Logo
শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া চিকিৎসককে লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ৪৩জন দেখেছেন
Image

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আতিকুজ্জামান চঞ্চল (৩৮) নামের এক ভুয়া চিকিৎসককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১৩ জুন) দুপুরে জীবননগর পৌর শহরের ইব্রাহিম টাওয়ারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম।

ভুয়া চিকিৎসক আতিকুজ্জামান চঞ্চল জীবননগর পৌর শহরের লক্ষ্মীপুর পাড়ার মৃত আয়ুব আলীর ছেলে।

jagonews24

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে জীবননগর শহরে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন আতিকুজ্জামান চঞ্চল। চিকিৎসা দেওয়ার নামে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার সনদের কাগজপত্র ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়। পরে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মুস্তাফিজুর রহমান সুজন এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল খালেকসহ পুলিশের একটি দল ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আরও খবর



দুর্নীতির অভিযোগ, কক্সবাজারের ৯ সার্ভেয়ারকে বদলি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

২৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে ঢাকায় আটক হন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান। এ ঘটনার পর আলোচনায় আসে এলএ শাখার দুর্নীতির বিষয়টি।

প্রশাসনের সুনাম ধরে রাখতে এবার একযোগে ৯ সার্ভেয়ারকে বদলি করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ২৫ জুলাই তাদের স্ট্যান্ড রিলিজ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী সই করা এক স্মারকে এতথ্য নিশ্চিত করা হয়।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ ৯ সার্ভেয়ারকে বদলির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, সার্ভেয়ার মো. সাইফুল ইসলামকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলা ভূমি অফিস, দুলাল খানকে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই, মো. ইব্রাহিম ফয়সালকে বান্দরবান সদর ভূমি অফিস, মীর্জা মোহাম্মদ নুরে আলমকে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, হযরত আলীকে নোয়াখালীর হাতিয়া, মো. আব্দুল কাইয়ুমকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন কার্যালয়, মো. শরিফুল ইসলামকে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়, জিয়াউর রহমানকে বান্দবানের আলীকদম এবং মো. নুর উদ্দিন আলমকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ভূমি অফিসে পদায়ন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বিভিন্ন সময় অভিযোগ ছিল। আতিকুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার আগেও অনেক সার্ভেয়ার গ্রেফতার হয়েছিলেন। সবকিছু মিলে জেলা প্রশাসনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই সুনাম ধরে রাখতে জেলা প্রশাসক নিজেই তাদের বদলি চেয়েছেন।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এলএ শাখার সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাদের বদলি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সবসময় সরকারের হয়ে জনকল্যানে কাজ করছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে প্রশাসনের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে না।’


আরও খবর



ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪০

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ | ২০জন দেখেছেন
Image

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪০ জন ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে সারাদেশে মোট ৩৬৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম সই করা ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু একই সময়ের মধ্যে সারাদেশে নতুন করে আরও ৪০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবাই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১০ জন।

এ নিয়ে বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৩৬৩ জন ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৭টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৮৭ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সর্বমোট তিন হাজার ২০ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন দুই হাজার ৬৪৩ জন।

এ সময়ে ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৫২৭ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই হাজার ২৩৫ জন। ঢাকার বাহিরে ভর্তি হয়েছেন ৪৯৩ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪০৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এ বছর ২১ জুন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ এ সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।


আরও খবর



ভাইরালের লোভে শিশুর মুখে ই-সিগারেট গুঁজে ভিডিও, যুবক গ্রেফতার

প্রকাশিত:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
Image

আজকাল কিছু মানুষের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া। এর জন্য বিবেকবর্জিত, এমনি বেআইনি কাজেও জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় একটি সাত মাসের শিশুর মুখে ই-সিগারেট গুঁজে ভিডিও করায় গ্রেফতার হয়েছেন এক যুবক।

মালোয়েশিয়ার উত্তর জোহোর বারু জেলার পুলিশ কর্র্মকর্তা রুপিহা আবেদ ওয়াহিদ জানিয়েছেন, বছর ২৩-এর এক যুবককে শিশুর মুখে ই-সিগারেট গুঁজে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

জানা যায়, বান্ধবীর বোনের সন্তানের সঙ্গে এই কাজ করেছিলেন ওই যুবক। সম্প্রতি বান্ধবী ও তার বোনের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে মজা করতে করতে শিশুটির মুখে ই-সিগারেট চেপে ধরেন যুবক। ওই দৃশ্য ভিডিও রেকর্ড করেন শিশুটির খালা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেটি তিনিই শেয়ার করেছিলেন।

আপলোডের পরপরই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। শুরু হয় বিতর্ক। একটি দুধের শিশুর মুখে ই-সিগারেট গুঁজে দেওয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। এরপরেই পুলিশে অভিযোগ করেন শিশুটির মা।

উত্তর জোহর বারু জেলার পুলিশ কমান্ডার রুপিহা আবদ ওয়াহিদ জানিয়েছেন, গত ৮ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়েছে প্রধান অভিযুক্তকে। দোষ প্রমাণিত হলে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার জন্য কেউ যেন অন্যের ক্ষতি বা সমস্যার কারণ না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন, ইয়াহু নিউজ


আরও খবর



রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকে নতুন এমডি

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাদের তিন বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৪ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে অনুযায়ী, রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও হয়েছেন মো. আফজাল করিম। তিনি বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্সের এমডি ছিলেন।

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থানা পরিচালক ও সিইও হয়েছেন মো. মুরশেদুল কবির। এর আগে তিনি সোনালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি এ ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপাল করে আসছিলেন।


আরও খবর



ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
Image

এই সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত এক রোগের নাম ডেঙ্গু জ্বর। করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে যখন মানুষ ক্লান্ত, তখন ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণ মানুষকে হতবিহবল করে তুলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ডেঙ্গু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং মারাত্মক মশাবাহিত রোগ।

পরিসংখ্যান মতে, গত ৫০ বছরে ডেঙ্গু বেড়েছে প্রায় ৩০ গুণ বেশি। ২০০০ সালে বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং ৫,৫০০ জন আক্রান্ত হয়েছিল। প্রতি বছরই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হয় এবং বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি হয়েছিল ২০১৯ সালে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেই বছর ১০১,৩৫৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল এবং ১৭৯ জন মারা গিয়েছিল।

দেশে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে সারাদেশে ৫২১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে গত মাসে মোট ৭৩৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এ মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭২৩। তাদের মধ্যে, ১,৪৯৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং তিনজন মারা গেছেন। গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। তাদের মধ্যে প্রায় ১০৫ জন মারা গেছেন এবং ২৮ হাজার ২৬৫ জন সুস্থ হয়ে ওঠেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বা উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চল এই মশার পছন্দের আবাসস্থল। এই মশার শরীরে হালকা কালো রঙ এবং সাদা পা ও শরীরে রূপালি-সাদা ব্যান্ড দেখে চিহ্নিত করা যায়। একটি পূর্ণ বয়স্ক মশা যে কোনো স্থানে জমা হয়ে থাকা বৃষ্টির পানিতে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

তবে এরা সাধারণত ফেলে দেওয়া ডাবের খোসা, টায়ার, ব্যারেল, প্লাস্টিকের ড্রাম, ফুলের টব, খোলা ক্যান এবং পাত্রে বেশি দিন ধরে জমে থাকা পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ অন্যান্য অনেক ইনডোর এবং আউটডোর স্থানও রয়েছে যেমন- বাড়িতে ব্যবহৃত ফ্রিজের নিচে, বাড়ি বা কলকারখানার এসির নিচে জমে থাকা পানি, ছাদে জমা বৃষ্টির পানি ইত্যাদি।

বাংলাদেশে সাধারণত মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ডেঙ্গু জ্বর বহনকারী মশা যদি একজন মানুষকে কামড়ায় তাহলে চার-ছয়দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু জ্বর হবে। আবার জীবাণুমুক্ত মশা আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ালে তাও ডেঙ্গুর বাহক হয়ে ওঠে। এভাবেই মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত প্রচণ্ড জ্বর হয় এবং সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর সাধারণত ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। শরীরে, বিশেষ করে হাড়, নিতম্ব, পিঠসহ জয়েন্ট এবং পেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। কখনও কখনও ব্যথা এত তীব্র হয় যে মনে হয় হাড় ভেঙে যাচ্ছে। তাই এই জ্বরের আরেক নাম হলো ‘ব্রেক বোন ফিভার’।

জ্বরের ৪ বা ৫তম দিনে, সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা যায়, যাকে ত্বকের ফুসকুড়ি বলা হয়, অনেকটা অ্যালার্জি বা স্ক্র্যাচের মতো। বমি বমি ভাব এমনকি বমিও হতে পারে। রোগী অত্যধিক ক্লান্তি এবং ক্ষুধা মন্দা অনুভব করে।

সাধারণত ৪ বা ৫ দিন পরে জ্বর চলে যায়; কিছু রোগীর দু-তিনদিনের মধ্যে আবার জ্বর হতে পারে। এছাড়াও জ্বরের কারণে সবচেয়ে জটিল অবস্থায় রক্তক্ষরণ হতে পারে। প্রায়শই লিভারের ক্ষতির কারণে রোগীর জন্ডিস, কিডনি ক্ষতির কারণে রেনাল ফেইলিও এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এই ভাইরাস মোকাবিলার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিরোধ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতাই প্রাথমিক হাতিয়ার। সরকার ও জনগণের সমন্বিত সচেতনতাই পারে আমাদের এই মহামারি থেকে নিরাপদ রাখতে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথমে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ও উৎপত্তির দিকে নজর দিতে হবে।

এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করে প্রাপ্তবয়স্ক মশা ধ্বংস করে ডেঙ্গু সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এক্ষেত্রে সরকার ও জনগণ যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংসের বিষয়ে জনগণ যেমন সচেতন হবে, তেমনি পুরনো মশা নিধনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনগণের কাজ হবে বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় পরিষ্কার রাখা। খেয়াল রাখতে হবে যেন ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেমন- খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদিতে পানি না জমে। বাথরুমের কোথাও জমা পানি পাঁচদিনের বেশি রাখা যাবে না। অ্যাকুরিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচে যাতে বেশিক্ষণ পানি না জমে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দিনেরবেলা শরীর ভালোভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে; প্রয়োজনে মশা নিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনেরবেলা ঘুমালে মশারি টাঙিয়ে বা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে। হাফপ্যান্টের বদলে ফুল প্যান্ট পরিয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠানো যেতে পারে।

ডেঙ্গু রোগীকে মশারির নিচে রাখতে হবে, যাতে কোনো মশা রোগীকে কামড়াতে না পারে। মশা তাড়ানোর স্প্রে, কয়েল এবং ম্যাট ব্যবহার করতে হবে, সেই সাথে দিনে ও রাতে মশার কামড় এড়াতে মশারি ব্যবহার করতে হবে। অন্যদিকে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে জনগণকে সচেতন করা।

'জেনেটিকালি মডিফাইড' পদ্ধতিতে কীভাবে ডেঙ্গু নির্মূল করা যায় সে বিষয়ে প্রাসঙ্গিক গবেষকদের নিয়োগ করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য জাতীয় নির্দেশিকা প্রদান। সব গণমাধ্যমে ডেঙ্গু সম্পর্কে নিয়মিত প্রচারণা চালাতে হবে। শহর এলাকায় নিয়মিত মশা নিরোধক স্প্রে করা। আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা।

সর্বোপরি ডেঙ্গু মহামারি থেকে রক্ষা পেতে জনগণ ও সরকারকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আত্মসচেতনতা ছাড়া সরকারের সমালোচনা করে যেমন ডেঙ্গু দূর হবে না, তেমনি জাতীয় স্বার্থও হুমকির মুখে পড়বে। তাই সবার আগে প্রয়োজন আত্মসচেতনতা।

এছাড়া সরকার-জনগণ মিলে সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে। উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণই পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে দেশকে এই সংকট থেকে মুক্ত করতে।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।


আরও খবর