Logo
শিরোনাম

বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ চায় বিএমজিটিএ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৬৪জন দেখেছেন
Image

বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেওয়া ও মাদরাসাসহ সব শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মোট বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজিটিএ)।

শুক্রবার (২০ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএমজিটিএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হারুন অর রশিদ। এসময় মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল ৩৬ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। অথচ কারিগরি ও মাদরাসা দু'টি বিভাগে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। যার কারণে মাদরাসা শিক্ষায় তেমন কোনো উন্নতি করা হয়নি। তাই আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে কারিগরি ও মাদরাসা দু'টি বিভাগের বাজেট ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং মাদরাসাসহ সব শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো: বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেওয়া। আলিম, ফাযিল ও কামিল মাদরাসায় প্রভাষকদের ৮ বছর পূর্তিতে ৫০ শতাংশ হিসেবে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া ও ১৬ বছর পূর্ণ হলে সব প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া। সরকারি নিয়মে শিক্ষকদের মেডিকেল ও বাড়িভাড়া দেওয়া। বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি প্রথা চালু। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্তকরণ এবং নন-এম্পিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ। মাদরাসার প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া এবং মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম সাজু বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে শুধু মুখে নয়, বাজেটেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শিক্ষখাতে আমাদের অনেক অর্জনের পাশাপাশি আমাদের কিছু অপ্রাপ্তি রয়ে গেছে। সব অপ্রাপ্তি যদি প্রাপ্তিতে রূপান্তর না হয় তাহলে শিক্ষার মান বাড়বে না।

শিক্ষার ৯৮ শতাংশ কিন্তু বেসরকারির হাতে। শিক্ষা ছাড়া ডেল্টাপ্ল্যান বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমরা চাই টোটাল শিক্ষাকে জাতীয়করণে অধীনে আনা হোক। তাই আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে হবে। ২০ শতাংশ না হলেও অন্তত ১৫ শতাংশ রাখতে হবে। এটা আমার কথা নয়, বঙ্গবন্ধুই শিক্ষাখাতে ২০ শতাংশের বাজেট বরাদ্দের কথা বলে গেছেন। জাতীয়করণ হলে শিক্ষার মান বাড়বে, গরিব ও মেহনতী মানুষের সন্তানেরা নামমাত্র টাকায় পড়াশোনা করতে পারবে।


আরও খবর

ঢাবি ‘ক’ ইউনিটে সেরা যারা

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




প্রস্তুত হচ্ছে গাবতলীর পশুর হাট

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ২২জন দেখেছেন
Image

সিলেট-সুনামগঞ্জ আর উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এমন অবস্থায় দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিমদের বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে তাই কোরবানির পশুর হাট সাজাতে ব্যস্ত সময় কাটছে ইজারাদারদের।

গত রোজার ঈদের পর গরুর মাংসের দাম, পশু খাদ্যের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সবমিলিয়ে এবারও শেষপর্যায়ে পশুর হাট জমার আশঙ্কা করছেন বিক্রেতা ও ইজারাদাররা। ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে এবার ১৯টি পশুর হাট বসছে। ঈদের বাকি এখনো দুই সপ্তাহের বেশি। হাটে কোরবানির পশু না এলেও সাজগোজের প্রস্তুতি চলছে।

সোমবার (২৭ জুন) গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলছে হাটের বর্ধিতাংশে প্যান্ডেলের বাঁশ লাগানোর কাজ। কোথাও কোথাও লাইট লাগানোর কাজ চলছে।

নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বাঁশ তৈরি হচ্ছে গরু রাখার সেড। তবে সেডের ওপরে এখনো ত্রিপল বসানোর কাজ শুরু হয়নি। অনেক জায়গা থেকে অপ্রয়োজনীয় কাদামাটি অপসারণ করা হচ্ছে। চলছে ওয়াচটাওয়ার, মোবাইল ব্যাংকিং বুথ নির্মাণের কাজও।

jagonews24

বেপারীদের কাছে এখনো জায়গা ভাড়া দিতে পারেননি ইট, বালুর দোকানের মালিকরা। বন্যা ও নির্মাণসামগ্রীর বাড়তি দামের কারণে এখনো অবিক্রিত রয়েছে তাদের অনেক পণ্য। এ কারণে সেখানে পশু রাখার সেড তৈরি করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাটের নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও তিন-চারদিন সময় লাগবে।

সেখানে রসুল নামে এক শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কাজ মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে বলা যায়। এখনো অনেকে জায়গা হাটের জন্য ছাড়েননি। তাই প্যান্ডেল-সেড নির্মাণ করা যাচ্ছে না।

তবে হাটের ভেতরে বাইরে ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে বৃষ্টি হলে এবারও হাটু কাদাঁয় নেমে কেনাকাটা করতে হবে ক্রেতাদের। করোনার সংক্রমণ বাড়লেও জ্বর মাপা, সাবান কিংবা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা দায়সারা উত্তর দিয়েছেন।

ঈদের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে থেকে অস্থায়ী পশুর হাট সাজানোর প্রস্তুতি নেন ইজারাদাররা। গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের আশপাশে রয়েছে ৫০০ টিরও বেশি ইট ও বালুর দোকান। স্থানীয়ভাবে সেগুলোকে বলা হয় গদি। কোরবানির হাট বসলে এসব গদি পশু বেপারীদের কাছে ভাড়া দেন মালিকরা। জানা গেছে, স্থায়ী হাট সংলগ্ন জায়গা বেশিরভাগ গদির মালিক ভাড়া দিয়ে ফেলেছেন। বেশিরভাগ গদি বন্ধ থাকলেও তাদের নির্মাণ সামগ্রী এখনো পড়ে আছে। তবে স্থায়ী হাট থেকে ৫০০ গজ দূরে গদির মালিকরা এখনো বেপারীর দেখা পাননি বলে জানিয়েছেন।

নাহিয়ান ট্রেডার্সের কর্মচারী আক্কাস জাগো নিউজকে বলেন, এখনো বেপারীরা আসেননি। আমাদের অনেক নির্মাণসামগ্রী পড়েও আছে। বেপারীরা এলেও জায়গা ছাড়তে পারবো না। ইট আছে এগুলো বিক্রি করে তারপর জায়গা ভাড়া দিতে হবে।

jagonews24

তিনি বলেন, ঈদের আগে চারদিন, আর ঈদের দিনের জন্য জায়গা ভাড়া দিই। তবে জায়গা পরিষ্কার করতে ঈদের পরে আরও তিন চারদিন লাগে। সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ দিন কিছু রাখা যায় না। এ গদির সামনে হাসিল ঘর বসে। সামান্য একটু জায়গা থাকে সেটা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়া হয় তিন/চারদিনের জন্য। তবে নির্মাণসামগ্রী স্থানান্তর ও ঈদের পর পরিষ্কার-পরিচ্ছনে অনেক টাকা চলে যায়। সামনের দিকে যাদের গদি তারা আরও বেশি টাকায় ভাড়া দেন।

একাধিক গদির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থায়ী হাট থেকে দূরে থাকা দোকানগুলোর জায়গা এখনো ভাড়া হয়নি। বেপারীরা কথা বললেও ভাড়া নিচ্ছেন না। এখনো অনেক নির্মাণসামগ্রী অবিক্রিত পড়ে আছে।

স্থায়ী হাট সংলগ্ন আনোয়ার ট্রেডার্সের ম্যানেজার নাসির জানান, তাদের জায়গা তিনদিন আগে ভাড়া হয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহের পর থেকে পশু আশা শুরু করবে। হাটের কাছাকাছি গদির জায়গাগুলো স্থান ভেদে ৮০ হাজার থেকে লাখ টাকার ওপরে ভাড়া হয় বলেও জানান তিনি।

গাবতলী স্থায়ী পশুর হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য সানোয়ার হোসেন বলেন, সেড নির্মাণের কাজ চলছে। ভেতরে রাস্তা, হাসিল কাউন্টার তৈরির কাজ করছি। এবার ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য ৫০টি হাসিল ঘর তৈরি করা হবে, হাটে দেড় হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন।

তিনি বলেন, জাল টাকা শনাক্তের যন্ত্র বসানো হবে। পশু চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীদের দেখতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও রাখা হবে। হাটের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে গাফিলতির সুযোগ নেই। এবারও ঈদের আগে পরের পাঁচদিন পাঁচ শতাংশ হারে হাসিল আদায় করা হবে।

শেষ সময়ে জমবে হাট, চাহিদা থাকবে মাঝারি গরুর:
বন্যা ও পশু খাদ্যের চড়া দামের কারণে এবার পশুর দাম একটু বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে গতবারের মতো এবারও বড় গরু কম বিক্রি হবার আশঙ্কা করছেন তারা। তবে কোরবানির বাজারকে খুব জটিল উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাটের গতি-প্রকৃতি খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়।

jagonews24

ফরিদপুরের বেপারী শাহিন আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরেই গাবতলী হাটে কোরবানির পশু আনেন। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, কোরবানির বেচাকেনা নিয়ে কোনো কিছুই আগে বলা যায় না। কেমন পশু উঠবে তা আগে থেকে বলা যাচ্ছে না। কোন পশু কাস্টমাররা ধরলে তার দাম বেড়ে যায় কয়েক হাজার টাকা আর কেউ দাম না বললে, পশুর দাম কমে যায়।

তিনি বলেন, গরুর খাবার দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। ভূষির দাম গত বছর ছিল ৪০ টাকা এবছর সেটা ৬০ টাকা। এরকম খড়, ঘাস সবকিছুর দাম বেড়েছে। সে হিসাবে পশুর দাম বাড়বে, ক্রেতারা অনেক দেখে শুনে পশু কিনবে। সেক্ষেত্রে এবারও শেষ সময়ে পশুর হাট জমবে।

ভোলার থেকে আসা বেপারী বাদশা বলেন, এবার পশু খাদ্যের দাম চড়া। জ্বালানি তেলের দামও বাড়তি অন্যবারের তুলনায় এবার পশুর দাম বেশি হবে। তিনি বলেন, হাটের জায়গা ভাড়া-যাতায়াত কর্মচারীদের বেতন আছে। এখন তিন মণের গরুর কিনতে হচ্ছে ১ লাখ টাকায়। কসাইদের কাছে বিক্রি করছি ১ লাখ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়। ঈদের সময় এমন বা এর চেয়ে সামান্য বেশি হবে দাম।

এবারও বড় গরুর দাম বেশি থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, বড় গরু পালনে বেশি খরচ লাগে। ঢাকায় আনতে খরচ বেশি। এজন্য এবারও বড় গরু কম বিক্রি হতে পারে। ঢাকায় তিন/চারজন মিলে একটা গরু দেয়। তাদের বাজেট থাকে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখের আশপাশে। এ টাকায় মাঝারি গরু পাওয়া যায়, এবারও এমন গরুর চাহিদা বেশি থাকবে।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




কোরবানি না করে সেই টাকা কি দান করা যাবে?

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

অর্থনৈতিক সঙ্কট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মহামারির কারণে কোরবানি না করে, এ টাকা গরিব-দুঃখীর মাঝে বণ্টন করে দেওয়া যাবে কি? এতে কোরবানি করার বিধান আদায় হবে কি? যদি কেউ কোরবানি না করে টাকা উল্লেখিত প্রেক্ষাপটে খরচ তবে কি সে গুনাহগার হবে?

‘না’ যার ওপর কোরবানি আবশ্যক; সে কোরবানি না করে সেই টাকা সঙ্কটকালীন সময়ে কিংবা গরিব-দুঃখীর মাঝে দান করা যাবে না। কেউ এমনটি করলে তার কোরবানি আদায় হবে না। বরং কোরবানি দাতার জন্য টাকা দান না করে তাকে কোরবানিই করতে হবে। কারণ-

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি স্বতন্ত্র হুকুম। সাহাবায়ে কেরাম একদিন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই কোরবানি কী?

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘এটা তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সুন্নাত (রীতিনীতি)। এ কোরবানি বিশেষ একটি আমলও বটে। হাদিসে এসেছে-

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কোরবানির দিনগুলোতে আল্লাহর কাছে পশুর রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আমল আর নেই।’ (তিরমিজি)

কোরবানি মহান আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ তাআলা বলেন-

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

‘অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা কাউসার : আয়াত ২)

আল্লাহ তাআলা বান্দাকে কোরবানি সম্পর্কে মানুষকে এ শিক্ষা ও উৎসাহ দিয়েছেন-

قُلْ إِنَّ صَلاَتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ للهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

‘(হে রাসুল! আপনি) বলুন, অবশ্যই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৬২)

সুতরাং কোরবানির এসব হুকুম ও দিকনির্দেশনা আসার পর নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর কোরবানি করেছেন ।’ (তিরমিজি)

মনে রাখা জরুরি

কোরআন-সুন্নাহর এসব দিকনির্দেশনা থেকে প্রমাণিত যে, কোরবানি দাতার জন্য এর ব্যতিক্রম টাকা-পয়সা দান করার মাধ্যমে কোরবানির হুকুম রহিত হবে না। বরং কোরবানি দাতার জন্য কোরবানি করা আবশ্যক। কোরবানি দান করলে কোরবানি হুকুম আদায় হবে না।

যে ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়েছে ওই ব্যক্তির জন্য কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলোতে পশু জবাই করলেই কেবল কোরবানির হুকুম আদায় হবে। কোরবানি না করে এর পরিবর্তে পশুর মূল্য দান-সাদকা করে দিলে কোরবানির ওয়াজিব আদায় হবে না। বরং ওয়াজিব বিধান লংঘন করার কারণে গুনাহগার হতে হবে।

কোরবানি না করে পশুর মূল্য দান করে দিলে কোরবানি যেমন আদায় হবে না। তেমনি কোরবানি না করে পশুর মূল্য দান-সাদকাও করা যাবে না। কেননা দান-সাদকা কোরবানির বিধান, স্থান বা আমল পরির্তন করতে পারে না।

এমনকি যদি কোনো অঞ্চলে কোরবানির পশু সংকট দেখা দেয় তবে গরু, মহিষ, উট- এ ধরণের বড় একটি পশুতে সাতজন শরিক হয়ে কোরবানি দিতে পারবে। অথবা যার উপর কোরবানি আবশ্যক হয়েছে তার পক্ষ থেকে এক বছর বয়সের একটি ছাগল দিয়ে হলেও কোরবানি আদায় করা যাবে। অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, যার উপর কোরবানি ওয়াজিব; সে যেন তা যথাযথভাবে কোরবানি আদায় করে। কোরবানির পর চাইলে যে কেউ ব্যক্তি উদ্যোগ বা সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যেমে সাধ্যমতো দান-সাদকার কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিভিন্ন সঙ্কটকালীন সময়ে কোরবানি করার পাশাপাশি দান-সাদকা করার তাওফিক দান করুন। গরিব-অসহায়-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন। কোরবানি ইস্যুতে কোরআন-সুন্নাহর উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর



পাকিস্তান ফুটবলের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো ফিফা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ১৮জন দেখেছেন
Image

তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ফিফার নিষেধাজ্ঞায় ছিল পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএফ)। অবশেষে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিলো আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়েছে ফিফা।

যার সুবাদে এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিফার সদস্যপদ ফিরে পেলো পাকিস্তান। এখন ফিফার নিয়োগ দেওয়া কমিটি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের আয়োজন করবে। এছাড়া ফিফার সদস্যপদ ফিরে পাওয়ায় এখন জাতীয় পর্যায়েও ফুটবলীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারবে দেশটি।

২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে পিএফএফের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আশফাক হুসেইন শাহকে। কিন্তু আশফাকের সেই কমিটিকে আবার স্বীকৃতি দেয়নি ফিফা। পাশাপাশি হারুন মালিকের নেতৃত্বাধীন ফিফার নরমালাইজেশন কমিটির ওপরও দখলদারিত্ব প্রকাশের চেষ্টা করে।

যে কারণে গত বছরের মার্চে ফিফা কর্তৃক নিষিদ্ধ হয় পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন। তবে এবার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও, সামনে আবার তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপজনিত ঘটনা ঘটলে কঠোর শাস্তির সতর্কতাও দিয়ে রেখেছে ফিফা। এর আগে ২০১৭ সালেও একই কারণে নিষিদ্ধ হয়েছিল পিএফএফ।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




নেত্রকোনায় ৪০ ঘণ্টায় বন্যার পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

নেত্রকোনার তিন উপজেলায় গত ৪০ ঘণ্টায় বন্যার পানিতে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রোববার (৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে ঘটনাগুলো ঘটে।

এদের মধ্যে নেত্রকোনার আটপাড়ায় পানিতে ডুবে সুলতান নামে দেড় বছরের এক শিশু মারা গেছে। রোববার দুপুরে বন্যায় প্লাবিত নিজ বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে মৃত্যু হয় শিশুটির। সুলতান উপজেলার গোপালাশ্রম গ্রামের টিপু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা সকালে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ ঘরের মধ্যে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। দুপুরে দিকে শিশুটিকে বাড়ির সামনে পুকুরে ভাসতে দেখে প্রতিবেশীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে মদন হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর ইকবাল পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় মোহনগঞ্জে সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের উতিয়ারকোনা গ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুরা হলো- উতিয়ারকোনা গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার মেয়ে সাবিলা আক্তার (৭) ও মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার (৯)।

পরিবারের বরাত দিয়ে মোহনগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বাড়ির পাশের একটি সেতুর কাছে কয়েকজন শিশু খেলা করছিল। হঠাৎ পানিতে পড়ে যায় শিশু সাবিলা। তাকে তুলতে পানিতে নেমে চেষ্টা চালায় মার্জিয়া। একপর্যায়ে পানির স্রোতে তারা দুজনই তলিয়ে যায়। এই ঘটনা দেখে অন্য শিশুরা বাড়িতে খবর দেয়। প্রথমে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মাছ ধরার জাল দিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
এদিকে, কলমাকান্দা উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে নুসরাত জাহান নামে তিনবছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার পর ওই উপজেলার কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের চিনাহালা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে ঘটে।

শিশু নুসরাত জাহান ওই গ্রামের মো. সোহেল মিয়া ও মোসা. পারভীন আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। মৃতের বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন ও মা পেশায় শ্রমিক বলে জানা গেছে।

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চিনাহালার বিলের মধ্যে তাদের বসতবাড়ি। বর্তমানে বাড়ির চারিদিকে বন্যার পানি। বন্যার খবর পেয়ে তিনদিন হলো মৃতের মা পারভীন ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। শুক্রবার বাদ আসর ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ওই সময় নুসরাত বারান্দায় খেলছিল। এরই কোনো ফাঁকে সবার অজান্তে বাড়ির সামনে বেঁধে রাখা নৌকায় উঠে পা পিছলে বন্যার পানিতে পড়ে যায় সে। পরে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির চারিদিকে বন্যার পানিতে নেমে খোঁজাখুজি করে সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বাড়ির লোকজন নুসরাতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামীম রানা শাকিল বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আহাদ খান পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ না থাকায় ওই রাতেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




মেসির প্রশংসা পেয়ে ‘অনেক খুশি’ বেনজেমা

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

এবারের ব্যালন ডি অরের জন্য এক নম্বর দাবিদার হিসেবে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমার নাম বলেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সাতটি ব্যালন জেতা মেসির কাছ থেকে এমন প্রশংসা পেয়ে বেজায় খুশি বেনজেমা।

চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ৪৪ গোল করেছেন এ ফরাসি তারকা। রিয়ালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তাই ব্যালন ডি অরের ক্ষেত্রেও তার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এছাড়া দৌড়ে রয়েছেন সাদিও মানে, কাইলিয়ান এমবাপে ও মোহামেদ সালাহ।

তবে সবাইকে পেছনে ফেলে বেনজেমাই এবার ব্যালন জিতবেন বলে মন্তব্য করেছেন মেসি। গত মাসে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় এটিতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি খুবই স্পষ্ট যে বেনজমেয়া দারুণ একটি বছর কাটিয়েছে এবং রিয়ালকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে সাহায্য করেছে।’

মেসির কাছ থেকে এমন প্রশংসা পেয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বেনজেমা বলেছেন, ‘মেসির কথাগুলো আমি শুনেছি। যা আমাকে অনেক খুশি করেছে। মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন মন্তব্য বড় পাওয়া। এসব বিষয় আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করে।’

এতোদিন ধরে বর্ষপঞ্জিকা হিসেব করে দেওয়া হতো ব্যালন ডি অর পুরস্কার। তবে চলতি বছর থেকে এটি দেওয়া হবে মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। যে কারণে এবার অক্টোবরেই ঘোষণা করা হবে ব্যালন জয়ী ফুটবলারের নাম এবং এতে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স যোগ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২