Logo
শিরোনাম

ঘুম ভাঙতেই বুকে ব্যথা কীসের লক্ষণ?

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৪৮জন দেখেছেন
Image

সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই হয়তো বুকে ব্যথা অনুভব করে। তবে বিষয়টি অনেকেই অবহেলা করেন। কারণ পরবর্তী সময়ে হয়তো ব্যথা কমেও যায়। তবে দীর্ঘদিন একই সমস্যায় ভুগলে তা উপেক্ষা করবেন না। কারণ বিভিন্ন কারণে বুকে ব্যথা করতে পারে। তবে বুকে ব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙা কীসের লক্ষণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বুকে ব্যথা নিয়ে জেগে ওঠা মানসিক চাপ বা বদহজমের কারণে হতে পারে। আবার হার্ট অ্যাটাক বা পালমোনারি এমবোলিজমের মতো গুরুতর সমস্যার কারণেও ব্যথা হতে পারে।

এ কারণে বুকে ব্যথা সবসময় গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। যদি ব্যথা কয়েক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে সর্বোত্তম পদক্ষেপ নিতে হবে। জেনে নিন বুকে ব্যথার সম্ভাব্য যত কারণ-

বুকে ব্যথার হার্ট সম্পর্কিত কারণ

>> যখন আপনার হার্টের পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহকারী একটি ধমনী অবরুদ্ধ হয়, তখন আপনার হার্ট অ্যাটাক হয়। এই ব্লক প্রায়ই রক্ত জমাট বাঁধার কারণে হয়।

>> এনজাইনার কারণেও বুকে ব্যথা হয়। যা হৃৎপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে হয়। এটি প্রায়শই হৃদয়ে রক্ত বহনকারী ধমনীতে প্লাক তৈরির কারণে ঘটে।

>> পেরিকার্ডাইটিস। আপনার হৃদপিণ্ডের চারপাশে থাকা থলিতে প্রদাহকে পেরিকার্ডাইটিস বলা হয়। এটি সাধারণত ব্যথা সৃষ্টি করে, যা শ্বাস নেওয়া বা শুয়ে থাকার সময় বেড়ে যায়।

>> মায়োকার্ডাইটিস। যদি আপনার হৃদপিণ্ডের পেশি (মায়োকার্ডিয়াম) স্ফীত হয়, তবে এটি দ্রুত বা অস্বাভাবিক হৃদযন্ত্রের ছন্দ সৃষ্টি করতে পারে যাকে অ্যারিথমিয়াস বলা হয়।

>> অর্টিক ডিসেকশন বা ফেটে যাওয়া। এই জীবন-হুমকির অবস্থা তখনই ঘটে, যখন মহাধমনীর ভেতরের স্তরগুলো হৃৎপিণ্ডের প্রধান ধমনী থেকে আলাদা হয়ে যায়।

বুকে ব্যথার হজম সংক্রান্ত কারণ

>> অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি) বুকে ব্যথার আরও এক উপসর্গ। পেটের অ্যাসিড গলাকে সংযোগকারী টিউবের মধ্যে ফিরে যাওয়ার কারণে অম্বল হয়। ফলে বুক জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হয়।

>> ডিসফ্যাগিয়া সাধারণত গলার উপরের অংশে বা খাদ্যনালির আরও নীচে থাকে। যা খাবার গিলতে কষ্টকর করে তোলে। এই সমস্যার কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে।

>> প্যানক্রিয়াটাইটিসের কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। পেটের পেছনে অবস্থিত একটি বৃহৎ গ্রন্থি এটি। যখন এই গ্রন্থি ফুলে ওঠে তখন উপরের পেটে ব্যথা হতে পারে যা বুকেও ছড়িয়ে পড়ে।

>> পিত্তথলির পাথর বা যে কোনো প্রদাহের কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে।

বুকে ব্যথার শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত কারণ

>> পালমোনারি এমবোলিজম। যখন ফুসফুসের একটি ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধে ও ফুসফুসের টিস্যুতে রক্ত প্রবাহে বাধা দেয়, তখন একে পালমোনারি এমবোলিজম বলা হয়। এটি সাধারণত বুকে টানটান ভাব ও ব্যথা সৃষ্টি করে। যা হার্ট অ্যাটাকের মতো অনুভূত হয়।

>> ফুসফুসের চারপাশে থাকা ঝিল্লি ও বুকের গহ্বরের ভিতরের প্রাচীর ফুলে ওঠে তখন বুকে ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। কাশি বা শ্বাস নেওয়ার সময় এমন ব্যথা বেড়ে যায়।

>> পালমোনারি হাইপারটেনশনের কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে হার্টবিট বেড়ে যায় ও বুকে একটি আঁটসাঁট অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে।

>> ফুসফুসের ক্যানসারের কারণে ফুসফুসে অস্বাভাবিক কোষ বেড়ে যায়। যা ফুসফুসের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফুসফুসের ক্যানসার সাধারণত বুকে ব্যথার সৃষ্টি করে, যা গভীর শ্বাস বা কাশির সঙ্গে বেড়ে যায়।

বুকে ব্যথার অন্যান্য কারণ

কস্টোকন্ড্রাইটিস। যখন পাঁজরের খাঁচার তরুণাস্থি ফুলে ওঠে তখন একে কস্টোকন্ড্রাইটিস বলে। এই অবস্থার কারণে হার্ট অ্যাটাকের মতো ব্যথা হতে পারে বুকে।

>> প্যানিক অ্যাটাকের সম্মুখীন হন অনেকেই। তখন বুকে ব্যথার সঙ্গে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও প্রচুর ঘাম হয়। প্যানিক অ্যাটাকের মধ্যে প্রায়ই মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও তীব্র ভয়ের অনুভূতি অন্তর্ভুক্ত থাকে।

>> বুকে আঘাত লাগার কারণেও ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রেও আপনি ঘুম থেকে ওঠার সময় বুকে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

>> পারিবারিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এক গবেষণাপত্রে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, অনেক সময়ে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে সকালের দিকে। এ কারণে মাঝে মধ্যে ব্যথা হতে পারে বুকে।

তবে স্ট্রেস হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণ নানাভাবে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই বুকে ব্যথাকে কখনো অগ্রাহ্য করবেন না। এতে ঘটতে পারে নানা বিপদ।

সূত্র: হেলথলাইন


আরও খবর



সরকারি চাকরিতে তিন লাখ ৯২ হাজার পদ শূন্য

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৩৩জন দেখেছেন
Image

বর্তমানে দেশের সব মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর ও সরকারি অফিসে ৩ লাখ ৯২ হাজার ১১৭টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী সম্পদের হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের বিদেশে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি আচরণ বিধিমালায় আগে থেকেই সংযোজিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও বেনজির আহমেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর আলোকে প্রস্তাবিত খসড়া সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-২০২২ প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য চলতি বছরের ১ মার্চ সারসংক্ষেপ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া আচরণ বিধিমালায় তা যুগোপযোগী করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফরহাদ হোসেন জানান, সরকারি কর্মচারি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন পদায়ন নীতিমালা প্রণয়ন কার্যক্রম চলমান। শিগগির পদায়ন নীতিমালা প্রণয়ন কার্যক্রম শেষ করা হবে। সিনিয়র স্কেলসহ সব গ্রেডের কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়ার জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) রয়েছে এবং সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিবপদে পদোন্নতি বিধিমালা-২০০২ রয়েছে, যার আলোকে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

বেনজির আহমেদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন জানান, বর্তমানে দেশে সব মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর ও সরকারি অফিসে পদ শূন্যের সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ১১৭ টি। কিন্তু, আদালতে মামলা থাকায়, নিয়োগবিধির কাজ শেষ না হওয়ায় এবং পদোন্নতি যোগ্যপ্রার্থী না পাওয়ায় কিছু শূন্যপদে যথাযথ সময়ে পূরণ করা যায় না।


আরও খবর



চট্টগ্রাম কাস্টমসে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মবিরতি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৪২জন দেখেছেন
Image

শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালা-২০২০ এর যথাযথ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কর্মবিরতি পালন করছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।

কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৭ জুন) সকাল থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এদিন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সারাদেশের শুল্ক স্টেশনগুলোতে কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে, শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালা-২০২০ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা, এইচএস কোড ও সিপিসি ভুলের কারণে জরিমানা আরোপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ ও বিধিবিধান বাতিল করা, লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২০ ও কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯ এর ধারা ২০৯ মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ না করে এবং সিএন্ডএফ এজেন্টদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ বা শুনানি প্রদানের সুযোগ না দিয়েই এআইএন লক করা বা লাইসেন্সিং সাময়িক বাতিল করা, কোনো দোষ প্রমাণিত না হলেও জরিমানা আরোপের মতো কার্যক্রম বন্ধ করাসহ ব্যবসায়ীদের স্বার্থবিরোধী বিধি-উপবিধি বাতিলের দাবি জানানো হয়।

কাস্টমস হাউস খোলা থাকা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলবে বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু।

তিনি বলেন, সারাদেশের সব শুল্ক ভবন ও স্টেশনে আজ পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছি আমরা। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের প্রধান ফটকে আমাদের অবস্থান চলছে। আমরা আজ বিল অ্যান্ট্রি দাখিল, শুল্কায়ন, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার জমাসহ সব কাজ বন্ধ রেখেছি।

গত ১৮ মে সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স রুলের অপব্যাখ্যা করে প্রায় দুই শতাধিক লাইসেন্স নবায়ন না করার অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম কাস্টমসে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করে চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।


আরও খবর



এবারের বাজেট: বাধা পেরিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের চলার পথ হোক সুগম

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৪৬জন দেখেছেন
Image

মৌসুমী ইসলাম
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনা মহামারির প্রভাবের সাথে লড়াই করছেন দেশের নারী উদ্যোক্তারা। অর্থনৈতিক নানা প্রতিকূলতা ও বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলার সময় নতুন করে আঘাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ইউক্রেন সংকট। বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে। দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা অনুসারে নারী উদ্যোক্তা, দুর্বল এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী মহামারি দ্বারা সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার মুখে অসমভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

মহামারিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটায়, বেকারত্ব এবং কর্মহীনতা বাড়ার পাশাপাশি আয় হ্রাস এবং প্রান্তিক পর্যায়ে পরিবারগুলোর মধ্যে হ্রাস পেয়েছে ভোগ ব্যয়। বাধ্য হয়েছেন ঋণের জালে আটকা পড়তে। এই পরিবারগুলো হারিয়েছে সঞ্চয় এবং সম্পদ। এ সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সামাজিক সূচকগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি কাগজে-কলমে হলেও নেতিবাচক প্রভাবের বলয় থেকে বের হয়ে আসা যায়নি।

সামাজিক নিরাপত্তা প্রোগ্রামের এবং সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজগুলোতে নীতিসহায়তার সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা তৈরি এবং ব্যবহারের জ্ঞানের অভাব, কাঠামোগত দুর্বলতা ও অন্যান্য কারণে সহায়তার বিষয়টি একপর্যায়ে অপর্যাপ্ততায় সমালোচনায় মুখোমুখি হয়।

আগের মতো পণ্য সরবরাহে বিশ্বব্যাপী নিয়ম মানা আর সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ভেঙে কিংবা বিঘ্নিত হওয়া এবং বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্থির আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

তাই এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বর্ধিত মূল্যের বিরাজমান প্রেক্ষাপটে নিম্ন আয়ের এবং মধ্য আয়ের জনসংখ্যাকে পণ্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের সামগ্রিক সব অর্থনৈতিক চাহিদাকে চাঙ্গা করা প্রয়োজন। সেই সাথে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মূল ধারার অর্থনীতিতে ফেরানো এবং তাদের সুরক্ষিত করা সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

২০২২-২৩ জাতীয় বাজেটের জন্য সুপারিশ: নারীদের জন্য প্রয়োজন ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিশ্চিতকরণ

লিঙ্গসমতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আলাদাভাবে জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। লিঙ্গ ব্যবধান পূরণ করার জন্য, সঠিক তথ্য এবং উপাত্ত ব্যবহার জরুরি।

গর্ভবতী নারী এবং কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্যের আওতা আরও বাড়ানো দরকার। নারীর যৌন স্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নতির লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের জন্য বাজেট বাড়ানো জরুরি।

অভিবাসী নারীদের তাদের পছন্দের নির্দিষ্ট এলাকায় মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন। কর্মজীবী নারীদের জন্য ভ্রমণ সুবিধা, সরকারি হোস্টেল এবং ডে কেয়ার সেন্টারে বরাদ্দ দেওয়া ও বাড়ানো দরকার।

নারীদের অঘোষিত (গার্হস্থ্য) কাজের মূল্যায়নকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রশিক্ষণের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ করতে হবে।

সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি চালু করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইন সংস্কারের লক্ষ্যে এবং প্রতিবন্ধী ও সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করতে হবে।

নারী উদ্যোক্তা: জেগে উঠুক আপন শক্তিতে
নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বুটিক, বিউটি পার্লার এবং ক্যাটারিং, রেস্তোরাঁ, খাদ্য ও দেশীয় পণ্য ব্যবসাসহ পরিষেবা খাতে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে অন্তত ৫ শতাংশ করা প্রয়োজন।

কোভিড সংকট কাটিয়ে উঠতে আসন্ন দুই অর্থবছরে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ভ্যাট এবং কর অব্যাহতি সুবিধার প্রয়োজন। নারীবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ভ্যাট এবং কর অব্যাহতি সুবিধা ও কোভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহিত দেওয়া জরুরি।

নারীদের জন্য ব্যক্তিগত আয়কর সীমা ৩.৫ লাখ টাকার পরিবর্তে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা। বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৭০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা এখন সময়ের দাবি।

নতুন ব্যবসা শুরু করার প্রথম তিন বছরের জন্য নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কর ছাড় দেওয়া প্রয়োজন। নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫০ শতাংশের বেশি হ্রাস করা।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়িক শোরুমের ওপর ভ্যাট অব্যাহতির ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং নারী উদ্যোক্তাদের দ্বারা আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর নিজস্ব যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত আমদানি কর হ্রাস করা।

জাতীয় এসএমই নীতি ২০১৯-এর একটি কৌশলগত লক্ষ্য হলো: ‘নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের কর্মসূচি প্রসারিত করা এবং বিশেষ পরিষেবা প্রদান করা’। নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন, ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত ঋণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল গঠন, ওমেন চেম্বার এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, পুরস্কার এবং বৃত্তির মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং বাজার সংযোগ বাড়াতে সঠিক দিকনির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি।

এবারের বাজেটে তাই জোর দেওয়া হোক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে। বাস্তবতার আলোকে।

লেখক: প্রেসিডেন্ট, অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রাসরুট ইউমেন অন্টারপ্রেণার্স, বাংলাদেশ।


আরও খবর



কিছু মরদেহ শনাক্তে সময় লাগবে এক মাস

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে এখনো যাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি তাদের পরিচয় শনাক্তে অন্তত এক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সিআইডি চট্টগ্রামের ফরেনসিক ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সোমবার (৬ জুন সন্ধ্যায়) তিনি জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিহতদের ২১ জনের পরিবারের ৩৭ সদস্যের ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৩ সদস্যের পরিবারও রয়েছে।

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার (৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে আবারও নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া মরদেহের দাবিদার পাওয়া সাপেক্ষে পরেও নমুনা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, মরদেহ গ্রহণের পরও অনেকের সন্দেহ রয়েছে, সে কারণে কয়েকটি পরিবারের সদস্যের নমুনাও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হেল্প ডেস্ক থেকে জানানো হয়েছে, বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে ৪১ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। ২২ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর রাসায়নিকের কনটেইনারে একের পর এক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে বহু দূর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জন হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, দগ্ধ ও আহত ১৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতেই শনাক্ত হওয়া নিহতদের জেলা প্রশাসনের সহায়তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াস হোসেন চৌধুরী জানান, নিহতদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিকদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ৯ সদস্যও রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।


আরও খবর



১৪তম নিবন্ধনের ৪৮৩ জনকে নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | ২১জন দেখেছেন
Image

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ১৪তম নিবন্ধনধারী ৪৮৩ জনকে বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করতে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এনটিআরসির চেয়ারম্যান ও শিক্ষাসচিবকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রায় বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

এনটিআরসিএর ১৪তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ দিতে কেন সুপারিশ করা হবে না তা জানতে চেয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার (২৯ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি কাশেফা হোসেন ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম মনিরুজ্জামান আসাদ। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এম মনিরুজ্জামান আসাদ ও অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন।

এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুন এনটিআরসিএর ১৪তম নিবন্ধনধারীদের (৪৮৩ জনকে) নিয়োগ দিতে কেন সুপারিশ করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

এ বিষয়ে করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে (৬ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে ১৪তম নিবন্ধনধারী মো. জাকির হোসেনসহ ১৮০ জন এ রিটটি দায়ের করেন।

আদালতে ওইদিন রিটের পক্ষে শুনানি করে আইনজীবীরা বলেছিলেন, ‘আপিল বিভাগের একটি রায়ের আলোকে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেতে পৃথক পৃথক তিনটি রিট আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন।’

রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানসহ মোট সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদন থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএর ১৩তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হন ১৭ হাজার ২৫৪ জন চাকরিপ্রার্থী। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২০৭ জনকে নিয়োগ দিতে আপিল বিভাগের আদেশ বাস্তবায়ন করে এনটিআরসিএ। সেই রায়ের আলোকে নিয়োগ পেতে সারাদেশের ১৪তম নিবন্ধনধারী একটিতে ১৮০ জন ও অপরটিতে ২০২ জন এবং ২০১জন প্রার্থী আরও একটি রিট আবেদনটি দায়ের করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেছিলেন। ওই রিটে ও রুলের বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো।


আরও খবর