Logo
শিরোনাম

৪৫৩ রানে অলআউট হলো দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রকাশিত:শনিবার ০৯ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১০৭জন দেখেছেন
Image

৪০০ রান করাই যেখানে কঠিন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে, সেখানে কেশভ মাহারাজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রোটিয়াদের স্কোর পার হয়ে গেলো সাড়ে চারশত রান। শেষ পর্যন্ত ৪৫৩ রানে অলআউট হলো স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। তাইজুল ইসলাম নিয়েছেন ৬ উইকেট।

লিজাড উইলিয়ামসকে মেহেদী হাসান মিরাজ এলবিডব্লিউ করার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হলো প্রোটয়িাদের প্রথম ইনিংস।

বল হাতেই নয় শুধু, ব্যাট হাতেও মারাত্মক বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিলেন কেশভ মাহারাজ। দক্ষিণ আফ্রিকার রানকে ৪০০ পার করে দিয়েছেন ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে। শুধু তাই নয়, ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার পারলেন না।

সেই তাইজুল ইসলামই ফেরালেন কেশভ মাহারাজকে। তার ঘূর্ণি বলে বোল্ড হয়ে গেলেন প্রোটিয়াদের বিধ্বংসী হয়ে ওঠা এই ব্যাটার। ৯৫ বলে ৮৪ রান করেছেন তিনি। ৯টি বাউন্ডারির সঙ্গে তিনি ৩টি ছক্কার মারও মেরেছেন।

সে সঙ্গে পঞ্চম উইকেটের মাইলফলক পূর্ণ হয়ে গেলো তাইজুলের। টেস্ট ক্রিকেটে এ নিয়ে ১০মবার পঞ্চম উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার। দলের পক্ষে অন্য তিন উইকেট শিকার করেছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ।

দিনের শুরুতেই খালেদের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছিলেন কাইল ভেরেন। এরপর মাল্ডারকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নেন মহারাজ। দুজন মিলে মাত্র ১৬.৪ ওভারে গড়েছেন ৮০ রানের জুটি। যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৌঁছে দিয়েছে ৪০০ রানের দোরগোড়ায়।

বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে মাত্র ৫০ বলেই ৪টি চার ও ৩টি বিশাল ছয়ের মারে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন মহারাজ। তবে অপরপ্রান্ত ঠিক হাত খুলে খেলতে পারছিলেন না পেস বোলিং অলরাউন্ডার মাল্ডার।

শেষ পর্যন্ত তাইজুলের দারুণ এক ডেলিভারিতে সোজা বোল্ড হয়ে যান ৭৭ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ের মারে ৩৩ রান করা এই ডানহাতি ব্যাটার। মিডল স্ট্যাম্পে পিচ করা তাইজুলের সেই ডেলিভারি স্কয়ার টার্ন করে আঘাত হানে মাল্ডারের অফস্ট্যাম্পে। যা স্বস্তি ফেরায় বাংলাদেশ শিবিরে।

আগেরদিন ৫ উইকেটে করা ২৭৮ রান নিয়ে আজকের দিনের খেলা শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দিনের সপ্তম ওভারে দলীয় ৩০০ পূরণ করে ফেলে তারা। তবে সেই ওভারেই ঠিক ৩০০ রানের মাথায় ভেরেনকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন খালেদ।

দুই অপরাজিত ব্যাটার কাইল ভেরেন ও উইয়ান মাল্ডারের আজকের দিনের শুরুটা ছিল সতর্ক-সাবধানী। তবে সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের চাকা সচল রাখছিলেন তারা। দিনের পঞ্চম ও ইনিংসের ৯৫তম ওভারের চতুর্থ বলে ঘটে উত্তাপ ছড়ানো ঘটনা।

খালেদের বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ করেছিলেন ভেরেন। সেটি ধরে সোজা থ্রো করে বসেন খালেদ। যা গিয়ে লাগে ভেরেনের গ্লাভসে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে দুঃখপ্রকাশের ভঙ্গি করেন খালেদ। কিন্তু তা মানতে রাজি ছিলেন না ভেরেন। তিনি বরং নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আড়চোখে দেখতে থাকেন খালেদকে।

তখন ভেরেন ও খালেদের মধ্যে বাদানুবাদের উপক্রম হলে ইয়াসির আলি রাব্বি এসে সরিয়ে নেন দুজনকে। আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস তখন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হককে বুঝিয়ে দেন তার দলের খেলোয়াড়দের আরও সতর্ক রাখার ব্যাপারে।

এক ওভার পর খালেদের করা অফস্ট্যাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে চার মেরে দলীয় ৩০০ পূরণ করেন ভেরেন। তবে এক বল পরই দারুণ এক ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে ভেরেনকে বোকা বানিয়ে স্ট্যাম্প ছত্রখান করে দেন খালেদ। সাজঘরে ফেরার আগে ২২ রান করেছেন ভেরেন।


আরও খবর



উন্নয়ন বাজেটে বৈদেশিক ঋণ ৯৩ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৩জন দেখেছেন
Image

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎসব হতে মেটানো হবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯ লাখ টাকা। বাকি ৯৩ হাজার কোটি টাকা মেটানো হবে বৈদেশিক উৎস বা ঋণ হতে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা করপোরেশনের ৯ হাজার ৯৩৭ কোটি ১৮ লাখ টাকার এডিপিও অনুমোদিত হয়েছে। যার মধ্যে জিওবি অর্থায়ন ৭ হাজার ১০৪ কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি।

স্বায়ত্তশাসিত বা করপোরেশনের প্রকল্পসহ এডিপির সর্বমোট আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩ কোটি টাকা । ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মোট প্রকল্প ১ হাজার ৪৩৫টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ২৪৪টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৬টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা/করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে ৮৫টি প্রকল্প।

মঙ্গলবার (১৭ মে) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও এনইসির চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষ ও সচিবালয়স্থ মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ (১০টি) : পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ৬৯৬ কোটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৯ হাজার ৪১২, শিক্ষায় ২৯ হাজার ৮১ কোটি, গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধাবলী খাতে ২৪ হাজার ৪৯৭ টাকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ১৯ হাজার ২৭৮, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে ১৬ হাজার ৪৬৫, কৃষি খাতে ১০ হাজার ১৪৪, পরিবেশ, জলবায়ু, পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ খাতে ৯ হাজার ৮৯৫, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবায় ৫ হাজার ৪০৭ এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয়/বিভাগভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০টি খাত: স্থানীয় সরকার বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। এরপরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।

এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগে ২৪ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রায় ১৬ হাজার ১১ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে প্রায় ১৫ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রায় ১৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে প্রায় ১৪ হাজার ১ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ১১ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা, সেতু বিভাগে ৯ হাজার ২৯০ টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



মসলিন কাপড়ের চমকপ্রদ কাহিনি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৩৫জন দেখেছেন
Image

সাইফুর রহমান তুহিন

সুদূর অতীত থেকেই আমাদের এ উপমহাদেশে মসলিন কাপড়ের পরিচিতি ছিল ব্যাপক। অত্যন্ত মিহি বুননে তৈরি এক ধরনের সূতা থেকে তৈরি হতো বহুল প্রচলিত মসলিন কাপড়। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে উদ্ভাবিত ব্যতিক্রমী ও সূক্ষ্ম সুতায় হাতে বোনা কাপড়টি সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দী থেকেই ইউরোপে রপ্তানি শুরু হয়। সুপ্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন জাতের মসলিন কাপড়ের উদ্ভব ঘটেছে। নিচে এর মধ্যে একেবারে প্রধান প্রধান কয়েকটির বর্ণনা উপস্থাপন করা হলো—

মল-মল খাস: মল-মল খাস শব্দটি এসেছে ‘মল-বুশ খাস’ থেকে। যার দ্বারা বোঝায় বিশেষ ধরনের কাপড়। এগুলো ছিলো রাজা-বাদশাহদের খুব পছন্দের পোশাক। তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্যই মূলত এগুলো তৈরি হতো।

ঝুনা: ঝুনা ছিলো রেশম জাতীয় আরেক প্রকার মিহি মসলিন কাপড়। যা বিশেষ করে নর্তকীদের খুবই পছন্দনীয় ছিল। ঝুনা শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে হিন্দি শব্দ ‘ঝিনা’ থেকে। যার অর্থ হলো হালকা। মাত্র ১,০০০ সুতায় (প্রতি বর্গইঞ্চিতে সমতল ও লম্বালম্বি সুতার সংখ্যা) গড়া ঝুনা ছিল একেবারে স্বচ্ছ। যার কারণে এটি রপ্তানি দ্রব্যের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। তারপরও গৃহবধূ ও হারেমের (অন্দরমহল) বাসিন্দাদের কাছে এটির জনপ্রিয়তা ছিল।

রঙ্গো: অনেকটা ঝুনার মতোই। তবে এটিকে বর্ণনা করা হয়েছে রেশম জাতীয় মসলিনের চেয়ে একটু ভিন্ন হিসেবে। সীমিতসংখ্যক সুতায় তৈরি হলেও রঙ্গোর ওজন ছিল মল-মল খাসের তুলনায় অল্প একটু বেশি।

আবরাওয়ান: আবরাওয়ান শব্দের অর্থটি এসেছে দুটি ফারসি শব্দ থেকে। যার দ্বারা বোঝায় পানি ও প্রবাহ। এই প্রকারের মসলিন ছিল অত্যন্ত কোমল ও হালকা। এ কারণেই প্রবাহমান পানির সাথে এর তুলনা করা হতো।

খাসা: খাসা বলতে অত্যন্ত চমৎকার ও হালকা মসলিনকে বোঝানো হয়। কাপড়টি ছিলো সমান আকৃতির এবং মজবুত বুননের জন্য বিখ্যাত। এটি তৈরিতে ১,৪০০ থেকে ২,৮০০ সুতা (প্রতি বর্গইঞ্চিতে সমতল ও লম্বালম্বি সুতার সংখ্যা) ব্যবহৃত হতো। আবুল ফজল ইবনে মুবারকের লেখা ‘আইন-ই-আকবরী’ বইয়ে খাসা মসলিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই আবুল ফজল ইবনে মুবারক মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে শাসনকার্যের বিবরণী পেশ করতেন।

সুবনম: সুবনম কথাটির আক্ষরিক অর্থ হলো সকালের শিশির বিন্দু। এটি এত চমৎকার এক মসলিন ছিল যে, ঘাসের ওপর একে বিছিয়ে শুকানো হলে শিশির বিন্দুর সাথে এর পার্থক্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল ছিল। এতে ব্যবহৃত সুতার সংখ্যা ছিলো ৭০০ থেকে ১,৪০০টি।

আলাবাল্লী: বুননকারীদের বর্ণনা অনুসারে, আলাবাল্লী বলতে বোঝাতো খুবই চমৎকার। এটি ছিল সূক্ষ্মভাবে বুননকৃত মসলিন। ‘সিক্যুয়েল টু দ্য পেরিপ্লাস অব দ্য ইরিথিয়ান সী’ গ্রন্থে আলাবাল্লীকে ‘আবোল্লাই’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আলাবাল্লীতে ব্যবহৃত সুতার সংখ্যা ছিল ১,১০০ থেকে ১,৯০০। এর ওজন অন্যান্য মসলিনের তুলনায় বেশি ছিল।

তানজেব: তানজেব হচ্ছে আরেকটি ফারসি শব্দ, যেটিকে ভাঙলে এর অর্থ দাঁড়ায় শরীর ও অলংকার। ৮০০ থেকে ১,৯০০ সুতার বুননের এই মসলিন ছিল হালকা ও সমান।

তারান্দাম: তারান্দাম শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে আরবি শব্দ ‘তুরুহ’ এবং ফারসি শব্দ ‘আন্দাম’ থেকে। দুটিকে মিলিয়ে অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘শরীরের জন্য একপ্রকার কাপড়’। এই নামে ইংরেজরা এটি নিজ দেশে আমদানি করেছিল এবং এটি পরিধেয় বস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলো। মসলিনটি ছিল সমান আকৃতির। এতে ব্যবহৃত সুতার সংখ্যা ছিল ১,০০০ থেকে ২,৭০০।

নিয়ানসুখ: এটি প্রায়ই বলা হতো, এই বিশেষ ধরনের মসলিনের আগমন ঘটেছিল দু’চোখের তৃপ্তির জন্য। ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে নিয়ানসুখ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। খুবই হালকা কাপড়ের তৈরি এই মসলিন গলাবন্ধনী হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এতে ব্যবহৃত সুতার সংখ্যা হতো ২,২০০ থেকে ২,৭০০ এর মধ্যে।

বুদ্দুন-খাস: ‘বুদ্দুন’ অর্থ শরীর আর ‘খাস’ অর্থ বিশেষ। এ জাতীয় মসলিন ব্যবহার্য পোশাক তৈরির জন্য ব্যবহৃত হতো। বুননটা খুব সূক্ষ্ম না হলেও এর মান ছিল বেশ উন্নত। এতে ব্যবহৃত সুতার সংখ্যা ছিল প্রায় ২,২০০।

সুরবান্দ: সুরবান্দ শব্দটি গঠিত হয়েছে দুটি ফারসি শব্দের সমন্বয়ে। ‘সুর’ অর্থ মাথা এবং ‘বান্দ’ অর্থ বন্ধনী। সুরবান্দ নামক মসলিনটি মূলত মাথার আবরণ যেমন– পাগড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। প্রায় ২,১০০ সুতা প্রয়োজন হতো এটি তৈরির জন্য। ব্রিটিশ ভারতের শাসক ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি এই সুরবান্দ তাদের নিজ দেশ যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করতো। ইংরেজরা মূলত স্কার্ফ হিসেবেই এটি ব্যবহার করতো।

কামিস: আরবি কামিস শব্দের অর্থ হলো পোশাক। কুর্তা তৈরির জন্য এ জাতীয় মসলিন ব্যবহার করা হতো। একসময় কুর্তা এত দীর্ঘ ছিল যে, তা পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে দিতো। এর জন্য প্রয়োজন হতো লম্বা ও সমান কাপড়ের, যাতে সুতার সংখ্যা ছিল ১,৪০০।

জামদানি: বাহারি ডিজাইনে বুননকৃত মসলিন জামদানি নামেই ব্যাপকভাবে পরিচিত। ‘জাম’ শব্দটি দ্বারা বোঝাতো ফুলের গুচ্ছ এবং ‘দানি’ দ্বারা বোঝাতো পাত্র। যার মিলিত অর্থ দাঁড়ায় বিভিন্ন নকশা রাখার জন্য একটি ফুলের পাত্র। জামদানিতে ছিলো বাহারি ডিজাইনের সমাহার। বাজারে বিপুল চাহিদার কারণেই এটি ক্রমান্বয়ে হয়ে ওঠে অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

দুরিয়া: ‘ডোরাকাটা’ শব্দ থেকে উদ্ভব হয়েছে দুরিয়া নামটির, যা একটি দাগকাটা মসলিন। এটি তৈরি হতো দুই অংশ সুতা এবং তিন অংশ সিল্ক ব্যবহার করে দুই কিংবা ততোধিক বাঁকানো সূতাকে মিশিয়ে। সাধারণত দুরিয়া তৈরি করা হতো ‘ভগা’ অথবা ‘সিরঞ্জ’ নামক সুতা থেকে। পুরুষ ও মহিলা উভয়ের পোশাক তৈরির জন্যই এটি ব্যবহার করা হতো। যাতে সুতার সংখ্যা প্রয়োজন সাপেক্ষে ১,৫০০ থেকে ২,১০০ পর্যন্ত হতো।

চারকোণা: নামের সাথে মিল রেখেই চারকোণা ছিলো বর্গাকার ও চতুর্ভুজ আকৃতির নকশা করা মসলিন। মাপ, ওজন ও সুতার সংখ্যার দিক থেকে চারকোণা ও দুরিয়া এক রকমই ছিল। তবে দুরিয়া ছিলো দাগকাটা আর চারকোণা ছিল প্রত্যেক কোণায় নকশা করা এবং বর্গাকৃতির।

কালের বিবর্তনে অতীতের ঐতিহ্যবাহী মসলিন অনেকটাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে ঢাকা অঞ্চলের তাঁতি বা বুননশিল্পীদের একটি ক্ষুদ্র অংশ পুরোনো শিল্পটিকে একেবারে হারিয়ে যেতে দেননি। যদিও এখন মসলিন সুতা আর আগের মতো মসৃণ নেই এবং আগের সেই বাহারি ডিজাইনও নেই। তারপরও বাঙালি তাঁতিদের উৎপাদিত সীমিত ডিজাইনের চাহিদা একেবারে ফুরিয়ে যায়নি। এগুলোর আকর্ষণ এখনো বজায় রয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে বর্তমান যুগের মসলিনের যথেষ্ট কদর রয়েছে।

ঊনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকের শেষদিকে তাঁতের নকশা করা এক ধরনের মসলিনের পুনর্জাগরণ ঘটে। যা ব্যাপকভাবে জামদানি শিল্প নামে পরিচিত। জামদানির ছিল ফুলেল ও জ্যামিতিক সব ডিজাইন। বিশ্বাস করা হতো যে এটি পার্সিয়ানদের (পারস্য বা ইরানের অধিবাসী) দ্বারা প্রভাবিত। কাপড়ের বুননে দারুণ ডিজাইনের পাশাপাশি এতে চারাগাছ ও ফুলের নকশা দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তোলা হতো এবং সেরা ডিজাইনগুলোয় থাকতো ধারালো প্রান্তের পরিবর্তে মসৃণ সব দাগ। বাহারি ডিজাইনের এই নজরকাড়া বৈচিত্র্য জামদানিকে অন্য সব মসলিন থেকে আলাদা করে তোলে।

শুরুটা ঢাকায় হলেও ক্রমান্বয়ে জামদানির প্রসার ঘটে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এবং সময়ের ক্রমবিবর্তনে এটিতে আরও বৈচিত্র্য ও নতুনত্বের যোগ হয়। এই বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব অনেকটা প্রভাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর দ্বারা। বর্তমান যুগে এই শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন গবেষণা, অর্থায়ন ও বিপণনভিত্তিক সংগঠন, যা একটি ইতিবাচক দিক। এখন বাংলাদেশের প্রয়োজন বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার সহায়তায় লুপ্তপ্রায় মসলিন শিল্পের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া।

লেখক: ফ্রিল্যান্স ফিচার লেখক।


আরও খবর



দ্বিতীয় ধাপে আজ বসছেন ৪ লাখ ৬৬ হাজার পরীক্ষার্থী

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৮জন দেখেছেন
Image

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আজ শুক্রবার (২০ মে)। এদিন আবেদনকারীরা নিজ নিজ জেলায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন। দ্বিতীয় ধাপে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ জন।

দ্বিতীয় ধাপে শুক্রবার দেশের ২৯ জেলায় প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সাতটি জেলার সবকটি উপজেলায় এবং ২২টি জেলার আংশিক উপজেলার প্রার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তবে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পিছিয়েছে সিলেট জেলার পরীক্ষা। এ জেলার পরীক্ষা হবে ৩ জুন।

এবার তিন ধাপে শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হচ্ছে। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা হবে ৩ জুন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো বই, উত্তরপত্র, নোট বা অন্য কোনো কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল, ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্স, হাতঘড়ি বা ঘড়িজাতীয় বস্তু, ইলেকট্রনিক হাতঘড়ি বা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, কমিউনিকেটিভ ডিভাইস বা এ জাতীয় বস্তু সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

যদি কোনো পরীক্ষার্থী উল্লিখিত দ্রব্যাদি সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তবে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৪৫ হাজার পদের জন্য আবেদন করেছেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ জন।

দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলা ও উপজেলায় পরীক্ষা:

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহী, খুলনা, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর জেলার সব উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, কয়েকটি জেলার নির্দিষ্ট কিছু উপজেলায়ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেগুলো হলো- নওগাঁ জেলার সদর, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, রানীনগর, পোরশা, সাপাহার উপজেলা; নাটের জেলার বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাশপুর, লালপুর; সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, সদর ও তাড়াশ উপজেলা; কুষ্টিয়া জেলার খোকসা, সদর ও মিরপুর; ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু, সদর, কালিগঞ্জ; যশোর জেলার অভয়নগর, চৌগাছা, সদর, বাঘেরপাড়া উপজেলা; সাতক্ষীরা জেলার সদর, দেবহাটা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ উপজেলা; বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট, মোংলা, মোড়লগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা উপজেলা; জামালপুর জেলার সদর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ; ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা, সদর, নান্দাইল, ফুলপুর, তারাকান্দা, ত্রিশাল উপজেলা; নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ী, মদন, মোহনগঞ্জ, সদর, পূর্বধলা উপজেলা; কিশোরগঞ্জ জেলার সদর কুলিয়াচর, মিঠামইন, নিকলী, পাকুন্দিয়া ও তাড়াইল।

একইদিন পরীক্ষা হবে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি, মধুপুর, মির্জাপুর, নাগরপুর, সফিপুর, বাসাইল উপজেলা; রাজবাড়ি জেলার কালুখালি, গোয়ালন্দ উপজেলা; কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার, হোমনা, লাকসাম, লালমাই, সদর দক্ষিণ, মনোহরগঞ্জ, মুরাদনগর, নাগলকোট, তিতাস উপজেলা; নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কোম্পানিগঞ্জ, হাতিয়া উপজেলা; পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর, নেছারাবাদ, সদর; পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, সদর, রাঙ্গাবালি, দুমকি উপজেলা; সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, শাল্লা, সদর, তাহিরপুর উপজেলা; হবিগঞ্জ জেলার সদর, লাখাই, মাধবপুর, নবীগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা; কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, রাজারহাট, রাজিবপুর, রৌমারী, উলিপুর উপজেলা; গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়ও।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গত ১২ মে। এতে ২২ জেলার ৪০ হাজার ৮৬২ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।


আরও খবর



বৃষ্টির পানি নিয়ে ঝগড়ায় প্রাণটাই গেলো

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৯জন দেখেছেন
Image

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বৃষ্টির পানি নিয়ে সংঘর্ষে বাবুল দত্ত (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) সকালে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের দনাচাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবুল দত্ত দনাচাপুর গ্রামের প্রভুদ দত্তের ছেলে।

নিহত ব্যক্তির পরিবারের বরাত দিয়ে কেন্দুয়া পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মীর মাহাবুবুর রহমান জানান, বাবুলের বাড়ির ওপর দিয়ে প্রতিবেশী সুবল দেবের বাড়ির বৃষ্টির পানি যায়। এ নিয়ে বুধবার (১১ মে) দুই পরিবারে বিবাদ হয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাবুল দত্ত বল্লমের আঘাতে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা কেন্দুয়া ও অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ওসি তদন্ত আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের ধরতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর



গাঁজাসহ আসামি আটকের সময় পুলিশের ওপর হামলা, আহত ১০

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

ঝিনাইদহের মধুপুর চৌরাস্তা মোড়ে গাঁজাসহ আসামি আটকের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানিরা। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে এএসআই আনোয়ারুল ইসলাম, এএসআই আশরাফুল, কনস্টেবল আশরাফুজ্জামান ও এলেম শেখকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অপর কনস্টেবল জামালকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, সন্ধ্যায় মধুপুর চৌরাস্তা বাজারের পাশে একটি চায়ের দোকানে টেবিলের নিচে ৩০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। এসময় চা দোকানি আকিদুল ইসলামকে আটক করে গাড়িতে তুলতে যায় পুলিশ। পরে বাজারের লোকজন ও অন্য দোকানিরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা আসাীমদের ছিনিয়ে নেন। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়দের ছোড়া ইটের আঘাতে দুই এএসআইসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। স্থানীয়দের মধ্যেও কয়েকজন আহত হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি বর্ষণ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশরাফুজ্জামান সজীব বলেন, হাসপাতালে আনা পুলিশ সদস্যদের হাতে-পায়েসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইটের ও লাঠির আঘাত রয়েছে। তবে তা গুরুতর নয়।


আরও খবর