Logo
শিরোনাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ১০ গরুর মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৪৩জন দেখেছেন
Image

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের ১০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাতে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখর আলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এতে হাবিবুর রহমানের দুটি, বুদ্ধুর একটি, আনারুলের একটি, নজরুলের তিনটি ও উজিরের তিটি গরু মারা গেছে।

স্থানীয়রা বলেন, বৃহস্পতিবার সারাদিন মাঠে চরানোর পর রাতে বাখর আলী এলাকায় একটি বাগানে গরুগুলো রাখে। রাত সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি ও সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এসময় বজ্রপাতে ১০টি গরু মারা যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে আটটি গাভী ও দুটি বাছুর মৃত্যু হয়েছে। যাদের গরু মারা গেছে তাদের তালিকা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




পবিত্র হজ পালন ও হৃদয়ের পবিত্রতা

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ১৯জন দেখেছেন
Image

হজ একটি মহান আধ্যাত্মিক বিধান এবং ইসলামি ইবাদতগুলোর মধ্যে হজের গুরুত্ব অপরিসীম, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। আল্লাহপাক বলেন, ‘নিশ্চয় মানব জাতির জন্য (কল্যাণের) প্রথম যে ঘরটি বানানো হয়েছিল সেটি বাক্কায় অবস্থিত। এ ঘরটি বরকতপূর্ণ এবং বিশ্বজগতের জন্য হেদায়াতের কারণ’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৬)।

আল্লাহতায়ালার পবিত্র ঘর বায়তুল্লাহ বা খানা কাবা এবং বিশ্বনবি ও শ্রেষ্ঠনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারতের সাধ প্রতিটি মুসলমানেরই হৃদয়ে জাগে। হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ইচ্ছা করা বা কোনো কিছুর সংকল্প করা। ইসলামী পরিভাষায় এর অর্থ আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসার উদ্দেশ্যে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে পবিত্র কাবা এবং কয়েকটি বিশেষ স্থানে আল্লাহ ও তার রাসুলের (সা.) নির্দেশ অনুযায়ী জিয়ারত, তাওয়াফ, অবস্থান করা এবং নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানাদি পালন করা।

পবিত্র কোরআনে ইবাদত সম্পর্কে এভাবে উল্লেখ রয়েছে ‘আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ ঘরের হজ করা সেসব লোকের জন্য ফরজ যারা সে পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। কিন্তু যে এটা অস্বীকার করে সে জেনে রাখুক আল্লাহ জগৎসমূহের মোটেও মুখাপেক্ষি নন’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)। এ ইবাদত গরিব মুসলমানের জন্য ফরজ নয় এবং যার জানের নিরাপত্তা নেই তার ক্ষেত্রেও হজ ফরজ নয়। শুধু দৈহিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্যই এই ইবাদতকে ফরজ করা হয়েছে।

আল্লাহপাক যেহেতু বান্দার অন্তর দেখেন তাই তিনি অন্তকরণের হজকেই গ্রহণ করেন। যাদের অন্তর অপবিত্র তাদের সাথে আল্লাহপাকের যেমন কোনো সম্পর্ক নেই তেমনি তারা কোরআনের শিক্ষার ওপর আমলের ক্ষেত্রেও থাকে উদাসীন। যেভাব কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আসলে তাদের হৃদয় এ কোরআন থেকে উদাসীন। এছাড়াও তাদের আরও অনেক মন্দ কর্ম রয়েছে, যা তারা করে চলেছে’ (সুরা আল মোমেনুন, আয়াত: ৬৩)।

অন্যদিকে যারা মুমিন তাদের অন্তর থাকে পবিত্র আর এদের সম্পর্কেই আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন, ‘হে শান্তিপ্রাপ্ত আত্মা! তুমি তোমার প্রভুপ্রতিপালকের দিকে সন্তুষ্ট হয়ে এবং তাঁর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আস। অতএব তুমি আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর’ (সুরা আল ফজর, আয়াত: ২৭-৩০)।

মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির উচ্চতম পর্যায় হচ্ছে, সে তার প্রভুর ওপর পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট এবং তার প্রভুও তার ওপর পুরোপুরি সন্তুষ্ট। এমন অবস্থাকে বেহেশতি অবস্থা বলে, যে আত্মার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট সেই আত্মাও তার রবের প্রেমে এমনভাবে বিলীন ও একীভূত হয়ে যায় যে, এমন অন্তর তখন আর আল্লাহ ছাড়া কিছুই বুঝে না। আসলে যারা আল্লাহপাকের মুমিন বান্দা তারা ইহকালেই তাঁর কাছ থেকে ‘হে শান্তিপ্রাপ্ত আত্মা’ এই আহ্বানের ডাক শুনতে পায়।

হজের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত রাসুল করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজব্রত পালন করে আর কোনো ধরনের অশালীন কথাবার্তা ও পাপ কাজে লিপ্ত না থাকে সে যেন নবজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ অবস্থায় হজ থেকে ফিরে এলো’ (বুখারি ও মুসলিম)।

এ হাদিসের ওপর ভিত্তি করে অনেকেই পয়সার জোরে প্রতিবছর হজ সম্পাদন করেন আর প্রতি বছরের গুনাহ-খাতা মাফ করিয়ে আনেন। হজ পালন করলেই নিষ্পাপ হয়ে যাব, এমন এক অদ্ভুত মনমানসিকতাও আমাদের সমাজের অনেকের মাঝে বিরাজ করে।

মহান আল্লাহপাক যাদের হজ করার সামর্থ্য দান করেছেন তাদের উচিত কেবল আল্লাহকে লাভ করাই যেন উদ্দেশ্য হয় আর আগের সব দোষ-ত্রুটির ক্ষমা চেয়ে মুমিন-মুত্তাকি হয়ে বাকি জীবন যেন অতিবাহীত করে। আর যদি এমনটি হয় যে, হজ থেকে ফিরে এসে অগের মতোই জীবন পরিচালিত করতে থাকে তাহলে তার হজ করা আল্লাহর দরবারে কোনো মূল্য রাখে না।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজ পালনকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন,
‘হে মানুষ! অতি তাড়াতাড়িই তোমরা তোমাদের প্রভুর সঙ্গে মিলিত হবে। অতঃপর তিনি তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। অতএব সাবধান! তোমরা আজকের (হজের) দিনের পর পুনরায় পথভ্রষ্ট (গোনাহে লিপ্ত) হয়ো না।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

অনেকে এমনও রয়েছেন যারা একাধিকবার হজ করেন আর কয়েকবার হজ করা সত্ত্বেও তার মাঝে তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। নিজের মাঝে পবিত্র পরিবর্তনই যদি না আসে তাহলে এ হজ বৃথা। আমার পাশের ঘরের মানুষ না খেয়ে রাত্রযাপন করবে আর আমি হজ করতে যাব এ ধরনের হজকারীর কোনো মূল্য নেই আল্লাহর দরবারে। এছাড়া যারা একবার হজ করেছেন তারা ইচ্ছে করলে অন্য কাউকে হজ পালন করার সুযোগ করে দিতে পারেন যার ফলে দুজনেই পুণ্য লাভ করতে পারেন।

ইতোমধ্যে আমাদের দেশ থেকে অনেকেই হজের উদ্দেশ্যে মক্কায় উপস্থিত হয়েছেন। যারা হজের উদ্দেশ্যে চলে গেছেন এবং যারা যাচ্ছেন তাদের সবার উদ্দেশ্যে বলছি, আপনাদের আল্লাহপাক তৌফিক দান করেছেন তাই আল্লাহতায়ালার শুকরিয়া আদায় করুন, নিজেদের দোষ-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করার জন্য আল্লাহপাকের কাছে ক্রন্দনরত অবস্থায় দোয়া করুন আর এই সংকল্প করুন যে, হজ থেকে ফিরে এসে আমার দ্বারা যেন কোনো অপরাধ সংঘটিত না হয়, আমার হৃদয় হবে পবিত্র আর আমি যেন সবার জন্য শান্তির কারণ হই। আপনার উদ্দেশ্য যদি সৎ হয় এবং নিজেকে বদলানোর থাকে তাহলে এই হজ আপনাকে আল্লাহর সন্তুষ্টিগুজার বান্দায় পরিণত করবে।

আল্লাহতাআলা সবাইকে সঠিক নিয়তে সুন্দর ও সুস্থমতে হজ পালন করার তৌফিক দান করুন, আমিন।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




গাজীপুরে ৬ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জয়দেবপুরে ছয় চাল ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (৫ জুন) দুপুরে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ আলী এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, অভিযানে মেসার্স পংকজ ট্রেডার্সকে ১০ হাজার, ছামাদ রাইচ এজেন্সিকে পাঁচ হাজার, মেসার্স সুরাইয়া ট্রেডার্সকে পাঁচ হাজার, শিউলী ট্রেডার্সকে ১০ হাজার, ফারুক ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এসময় উপজেলা খাদ্য অফিসের পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শন সোহেল আহমেদ সুফল উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




বিডিওএসএন ও ইয়ুথ হাবের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ২২জন দেখেছেন
Image

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন প্রকল্প কার্যক্রম ও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যৌথভাবে পরিচালনায় বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক-বিডিওএসএন ও ইয়ুথ হাবের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শুক্রবার (১ লা জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বিডিওএসএন কার্যালয়ে এই সমঝোতা চুক্তি সই হয়। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ, বিশেষ করে স্কুল কোডার্স, গার্লস ইন আইসিটি, স্কুল প্রেইনার, বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের গুগল ফর এডুকেশনের ওপর প্রশিক্ষণ, দেশে-বিদেশে অবস্থারত বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচিত করা, তাদের কোডিং সম্পর্কে মৌলিক বিষয়গুলো শেখানো, শিক্ষার্থীদের তাদের স্কুল জীবন থেকে কম্পিউটার শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট করা, আইসিটি ও স্টেম এবং বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত তাদের দক্ষতা উন্নত করা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে এই দুই প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ, কর্মশালা, শিক্ষা ও সনদ দেওয়া কার্যক্রম, শিশু-কিশোরদের নিয়ে হ্যাকাথনের আয়োজনও করা হবে। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা ও ইয়ুথ হাবের পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি জাসিয়া নোশীন চৌধুরী চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন।

এ সময় বিডিওএসএনের অ্যাডমিন অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা নারায়ণ চক্রবর্তী ও আনিসুল হক কোহর্ট ফর গ্রোথ অব উইমেন অন্টপ্রেনিউরসের প্রকল্প সমন্বয়ক আহমাদ মুদ্দাসসের এবং ইয়ুথ হাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য রিদওয়ানুল হক ও আশিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



জামাই-শ্বশুরের ১৫ বছরের দ্বন্দ্ব মেটালো লিগ্যাল এইড

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

লক্ষ্মীপুরের রামগতির আব্দুল ওদুদ খান সৌদি আরব যাওয়ার আগে ৫টি গরু ও ৮টি মহিষ তার শ্বশুর নূর মোহাম্মদের জিম্মায় রেখে যান। সেটি ছিল ২০০৭ সালের ঘটনা। এর প্রায় ১১ বছর পর দেশে ফিরে ২০১৮ সালে এসে দেখেন সেখানে ২০টি মহিষ ও ৭টি গরু হয়েছে। তবে ৩টি মহিষ মারা যায়। সেই গরু ও মহিষ ফেরত চাওয়া নিয়ে জামাই-শ্বশুরের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

এরপর ওই বিষয় নিয়ে মামলা হয়। সেই যে শুরু। এরপর তা বিচারিক আদালত থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে।

অবশেষে গরীব অসহায় দরিদ্রদের সেবা দেওয়ার জন্য সরকারি সহায়তাকারী সংস্থা সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান দিয়েছে। নিজেদের দ্বন্দ্ব ও মনোমালিন্য ভুলে তাতে শ্বশুর ও জামাই খুশি হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে কয়েক ঘণ্টা দীর্ঘ সালিশি বৈঠক শেষে বিষয়টি নিষ্পত্তি ও সমাধান হয়েছে।

২০০৭ সালে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আবদুল অদুদ বিদেশ যান। সেখানে যাওয়ার আগে তার কেনা মহিষ ও গরু লালন-পালনের জন্য দিয়েছিলেন শ্বশুরকে। লালন-পালনের পর গবাদি পশুগুলো সংখ্যায় বেড়েছে। এক দশক পর বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন অদুদ। ফেরত চান তার গবাদি পশুগুলো। কিন্তু সেগুলো দিতে অস্বীকৃতি জানান শ্বশুর নূর মোহাম্মদ। তদন্তের পর দায়রা আদালতের সিদ্ধান্ত যায় জামাই অদুদের পক্ষে। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসেন শ্বশুর।

মামলার বিষয়বস্তু শোনার পর হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেন। দায়িত্ব দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে।

এরপর কয়েকঘণ্টা ধরে চলা সালিশি বৈঠকের পরই বিরোধ নিষ্পত্তি হয় জামাই-শ্বশুরের। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭টি মহিষের মধ্যে ৫টি বড় ও ৪টি ছোট মহিষ পাবেন অদুদ। আর ৬টি বড় ও ২টি ছোট মহিষ নেবেন শ্বশুর। বিরোধ নিষ্পত্তির এ সিদ্ধান্ত এখন অবহিত করা হবে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে।

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের কর্মকর্তা রিপন পৌল স্কু জাগো নিউজকে জানান, লক্ষ্মীপুরের রামগতির আব্দুল ওদুদ খান সৌদি আরব যাওয়ার আগে ৫টি গরু ও ৮টি মহিষ তার শ্বশুরের জিম্মায় রেখে যান। ১১ বছর পর ২০১৮ সালে সৌদি থেকে ফিরে এসে দেখেন ২০টি মহিষ ও ৭টি গরু হয়েছে।

পরে ৩টি মহিষ মারা গেলে ১৭টি মহিষ থাকে। একপর্যায়ে এসব গরু-মহিষ শ্বশুরের কাছে ফেরত চান জামাই আব্দুল ওদুদ। কিন্তু শ্বশুর এসব ফেরত দিতে অস্বীকার করলে বিরোধ দেখা দেয়।

এ নিয়ে গ্রামে কয়েক দফা সালিশ হয়, কিন্তু তাতে কোনো সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে জামাই সেগুলো উদ্ধারের জন্য লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা করেন।

এডিএম কোর্ট পুলিশকে জামাই-শ্বশুরের বিরোধের বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। পুলিশ তদন্ত করে গরু-মহিষ জামাইয়ের বলে সত্যতা পেলে আদালত জামাইকে তা বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দেন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেন রামগতি থানা পুলিশ। একই সঙ্গে গবাদিপশুগুলোও উদ্ধার করে জিম্মায় নেয় পুলিশ।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গরু ও মহিষ নিজের দাবি করে আদালতে আবেদন করেন নূর মোহাম্মদ। এরপর এডিএম কোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে শ্বশুর লক্ষ্মীপুর দায়রা আদালতে যান।

পরবর্তীকালে দায়রা আদালত স্থানীয় একজন অধ্যক্ষের মাধ্যমে এ বিষয়ে আরেকটি তদন্তের নির্দেশ দেন। সে তদন্তেও ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর গরু-মহিষ জামাইয়ের বলে সত্যতা মেলে। লক্ষ্মীপুরের দায়রা জজ মো. রহিবুল ইসলাম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেওয়া ওই আদেশ বহাল রাখেন।

তবে শশুর এখানেই থেমে থাকেননি। দায়রা আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আসেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।

এরপরই হাইকোর্ট বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে
নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিবাদমান দুই পক্ষ ও তাদের আইনজীবীদের নিয়ে সালিশে বসে লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা জজ ফারাহ মামুন ও সমন্বয়কারী রিপন পৌল স্কু। বৈঠকে দুই পক্ষই তাদের মতামত তুলে ধরেন।

সেই অনুযায়ী গরু-মহিষ নিয়ে জামাই শ্বশুরের বিরোধের বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে কয়েক ঘণ্টা দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

দীর্ঘ আলোচনার পর উভয়পক্ষের সম্মতিতে বিরোধীয় ১৭টি মহিষের মধ্যে বড় ৫টি ও ছোট ৪টি মহিষ জামাই আব্দুল ওদুদ আর বড় ৬টি ও ছোট ২টি মহিষ নূর মোহাম্মদ নিতে সম্মত হন। সবশেষে জামাই-শ্বশুর উভয়ই লিগ্যাল এইড অফিসে হওয়া সিদ্ধান্ত মেনে হাসি-খুশি হয়ে বাড়ি ফেরেন।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




সপ্তাহের রসালাপ: গোপালের দাবা খেলা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৪৮জন দেখেছেন
Image

গোপাল ভাঁড় ছিলেন মধ্যযুগে নদিয়া অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত রম্য গল্পকার, ভাঁড় ও মনোরঞ্জনকারী। তার আসল নাম গোপাল চন্দ্র প্রামাণিক। তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীতে নদিয়া জেলার প্রখ্যাত রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় নিযুক্ত ছিলেন।তিনি ছিলেন সৎ ও বুদ্ধিমান। বুদ্ধি ও সৎসাহস থাকার কারণে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাকে তার সভাসদদের মধ্যকার নবরত্নদের একজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

গোপাল মাঝে মাঝে কারো না কারোর সঙ্গে নিজের বাড়ির দাওয়ায় বসে দাবা খেলতো। গোপালের সঙ্গে দাবা খেলার জন্য প্রায়ই কেউ না কেউ দুই মাইল দূর থেকেও হেটে আসতেন।

অন্তত এক বাজি খেলতে না পারলে অথবা কারো সঙ্গে দাবায় হেরে গেলে গোপাল সে রাতে মোটেই ঘুমাতে পারতো না। সারারাত বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুধু ছটফট করত।

দাবা খেলায় ভীষণ নেশা গোপালের বলতে গেলে, দাবা খেলার সময় গোপাল বাহ্যজ্ঞানই হারিয়ে ফেলত। একদিন গোপাল দাবা খেলছিল, আর এক চাল দিলেই কিস্তিমাত হয় আর কি?

এমন সময় বাড়ি থেকে একটা চাকর ছুটে এসে খবর দিলে, বাবু তাড়াতাড়ি বাড়ি চলুন। কর্তা মাকে সাপে কামড়েছে। কর্তামা ভীষণ কষ্ট পাচ্ছেন। ডাক্তার আনতে হবে।

গোপাল তখন দাবার নেশায় এমনই মত্ত যে চাল দিতে দিতে চাকরকে বললে, কাদের সাপ? কার হুকুমে কর্তা মাকে কামড়াল? সাপটার বিরুদ্ধে রাজার দরবারে নালিশ ঠুকে দিয়ে, এখনি ছুটে চলে যা একটু পরেই আমি যাচ্ছি।

চাকর বেচারা কর্তাবাবুর কথা শুনে হ্য করে দাড়িয়ে রইল।

লেখা: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২