Logo
শিরোনাম

দুই মামলায় সম্রাটের জামিন

প্রকাশিত:রবিবার ১০ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১২৬জন দেখেছেন
Image

অর্থপাচার ও অস্ত্র মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১০ এপ্রিল) অস্ত্র মামলায় ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও অর্থপাচার মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এ জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে মাদক ও দুদকের করা মামলায় সম্রাট গ্রেফতার থাকায় এখনি তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। সম্রাটের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০২১ সালের ২৪ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে তার তিনদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অন্যদিকে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তার উপস্থিতিতে রিমান্ড ও জামিন শুনানির জন্য রোববার (১০ এপ্রিল) দিন ধার্য করেন।

২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে সিআইডি। কাকরাইলের বাসায় অবস্থান করে অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত ১৯৫ কোটি টাকা সহযোগী এনামুল হক আরমানের (৫৬) সহায়তায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। এ মামলাটি তদন্তধীন।

অন্যদিকে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর র‌্যাব-১-এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন। ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক। ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফায়সাল আতিক বিন কাদেরের আদালতে বিচারাধীন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সম্রাট রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইল এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন। তিনি আনুমানিক ১৯৫ কোটি টাকা এনামুল হক আরমানের সহায়তায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেন।

আসামিদের বিদেশ গমনের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, সম্রাট ২০১১-২০১৯ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ৩৫ বার, মালয়েশিয়ায় তিনবার, দুবাইয়ে দুইবার এবং একবার হংকং ভ্রমণ করেন। একই সময়ে আরমান ২৩ বার ভ্রমণ করেন সিঙ্গাপুর।

২০১৯ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম উঠে আসে। এরপর থেকেই তাকে নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। অভিযান শুরুর পর হাইপ্রোফাইল কয়েকজন গ্রেফতার হলেও খোঁজ মেলেনি সম্রাটের। এসবের মধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাট ও আরমানকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে ঢাকায় এনে তাদের করা হয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ।

ওই দিন দুপুর ২টার দিকে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে বাহিনীটির একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে। কার্যালয়ে অবৈধভাবে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।


আরও খবর



কানাডায় ‘বৈশাখী আনন্দ মেলা ও ঈদ পুনর্মিলনী’ ২৭ মে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৬জন দেখেছেন
Image

কানাডার ক্যালগেরিতে প্রবাসীদের উদ্যোগে আগামী ২৭ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বৈশাখী আনন্দ মেলা ও ঈদ পুনর্মিলনী’।

মঙ্গলবার (১৭ মে) ক্যালগেরির একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন- আয়োজক কমিটির শুভ মজুমদার, আবদুস সামাদ সুমন, মারুফ হক, রিসাদ জামান, তানভীর জয়, শুভ্র দাস, বিশিষ্ট কলামিস্ট উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান ও অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রবাস বাংলা ভয়েসের প্রধান সম্পাদক আহসান রাজীব বুলবুল।

সংবাদ সম্মেলনে শুভ্র দাস বলেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মাতরে আমাদের আবহমান বাংলার কৃষ্টি ইতিহাস। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এই আয়োজন। আমাদের এই আনন্দঘন মুহূর্তকে স্মরণীয় করতে বাংলাদেশ থেকে আসছেন বিখ্যাত ব্যান্ড দল ফিডব্যাক ও প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষ।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য দিক হলো এ বছর ফিডব্যাক ব্যান্ড দল তাদের ৪৫ বছর পূর্তি পালন করতে যাচ্ছে। প্রবাসের মাটিতে তারা তুলে ধরবেন আশি ও নব্বই দশকের সেই সব বিখ্যাত গান। অন্যদিকে ফোকখ্যাত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষও তুলে ধরবেন আবহমান বাংলার জনপ্রিয় গানগুলো। যা আমাদের নিয়ে যাবে শৈশবের বাংলাদেশে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি ২৭ মে শুক্রবার ক্যালগেরির ম্যাগনোলিয়া ব্যাংকুয়েট হল নারী-পুরুষের পদভারে কানায় কানায় পূর্ণ হবে। প্রবাসী বাঙালিরা মেতে উঠবেন আনন্দ উৎসবের মিলনমেলায়।

মো. মাহমুদ হাসান বলেন, বিখ্যাত ব্যান্ডদল ফিডব্যাক এ বছর তাদের ৪৫ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। এই শুভক্ষনে তাদের ক্যালগেরিতে আগমন নিঃসন্দেহে প্রবাসী জন্য আনন্দের। কেননা দেশের ব্যান্ড সংগীত জগতে তাদের অবদান প্রশংসনীয়। দেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।


আরও খবর



দেখার বিষয় সকালে বাংলাদেশ কীভাবে খেলে: লঙ্কান কোচ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৬জন দেখেছেন
Image

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ব্যাটিং স্বর্গে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার প্রথম টেস্টের তিন দিনে হওয়া ২৬০ ওভারে উইকেট পড়েছে মাত্র ১৩টি, দুই দল মিলে করেছে ৭১৫ রান। উইকেট যেমন কম পড়েছে, তেমনি বাড়েনি রানরেটও। শ্রীলঙ্কা খেলেছিল ২.৫৯ রেটে, বাংলাদেশ খেলছে ২.৯৭ রেটে।

এমতাবস্থায় এই ম্যাচে বিশেষ কিছু হওয়ার আশা দেখছেন না শ্রীলঙ্কার কোচ ক্রিস সিলভারউড। উইকেট থেকে কোনোপ্রকার সহায়তা না থাকায় প্রতিপক্ষের ভুলের জন্যই অপেক্ষা করছেন লঙ্কান কোচ। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন সিলভারউড।

তার ভাষ্য, ‘আমার মতে, হ্যাঁ! আমরা একে অন্যের ভুলের অপেক্ষাই করছি। কারণ উইকেট থেকে কিছুই হচ্ছে না। টার্ন খুব ধীর। আমরা চেষ্টা তাদের ভুলের জন্য প্রলুব্ধ করতে। কিন্তু ব্যাটাররা ঝুঁকি নিতে রাজি নয় এবং ভালো খেলছে। খুবই হিসেবি শট খেলেছে তারা, বাজে বলের অপেক্ষা করেছে।’

তবে এখনও পুরোপুরি আশা ছেড়ে দেননি সিলভারউড। তার মতে, বুধবার ম্যাচের চতুর্থ দিনের সকালের সেশনটি গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটি এখনও সাম্যাবস্থায় আছে বলে মনে করেন লঙ্কান কোচ। এখান থেকে বাংলাদেশ দল কীভাবে এগোয় সে দিকেই তাকিয়ে সিলভারউড।

তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি ম্যাচটি এখনও ভারসাম্যপূর্ণ আছে। কালকের সকালের সেশন গুরুত্বপূর্ণ। দেখার বিষয় বাংলাদেশ দল কীভাবে ব্যাটিং করে। তারা যদি দ্রুত রান তুলতে চায়, তাহলে প্রথম সেশন শেষে আমাদের সমান হবে। এরপর বাকি থাকবে পাঁচ সেশন।’

সিলভারউড আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাদের অল্পের মধ্যেই আটকে রাখার চেষ্টা করবো। তবে আমরা এটিও জানি তাদের লাইনআপে বেশ কয়েকজন এমন ব্যাটার আছে যারা রানরেট বাড়িয়ে নিতে পারে। তাই আমাদের সব দিকেই নজর রাখতে হবে।’


আরও খবর



হালদায় জব্দ ৩০ হাজার রেণু অবমুক্ত

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৫জন দেখেছেন
Image

হালদা নদীতে অবৈধ মাছ ও রেণুপোনা শিকার বন্ধে অভিযান চালিয়েছে নৌপুলিশ। বুধবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত হালদা নদীর কর্ণফুলী-হালদা মোহনায় কালুরঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, উত্তর মোহরা মন্দির এলাকার মোহনা তীরবর্তী নদীতে সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশ এ অভিযান চালায়।

jagonews24

অভিযানে চিংড়ি রেণুপোনা ধরার ৩০টি ঠেলাজাল, একটি পরিত্যক্ত নৌকাসহ তিন পাতিলে প্রায় ৩০ হাজার রেণুপোনা জব্দ করে পুলিশ। পরে জব্দকৃত রেণু হালদা নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

সদরঘাট নৌ-থানার ওসি এবিএম মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, মা মাছ রক্ষা ও রেণু শিকার বন্ধে হালদা নদীতে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় রেণুপোনা ধরার সঙ্গে লোকজন পালিয়ে গেলেও তাদের ৩০টি ঠেলাজাল, পরিত্যক্ত নৌকা ও প্রায় ৩০ হাজার রেণুপোনা জব্দ করা হয়। পরে এসব রেণু পোনা হালদা নদীতে অবমুক্ত করা হয়। জব্দকৃত জাল ও নৌকা ধ্বংস করা হয়।

jagonews24

হালদা নদীর মা মাছ রক্ষায় ও প্রজননের সুরক্ষায় নৌপুলিশের অভিযান এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ওসি।


আরও খবর



ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে খুলনা-মোংলা রেলপথ, দেশি ঠিকাদারে

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৫১জন দেখেছেন
Image

গত ছয় বছরের বেশি সময়ে খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্পের অগ্রগতি ৯০ শতাংশ। সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে হাতে আছে আরও আট মাস। কিন্তু বিপত্তি দেখা দিয়েছে সিগন্যালিং কাজের ঠিকাদার নিয়ে। দরে না পোষায় মিলছে না আন্তর্জাতিক ঠিকাদার। এ কাজে প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫৭ শতাংশের বেশি দাবি করছে তারা। ১ হাজার ৭২১ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার এ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে চায় রেলওয়ে। তাই আন্তর্জাতিক ঠিকাদার বাদ দিয়ে দেশি ঠিকাদার দিয়েই সিগন্যালিং সম্পন্ন করার পথে হাঁটছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে রেলপথটির নির্মাণ অগ্রগতি ৯০ শতাংশ। রেলপথ প্রকল্পের সময় আছে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। আশাকরি এই সময়ই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারবো। ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) অনুযায়ী বেঁধে দেওয়া সময়ে কাজ সম্পন্ন করার জন্য দ্রুত কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।’

সিগন্যালিং কাজে যুক্ত হচ্ছে দেশি ঠিকাদার
খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেলপথটি ৬৪ দশমিক ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রডগেজ রেললাইনে যুক্ত হবে। রেলপথে সিগন্যালিং কাজের ব্যয় সিডি ভ্যাট বাদে ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ও সিডি ভ্যাটসহ ২২ কোটি ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা। মহাপরিচালক দপ্তরের সিগন্যাল ও টেলিকম শাখার দপ্তরাদেশের মাধ্যমে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিডি ভ্যাট বাদে ১৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং সিডি ভ্যাটসহ ২২ কোটি ৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা ধরা হয়। ২০২০ সালের জুলাই মাসে প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে নয়টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। দাখিল করা দর প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ৩৩ দশমিক ৮২ শতাংশ অধিক হওয়ায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি তা বাতিলের সুপারিশ করে।

২০২১ সালের জুলাই মাসে দ্বিতীয়বার দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর প্রথমবার একটি প্রতিষ্ঠানসহ মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। দাখিল করা দর দাপ্তরিক ব্যয় থেকে ৫৭ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। অধিক দরের জন্য এই দরও বাতিল করা হয়। সিগন্যালিং কাজে যে টাকা ধরা হয়েছে তা দিয়ে বিদেশি ঠিকাদার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ২২ কোটি টাকা দিয়ে দেশি ঠিকাদার পাওয়া সম্ভব। তাই বিদেশি ঠিকাদার বাদ দিয়ে দেশি ঠিকাদার দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সিগন্যালিং কাজের জন্য দুবার দরপত্র আহ্বান করেছি। কিন্তু কোনো বিদেশি ঠিকাদার এই টাকায় মিলছে না। তবে ২২ কোটি টাকা দিয়ে দেশি ঠিকাদার পাওয়া সম্ভব। তাই দেশি ঠিকাদার দিয়ে এই কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছি।

ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে খুলনা-মোংলা রেলপথ, দেশি ঠিকাদারে

ভৌত ব্যয় বেড়ে ৪ হাজার ২৬ কোটি
খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ৭২১ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয় ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এবার দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে আরও ৪৫৯ কোটি ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে প্রকল্পটিতে। তাতে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রথম প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় বর্তমান প্রাক্কলিত ব্যয় হয়েছে আড়াইগুণ।

সময় বেড়েছে একাধিকবার
২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর ১ হাজার ৭২১ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন পায় একনেকে। লক্ষ্য ছিল ২০১৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের। পরে রেলপথ মন্ত্রণালয় ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছর বাড়িয়ে নেয়। এরপর মোট ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য দিয়ে প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। পরে প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) ব্যয় বাড়ানো ছাড়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ প্রথমবার ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়বার চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

বারবার সময় বাড়ানো প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে প্রকল্পের কাজ ২০১৬ সালে শুরু হয়েছে। এরপর দুই বছর নষ্ট হয়েছে করোনা সংকটে। সেই হিসেবে প্রকল্পের সময় খুব বেশি লাগেনি। আর রেলপথ নির্মাণের সঙ্গে নানা বিষয় জড়িত। সে হিসেবে খুলনা-মোংলা রেলপথ সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে অনেক বেশি সময় নষ্ট হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে একটা সমস্যা থেকে যায়।’

ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে খুলনা-মোংলা রেলপথ, দেশি ঠিকাদারে

সমুদ্রবন্দরে তৈরি হবে রেল সংযোগ
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে যে সুবিধা পাওয়া যাবে তার মধ্যে রয়েছে— খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত পথটি ৬৪ দশমিক ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রডগেজ রেললাইনে সংযুক্ত হবে। এর মাধ্যমে মোংলা সমুদ্রবন্দরকে বিদ্যমান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। রেলযোগে আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নও ঘটবে। রেললাইনে সংযুক্ত হলে মোংলা সমুদ্রবন্দরে বাড়বে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। পাশাপাশি মোংলা থেকে তেলবাহী ওয়াগন সারাদেশে চলাচলের ব্যবস্থা করা যাবে। মোংলা বন্দর পর্যন্ত নিরাপদ ও আরামদায়ক রেলওয়ে পরিবহন সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা।

নানা কারণে প্রকল্প সংশোধন
নানা কারণে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। প্রকল্পের আওতাভুক্ত নির্মাণকাজের দরপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন ওয়ার্কসের ব্যয় বাড়ানো হয়। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ, সিডি ভ্যাট, যানবাহন ভাড়া, পুনর্বাসন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ব্যয় কমলেও সুপারভিশন পরামর্শক খাতে ব্যয় বেড়েছে। মেয়াদ বাড়ানোর কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটে জনবল ও অন্যান্য খাতে ব্যয় বাড়ে। পরামর্শকের আইটি ও ভ্যাটের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং লেজিসলেটিভ পরিবর্তন, নিয়োগ ও অনুষ্ঠান ব্যয় নতুন অঙ্গ হিসেবে প্রকল্পটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণেও প্রকল্পটি সংশোধনের প্রয়োজন হয়।


আরও খবর



সাবেক এমপি নূর আফরোজের ৭ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১৮জন দেখেছেন
Image

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা দুর্নীতির মামলায় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নূর আফরোজ বেগম জ্যোতির সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিকাল সাড়ে ৪টায় বগুড়ার স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এমরান হোসেন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত আসামি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নূর আফরোজ বেগম জ্যোতিকে কারাগারে নেওয়া হয়।

মামলার এজাহারে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার প্রফেসর আব্দুর রউফের স্ত্রী। ছাত্র জীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বগুড়া জেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
পরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়  বগুড়ায় স্থাবর-অস্থাবর ও দায় দেনার হিসাব দাখিল করেন।

বিবরণীতে ২৮ লাখ ১৭ হাজার ১৮৪ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন। তিনি অসাধু উপায়ে অর্জিত ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫৩ লাখ ২২ হাজার ৭৯০ টাকা সমমূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করে নিজের দখলে রেখে ভোগ দখল করে আসছেন মর্মে দুদক তথ্য পায়।

এ ঘটনায় গত ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বগুড়া সদর থানায় তৎকালীন দুদকের জেলা কার্যালয়ের ফারুক হোসেন নামের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী এসএম আবুল কালাম আজাদ জানান, দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০১৭ সালে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। এরপর চলতি বছরের ১১ মে যুক্তিতর্ক শুনানি ছিল। পরে এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৯ মে তারিখ ধার্য করেন।


আরও খবর