Logo
শিরোনাম

দ্বিতীয় স্ত্রীর ঈদ কেনাকাটায় প্রথমজনের সঙ্গে ঝগড়া, স্বামীর বিষপান

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১৪২জন দেখেছেন
Image

দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঈদ মার্কেটের বিষয় মেনে নিতে পারেননি প্রথম স্ত্রী। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে বিষপান করেছেন আব্দুল মজিদ (৪৬) নামের এক ব্যক্তি।

রোববার (২৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকা এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল মজিদ ওই এলাকার আবু মুসার ছেলে।

আব্দুল মজিদের কিশোর ছেলে পারভেজ হোসেন জানায়, ‘বাবা আমাদের দুই ভাই বোনের জন্য ঈদের বাজার করে দেননি। কিন্তু তিনি ছোট মাকে নিয়ে শনিবার বিকেলে ঈদের মার্কেট করতে যান। এ কারণে সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে বাবার ঝগড়া হয়। বাবা মাকে মারধর করেন। আজ সকালেও ফের তাদের ঝগড়া হয়। এ নিয়ে বাবা বিষপান করেন। পরে বাবাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।’

পারভেজ অভিযোগ করে জানায়, ‘আমরা দুই ভাই বোন থাকার পরও বাবা প্রতিবেশী তিন সন্তানের জননী মাহিরন নেছাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বাবা কসাইয়ের যোগালি কাজ করে যে আয় করেন তাতে আমাদের সংসার ভালো করে চলে না। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এম কে রেজা জাগো নিউজকে বলেন, আব্দুল মজিদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। তিনি শঙ্কা মুক্ত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্বাস আলী জাগো নিউজকে বলেন, আব্দুল মজিদ কসাইয়ের সহকারী হিসেবে কাজ করে। তার দুই স্ত্রী। সকালে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এর জেরে সে বিষপান করে। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


আরও খবর



করোনা আরোগ্য সূচকে বিশ্বে বাংলাদেশ পঞ্চম

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

করোনাভাইরাস থেকে আরোগ্য লাভের সূচকে আট ধাপ এগিয়ে বিশ্বের ১২১ দেশের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) প্রকাশিত নিকেই কোভিড-১৯ আরোগ্য সূচকের সর্বশেষ সংস্করণে বাংলাদেশ পেয়েছে ৮০ পয়েন্ট। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কম্বোডিয়া ও রুয়ান্ডার পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ৫, পাকিস্তান ২৩, শ্রীলঙ্কা ৩১ ও ভারত ৭০ নম্বরে রয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমেছে। গত ২০ এপ্রিলের পর একটানা ১৭ দিন করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি।

এর আগে গত মার্চে ৭২ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশে অবস্থান ছিল ১৩তম।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা, টিকা দেওয়ার হার এবং সামাজিক তৎপরতার ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসের শেষে এই সূচক প্রকাশ করা হয়।


আরও খবর



মন্ত্রীস্ত্রীর আত্মীয়ের বিনাটিকেটে রেলভ্রমণ ও পরের কেচ্ছা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৭জন দেখেছেন
Image

রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে তিনজন যাত্রী পাবনার ঈশ্বরদী থেকে বিনা টিকেটে রেলগাড়ির শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি কামরায় চড়ে বসেছিলেন। বিনাটিকেটে ট্রেনযাত্রা বাংলাদেশে কোনো নতুন ঘটনা নয়। এ রকম ঘটনা হামেশাই ঘটে। ধরা পড়লে কাউকে কাউকে জরিমানা দিতে হয়, কেউ বা টিটিইর সঙ্গে কিছু ‘লেনদেন’ করে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। কিন্তু এবার মন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়দের নিয়ে যত নাটকীয় ঘটনার জন্ম নিল, তা বলা যায় কিছুটা ব্যতিক্রম।

ট্রেনের টিকেট পরীক্ষক, অর্থাৎ টিটিই মো. শফিকুল ইসলাম বিনাটিকেটের তিন যাত্রী রেলপথমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় জেনে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাকশী বিভাগীয় রেলের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (এসিও) মো. নুরুল আলমকে বিষয়টি জানান। এরপর নিয়মানুযায়ী নুরুল আলম সিদ্ধান্ত দিলে শফিকুল ইসলাম তা কার্যকর করেন। তিনি যাত্রীদের কাছে জরিমানাসহ সর্বনিম্ন ভাড়া নিয়ে এসি টিকিটের পরিবর্তে নন- এসির সাধারণ কোচের টিকেট কাটান।

এ পর্যন্তই যদি ঘটনা থেমে থাকতো তাহলে আর কোনো নাটকীয়তা ঘটতো না, এ বিষয়টি টক অব দ্য কান্ট্রিতেও পরিণত হতো না। কিন্তু ওই যাত্রীরা নিজেদের সাধারণ ভাবতে পারেননি। তারা যে রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়। টিকেট নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা যাত্রীরা রেলমন্ত্রীর স্ত্রীকে জানালে তিনি রেগে আগুন তেলে বেগুন হয়ে একজন ঊধ্র্বতন রেল কর্মকর্তার কাছে টিটিই-র বিরুদ্ধে নালিশ করেন। বলেন টিটিই যাত্রীদের সঙ্গে ‘অসদাচরণ’ করেছেন। মন্ত্রীস্ত্রীর নালিশ বলে কথা! সকাল না হতেই টিটিইকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি আবার গোপন থাকে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।

রেলমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর আত্মীয়-স্বজনের সম্পৃক্তির কথা অস্বীকার করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি যা বলেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমরা রেলসেবা বাড়াতে কাজ করছি। বিনা টিকিটের যাত্রী যদি মন্ত্রীর আত্মীয়ও হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো রেল কর্মকর্তাও যদি যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে তাকেও শাস্তি পেতে হবে।’

এরপরের ঘটনাবলী অবশ্যই নাটকীয়। রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়দের বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ, জরিমানা, তাৎক্ষণিকভাবে সেই টিটিইকে বরখাস্ত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ার ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে রবিবার টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে দায়িত্বে বহাল করা হয়। অন্যদিকে বিধিবহির্ভূতভাবে শফিকুলকে বরখাস্তের দায়ে পাকশীর বিভাগীয় কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনকে শোকজ করা হয়েছে।

রোববার রেল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। একই সঙ্গে তিনি এ ধরনের কাজে স্ত্রীর সম্পৃক্ততায় বিব্রত বোধ করেছেন উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, আমি যেভাবে এখানে স্বচ্ছভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি, সেখানে এ ধরনের একটি ঘটনা সেটা যেভাবেই ঘটুক না কেন, আমি অবশ্যই বিব্রত বোধ করছি। আমার বা রেলের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে যেন কেউ রেলে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা না নিতে পারে সে বিষয়ে আমি প্রতি বছর জানুয়ারিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করি। গতকালও (রোববার) এ ধরনের একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, টিকেট ছাড়া ভ্রমণ করা যাত্রীরা যে তার আত্মীয়, তা গতকালও (শনিবার) জানতেন না। ভুলভ্রান্তি হলে মানুষ তো সেভাবেই দেখবে। এখানে যদি দেখা যায় আমার স্ত্রী কোনো ভুল করে থাকে… ইয়ে করে থাকে… আমার জানা ছিল না। তবে মেসেজটা যেভাবে গেছে সেটা সঠিক হয়নি। আমার স্ত্রীর যদি রেলের বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকে সে আমাকে বলতে পারতো। এটা না করে সে কেন ডিসিওকে বলতে গেল? তা নিয়ে আমি বিব্রত বোধ করছি।

মন্ত্রীর স্ত্রীর ফোন পেয়েই টিটিই শরিফুলকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে কার ফোন পেয়ে বা কেন ডিসিও তড়িঘড়ি টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করতে গেলেন। তবে আপাতত বরখাস্তের কারণ জানতে চেয়ে ডিসিওকে আমরা একটা শোকজ চিঠি দিয়েছি। দেখা যাক তার কী জবাব আসে।

রেলমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে আত্মীয়… ইত্যাদি নিউজ দেখার পর আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলি। তখন সে বলে টিটিই নাকি ওই (আত্মীয়) যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় নিয়ে দুর্ব্যবহার করেছে। সেজন্য তারা অভিযোগ জানিয়েছে। তবে আমার স্ত্রীর বড় বোন বা আত্মীয়রা শনিবার গণমাধ্যমকে যে কথাগুলো বলেছেন সেসব ডাহা মিথ্যা কথা। আমি তাদের ফোনই করিনি।

তিনি বলেন, আমি মাত্র ৯ মাস হলো বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী ঢাকাতেই থাকে। তার নানা বাড়ি না ফুপু বাড়ি ঈশ্বরদী, মাঝে মধ্যে সে সেখানে যায়। আমি সব আত্মীয়কে চিনিও না। আমার স্ত্রীরও এখনো আমাকে ভালোভাবে জানাবোঝা হয়নি'।

মন্ত্রীর এসব কথাকে আমরা সত্য বলে ধরে নিয়ে দুচারটি কথা বলার প্রয়োজন মনে করছি। রেলের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। টিকেট নিয়ে কালোবাজারির কথা কার না জানা বাকি। ঈদের সময় টিকেট নিয়ে কালোবাজারির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী ‘স্বচ্ছভাবে’ কাজ করার যে কথা বলেছেন তা যথাযথভাবে পালন করার দিকে তাঁর মনোযোগ আকর্ষণ করে এটাই বলবো যে, কেবল মন্ত্রী একা সৎ থাকলে চলবে না। রেলের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে সততার পরিচয় দিতে হবে। এটা হচ্ছে কি না তা তদারকি করাও মন্ত্রীর কাজের মধ্যেই নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, আমাদের এই অঞ্চলে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আদিকথা একটু মনে করা যেতে পারে। ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর রানাঘাট থেকে জগতি পর্যন্ত রেললাইন চালু হওয়ার পর জল-কাদায় ডুবে থাকা পূর্ব বাংলা প্রথম দেখলো রেল ইঞ্জিনের মুখ। দুটো লোহার পাতের ওপর কয়লার আগুনে কী বিপুল শক্তিতে ছোটে গাড়ি! কামরার সঙ্গে কামরা জুড়ে দিয়ে এক বৃহৎ সরীসৃপের রূপ নিয়ে ছুটে চলে ট্রেন।

‘পথের পাঁচালি’র অপু দুর্গারা কাশবনের ফাঁক দিয়ে অপার মুগ্ধতায় তাকিয়ে দেখে সেই ট্রেন। ১৬০ বছর ধরে বাঙালির সেই মুগ্ধতা কাটেনি। কত গান কত গল্প কত অমর সাহিত্য রচনা হয়েছে রেলব্যবস্থাকে ঘিরে। নদীনালায় বিচ্ছিন্ন বাংলার বিস্তীর্ণ জনপদকে রেলপথ একত্র করেছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ পৌঁছে দিয়েছে তৃণমূলে। রেলের সঙ্গে পৌঁছেছে ডাক আর টেলিগ্রাফ। পণ্য সরবরাহ সহজ হয়ে উঠেছিল রেলব্যবস্থার কারণে।

উন্নত সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এক সময় রেলের কোনো বিকল্প ছিল না। জনগণ ব্যাপক হারে ট্রেন ব্যবহার করতো। ফলে লোকসান তেমন প্রকট হয়নি। দিন দিন যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের সঙ্গে রেলের ওপর নির্ভরতা কমে আসতে থাকে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহন দ্রুত কমে আসায় রেলের লোকসানের বোঝা দিন দিন বেড়েই চলছে।

সামরিক স্বৈরশাসক ও গণবিরোধী সরকারগুলো পরিবহন মালিকদের স্বার্থে একপর্যায়ে রেলের ওপর নির্ভরতার নীতি থেকে সরে এসে সড়কের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ায় আমাদের রেলখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেল যোগাযোগ ভেঙে পড়েছিল। অনেক লাইন, স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে লোকসানের অভিযোগে। শ্বেতহস্তীর মতো এই বিশাল ব্যবস্থা সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে দাতা সংস্থাগুলো ছিল বেসরকারীকরণের পক্ষে। সে সময় বলা হতো রেলওয়ে বিনিয়োগের অভাবে লোকসান করছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে আবার রেলওয়ের দিকে নজর ফেরানো হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নে গত ৫ বছরে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। বর্তমানে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান রয়েছে ৩৯টি উন্নয়ন প্রকল্প।

এটা ঠিক যে, রেলওয়ে ব্যবস্থাটি অন্য যেকোনো পরিবহনব্যবস্থা থেকে ব্যয়বহুল। অন্য কোনো পরিবহন খাতে সেবাদাতা সংস্থাকে পরিচালনের সঙ্গে সঙ্গে পথ রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করতে হয় না। এমনকি অন্য পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তাও রেলকে দেখতে হয়। বিভিন্ন সড়কের ওপর লেভেল গেট বসিয়ে সড়কের নিরাপত্তা বিধান করতে হয়। তাই নিরাপদ এই পরিবহনব্যবস্থা মোটেও সাশ্রয়ী নয়। কিন্তু এটিকে জনগণের কাছে সাশ্রয়ী হিসেবে পৌঁছে দিতে হয়। এর ফলেই লাভ-লোকসানের দ্বন্দ্বটা শুরু হয়। যেসব দেশে রেল খাতে যাত্রী পরিবহনে কোনো ভর্তুকি দেওয়া হয় না, সেখানেই দেখা যায় সড়কপথ থেকে রেলপথের যাতায়াত খরচ বেশি। তবে রেল পরিচালনে সৃজনশীলতা প্রয়োগ করা গেলে ভর্তুকি দিয়েও রেল লাভ করতে পারে।

যার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ প্রতিবেশি দেশ ভারত। রেলওয়ের সম্পদের সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক ব্যবহার করছে ভারতীয় রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলেরও প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও নজরদারির অভাবে তার কিছু কিছু বেহাত বা দখল হয়ে গেছে হয়তো। এখন সময় এসেছে, নিজের সম্পদের সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে রেলকে সময়োপযোগী একটি সচল ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার। প্রয়োজন শুধু সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের। নুরুল ইসলাম সুজন কি সেই নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসবেন?

প্রায় ষাট বছর আগে ভারতের রেলমন্ত্রী ছিলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। সততা ও সাধারণ জীবনযাপনের কারণে তিনি এখনো ভারতের মানুষের কাছে শ্রদ্ধার আসনেই আছেন। সুজনের সামনেও তেমন সুযোগ আছে। শেষ করতে চাই একটি গল্প দিয়ে। রেলওয়ের একজন সিগনাল ম্যান বিয়ের পর স্ত্রীকে বললো, জানো আমার কত ক্ষমতা? স্ত্রী বিস্ময়ের চোখে তাকালে সিগনালম্যান বলে, আমি হাত তুললেই চলন্ত ট্রেন থেমে যায়।

স্ত্রীর চোখেমুখে অবিশ্বাস। তখন সিগনালম্যান স্ত্রীকে নিয়ে গেল রেললাইনের ধারে। একটি ট্রেন আসতে দেখে সিগনালম্যান পকেট থেকে লাল কাপড় বের করে ঝোলাতে থাকে। ট্রেনটি থেমে যায়। ট্রেনের চালক নেমে এলে একটু দূরে গিয়ে স্ত্রীর কাছে তার ক্ষমতা দেখানোর বিষয়টি বলে। চালক ক্ষিপ্ত হয়ে সিগনালম্যানের গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে গজগজ করে ট্রেনের ইঞ্জিনে ওঠে আবার চালাতে শুরু করে থেমে যাওয়া ট্রেনটি।

স্ত্রী দূর থেকে সব দেখেছে। স্বামী কাছে এলে জানতে চায় তার গালে কেন চড় মারলো ওই লোকটা।
স্বামী শান্তভাবে জবাব দিল : আমার ক্ষমতা আমি দেখিয়েছি। ও ওর ক্ষমতা দেখিয়েছে।

আমাদের দেশে চলছে ক্ষমতা দেখানোর নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা। মন্ত্রী এমপি নেতা পাতি নেতারা শুধু ক্ষমতার দাপট দেখায় তা নয়, তাদের নিকট ও দূর সম্পর্কের আত্মীয়রাও ক্ষমতা দেখাতে ভুল করে না। অথচ সব ক্ষমতার উৎস যে জনগণ, সংবিধানে যাদের দেশের মালিক বলে উল্লেখ করেছে, সেই জনগণের কোনো সুযোগ নেই ক্ষমতা দেখানোর। কিন্তু জনতা যখন রুখে দাঁড়াবে তখন পরিস্থিতি কি খুব মধুর বা সুখকর থাকবে?

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট।


আরও খবর



করোনার ভুয়া রিপোর্ট: সাবরিনাসহ ৮ জনের নির্দোষ দাবি

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ২৮জন দেখেছেন
Image

করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরীসহ আটজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন।

বুধবার (১১ মে) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৫ মে দিন ধার্য করেন। যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য হবে।

গত ২০ এপ্রিল একই আদালতে সাক্ষ্য দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভুইয়া। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। আদালত আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী ১১ মে দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জন বিভিন্ন সময় সাক্ষ্য দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই জেকেজি হেলথকেয়ার ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয়। এর বেশিরভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে। এ অভিযোগে ২০২০ সালের ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

২০২০ সালের ৫ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবরিনা ও আরিফসহ আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী। চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও ও জেবুন্নেসা। চার্জশিটে সাবরিনা ও আরিফকে প্রতারণার মূলহোতা বলে উল্লেখ করা হয়। বাকিরা প্রতারণা ও জালিয়াতি করতে তাদের সহযোগিতা করেছেন।

একই বছরের ২০ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।


আরও খবর



একরাম হত্যাকাণ্ড: আটকে আছে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৩জন দেখেছেন
Image

 

ফেনীর আলোচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যার আট বছর পূর্ণ হয়েছে আজ ২০ মে। ২০১৪ সালের এ দিনে তৎকালীন ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক একরামকে ফেনীর বিলাসী সিনেমা হলের সামনে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যা করে নিজ দলীয়রা।

ফেনী জেলা জর্জ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফেজ আহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, নিম্ন আদালতে রায় ঘোষণার পর নিজেদের নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন কারাগারে থাকা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামি। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সের শুনানিও করা যাচ্ছে না। উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পরই রায় কার্যকর হবে।

২০১৮ সালের ১৩ মার্চ চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায়ে ৩৯ জন আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। হাইকোর্টে আসামিদের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় ডেথ রেফারেন্সের শুনানি আটকে আছে। এতে রায় বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয়েছে।

ফেনী জেলা জর্জ আদালত, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের জিএ একাডেমির বিলাসী সিনেমা হলের সামনে একরামুল হকের গাড়ির গতিরোধ করা হয়। একরামকে কুপিয়ে, গুলি করে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার রাতে তার ভাই রেজাউল হক বাদী হয়ে এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ মামলায় তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ আগস্ট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

আলোচিত এ মামলায় গ্রেফতার ১৬ জন আসামি আদালতে ঘটনায় জড়িত ছিলেন মর্মে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৫৬ জন আসামির মধ্যে ৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ ও ১৬ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এদের মধ্যে সোহেল নামের এক আসামি রায় ঘোষণার আগেই র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান।

বর্তমানে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৩৯ আসামির মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৭ জনের মধ্যে আট আসামি জামিনে গিয়ে পলাতক এবং ৯ আসামি ঘটনার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

বর্তমানে এ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন ২২ আসামি। তারা সবাই খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। এরা হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী সিফাত, আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. আজমির হোসেন রায়হান, মো. শাহজালাল উদ্দিন শিপন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ওরফে আজাদ, কাজী শানান মাহমুদ, মীর হোসেন আরিফ ওরফে নাতি আরিফ, আরিফ ওরফে পাঙ্কু আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু, মো. সোহান চৌধুরী, জসিম উদ্দিন নয়ন, নিজাম উদ্দিন আবু, আবদুল কাইউম, নুর উদ্দিন মিয়া, তোতা মানিক, মো. সজিব, মামুন, রুবেল, হুমায়ুন ও টিপু।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে জামিনে গিয়ে পলাতক আট আসামি হলেন- ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন যুগ্ম-সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লায়লা জেসমিন বড় মনির ছেলে আবিদুল ইসলাম, এমরান হোসেন রাসেল, জাহিদুল হাসেম সৈকত, চৌধুরী মোহাম্মদ নাফিজ উদ্দিন অনিক, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, আরমান হোসেন কাউসার ও জসিম উদ্দিন।

এছাড়া এ মামলায় এখনো ৯ জন আসামিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা শুরু থেকেই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এরা হলেন- ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, রাহাত মোহাম্মদ এরফান আজাদ, শফিকুর রহমান, একরাম হোসেন, মোসলেহ উদ্দিন আসিফ, মহিউদ্দিন আনিছ, টিটু ও বাবলু।

মামলাটির রায় ঘোষণাকালে খালাস পাওয়া ১৬ জন হলেন- বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনার, পৌর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক জিয়াউল আলম মিস্টার, আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন পাটোয়ারী ওরফে টুপি বেলাল, মো. আলমগীর ওরফে আলাউদ্দিন, আবদুর রহমান রউপ, সাইদুল করিম পবন ওরফে পাপন, জাহিদ হোসেন ভূইয়া, ইকবাল হোসেন, মো. শাখাওয়াত হোসেন, শরিফুল ইসলাম পিয়াস, কালা মিয়া, নুরুল আবসার রিপন, মো. ইউনুস ভূইয়া শামীম ওরফে টপ শামীম, মো. মাসুদ, কাদের ও ফারুক।

পলাতক আসামিদের বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘একরাম হত্যা মামলার ১৭ আসাকে গ্রেফতারে সোর্স নিয়োগসহ যাবতীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে আইনশৃংখলা বাহিনী।’


আরও খবর



ধুনটে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১৮জন দেখেছেন
Image

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙছে তীর রক্ষা প্রকল্পের বাঁধ। এতে জনমনে আতংক বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের পুকুরিয়া-ভূতবাড়ি এলাকায় বাঁধের অন্তত ১০০ মিটার অংশ বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অর্থায়নে ভাঙনরোধে যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুকুরিয়া-ভুতবাড়ি এলাকার ৬০০ মিটার অংশে বাঁধ রক্ষায় কাজ হয়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় প্রকল্প এলাকায় ভাঙন শুরু হয়।

সূত্র জানান, সিসি ব্লকে বাঁধানো তীর রক্ষা বাঁধ দফায় দফায় ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন  হচ্ছে। ব্লকের বিভিন্ন অংশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় হুমকিতে রয়েছে পুরো বাঁধ এলাকা। এরমধ্যে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে বাঁধের বেশকিছু ব্লক।

উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বাবু বলেন, যমুনা নদীর স্রোতের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনস্থান মেরামত না করা হলে সম্পূর্ণ বাঁধই নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিবারণ চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পুরো ভাঙন এলাকা চিহ্নিত করে বালুভর্তি বস্তা ফেলে ও ব্লক বসিয়ে মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।


আরও খবর