের আস্থানায় সার্বক্ষনিক অবস্থান করেন তার সহযোগী মুন্নাপাড়া  গ্রামের  জনৈক বাবুল হোসে ও ,কুঠিপাড়া গ্রামের জনৈক আসাদুল  ইসলাম। এদিকে  আস্থানায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে মুরিদরা এসে রাতভর জিকির আজগারের নামে গান-বাজনাসহ অশ্লীল কর্মকান্ড করে বলে অভিযোগ গ্রামবাসির।এছাড়াও প্রতি বৃহস্পতিবার ও প্রতি মাসে শতাধীক ব্যাক্তি এসে সেখানে রাতভর বিশেষ প্রার্থনার নামে গান-বাজনা ও অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করে। গ্রামবাসী এসব নিষেধ করতে গেলে উল্টো  তিনি তার দলবল নিয়ে গ্রামবাসীকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। এদিকে গ্রামবাসী জানান,গত কয়েকদিন ধরে আস্থানায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অচেনা নতুন মুখের আগমন ও নানামুখী বিতর্কিত কর্মকান্ডে গ্রামবাসী অজানা আতঙ্কে রয়েছে।প্রশ্ন উঠেছে এরা কারা কি এদের পরিচয় এবং এদের কাজ কি।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা এলাকার জৈনক ব্যাক্তির ছেলে ইয়াসিন আলী ২০১০ সালে বে-সরকারী সংস্থা ‘রুলফাও’ তানোর শাখায় ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করে তানোর বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এনজিও’র চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন গ্রামের জনসাধারনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নিজেকে পীর দাবি করে সংগ্রহ করা ভক্তদের নিয়ে ভাড়া বাসাতেই গড়ে তুলেছেন আস্থানা।এনজিও’র চাকরীর পাশাপাশি তিনি তানোর থানা মোড়ে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ওয়ারেছীয়া ষ্টোর নামে পান সিগ্যারেটের ব্যবসা করেছেন কিছুদিন।বিগত ৫ বছর আগে তিনি তানোর উপজেলা পরিষদ ডাক বাংলো মাঠ সংলগ্ন শিতলী পাড়ায় জমি কিনে নিজের তৈরি করা বাড়িতে তিনি নিজ (পীরের) আস্থানা গড়ে তুলেছেন।

সরেজমিন তানোর উপজেলা ডাক বাংলো সংলগ্ন শিতলী পাড়ায় মধ্যে তার সেই (আস্থানার) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেই বাবুল ও আবেদ একে অপরের সঙ্গে কথা বলছেন, বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা, বাড়ির চাটায়ের বেড়ার দেয়ালে ২টি সাইন বোর্ড, একটিতে লেখা রয়েছে (প্রতিষ্ঠাতা শেখ ইয়াছিন আলী ওয়ারেছী, স্থাপিত ২০১২সাল, সাইন বোর্ডে সবার উপরে লিখা রয়েছে -ঃ হুয়াল ওয়ারেছ, বড় ও লাল অক্ষরে লিখা রয়েছে ‘খানকায়ে ওয়ারেছীয়া ও ওয়ারেছীয়া দরবার শরিফ’, ওই সাইন বোর্ডে মধ্যে মন্ত্রবানী হিসেবে লিখা রয়েছে ‘আসেক দুনিয়া ও আখেরাত উভয় আকাংখ্যা পরিত্যাগ করিবে, এমনকি উক্ত পরিত্যাগের জ্ঞানকেও ভুলিয়া যাইবে যাইবে’।আরো লিখা রয়েছে ‘আমাদের এখানে মনজ্বিল, যে জ্ঞানিশিলীন দাবি করে সে কামিল’। ) অপর সাইন বোর্ডে সবার উপরে লিখা রয়েছে ‘বিসমিল্লাহ হির রাহমানির রাহিম, লাল অক্ষরে বড় করে লিখা বাংলাদেশ সুফী ফাউন্ডেশন, স্থাপিত ২০১২ইং, তানোর উপজেলা শাখা।দরজা দিয়ে ঢুকতেই আস্থানার পুরো ঘরটি বিভিন্ন জরি দিয়ে সাজানো, চারিদিকে বিভিন্ন ফেস্টুনে লিখা বিভিন্ন বানী, পীর বসার স্থানে বিছানা তার পিছনের দেয়ালে বিভিন্ন বিভিন্ন দ্রব্যদি ভক্তদের জন্য মেঝেতে ফেলা রয়েছে পাটি। বাড়ির ভেতরের ঘর ছাদ দেয়া পাকা বাড়ি এবং দেখা হয়ে যায় তার নতুন বউয়ের। কথা বলার এক পর্যায়ে আপ্যান করানোর জন্য জোরা জোরি করে ব্যাধ্য হন। এবিষয়ে পীর শেখ ইয়াছিন আলী ওয়ারেছী বলেন, আমি রাজশাহীর অফিসের মিটিং এ আছি জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই ধর্মপরায়ন এখানে আমার ভক্তরা আসে জিকির আজগার ও ধর্ম পালন করে। তিনি অপকর্মের কথা অস্বীকার করে বলেন, গ্রামের কিছু কুচক্রীমহল আমার ডিভোর্স হওয়া স্ত্রীর সাথে হাত মিলিয়ে আমাকে এখান থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করছেন এছাড়া সব কিছুই আমি নিয়মিত ভাবে ভক্তদের নিয়ে ধর্ম পালন করছি।এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইন্চার্জ ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।