Logo
শিরোনাম

দেড় বছরেও খাতা পুনর্মূল্যায়ণের ফলাফল পাননি ৩ খুবি শিক্ষার্থী

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৯জন দেখেছেন
Image

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা ডিসিপ্লিনের স্নাতকোত্তরের খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তিন শিক্ষার্থী। সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন থেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের।

তারা জানান, গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের স্নাতকোত্তর ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় ২২ ফেব্রুয়ারি তারা উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণের আবেদন করেন। কিন্তু এক বছরেরও অধিক সময় পার হয়ে গেলেও তারা পুনর্মূল্যায়ণের ফলাফল পাননি।

ভুক্তভোগী খান আতিদুল ইসলাম বলেন, ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্নাতকোত্তরের থিসিসসহ মোট ৩টি কোর্স পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করি। পুনর্মূল্যায়ণের ফলাফল যেখানে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চলে আসে সেখানে প্রায় দেড় বছর হয়ে গেলেও অজ্ঞাত ও ভৌতিক কারণে আমাদের তিনজনের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। আমরা বহুবার ডিসিপ্লিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে গিয়েছি। তারা বার বার আশ্বাস দিয়েও ফলাফল প্রকাশ করেনি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অন্যায় ও অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় ইচ্ছাকৃতভাবে এবং প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই আমার ফলাফল আটকে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাকে এই বিলম্বের সুনির্দিষ্ট কারণ অবহিত করে পুনর্মূল্যায়ণকৃত ফলাফল প্রদান করতে হবে। তাছাড়া এতদিন ফলাফল না পাওয়ায় আমি যে সার্বিক হয়রানি ও মানসিক হেনস্তার শিকার হয়েছি তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী আজবীয়া খান এশা বলেন, গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হওয়া স্নাতোকোত্তরের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় আমি থিসিসসহ ৪টি বিষয়ে পুনর্মূল্যায়ণের জন্য আবেদন করি। কিন্তু আবেদনের প্রায় দেড় বছর পার হয়ে গেলেও এখনো ফলাফল প্রকাশ হয়নি। দেড় বছর ফলাফল আটকে রাখায় আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। চাকরি পাওয়ার বয়স থেকে অলরেডি দেড় বছর চলে গিয়েছে। আমরা সবাই এখন মানসিক এবং আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত।

তিনি আরও বলেন, আমার মতোই আমার সহপাঠী খান আতিদুল ইসলাম থিসিসসহ ৩টা বিষয়ে এবং মিতু রহমান থিসিসসহ ২টা বিষয়ে পুনর্মূল্যায়ণের জন্য আবেদন করেও এখন পর্যন্ত ফলাফল পায়নি। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় বা ডিসিপ্লিনের কতিপয় শিক্ষকের ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং স্বৈরাচারী চিন্তাভাবনার শিকার হয়েছি আমরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) শেখ শারাফত আলী জাগো নিউজকে বলেন, তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অবলম্বন করে আবেদন করেছেন। আমরা সেই আবেদন অনুযায়ী উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণের জন্য পাঠিয়েছিলাম। করোনা পরিস্থিতির কারণে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণ হয়ে আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। পুনর্মূল্যায়ণ শেষে আমরা উত্তরপত্র ডিসিপ্লিনে পাঠিয়েছি। কিন্তু পাঠানোর বেশ কিছুদিন পরে আবার ডিসিপ্লিন থেকে জানানো হয়েছে একটি উত্তরপত্রের ভেতরে তারা নম্বর পাননি।

এ বিষয়ে বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. রুবেল আনসার বলেন, তাদের উত্তরপত্র যথাসময়েই পুনর্মূল্যায়ণের জন্য পাঠানো হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণ হয়ে আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। পুনর্মূল্যায়ণের একটি উত্তরপত্রের নম্বর না আসার কারণে ফলাফল তৈরি করা যায়নি। ওই খাতাটি মূল্যায়ন হয়ে এলেই যত দ্রুত সম্ভব ফলাফল প্রকাশ করা হবে। আশা করছি এই মাসের মধ্যেই ফলাফল দেওয়া সম্ভব হবে।

বার বার আশ্বাস দিয়েও ফলাফল প্রকাশে দেরি করার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি সর্বাংশে সত্য নয়।


আরও খবর



খরার ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, আশাবাদী বাংলাদেশ

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশের জন্য অন্যতম প্রধান আমদানি বাজার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকার দেশ দুটি থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে তেল, গম, চিনি, মাংসসহ নানা ধরনের ফল ও মসলা আমদানি করে বাংলাদেশ। কিন্তু ওই অঞ্চলে গত কয়েক মাস তীব্র খরার কারণে এ বছর কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। যার ফলে অনিশ্চয়তায় পড়ে সয়াবিনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের আমদানি। সেই সঙ্গে হু হু করে বাড়তে থাকে দাম। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে অবশেষ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। তাতে আশার আলো দেখছেন বাংলাদেশের ভোক্তারা।

ব্রাজিলে এ বছর খরা সত্ত্বেও রেকর্ড পরিমাণ ফসল ফলবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ইনস্টিটিউট অব জিওগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইবিজিই)। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সরকারি সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২২ সালে দেশটিতে ফসল উৎপাদন ২৬ কোটি ১৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় অন্তত ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

এর আগে গত মার্চ মাসে ব্রাজিলে ফসল উৎপাদনের যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, নতুন পূর্বাভাসে তার চেয়ে এক শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৫ লাখ টন বেশি ফসল ঘরে তোলার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

jagonews24

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আইবিজিই’র গবেষণা ব্যবস্থাপক কার্লোস বারাদাস বলেন, দেশের মধ্য ও দক্ষিণ অংশের গ্রীষ্মকালীন ফসল আবহাওয়াজনিত সমস্যায় পড়েছিল, যার ফলে কম উৎপাদনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জানুয়ারিতে বৃষ্টিপাত ফেরার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ফসল পুনরুদ্ধার হয়েছে।

এবারের মৌসুমে ব্রাজিলের প্রধান কৃষিপণ্য সয়াবিন ঘরে তোলা প্রায় শেষের পথে। সেখানে গত মার্চের তুলনায় এপ্রিলে সয়াবিনের উৎপাদন বেড়েছে অন্তত দুই শতাংশ। তা সত্ত্বেও এ বছর ব্রাজিলে বহুল ব্যবহৃত এ তেলবীজের মোট উৎপাদন ১১ কোটি ৮৫ লাখ টন দাঁড়াতে পারে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম।

এ বিষয়ে বারাদাস বলেন, আগেও বলেছি, ফসলে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ফসল ফলানোর সময়ই ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছিল। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চল। সেখানে গত বছরের তুলনায় সয়াবিন উৎপাদন মোটামুটি ৪৬ শতাংশ কম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

jagonews24

শুধু সয়াবিনই নয়, ব্রাজিলে মার্চ মাসের তুলনায় এপিলে উৎপাদন বেড়েছে আলু (২ দশমিক ৪ শতাংশ), টমেটো (১ দশমিক ৫ শতাংশ), মটরশুটি (১ দশমিক ৩ শতাংশ), আঙুর (১ দশমিক ২ শতাংশ), ক্যানেফোরা কফি (এক শতাংশ) প্রভৃতিরও।

আইবিজিই’র গবেষণা ব্যবস্থাপক নিশ্চিত করেছেন, এবারের মৌসুমে দেশটিতে ভুট্টারও চমৎকার ফলন হয়েছে, যা গ্রীষ্মকালীন ক্ষতি অনেকটাই পূরণ করে দেবে।

ব্রাজিলের মতো খরা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেছে প্রতিবেশী আর্জেন্টিনাও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে গত কয়েক মাস বিরূপ আবহাওয়া সত্ত্বেও সয়াবিন, সূর্যমুখী, ভুট্টার মতো তেল-জাতীয় ফসলের ফলন অনেকটাই ‘সন্তোষজনক’।

jagonews24

প্রক্রিয়াজাত সয়াবিন রপ্তানিতে বিশ্বে এক নম্বর এবং ভুট্টা রপ্তানিতে দ্বিতীয় আর্জেন্টিনা। ১৯৯০-এর দশকে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনের পর থেকে দেশটির অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য হয়ে উঠেছে তেলবীজ। গত চার দশকে তাদের জাতীয় উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১৪ গুণ।

সম্প্রতি বুয়েন্স আয়ার্স টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর আর্জেন্টিনায় প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ হেক্টরে লাগানো হয়েছে সয়াবিন। বাজে আবহাওয়ার কারণে এ বছর দেশটির কৃষি উৎপাদন ১২ কোটি ৭০ লাখ টন দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গত বছরের চেয়ে দুই শতাংশ কম।

আর্জেন্টিনার চাষিরা এরই মধ্যে গম ও সূর্যমুখীর চাষ করেছেন, দুটোরই ফলন হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। তারা এখন চাষ করছেন সয়াবিন ও ভুট্টা। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে গম বপনের নতুন মৌসুম শুরু হবে দেশটিতে। ধারণা করা হচ্ছে, আর্জেন্টিনার কৃষিপণ্য রপ্তানি এ বছর রেকর্ড ৪ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বেশি।

jagonews24

লাতিন আমেরিকার দেশ দুটিতে খরা সমস্যা মিটে যাওয়ায় আশার আলো দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। কারণ, দেশে সয়াবিন তেল আমদানি করা মূলত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে। সম্প্রতি দেশ দুটিতে খরার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ার খবরে বাংলাদেশের বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে ব্যাপকভাবে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে। আগে প্রতি টন ৭৫০ ডলারে কেনা গেলেও এপ্রিলে তা ১ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় খরা আর বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে দেশে এরই মধ্যে কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে সয়াবিন তেলের দাম। সবশেষ ৪০ টাকা বাড়িয়ে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম করা হয়েছে ১৯৮ টাকা। তবে খরা সমস্যা কাটিয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় তেলবীজের বাম্পার ফলন ক্রেতাদের আশাবাদী করে তুলেছে। দেশ দুটি থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সয়াবিন আমদানি হলে বাংলাদেশের বাজারে এর দাম আবারও কমে আসবে বলে আশা করছে সাধারণ মানুষ।


আরও খবর



অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা চ্যালেঞ্জ করে রিট

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৬জন দেখেছেন
Image

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০১৮ এর অধীনে জারি করা অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা- ২০২২ চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত মাসে ব্যারিস্টার মারইয়াম খন্দকার বাদী হয়ে এই রিটটি করেন।

রিটে নীতিমালা অনুযায়ী বিধিনিষেধ ছাড়া ২১ বছরের অধিক বয়সীরা যেকোনো স্থানে বসে মদ খাওয়া ও বহন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না সেই মর্মে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মে) রিট করার বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।

তিনি জানান, এ বিষয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০১৮ এর অধীনে অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা- ২০২২ জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো অ্যালকোহল বা মদ উৎপাদন, কেনাবেচা, পান করা, পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে নিয়মনীতি স্পষ্ট করা হলো।

এর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮, অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ (লাইসেন্স ও পারমিট ফিস) বিধিমালা- ২০১৪, মুসলিম প্রহিবিশন রুল- ১৯৫০ ও এক্সাইজ ম্যানুয়াল (ভল্যুম-২) ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অ্যালকোহল সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

আবার অনেক ক্ষেত্রেই ছিল অস্পষ্টতা। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে নানা জটিলতা দেখা যেত। এছাড়া ভেজাল মদপানে দেশে মাঝেমাঝে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।

অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা- ২০২২ এ যা থাকছে:

বিধিমালা অনুযায়ী, মদ কেনাবেচা, পান ও পরিবহনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স, পারমিট ও পাস নিতে হবে। কোথাও কমপক্ষে ১০০ জন মদের পারমিটধারী থাকলে ওই এলাকায় অ্যালকোহল বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হবে। আর ২০০ জন হলে দেওয়া হবে বারের লাইসেন্স।

২১ বছরের কম বয়সের ব্যক্তি মদপানের অনুমতি পাবেন না। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে স্যাক্রামেন্টাল ওয়াইন (আঙুরের নির্যাস থেকে তৈরি মদ) ব্যবহারের জন্য বিশেষ পারমিট দেওয়া যাবে। বিধিমালায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য চোলাই মদের মহালের সংখ্যা ও অবস্থান নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মদপানের অনুমতি পাবেন চা বাগানের শ্রমিকরাও।

বিদেশি মদের খুচরা পাইকারি অফ শপ ১৬ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ৮টা এবং ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সকাল ১০টায় খুলবে। আর বন্ধ হবে রাত ৯টায়। বিদেশি মদের অন শপ বেলা ১১টায় খুলে বন্ধ হবে রাত ৯টায়। দেশি মদের দোকান খুলবে বেলা ১১টায়। বন্ধ হবে ১৬ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ৯টায় এবং ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রাত ৮টায়।

লাইসেন্স বা অনুমোদন ফি ও এগুলোর নবায়ন ফি নতুন করে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এই বিধিমালায়। সর্বনিম্ন ফি ১৫০ টাকা, আর সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা। ডিস্টিলারি স্থাপনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। দেশি মদপানের অনুমোদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। বিদেশি মদপানের অনুমোদন ফি তিন হাজার টাকা।

বিধিমালায় ‘অন শপ’ এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যে স্থান থেকে বিদেশি নাগরিক বা পারমিটধারী দেশীয় নাগরিক বিলাতি মদ বা বিদেশি মদ বা অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় কিনে ওই স্থানে বসে পান করতে পারেন।

অ্যালকোহল সেবন, বহন ও বিক্রির জন্য লাগবে পৃথক পৃথক অনুমোদন। অ্যালকোহল বহন ও পরিবহনের ক্ষেত্রে লাগবে পাস। লাইসেন্স ও অনুমোদনের মেয়াদ হবে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত।

রেল, সড়ক, নৌ ও আকাশপথের যে কোনো একটি বা একাধিক পথে অ্যালকোহল বহন বা পরিবহন করা যাবে। তবে পাসের ওপর অবশ্যই বহন পথ লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। পাসে উল্লিখিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে আলকোহল বহন বা পরিবহন করা যাবে না।

অ্যালকোহলের প্রতিটি বোতল, মোড়ক বা পাত্রের গায়ে ‘মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ এবং ‘আইনের বিধান ব্যতীত মদ্যপান দণ্ডনীয় অপরাধ’ লালকালিতে সুস্পষ্টভাবে লেখা থাকতে হবে। এছাড়া অনুমতি ছাড়া দোকান, বার বা অ্যালকোহল ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত স্থানে বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা যাবে না।


আরও খবর



সেনা কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর ‘ব্লক’ করে রেখেছেন ইমরান খান

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৭জন দেখেছেন
Image

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান দাবি করেছেন, দেশটির সেনা কর্মকর্তারা তার সঙ্গে এখনো যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তবে সেসব কর্মকর্তার ফোন নম্বর ব্লক করে রেখেছেন তিনি। ইমরান খান বলেছেন, পরবর্তী নির্বাচনের দিন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তিনি কারও সঙ্গে কথা বলবেন না। শুক্রবার (১৩ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া এ নেতা। খবর জিও নিউজের।

এসময় ইমরান খান ‘ষড়যন্ত্রের’ সমর্থকদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তারা কি পাকিস্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত নন? তিনি বলেন, এই লোকগুলোকে ক্ষমতায় রাখার চেয়ে দেশের ওপর পারমাণবিক বোমা ফেলাই ভালো।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ক্ষমতায় থাকার শেষদিন পর্যন্ত তার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক ভালো ছিল। শুধু দুটি বিষয় ছিল যেগুলোতে তাদের মতের মিল হয়নি।

পিটিআই প্রধান বলেন, একটি ‘শক্তিশালী মহল’ উসমান বুজদারকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সিন্ধুতে আরও দুর্নীতি ও শাসন সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে।

দ্বিতীয় মতপার্থক্যটি ছিল লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদ ইস্যুতে। ইমরান খান চেয়েছিলেন আফগানিস্তান পরিস্থিতি এবং তৎকালীন বিরোধীদের ‘পটভূমির’ কারণে আগামী শীতকাল পর্যন্ত ওই সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা প্রধান (আইএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করুক। কিন্তু তাতে সমর্থন দেননি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।


আরও খবর



চট্টগ্রামে দুদকের মামলায় বিটিসিএলের দুই কর্মচারীর জেল-জরিমানা

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

নিজেদের সহকর্মীর পেনশনের ফাইল আটকিয়ে ঘুস গ্রহণের সময় হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশ টেলিকমিউনিশেন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) চট্টগ্রামের দুই কর্মচারীকে জেল-জরিমানার দণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

১৬ মে (সোমবার) দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুনসী আবদুল মজিদ এ রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলেন- বিটিসিএল চট্টগ্রাম নন্দনকানন বিভাগীয় প্রকৌশলী-ফোনস (আভ্যন্তরিণ) কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম-ক্যাশিয়ার মো. গিয়াস উদ্দীন এবং টেলিফোন অপারেটর মো. হুমায়ুন কবির। গিয়াস উদ্দীনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন আদালত।

অন্যদিকে হুমায়ুন কবিরকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট দুপুরে দুদকের ট্র্যাপ টিমের সদস্যরা ওই দুজনকে হাতেনাতে আটক করেন। এ নিয়ে দুদকের সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক মানিক লাল দাশ বাদী হয়ে ওইদিনই আটক দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।


আরও খবর



বান্দরবানে পর্যটকের ঢল, কক্ষ খালি নেই হোটেল-রিসোর্টে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৫১জন দেখেছেন
Image

টানা ছুটিতে বান্দরবানে পর্যাপ্ত পর্যটকের আগমন ঘটায় খালি নেই অধিকাংশ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের (৫ ও ৬ মে) জন্য এসব হোটেল-মোটেলের সব কক্ষ অগ্রিম নিয়ে রেখেছেন ভ্রমণপ্রত্যাশীরা।

বৃহস্পতিবার হোটেল ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, পর্যটন নগরী বান্দরবানে সারাবছরই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন হাজার হাজার পর্যটক। তবে সরকারি বিশেষ ছুটির দিনে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ে কয়েকগুণ। এতে আবাসন সংকটে অনেককে রাস্তা ও গাড়িতে রাতযাপন করতে হয়।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে পর্যটকের আগমনের ফলে বান্দরবান বাসস্ট্যান্ড থেকে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট দেখা যায়। নীলাচল, মেঘলা ও শৈলপ্রপাত পর্যটন স্পটসহ প্রায় সব পর্যটন স্পটগুলোতে ছিল পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়।

অতিরিক্ত পর্যটক আগমনের ফলে নীলাচল থেকে টাইগার পাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার যানজটে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটকরা। এছাড়া প্রায় সব হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ছিল পর্যটকদের সরব উপস্থিতি।

হোটেল হিল ভিউ, হোটেল হিল্টন, নীলাম্বরী রিসোর্ট ও হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালিসহ প্রায় সব হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের ৮৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং বলে জানা গেছে।

বান্দরবান নীলাচল পর্যটন স্পটের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা সুমি ত্রিপুরা জানান, সকাল থেকে ৩ হাজারের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটেছে নীলাচলে।

jagonews24

হোটেল হিল্টনের ম্যানেজার আক্কাস উদ্দীন বলেন, ৫ ও ৬ মে’র জন্য সব কক্ষ আগাম বুকিং দেওয়া আছে। নতুন করে রুম বুকিং নেওয়া সম্ভব নয়।

নীলাম্বরী রিসোর্টের দায়িত্বে থাকা আমির হোসেন বলেন, ৫ থেকে ১০ মে পর্যন্ত রিসোর্টের সব কক্ষ আগাম বুকিং দেওয়া আছে।

হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ম্যানেজার সুমন জানান, ৫ ও ৬ মে’র জন্য হোটেলের ৮৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং দিয়ে রেখেছেন ভ্রমণপ্রত্যাশীরা।

এ বিষয়ে বান্দরবান হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান ভ্রমণ প্রত্যাশীরা ৫ ও ৬ মে’র জন্য জেলা সদরের সব হোটেল মোটেল রিসোর্টের অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। বান্দরবানে পাঁচ হাজারের বেশি পর্যটকের ধারণক্ষমতা থাকায় নতুন ভ্রমণপ্রত্যাশীদের আবাসন সংকট দেখা দেওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই।

বান্দরবান জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা কামাল হোসেন জানান, সকাল থেকে সাড়ে চারশোর বেশি পর্যটকবাহী টুরিস্ট গাড়ি বিভিন্ন পর্যটন স্পটের উদ্দেশে স্টেশন ছেড়ে গেছে।

বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, অতিরিক্ত পর্যটক আসার ফলে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ রাখা কষ্টসাধ্য হচ্ছে। তবুও যথাসম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে টুরিস্ট পুলিশ। এছাড়া আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।


আরও খবর