Logo
শিরোনাম

দোয়া কবুলের ১৫ আদব ও নিয়ম

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৫জন দেখেছেন
Image

দোয়া করার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের দোয়া কবুল হয়। আবার অনেকের দোয়া দেরিতে কবুল হয়। এমন অনেকেই আছে যাদের দোয়া কবুল হয় না। কিন্তু কেন কারো দোয়া দ্রুত কবুল হয় আবার কারো দোয়া কবুল হয় না? দোয়া কবুলের জন্য বিশেষ কোনো নিয়ম বা আদব আছে কি? থাকলে সেগুলো কী?

হ্যাঁ, দোয়া কবুলের জন্য বেশ কিছু আদব রয়েছে। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা সম্বলিত আদবগুলো তুলে ধরা হলো। সেগুলো হচ্ছে-

১. দোয়া শুরুতে মাঝে ও শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা

যেমন- আল্লাহু আকবার, আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ বলা।

২. নবিজীর ওপর দরূদ ও সালাম পড়া

নবিজী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ কোনো গুনাহ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদের দোয়া না করে এবং তড়িঘড়ি না করে, ততক্ষণ তার দোয়া কবুল হতে থাকে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, 'তড়িঘড়ি দোয়া করার অর্থ কী?

তিনি বললেন, এর অর্থ হলো- এরূপ ধারণা করা যে,আমি এত দীর্ঘক্ষণ থেকে দোয়া করছি, অথচ এখন পর্যন্ত কবুল হলো না। এরপর নিরাশ হয়ে দোয়া ত্যাগ করা।' (মুসলিম, তিরমিজি)

৩. দোয়া কবুলের সময় দোয়া করা

দোয়া কবুলের সময় হলো- রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, সেজদায়, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, নামাজের পর, জুমার দিন আসরের পরবর্তী সময়, আরাফাতের দিন এবং ইফতারের সময় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেজদার ব্যাপারে বলেছেন, ওই সময় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি কাছাকাছি হয়। তাই বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।' (মুসলিম)

৪. সুনির্দিষ্ট বিষয়ে দোয়া করা

দোয়াকে অনির্দিষ্ট করা উচিত নয়। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা এরূপ বলো না যে, আল্লাহ যদি তুমি চাও; আমাকে মাফ করো। বরং চাওয়াকে সুনির্দিষ্ট করতে হবে। কেননা আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই।' (মুসলিম)

৫. কেবলামুখী হয়ে দোয়া করা

কোন সময় দাঁড়িয়ে সামষ্টিকভাবে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করার কথাও বর্ণিত আছে। বিশেষ করে জুমার দিন আজানের সময় বা আজান পরবর্তী সময়ে নামাজের আগে দাঁড়িয়ে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করার ব্যাপারে তাগিদ রয়েছে।

৬. দোয়া কবুলের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা

অজুর সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সেই দোয়া কবুল করেন।

৭. দোয়ার মধ্যে ইসমে আজম পড়া

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমি একদিন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন একজন লোক নামাজ পড়ছিল। সে বললো-

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِاَنَّ لَكَ الْحَمْدُ لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيْعُ السَّمَوَاتِ وَ الْاَرْضِ يَاذَا الْجَلَالِ وَ الْاِكْرَامِ يَا حَىُّ يَا قَيُّوْمُ اَسْأَلُكَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদু লা ইলাহা ইল্লা আংতাল হান্নানুল মান্নানু বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ইয়াজাল ঝালালি ওয়াল ইকরামি ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু আসআলুকা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি। সব প্রশংসা তোমার জন্য। তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি স্নেহ ও দয়া দানকারী। আসমান ও জমিনের স্রষ্ঠা তুমি। হে সম্মান ও শ্রদ্ধার মালিক! হে চিরঞ্জীব ও চির অবস্থানকারী তোমার কাছে আশ্রয় চাই।'

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'সে ইসমে আজম পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছে। ইসমে আজমের সঙ্গে দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন এবং প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন।' (তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

ইসমে আজমের সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা সেই দোয়া কবুল করেন মর্মে হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে প্রমাণিত।

৮. বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করা

দোয়া কবুলের জন্য বিনীতভাবে বারবার আল্লাহর কাছে অনুনয়-বিনয় করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'দোয়ায় বারবার অনুনয়-বিনয়কারীকে আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন।'

কেননা এর মাধ্যমে বান্দা নিজের অক্ষমতা, অভাব, ভয়-ভীতি ও চাওয়া-পাওয়ার মনোভাব ব্যক্ত করে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।

৯. দোয়ার সময় উভয় হাত উপরে তোলা

দোয়ার করার সময় উভয় উপরে তোলা উত্তম। হাদিসে পাকে এসেছে-

 হজরত সাহাল বিন সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ আঙুল কাঁধ বরাবর তুলে দোয়া করতেন।' (বায়হাকি)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়ার সময় উভয় হাত উপরে তুলে তারপর হাত মুখে মুছতেন।' (বায়হাকি)

১০. নিচু আওয়াজে দোয়া করা

হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, একবার আমরা নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সফর থেকে মদিনায় ফিরে এলাম। তিনি মদিনার কাছাকাছি হয়ে তাকবির বললেন। লোকেরাও উচ্চ আওয়াজে তাকবির বললো। তখন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে লোকেরা! তোমরা যাকে ডাকছ তিনি বধির ও অনুপস্থিত নন। বরং তিনি তোমাদের ও তোমাদের সাওয়ারির ঘাড়ের মাঝখানে আছেন।'

১১. ছন্দে ছন্দে দোয়া না করা

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'দোয়ায় ছন্দের মিল থেকে দূরে থাকো। তোমাদের জন্য এতটুকু বলাই যথেষ্ট। দোয়ায় কাকুতি-মিনতি ও বিনয়ের ভাব থাকা দরকার। ছন্দ বা কবিতার সেই বিনয়ের পথে বাধা সৃষ্টিকারী।'

১২. আশা ও ভয়ের সঙ্গে দোয়া করা

দোয়া কবুলের জন্য আশা রাখা। আগ্রহরে সঙ্গে দোয়া করা। দোয়া কবুলের জন্য আল্লাহকে ভয় করা। আশা-আগ্রহ ও ভয়ের সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা দোয়া কবুল করেন।

১৩. দোয়ায় উত্তম শব্দ তিনবার উচ্চারণ করা

দোয়া কবুলের জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন করার সময় উত্তম শব্দগুলো তিনবার উচ্চারণ করা। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করলে (উত্তম শব্দগুলো) তিনবার বলতেন এবং কোনো কিছু চাইলে তিনবার চাইতেন।'

১৪. জিকির দ্বারা দোয়া শুরু করা

আল্লাহর জিকির বা স্মরণ দ্বারা দোয়া শুরু করা। শুরুতেই কোনো কিছু না চাওয়া। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত সালমা বিন আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাকে কখনও এই কালেমা না বলে দোয়া শুরু করতে শুনিনি।

যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো প্রার্থনা করতে চায়, তার উচিত, প্রথমে দরূদ পড়া এবং দরূদ দ্বারা দোয়া শেষ করা। কেননা আল্লাহ তাআলা উভয় দরূদ কবুল করেন।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যখন তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে চাও তখন আমার প্রতি দরূদ পড়। আল্লাহর শান এরূপ নয় যে, কেউ তাঁর কাছে দুইটি জিনিস চাইলে একটি পূর্ণ করবেন এবং অপরটি পূর্ণ করবেন না।ক'

১৫. তাওবা করা

দোয়া করার আগে আল্লাহর কাছে তাওবা করা। অন্যায় থেকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আওযায়ী বলেন, লোকজন বৃষ্টির জন্য দোয়া করতে বের হলো। তাদের মধ্যে বেলাল বিন সাদ দাঁড়িয়ে আল্লাহর হামদ পড়ার পর বললেন, উপস্থিত লোকেরা তোমরা নিজের পাপের কথা স্বীকার কর কিনা? সকলেই বললো,নিশ্চয়ই স্বীকার করি। তারপর বললো, হে আমার প্রভু! আমরা শুনেছি, তোমার কোরআন বলছে-

'নেক লোকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।'

আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করেছি। তোমার ক্ষমা আমাদের মতো লোকদের জন্যই। আমাদের ক্ষমা করো; রহম করো এবং আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করো। তারপর হজরত বেলাল বিন সাদ হাত তুললেন, লোকেরাও হাত তুললো। দেখতে দেখতে বৃষ্টি বর্ষিত হলো।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, দোয়া কবুলের জন্য 'দোয়ার আদব' রক্ষা করা। উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মেনে চলা। তবেই মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার সব চাওয়া-পাওয়া পূর্ণ করবেন। 

আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে দোয়ার আদব রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। দোয়া কবুলে দোয়ার আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর



উদার রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যে চলচ্চিত্র মাধ্যমে দ্রোহ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

সত্যজিৎ রায়ের চারুলতা ঠিক রবীন্দ্রনাথের নষ্টনীড় নয়। ইতিহাসের সময়টা সত্যজিৎ বদলেছেন ঠিকই কিন্তু লিবারল বা উদারনৈতিক, রাজনীতি ও সমাজ গড়ার নায়করা যে হেরে যায় বার বার এ সত্যটা একই রেখেছেন।

রবীন্দ্রনাথের নষ্টনীড়েও ভূপতি হেরে গেছে। সত্যজিতের চারুলতায়ও ভূপতি হেরে যায়। তার মানে রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে উদারতা হেরে যায় বার বার। অথচ এই উদার সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে ভূপতির মধ্যে একটা দ্রোহ ছিল। আসলে মানুষের দ্রোহটাই যে তার সব থেকে বড় বিষয় সেটিই সত্যজিৎ এর ছায়াছবিতে বার বার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপধ্যায়ের পথের পাঁচালির সবটুকু নেননি। কিন্তু হরিহরের একটা দ্রোহকে নিয়েছেন। তার শিক্ষার একটা দ্রোহ ছিলৈ, যা পরে তার ট্রিলজিজুড়েই আছে।

ছোট্ট অপুর ভেতরও একটা বিদ্রোহ আছে। ষাটের দশকের কলকাতা মহানগরকে নিয়ে তার ট্রিলজিরও মূল সুর ওই সময়ের তরুণদের ভেতরের ক্ষোভ। এমনকি সমাজের একজন নারীও মহানগর ছায়া ছবিতে এসে তার ক্ষোভটাকেই বড় সম্পদ মনে করছেন। তার ওপর ভরসা করেই সে আগামীতে এগিয়ে যেতে চাচ্ছে। ঠিক তেমনি সত্যজিৎ যখন রবীন্দ্রনাথকে যেমন ভেঙেছেন, তেমনি ইবসেনকে ভেঙেও তার মতো করে চলচ্চিত্র করছেন সেখানেও কলকাতা মহানগরের বা ওই সময়ের দ্রোহ বা ক্ষোভ কাজ করেছে। অর্থাৎ কিছু একটা ভেঙে ফেলতে চাচ্ছে নায়করা- তারা নতুন কিছু করতে চাচ্ছে।

যেমন মধ্যবিত্তের আটকে পড়ে থাকা সংসার ও সমাজ যে কী বদ্ধ জলাশয় তা আগুন্তুকে দেখিয়ে সেখানেও কিন্তু নায়ক ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষোভ ও স্বভাব নিয়ে ছোটবেলা থেকেই বেরিয়ে পড়েছিলেন, স্বাভাবিক মধ্যবিত্ত চিন্তা ছেড়ে। আর হীরক রাজার দেশে এসে মানুষের ক্ষোভ কত ভয়কংর হতে পারে তা সত্যজিৎ দেখিয়ে দিয়েছেন।

আসলে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের পরে বাংলায় সত্যজিতের মতো এত মানুষের ক্ষোভ ও ভেঙে ফেলার চাহিদা। একটা উদার সমাজের চাহিদা খুব কম শিল্পী, সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকারের কাজের ভেতর পাওয়া যায়। সত্যজিতের সময়ে বসে জহির রায়হান জীবন থেকে নেওয়া ছায়াছবিতে এই ক্ষোভকে নিয়ে এসেছেন।

সত্যজিত অপারিজততে রাজনীতি যে আছে তা স্বীকার করে গেছেন একটি মিছিলকে দেখিয়ে। আর জহির রায়হান জীবন থেকে নেয়া যখন করেছেন তখন আমাদের সমাজ ও রাজনীতির ক্ষোভ বা দ্রোহ পাশাপাশি চলছে। তাই দুটোকেই তিনি নিয়ে এসেছেন। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের আগে সমাজ ও রাজনীতির এই ক্ষোভের বা দ্রোহের এত বড় প্রকাশ আমাদের শিল্প-সাহিত্যের অন্য কোনো মাধ্যম করতে পারেনি; যা করেছিলেন জহির রায়হান তার ‘জীবন থেকে নেয়ার’ মাধ্যমে।

আমাদের স্বাধীনতার পরে শিল্প সাহিত্য জগতের যে ক’টি বড় ক্ষতি তার ভেতর সব থেকে বড় ক্ষতি জহির রায়হানের রহস্যজনক হোক আর পাকিস্তানিদের হাতে তার মৃত্যু হোক। তিনি থাকলে সব থেকে বড় কাজ যা হতো, তাহলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ভেতর আমাদের যে দ্রোহ ছিল, যা দিয়ে আমরা পুরোনো একটা সমাজ ও রাষ্ট্র ভাঙতে চেয়েছিলাম। এবং একটা উদার সমাজ গড়তে চেয়েছিলাম। সেটাকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ কিছু চলচ্চিত্র হয়েছে।

সবার ওপর শ্রদ্ধা রেখে বলতে হয়, জহির রায়হান যেমন ষাটের দশকের সেই সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষোভটা, যে ক্ষোভটা মূলত কঠোরতার বিরুদ্ধে একটা উদার সমাজ গড়ার জন্যে- এটা তুলে এনেছিলেন- তার জীবন থেকে নেয়া ছায়াছবিতে, মুক্তিযুদ্ধের ওপর আমাদের ছায়াছবিগুলো অতটা স্পষ্ট নয়। ওই ছায়াছবিগুলো মুক্তিযুদ্ধের খণ্ড চিত্র কিন্তু মনোজগতের সেই উদার সমাজের চাহিদার ক্ষোভটি কোথাও জহির রায়হান বা সত্যজিতের মতো বড় করে আনতে পারেনি।

আজ এ মুহূর্তে বাঙালি সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে সব থেকে বড় প্রয়োজন একটা উদার সমাজ। বাস্তবে বাঙালির উদার সমাজ হারিয়ে গেছে, রাষ্ট্র, ধর্ম ও রাজনীতির অতি বাড়- বাড়ন্ত’র ফলে, যা সত্যজিত যে চারুলতাকে আঠার শতকে নিয়ে গেছেন ওই সময়ের থেকেও কোনো অংশে কম নয়। আবার সত্যজিতের কলকাতা নিয়ে তৈরি ট্রিলজিতে যে কলকাতার নাগরিক জীবনের মানুষের ওই সময়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ প্রকাশ করছে, ওই রাষ্ট্র সমাজের থেকেও বর্তমানের রাষ্ট্র ও সমাজে উদারতার অনেক বেশি দরকার।

জহির রায়হানের ষাটের দশকে তৈরি ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছায়াছবিতে ওই সময়ের পাকিস্তানে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও ধর্মের বাড় বাড়ন্তে ছবি পাওয়া যায় তার থেকেও বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র ও সমাজে উদারতার আরও অনেক বেশি প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো সত্যজিৎ বা জহির রায়হানের মতো কেউই ওই কঠোর সমাজের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন না। ফলে পরিবর্তনের জন্যে একটা ক্ষোভ সৃষ্টি হয় মানুষের। সব থেকে বড় হলো উদার সমাজের জন্যে কেউ কোন কথা বলছেন না।

পৃথিবীজুড়ে চলচ্চিত্র মাধ্যমের টেকনোলজি এত উন্নত হয়েছে, যার ফলে আজ চলচ্চিত্র মাধ্যমই সব থেকে শক্তিশালী হতে পারে উদার সমাজের পক্ষে। সেখানে কেউ একজন ভূপতির পরাজয় দেখিয়ে সমাজের অসহায়ত্বকে তুলে ধরছেন না আবার কেউ একজন অন্ধত্বের খাঁচা ভাঙার গানটি শেষ না করতে পেরে সমাজের অসহায়ত্বকে তুলে ধরছেন না।

আমরা আমাদের চলচ্চিত্র মাধ্যমকে সস্তা বিনোদন মাধ্যম বানাতে গিয়ে অনেক ক্ষতি করেছি। তবে তারপরেও আশা থাকে মানুষ যখন কঠোরতার কাছে বন্দি হয় তখনই উদারতার তাড়নায় রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সত্যজিৎ ও জহির রায়হানের মতো কেউ কেউ এগিয়ে আসে নতুন সমাজ থেকে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্যে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত।


আরও খবর



মাগুরায় বিএনপির সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ, আটক ৪

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৪জন দেখেছেন
Image

মাগুরা জেলা বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রোববার (১৫ মে) বেলা ১১টায় মাগুরা শহরের ইসলামপুর পাড়ায় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

jagonews24

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। এ সময় পুলিশ তার মাইক্রফোন কেড়ে নিলে দলীয় নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে চেয়ার ছুড়ে পুলিশকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

পুলিশের লাঠিচার্জে সমাবেশস্থল ত্যাগ করে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের ভায়নার মোড় এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ গিয়ে সেখানে পেছন থেকে লাঠিচার্জ করে। পরে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহিম এবং সদস্য রাকিব, লুৎফার ও মামুনকে আটক করে পুলিশ।

jagonews24

সংঘর্ষে জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম রানা, শালিখা ছাত্রদলের ফিরোজ মৃধা, খাইরুল ইসলাম, সজিব পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ। গুরুতর আহত যুবদলের সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সমাবেশস্থল ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, শনিবার দেশব্যাপী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও মাগুরায় জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন থাকায় মাগুরায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ একদিন পেছানো হয়। আজ নির্ধারিত সময়ে সমাবেশ শুরু হলে আমি বক্তব্য দেওয়া শুরু করি। ঠিক তখনই পুলিশ মাইক বন্ধ করে দিয়ে লাঠিচার্জ করে।

jagonews24

তবে বিএনপির সমাবেশে পুলিশ লাঠিচার্জ করেনি বলে জানান মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন। তিনি চারজনকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেন।


আরও খবর



আইপিএল শেষ জাদেজার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

এবারের আইপিএলটা হতে পারতো তার জন্য স্মরণীয় এক আসর। পেয়েছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়কত্ব। কিন্তু দলের টানা ব্যর্থতা তার নেতৃত্বে প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দেয়। অতিষ্ঠ হয়ে নেতৃত্ব ছেড়ে দেন জাদেজা।

দুঃস্বপ্নের এই আইপিএল থেকে এবার ছিটকেই গেলেন জাদেজা। বুধবার চেন্নাই সুপার কিংসের বায়োবাবল থেকে বের হয়ে গেছেন ভারতের তারকা এই অলরাউন্ডার।

চেন্নাইয়ের প্রধান নির্বাহী কাশী বিশ্বনাথ বলেন, 'তার পাঁজরে চোট লেগেছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সময়ই (৪ মে)। আমাদের মাত্র দুই ম্যাচ বাকি আছে, সামনে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা। তাই আমরা তাকে নিয়ে আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।'

জাদেজা দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে চেন্নাই সুপার কিংসের সর্বশেষ ম্যাচটিও মিস করেছেন। বিশ্বনাথ বলেন, 'সে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সময় ব্যথা অনুভব করছিল। তাই আমরা মনে করছি তাকে বিশ্রামে রাখাই ভালো সিদ্ধান্ত হবে। আমরা বিসিসিআইকে (ভারতীয় বোর্ড) এ বিষয়ে জানিয়েছি।'

এদিকে ভারত জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টকে জাদেজার ইনজুরি সম্পর্কে জানানো হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। 'ক্রিকবাজ' জানিয়েছে, জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক চেতন শর্মাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো জবাব দিতে রাজি হননি।


আরও খবর



গ্যাসের চুলায় নান রুটি তৈরির রেসিপি

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
Image

নান রুটি খেতে সবাই পছন্দ করেন। তবে বিশেষ এই রুটি ঘরে তৈরির উপায় অনেকেরই জানান নেই। বেশিরভাগ মানুষই বিভিন্ন হোটেল কিংবা রেস্তোরায় ভিড় করেন নান রুটি খেতে।

বিফ, চিকেন ঝাল ফ্রাই কিংবা গ্রিলের সঙ্গে নান রুটি বেশ মানিয়ে যায়। চাইলে কিন্তু আপনি ঘরে গ্যাসের চুলায় তৈরি করতে পারবেন এই রুটি।

বাইরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের নান রুটি থেকে ঘরে তৈরি নান রুটি খুব সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত। চলুন তবে জেনে নিন রেসিপি-

উপকরণ

১. ময়দা ২ কাপ
২. ইস্ট পাউডার ১ টেবিল চামচ
৩. চিনি ১ টেবিল চামচ
৪. কুসুম গরম পানি প্রয়োজনমতো
৫. লবণ স্বাদমতো ও
৬. তেল ২ টেবিল চামচ।

পদ্ধতি

প্রথমে একটি বাটিতে ২ টেবিল চামচ কুসুম গরম পানিতে ইস্ট পাউডার মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটি ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন।

এবার অন্য একটি বাটিতে ময়দা, লবণ, চিনি ও তেল মিশিয়ে মেখে নিন। এবার ইস্টের মিশ্রণ মিশিয়ে দিন। তারপর অল্প অল্প কুসুম পানি দিয়ে একটি নরম ডো তৈরি করে ঢেকে রাখুন ১ ঘণ্টা।

এরই মধ্যে ডো ফুলে উঠবে। এবার ডো থেকে বাতাস বের করে আরও ৫ মিনিট মেখে নিন। তারপর মোটা করে রুটি বেলে নিতে হবে। তারপর চুলায় একটি কড়াই বা প্যান বসিয়ে রুটি হালকা আঁচে রেখে সেঁকে নিন।

এভাবে সবগুলো রুটি সেঁকে নিন। ব্যাস তৈরি হয়ে যাবে তুলতুলে নান রুটি। এবার পরিবেশন করুন গর, গরম নান রুটির সঙ্গে গ্রিল অথবা চিকেন ফ্রাই।


আরও খবর

কাঁচা কাঁঠালের কাবাব

শুক্রবার ২০ মে ২০22




ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৬জন দেখেছেন
Image

ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর সংলগ্ন সদররোডে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য আব্দুল মানিক হাওলাদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বরিশাল রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল মল্লিক, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলার সহ-সভাপতি গোলাম রসুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য কাজল দাস, সন্তু মিত্র, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক বিজন সিকদার, বিএম কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান রাকিব ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড শাখার আহ্বায়ক লামিয়া সাইমুন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাজারে দিন দিন ভোজ্যতেলের সংকট বেড়েই চলেছে। বাণিজ্য সচিব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৩৮ টাকা এবং খোলা তেল ৪৪ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেন, যা জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।

তারা আরও বলেন, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে জনগণ দিশেহারা। জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বাজারে চাল, সবজিসহ সব জিনিসের দামে আগুন। সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে উন্মোচিত করেছে।

বক্তারা খাদ্য পণ্যের বেসরকারি বাণিজ্য বন্ধ করে সরকারি উদ্যোগে আমদানি ও বিতরণের দাবি জানান। একই সঙ্গে টিসিবি’র পণ্য বিতরণেরর আওতা ও পরিমান বৃদ্ধি, গ্রাম-শহরে আর্মি রেটে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রদিক্ষন করে।


আরও খবর