Logo
শিরোনাম

দুই বন্ধু এক দেশ: সুখপাঠ্য একাত্তরের বাংলাদেশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৬৯জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে বিরাট ক্যানভাস তা সৃষ্টি হয়েছে অনেক ছোট ছোট তুলির খোচায়। অনেকের অনেক ছোট-বড় অবদান আমাদের ঘটনাবহুল মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের এই ক্যানভ্যাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। একাত্তরের পহেলা আগস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন গার্ডেন স্কয়ারে আজকের বাংলাদেশের নড়াইলের সন্তান পণ্ডিত রবিশঙ্করের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল কনসার্টটি। তার আহ্বানে সেই কনসার্টে যোগ দিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন।

দর্শকদের অপ্রত্যাশিত চাপ আর প্রত্যাশা পূরণে একইদিনে পরপর দু’বার আয়োজিত হয়েছিল কনসার্টটি। আয়োজকদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে সংগৃহীত হয়েছিল প্রায় আড়াই লাখ ডলার। যা পরে ইউনিসেফের মাধ্যমে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি শরণার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়েছিল। দু’জন ভিনদেশি মানুষ মানবিকতার বিপর্যয়ে সাড়া দিয়ে অনন্য নিদর্শন স্থাপন করেছিলেন ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজনের মাধ্যমে। তারা একইসাথে অসীম সাহসিকতারও পরিচয় দিয়েছিলেন। কারণ কনসার্টের শিরোনামে পূর্ব পাকিস্তান না লিখে লেখা হয়েছিল বাংলাদেশ।

আবু সাইদ ও প্রিয়জিৎ দেবসরকার ভৌগলিকভাবে সহস্রাধিক মাইলের ব্যবধানে অবস্থান করলেও সেদিনের দুই বন্ধু পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের মতোই তারাও এক হয়েছিলেন ভৌগলিক দূরত্বকে জয় করে দুই মহান বন্ধুর মহান কীর্তিকে আজকের প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে। তাদেরই যৌথ প্রযোজনায় প্রকাশিত হচ্ছে ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ, দুই বন্ধু এক দেশ’ বইটির প্রকাশক স্বপ্ন একাত্তর প্রকাশন।

নিয়াজ চৌধুরী তুলির করা প্রচ্ছদে মুন্সিয়ানার ছাপ পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের প্রচ্ছদে দারুণ উপস্থাপনা বইটির প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট করে। পাতা উল্টাতে পাঠককে করে তোলে আগ্রহী। তিনটি অধ্যায়ে বিন্যাস্ত বইটিতে দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজনের প্রেক্ষাপট, ফলাফল ও প্রতিক্রিয়া যেমন তুলে ধরা হয়েছে সবিস্তারে; তেমনই কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য শিল্পীদেরও পরিচিতি সেখানে স্থান পেয়েছে।

দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশের কথা আমরা যারা জানি, তারা শুধু মনে রেখেছি পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনকে। কিন্তু সফল এই কনসার্টের পেছনে যে বব ডিলন, আল্লা রাখা খান, আলী আকবর খান, রিঙ্গু স্টার, বিলি প্রিস্টন, এরিক ক্ল্যাপটন এমন আরও অনেকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন, তা আমাদের বেশিরভাগের কাছে অজানা। বইটিতে আছে তাদের পরিচিতিও। যেমন আছে পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের কনসার্ট সম্বন্ধে ব্যক্তিগত উপলব্ধি, যা পরবর্তী প্রকাশিত ও প্রচারিত তাদের সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া।

বইটিতে আরও সংযোজিত হয়েছে দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশের পোস্টারসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু ছবিও। বইটির প্রথম অধ্যায় একাত্তরের নয় মাস এবং তার পূর্ব ও পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের চুম্বক অংশগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রয়াসও প্রশংসনীয়। এখানে যেমন অপারেশন সার্চ লাইটের কথা উঠে এসেছে; তেমনই এসেছে অপারেশন গ্রেট ফ্লাই ইনের কথাও।

আমরা হয়তো অনেকেই জানি না, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তান তার বেসামরিক ও সামরিক বিমান পরিবহনের প্রায় পুরোটুকু সক্ষমতা ব্যবহার করে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পাঁচ বিগ্রেড সেনা বাংলাদেশে উড়িয়ে এনেছিল। বাংলাদেশে বাঙালি নিধনযজ্ঞ সুচারুভাবে সফল করার জন্য। এককথায় আমার কাছে ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ, দুই বন্ধু এক দেশ; কয়েক ঘণ্টায় সুখপাঠ্য একাত্তরের বাংলাদেশ।


আরও খবর

জাহিদ নয়নের দুটি কবিতা

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




এক দপ্তরেই যুগ পার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মকর্তাদের

প্রকাশিত:রবিবার ১২ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৭২জন দেখেছেন
Image

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (ডিপিই) কর্মকর্তা রয়েছেন ১৩৭ জন। ১৯ জন সংযুক্ত হিসেবে। এদের মধ্যে ৫০ জন একই দপ্তরে রয়েছেন দীর্ঘদিন। সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী তিন বছর পর পর বদলির নিয়ম থাকলেও এখানে তা হয় না। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বলছেন, প্রতিষ্ঠান চালাতে পুরোনো লোক দরকার হয়, এজন্য তাদের বদলি করা হয় না। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের বক্তব্য, বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। আদালতে মামলা থাকায় বদলি করাও সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারি চাকরির বিধানের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১৫ সালের ৮ জুলাইয়ের জারি করা এক পরিপত্র অনুসারে, একই পদে তিন বছরের বেশি সময় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাস্তব অবস্থাভেদে অন্যত্র বদলি করতে হবে। দুর্গম অথবা প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থাসম্পন্ন এলাকার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর মেয়াদ দুই বছর হলেও তাকে অন্যত্র বদলি করা যেতে পারে।

অর্থাৎ সরকারি চাকরির বিধানে কর্মকর্তাদের দুই-তিন বছর পর বদলির কথা থাকলেও ডিপিইতে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না।

ডিপিই থেকে জানা যায়, অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় ১৩৭ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫০ জন বছরের পর বছর একই স্থানে থাকলেও তাদের বদলি করা হচ্ছে না।

জানতে চাইলে ডিপিইর মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিষ্ঠান চালাতে পুরোনো জনবল প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণে পুরোনো দক্ষ কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে।

সরকারি চাকরি বিধান অনুযায়ী দুই-তিন বছর পর কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়টি মানা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরোনো সবাইকে বদলি করলে আমি তো কাজ করতে পারবো না। তবে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের বদলিসহ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিপিইর প্রয়োজনীয় আসবাবসহ প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় সংক্রান্ত কাজ করে প্রকিউরমেন্ট বিভাগ। এ বিভাগে সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া ২০০৬ সালের মে মাস থেকে একই চেয়ারে রয়েছেন। এ বিভাগের আরেক সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু ইয়াছিন ২০০৮ সাল, একই পদে বিপ্লবী বিশ্বাস আছেন ২০০৯ সাল থেকে। এই তিনজনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

১৯৯৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে মহাপরিচালকের দপ্তরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দপ্তরে সহকারী শিক্ষক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. মোস্তফা ফারুক খান, অর্থ উন্নয়ন বিভাগের সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রাসেল মিয়া, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের উপ-পরিচালক ড. নুরুল আমীন চৌধুরী, পলিসি ও অপারেশনের উপ-পরিচালক মো. মহিউদ্দিন তালুকদার, প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক মো. বাহারুল ইসলাম, প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. জুলফিকার হারুন, একই পদে আব্দুল আলীম, অর্থ বিভাগে মো. নুরুল ইসলাম, অর্থ বিভাগে (অডিট) সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাম্মদ রোখসানা হায়দার, রুমানা সাবির, জান্নাতুল ফেরদৌস (সংযুক্ত), মো. মোশারফ হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত) ও শাহ মো. মামুন অর রশীদ রয়েছেন।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান জাগো নিউজকে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অনেকে দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে থাকার বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। আদালতে মামলা থাকায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাদের বদলি করাও সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, যারা সৎভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করেন তারা এক স্থানে যত বেশিদিন থাকবেন প্রতিষ্ঠানের জন্য সেটি মঙ্গল। তবে কেউ যদি অনিয়মে লিপ্ত হয় সেটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি নতুনভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

পদোন্নতি জটিলতা ও মামলাজনিত কারণে ডিপিইতে চাইলেও কর্মকর্তা বদলি করা যায় না। সে কারণে কেউ কেউ অনিয়ম-দুর্নীতির মধ্যে জড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করেন এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, যারা এক পদে দীর্ঘদিন থাকছেন তারা অভিজ্ঞ হলেও নিজের দায়িত্ব পালনে অবহেলা তৈরি হয়। সে কারণে সেবা ও জরুরি কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়। কারও অনেক উঁচু পর্যায়ে হাত থাকায় তাদের বদলি করা সম্ভব হয় না। নানাভাবে তদবির করে সে প্রক্রিয়া বন্ধ করার চেষ্টা করেন তারা। সে কারণে প্রধানের চেয়ারে থেকেও অনেক কিছু চাইলে করা সম্ভব হয় না।

‘পুরোনোদের মধ্যে কেউ কেউ দায়িত্বশীল আচরণ করছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। তবে কোনো দপ্তরের একজন কর্মকর্তা অনিয়মে যুক্ত হলে সেই দপ্তরের কাজ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ধীরে ধীরে অন্যরাও অনিয়ম করতে শুরু করে। তাই নিয়ম অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা বদলির বিষয়টি নিয়মিত চর্চা থাকলে সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তারা এক স্থানে বেশিদিন থাকলে তারা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, এটি বিভিন্ন গবেষণায় ও গণমাধ্যমের সংবাদে বিভিন্ন সময়ে প্রমাণিত। যারা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেই প্রতিষ্ঠান থেকে সেবায় নানান প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। সে কারণে সরকারি চাকরিতে বদলি প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে। সেটি কেন হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা দরকার। যারা বদলি করবেন তারাও যোগসাজশের মাধ্যমে এক ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি করে কমিশন আদায় করছেন কি না সেটিও দেখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মামলা ও পদোন্নতি জটিলতা দেখিয়ে কাউকে চিরদিন রাখা হবে সেটি হতে পারে না। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তাই আমরা বিশ্বাস করি মন্ত্রণালয়ের নজরে এসব বিষয় রয়েছে। তাদের উচিত এসবের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের জবাবদিহির মধ্যে আনা। সেটি করতে না পারলে তা নিয়ন্ত্রণকারীদের সদিচ্ছার ঘাটতি বলে প্রমাণ হবে।


আরও খবর

ঢাবি ‘ক’ ইউনিটে সেরা যারা

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




সন্তানদের বাবার স্থান পূরণ করতে পারিনি: ওসি সালাউদ্দিনের স্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
Image

হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ছয় বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের এ দিনে গুলশানে হলি আর্টিসানে সন্ত্রাসীরা হামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দুই কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি ২২ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হন। তাদের একজন বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন। অন্যজন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার (এসি) মো. রবিউল করিম।

দিনটি উপলক্ষে শুক্রবার (১ জুলাই) দুপুরে গুলশানে এ দুই পুলিশ সদস্যের সম্মানে স্থাপিত ভাস্কর্যে ‘দীপ্ত শপথ’ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সালাউদ্দিনের স্ত্রী ও ছেলে।

‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওসি সালাউদ্দিনের স্ত্রী রেমকিম। তিনি বলেন, দুই ছেলে-মেয়ে প্রতি মুহূর্তে তাদের বাবাকে মিস করে। বাবার জায়গাটা আমি মা হয়ে শতচেষ্টা করেও পূরণ করতে পারিনি। তারা বাবাকে মিস করে না এমন কোনোদিন দেখিনি।

তিনি বলেন, মৃত্যুবার্ষিকী বলে যে আমরা মিস করছি, সেরকম না। প্রতিদিনই আমরা তাকে মিস করি। আমার বাচ্চারা কীভাবে যে বেড়ে উঠেছে…।

২০১৬ সালে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় ওসি সালাউদ্দিন মারা যাওয়ার সময় তার মেয়ে পড়তো ক্লাস সেভেনে আর ছেলে ক্লাস টু পাস করেছিল। ছয় বছর পর মেয়ে দেশের বাইরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন আর ছেলে রাজধানীর একটি স্কুলে পড়ছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে।

হলি আর্টিসানে হামলার ছয় বছর পূর্তিতে শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির পক্ষ থেকে কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, র্যাবের পক্ষ থেকে মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ওসি সালাউদ্দিনের পরিবার এবং বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা ফুল দিয়ে ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা জানান।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ হামলা চালায়। এতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দুই কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি ২২ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হন। এই সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে অকালে আত্মত্যাগ করেন ডিএমপির দুই নির্ভীক কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল করিম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন খান। গুরুতর আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।


আরও খবর



মুম্বাইয়ে সাদ উদ্দিনের পায়ে সফল অস্ত্রোপচার

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
Image

ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সফরে যাওয়ার আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যে কয়জন ইনজুরিতে পড়েছিলেন, তাদের অন্যতম সাদ উদ্দিন। তিনি ইনজুরিতে ক্যাম্প থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন ২৩ মে।

বসুন্ধরা কিংস এরেনায় অনুশীলনের সময় ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাকে যেতে হয়েছিল ছুরির নিচে। শুক্রবার মুম্বাইয়ের সিটিকেয়ার এশিয়া হাসপাতালে ডাক্তার নন্দকুমারের অধীনে সাদের মেনিস্কাস অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার মুম্বাই থেকে সাদ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘ভালোভাবেই আমার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। আমি মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরছি। এসে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হতে হবে।’

ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সফরে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে যেতে পারেননি কোচ। গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস, সাদ উদ্দিন, সুমন রেজা, মাসুক মিয়া জনি, তারেক কাজী ও মতিন মিয়ারা চোট পাওয়ায় এবার তাদের বাদ দিয়ে দল নিয়ে যেতে হয়েছে কোচকে।


আরও খবর



যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৩৩জন দেখেছেন
Image

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদেশিক মুদ্রা সুরক্ষায় বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে কিছু পণ্যের ওপর যোগ হয়েছে শুল্ক ও কর। ফলে সেসব পণ্যের দাম বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনায় এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম, বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল লক্ষ্য সক্ষমতার উন্নয়ন। বৈশ্বিক ঝুঁকি কাটিয়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে জনজীবনে স্বস্তি ফেরানো অন্যতম উদ্দেশ্য। আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

আমদানিকরা বিলাসী পণ্য যেমন-বডি স্প্রে, প্রসাধনী পণ্য, জুস, প্যাকেটজাত খাদ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমদানিতে নতুন করে শুল্ক আরোপ হতে পারে। যদিও ইতোমধ্যে গত ২৩ মে এক প্রজ্ঞাপনে বিদেশি ফল, বিদেশি ফুল, ফার্নিচার ও কসমেটিকসজাতীয় প্রায় ১৩৫টি এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে ওই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে এবার বৃদ্ধি পাচ্ছে তামাকজাত পণ্যের মূল্য। স্ল্যাব অনুসারে শুল্ক আরোপ হয়েছে।

দেশীয় পণ্য সুরক্ষায় শুল্ক আরোপে আমদানি করা স্মার্ট মোবাইল ফোনের দাম আরেক দফায় বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সুবিধা পাবে দেশীয় কোম্পানিগুলো।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত/তাপানুকুল সার্ভিসের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির রেলওয়ে সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূসক আরোপের প্রস্তাব করায় রেল ভ্রমণে লাগবে বাড়তি খরচ।

নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উড়োজাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে সোলার প্যানেল আমদানিতে শূন্য শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে। দেশীয় সোলার সেক্টরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি করা সোলার প্যানেলের ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাড়ছে বিদেশ থেকে আমদানি করা কফির দামও।

মূল্যবৃদ্ধি তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ি। ৪০০০ সিসির ওপর বিলাসবহুল রিকন্ডিশন গাড়িতে সম্পূরক শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও আগাম কর এবং ভ্যাট মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৮০০ শতাংশে করহার প্রস্তাব করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এ বাজেটে ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়।

অনুদান বাদে এই বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট। বাজেটে সঙ্গত কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিখাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



সেপটিক ট্যাংকে নেমে একে একে প্রাণ গেলো ৩ শ্রমিকের

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

নরসিংদীর মাধবদীতে মাদরাসার সেপটিক ট্যাংকে নেমে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) বিকেলে উপজেলার নুরালাপুর ইউনিয়নের গদাইরচর আছিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শ্রমিক হলেন- নরসিংদীর বাসাইল এলাকার মৃত এরশাদ মিয়ার ছেলে স্যানিটারি মিস্ত্রি জাহিদ (৩২) ও উত্তর সাটিরপাড়া এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে রং মিস্ত্রি বায়েজিদ (২২) ও মাধবদীর গদাইরচর এলাকার কাউছার মিয়ার ছেলে আনিছ মিয়া (১৬)।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলে গদাইরচর আফিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার নবনির্মিত চারতলা ভবনের পূর্ব পাশের দেওয়ালে দড়ি বেঁধে মিস্ত্রিরা রং করছিলেন। এ সময় রং মিস্ত্রিদের কাজ করার একটি যন্ত্র মাদরাসার সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। পরে স্যানিটারি মিস্ত্রি জাহিদ তা তুলতে বাঁশ দিয়ে ট্যাংকের ভেতরে নামেন। তিনি সেখানে নেমে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করেন।

তাকে উদ্ধার করতে বায়েজিদ ট্যাংকে নামলে তারও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর তাদের উদ্ধারে আনিছ ভেতরে নামলে তারও সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তিনজনকে উদ্ধার করেন। এদের মধ্যে জাহিদ ও বায়েজিদকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আর আনিসকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।

মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার সুলতান মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করি। এদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই মারা যান। আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে পথে তিনিও মারা যান। মূলত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে অক্সিজেন স্বল্পতায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।


আরও খবর