Logo
শিরোনাম

হাসপাতাল থেকে টেনেহিঁচড়ে হাজতে: ৪ এসআই বহিষ্কার

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩২৩জন দেখেছেন
Image

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসামিদের টেনেহিঁচড়ে হাজতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত চার পুলিশ উপ-পরিদর্শককে সাময়িক বহিষ্কার ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন, পুলিশ উপ-পরিদর্শক আলতাফ হোসেন (এসআই), সাইফুল ইসলাম (এসআই), ওয়াজেদ আলী (এসআই) ও মুনতাজ (এসআই)। এছাড়াও মোজাম্মেল হক (কনস্টেবল) ও সাথী আক্তারকে (নারী কনস্টেবল) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার (১১ মে) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাকির হোসেন সুমন বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, এমন অমানবিক ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিষ্কার এবং দুজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও আমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে যাদের নাম আসবে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (১০ মে) বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ভিক্ষুক পরিবারকে উল্টো মামলায় জড়ানোর অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহতরা চিকিৎসাধীন থাকলেও তাদের আসামি করায় পুলিশ তাদের পিটিয়ে ও টেনেহিঁচড়ে হাসপাতাল থেকে হাজতে পাঠায়। পুলিশের এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসি বাজার এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে ভিক্ষুক আব্দুল জলিল (৬৪) ২০ শতক জমিতে বসতভিটা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ মুজিবুর রহমান সম্প্রতি ওই জমি তাদের দাবি করায় দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে মামলা হলে আদালত আব্দুল জলিলের পক্ষে ডিক্রি দেন।
আদালতের আদেশ অমান্য করে সোমবার সকালে প্রতিপক্ষ মুজিবুর রহমান দলবল নিয়ে আব্দুল জলিলের পরিবারের ওপর হামলা চালান। এসময় রামদা, লোহার রড় ও লাঠির আঘাতে আব্দুল জলিলসহ পরিবারের সবাই আহত হন।

গুরুতর আহত আহত আব্দুল জলিল (৬৪), তার স্ত্রী লাইলী বেগম (৫০), বড় ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০), মেজো ছেলে ওয়ায়েজ করোনি (২৫), ছোট ছেলে হামদাদুল হককে (১৬) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবারের অন্য সদস্য জসিম মিয়াকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে চিকিৎসাধীন ৪ জনসহ ১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। মামলার পর মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এজাহারভুক্ত ৪ আসামিকে আটক করে। হাসপাতালের বিছানা থেকে পুলিশ তাদের ‘চ্যাং দোলা’ করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাখানেক তাদের হাজতে রাখার পর বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আব্দুল জলিলের জামাতা চান মিয়া, মেয়ে জুলেখা বেগম ও ভাতিজা রানা মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, তারা মামলা করতে গেলেও পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি। উল্টো আব্দুল জলিলকে থানায় আটকে রাখা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি হন। রাতে উল্টো অভিযুক্তরা মামলা করে।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রকিবুল হক জাগো নিউজকে বলেন, মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার রাতে আব্দুল জলিলসহ অন্যদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এরপর হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে আসামিদের আটক করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ায় তাদের আটক করা হয়েছে। না হলে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হতো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, আহতদের চিকিৎসা চলাকালীনই পুলিশ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। চিকিৎসাধীন আসামিদের যেভাবে আটক করা হয়েছে তা অমানবিক।


আরও খবর



যুক্তরাষ্ট্রের মানুষও আমাদের ডিজিটাল সিস্টেম দেখে অবাক: মন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ২২জন দেখেছেন
Image

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, দেশের ডিজিটাল সিস্টেম কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনও আমাদের ডিজিটাল টাকা পয়সা লেনদেন দেখে অবাক। তারা বলেন সেখানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে টাকা লেনদেন করা যায় না। আমাদের গ্রামে-গঞ্জে স্বল্প শিক্ষিত মানুষের কাছেও অনেক সহজেই ডিজিটালি টাকা ট্রান্সফার হচ্ছে।

বাংলাদেশ কখনো শ্রীলঙ্কা হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কা শ্রীলঙ্কা বলা হচ্ছে। এরকম কিছুই হবে না।

শনিবার (১৪ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘শ্রমিকদের জন্য কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস ফেডারেশন গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।

এম এ মান্নান বলেন, যত ধরনের পরিসংখ্যান প্রয়োজন সব কিছু আপনাদের সামনে আমরা দেবো। আপনারা বাছবিচার করে দেখবেন যে আমাদের কী ঘাটতি আছে। যদি ঘাটতি না থাকে তাহলে আমাদের কাজ করতে দিন। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবেন না। সেটা তৈরি হলে আমরা আপনারা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

‘ইউক্রেন, কোভিড, শ্রীলঙ্কা, চায়না লোন, বিশ্বব্যাংক এসব বিষয় আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। এসব আমাদের পরিচিত। রাজনৈতিকভাবে এই অঞ্চলে আমরা সবচেয়ে স্থিতিশীল পরিবেশে আছি। এই অঞ্চলের নেপাল, মিয়ানমার এবং মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশ থেকে আমরা স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আছি।’

শ্রমিকরা তার পুরো প্রাপ্য মজুরি পাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি শ্রমিকদের পুরো পাওনা দেওয়া হচ্ছে না। তবুও যদি শ্রমিকদের প্রাপ্যটা যাতে আরেকটু ন্যায্য, প্রাপ্যতা ও হকভিত্তিক করা যায়, সেটা আমরা চেষ্টা করবো।

স্বাস্থ্য খাতে আমাদের অনেক বড় কৃতিত্ব অর্জন হয়েছে। ১২১টি দেশের মধ্যে আমরা পঞ্চম স্থানে রয়েছি। কোভিড ম্যানেজমেন্টে বাংলাদেশের অর্জন অনেক বড়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশ হয়েও সেখানে হিমশিম খেয়েছে। এই অঞ্চলের আটটি দেশের মাঝে আমরা প্রথম হয়েছি। যেখানে ভারত, পাকিস্তান আমাদের কাছেও নেই।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সঞ্চালনায় আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ’র কার্যকরী সভাপতি মো. হাতেম, সিপিডির পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম, ডিইউজের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য প্রমুখ।


আরও খবর



বিচার ‘চায় না’ ভিকটিমের পরিবার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৩৯জন দেখেছেন
Image

সম্প্রতি বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডের পর মামলা করতে ‘অনীহা’ প্রকাশ করেছে ভিকটিমের পরিবার। বিচার চান না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা। বিষয়টিকে ‘বিপজ্জনক’ ও ‘সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে আইনের শাসনের দুর্বলতা’ বলছেন আইনজীবীরা। তাদের মতে, এটি দেশের জন্য ভালো খবর নয়। ধীরে ধীরে যদি এই মনোভাব সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সার্বিকভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এ সমস্যা সমাধানে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার পরামর্শ তাদের।

তবে এ নিয়ে রাজনীতিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। কেউ বলছেন, যখন মানুষ দেখছে কোথাও গিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না, কারও কাছে বিচার দিয়ে লাভ হচ্ছে না- তখনই আমরা দেখলাম, মানুষ বলা শুরু করেছে, ‘কার কাছে বিচার দেবো’?

আবার অনেকেই বলছেন, কে বিচার চাইলেন বা চাইলেন না- সেটা বিষয় নয়। অপরাধ হলে রাষ্ট্র এটার বাদী হয় এবং বিচার হয়। হয়েও আসছে। এখন পর্যন্ত যত অপরাধ হয়েছে সবগুলোর বিচার হয়েছে, দৃষ্টান্তমূলক সাজাও হচ্ছে। সুতরাং দু-একজন বিচ্ছিন্নভাবে পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজির কথা বললেই সেই কথায় পুরো দেশের চিত্র ফুটে ওঠে না।

সম্প্রতি নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হন দোকান কর্মচারী মুরসালিন। তার ভাই নূর মোহাম্মদকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন মামলা করবেন কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলা করে কী হবে? এই দেশে কোনো বিচার নেই। কে করবে বিচার?’

একইভাবে বিচার চান না নিহত নাহিদ হোসেনের মা নার্গিস। তিনি বলেন, ‘আমরা বিচার চাই না। নাহিদকে তো আর ফিরে পাবো না। বিচার চেয়ে কী হবে। চাইলেই তো আর বিচার পাবো না। আমার ঘর-সংসার কীভাবে চলবে?’ মামলা করবেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা চালাতে টাকা-পয়সা লাগে। এগুলো করে লড়তে পারবো না। মামলা করে কী করবো। এগুলো করলে কি আমার ছেলে ফিরে আসবে? কতটা অত্যাচার করে আমার ছেলেকে মারা হলো! আমার যা যাওয়ার চলে গেছে।’

নিউমার্কেটের ঘটনার কিছুদিন আগেই রাজধানীর শাহজাহানপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থী সামিয়া আফরিন প্রীতি। মামলার বিষয়ে প্রীতির বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মামলা চালানোর মতো অবস্থা আমাদের নেই। আমরা নিরীহ মানুষ। তাই কোনো বিচার চাই না। বিচার চাইলে আল্লাহর কাছে চাই। তিনিই বিচার করবেন। কোনো বিবাদে জড়াতে চাই না।’

এই বিচার না চাওয়ার সংস্কৃতি কেন তৈরি হচ্ছে? এর দায় কার? সমাধান কোন পথে? জানতে চাইলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিটি ফৌজদারি অপরাধের বিচার রাষ্ট্রীয়ভাবে হবে। কেউ বিচার চান বা না চান। অপরাধ হলে রাষ্ট্র এটার বাদী হয় এবং বিচার হয়। দু-একজন বিচ্ছিন্নভাবে পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজির কথা বললেই সেই কথায় সব দেশের চিত্র ফুটে ওঠে না।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো যারা বলে তাদের হয়তো জ্ঞানের অভাব, হয়তো জানে না কোথায় যাবে, কী করবে! তবে দেশে বিচার হচ্ছে। আমরা আইন অঙ্গনে আছি, সারাক্ষণ বিচার কাজেই নিয়োজিত। প্রতিদিনই কোনো কোনো মামলার বিচারের রায় হচ্ছে। বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার হয়েছে, বুয়েটের হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হয়েছে। কোনো অপরাধ বিচারহীন থাকবে না। সব অপরাধের বিচার হবে।’

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি- প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই। অর্থাৎ নির্বাহী বিভাগের কাছে বিচার চাওয়ার একটা সংস্কৃতি। যখন মানুষ দেখলো সেখানেও আর কোনো কাজ হচ্ছে না। কারও কাছে বিচার দিয়ে লাভ হচ্ছে না। তখনই আমরা দেখলাম, মানুষ বলা শুরু করেছে- কার কাছে বিচার দেবো? কী লাভ? বিচার তো পাবো না। এই ঘটনা আমরা দীপন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে প্রথম দেখলাম। তার বাবা আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যার বললেন, ‘একটা হত্যাকাণ্ডের বিচার দিয়ে তো লাভ নেই। আমরা বিচার চাই না।’ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে খুঁজে বের করা হবে। ১২ বছরেও সেই হত্যাকাণ্ডের কোনো সমাধান হয়নি। এমনকি মামলার চার্জশিট পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। কিছুদিন আগে দেখলাম রুনির ভাই বলেছেন, ‘আমরা বিচার চাই না। রাষ্ট্রের কাছে বিচার চেয়ে আমরা লজ্জিত।’

তিনি বলেন, এই অবস্থা সৃষ্টির জন্য সার্বিক ব্যর্থতা হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্রের। এটা আমাদের সরকারের এবং বিচার বিভাগের ব্যর্থতা। প্রশাসন না পেরেছে তদন্ত নিশ্চিত করতে, না পেরেছে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ না পেরেছে সুষ্ঠু বিচার করে নজির স্থাপন করতে। সুতরাং এটা আমাদের যৌথ ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার ফলে পুরো ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের আস্থা-ভরসা উঠে গেছে। মানুষ এখন আর বিচার চায় না। তারা মনে করে সময় নষ্ট। দিনের শেষে কোনো লাভ হবে না।

সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে বিচার পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। এটার অনুশীলন করেন আদালত। আদালতে বিচার পেলে পরে সেটা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এটা হলো প্র্যাকটিক্যাল আইনগত অবস্থান। কিন্তু আমরা কয়েক বছর ধরে দেখছি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আইনের শাসনের কিছু দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। এই দুর্বলতার ফসলটাই হলো ভিক্টিমদের বক্তব্য (বিচার না চাওয়া)।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধ সংঘটিত হলে মামলার তদন্ত ও বিচারে কিছু হয় না। এ ধরনের একটা ধারণা মানুষের মনের মধ্যে ঢুকে গেছে। সেটা বাস্তবও। মামলা হয়তো হয়, তদন্তও হয়। কিন্তু বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে শেষ করতে ২০-২৫ বছর লেগে যায়। অনেকক্ষেত্রে তো বিচার হয়-ই না। সাক্ষীসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়, নয়তো অন্য বিষয়। বিচার বিভাগেরও তো সক্ষমতা নেই, এত মামলা কীভাবে বিচার করবে? সবকিছু মিলিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তার চূড়ান্ত ফলাফল হলো- বিচার হচ্ছে না, এটাই মানুষের মনে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।’

ফাস্ট ট্র্যাকে না উঠলে বিচার হয় না, এমন ধারণা তৈরি হয়েছে জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ‘কিছু কিছু বিচার হয় ফাস্ট ট্র্যাকে। কিছু ঘটনায় মিডিয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে বা সরকারপ্রধান অথবা সরকারের ইন্টারেস্ট (আগ্রহ) থাকে, সেগুলো দ্রুতই (বিচার) হয়ে যায়। কিন্তু অন্য বিচারগুলো হয় না। এই ফাস্ট ট্র্যাকে উঠতে না পারলে বিচার হবে না, এটাই মানুষের ধারণা। হত্যাকাণ্ড হলে থানা বা আদালতে দৌড়াতে হবে, সময় দিতে হবে, আল্টিমেটলি তো বিচার হবে না- এরকম একটা ধারণা থেকে অনেকেই বলেন, ‘আমি বিচার চাই না’।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, ‘কিছু কিছু লোক আবার বিচার চান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতন হলে তারা বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই’। এরকম একটা রং মেসেজ (ভুল বার্তা) মানুষের অন্তরে ঢুকে গেছে। তাদের ধারণা জন্মেছে যে, রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন, বিচারটাও মনে হয় তাদের হাতে! কিন্তু আইন তো সেটা বলে না। মানুষের মনে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা থেকে তারা বলেন- আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই। এর উদাহরণও আছে।’

‘আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যকে যখন মেরে ফেলা হলো- এক দুদিনে কোনো খবর নাই। কেউ গ্রেফতার হয়নি, কিছুই হয়নি। প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন, মুখ খুলেছেন- তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রশাসনেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে আইন অনুযায়ী চলার যে প্রাকটিস, সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। যার কারণে অনেক সময় প্রশাসনও তাকিয়ে থাকে রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন, তারা কী বলেন! তাদের কর্মকাণ্ড দেখে বা নির্দেশনা শুনে পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ বোধ করে। ফলে স্বাধীনভাবে যে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেটা তারা করছে না। এ কারণেও মানুষের মনে ধারণা হয়েছে, বিচার চেয়ে লাভ হবে না। এজন্য তারা বিচার চায় না।’

এই ধারণাকে বিপজ্জনক উল্লেখ করে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘এটা কিন্তু এখন কিছু লোকের ধারণা। এটা যদি ধীরে ধীরে সব মানুষের মধ্যে চলে যায় তাহলে সমাজে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলবে। মানুষ তখন মনে করবে, আইন-কানুন দরকার নাই। আমার যা করার আমিই করবো। প্রভাবশালীরা কিন্তু সেটাই করেন। যা খুশি করেন, আইন-কানুনের তোয়াক্কা করেন না।’

এ অবস্থায় সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে আইনের শাসনের যে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে এটা দেশের জন্য ভালো খবর নয় বলে দাবি করেন এই আইনজীবী।

এই সমস্যা সমাধানে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবীর পরামর্শ, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনতে হবে। বিচার বিভাগ ও তদন্তের দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে যদি রাজনৈতিকভাবে পরিচালনা করা হয়, সেটি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। পাশাপাশি বিচার বিভাগকেও শক্তিশালী করতে হবে। বিচার বিভাগে একটা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিচার দ্রুত করতে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, তদন্তের পদ্ধতি তৈরি, লজিস্টিক সাপোর্ট তৈরিসহ নানা উদ্যোগ নিতে হবে। এটাও সরকারকেই করতে হবে। এগুলো করা গেলে হয়তো কিছুটা সমাধান আমরা খুঁজে পাবো।’


আরও খবর



সুহানা, খুশি ও অগস্ত্যার সিনেমার পোস্টার-টিজার প্রকাশ

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৬জন দেখেছেন
Image

বলিউডে তারকাদের ছেলে মেয়েদের অভিষেক নতুন নয়। এবার জাভেদ আখতারের কন্যা জোয়া আখতারের বানানো ছবির মাধ্যমে পর্দায় সেই তালিকায় যুক্ত হলেন শাহরুখ কন্যা সুহানা খান, শ্রীদেবীকন্যা খুশি কাপুর ও অমিতাভ বচ্চনের নাতনি অগস্ত্যা নন্দার।

সম্প্রতি ফাঁস হয়েছিল এই সিনেমার শুটিং সেটের ছবি। আর এবার প্রকাশ্যে এলো ছবিটির টিজার এবং প্রথম পোস্টার।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘আর্চি কমিকস’-এর বলিউড রিমেক বানাচ্ছেন জোয়া। নেটফ্লিক্সের এই ছবিতে কমিক বইয়ের চরিত্র আর্চি অ্যান্ড্রুজ এবং তার বন্ধুদের হলিউড টিন ড্রামাকে ভারতীয় সংস্করণে দেখা যাবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুহানা খান, খুশি কাপুর ও অগস্ত্যা নন্দা। জোয়া আখতারের পরিচালনায়, নেটফ্লিক্সের মিউজিক্যাল ড্রামা ঘরানার ছবি ‘দ্য আর্চিস’ ১৯৬০-এর প্রেক্ষাপটে তৈরি।

আজ শনিবার মুক্তি পেয়েছে ‘দ্য আর্চিস’ ছবির টিজার। এ ছাড়া নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়ার অফিশিয়াল পেজে ছবির পোস্টারের প্রথম ঝলক শেয়ার করা হয়। পরিচালক জোয়া আখতার, শাহরুখকন্যা সুহানা খান, শ্রীদেবীর ছোট মেয়ে খুশি কাপুর, অমিতাভ বচ্চনের নাতনি অগস্ত্যা নন্দা এবং আরও অনেকেই টিজার ও পোস্টারের প্রথম ঝলক শেয়ার করেছেন।

অগস্ত্যাকে দেখা যাবে কেন্দ্রীয় চরিত্র আর্চি অ্যান্ড্রুজের ভূমিকায়, আর খুশি ও সুহানাকে দেখা যাবে বেটি এবং ভেরোনিকার চরিত্রে। মিউজিক্যাল ড্রামা ঘরানার এই ছবিতে থাকছে টিনএজ রোমান্সের চিত্রায়ণ।

‘দ্য আর্চিস’-এর ঘোষণা হয়েছিল গত বছরই। পরিচালনার পাশাপাশি ছবির সহপ্রযোজকের আসনেও রয়েছেন জোয়া। ছবিতে শুধু আর্চি-ভেরোনিকা আর বেটিই নয়, দেখা যাবে রেগি, জাগহেড, মুজ, ডিলটনের মতো কমিকসের অন্য জনপ্রিয় চরিত্রদেরও। আগামী বছর নেটফ্লিক্সে মুক্তির কথা রয়েছে ছবিটির।


আরও খবর



সিল্কসিটি এক্সপ্রেসে ঢাকা ফেরার পথে সন্তান প্রসব

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘সিল্কসিটি এক্সপ্রেস’ ট্রেনে সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। নবজাতক এবং মা দুজনই সুস্থ আছেন।

শুক্রবার (৬ মে) দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে আসার পথে সন্তান প্রসব করেন তিনি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ওই নারীর নাম পারুল। তিনি রাজশাহী থেকে ঢাকা আসছিলেন। মাঝপথে তার প্রসব বেদনা ওঠে। তখন ট্রেনে থাকা অন্যান্য নারীরা এগিয়ে আসেন। তাদের সহযোগিতায় সন্তান প্রসব করেন পারুল। দুপুর পৌনে ৩টায় কমলাপুর স্টেশনে নামেন তিনি। এসময় খবর পেয়ে স্টেশনে তাকে রিসিভ করেন বাবা টিটু মিয়া।

রেলওয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ট্রেনে সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে কমলাপুর স্টেশন প্লাটফর্মে ছুটে আসেন রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক রিপন দাস ও শওকত জামির। তারা মা ও নবজাতককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রস্তুতি নেন।

এদিকে চলন্ত ট্রেনে সন্তান প্রসবের ঘটনায় রেলওয়ের সবাই আনন্দিত বলে জানায় জনসংযোগ বিভাগ।


আরও খবর



ইন্দোনেশিয়ায় বাসচালকের ‘ঘুম’ প্রাণ নিলো ১৪ পর্যটকের

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৪৭জন দেখেছেন
Image

ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র জাভা দ্বীপে বিলবোর্ডের সঙ্গে পর্যটকবাহী একটি বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪ জন। গুরুতর আহত আরও ১৯ পর্যটক। তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত না হলেও অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন বাসের চালক। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের।

পূর্ব জাভার ট্রাফিক পুলিশ প্রধান লতিফ উসমান জানিয়েছেন, সোমবার (১৬ মে) প্রাদেশিক রাজধানী সুরাবায়া থেকে ইন্দোনেশীয় পর্যটক বহনকারী বাসটি মধ্য জাভার ডিয়াং মালভূমি থেকে ফিরছিল। পথিমধ্যে মোজোকারতো টোল রোডে একটি বিলবোর্ডে ধাক্কা দেয় সেটি।

টেলিভিশনের খবরে দেখা গেছে, পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা দুর্ঘটকবলিত বাস থেকে ভুক্তভোগীদের বের করছেন।

উসমান জানিয়েছেন, পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাসের চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন।

তিনি জানান, পুলিশ এখনো বাসচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। কারণ তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। মোজোকার্টোর চারটি হাসপাতালে মোট ১৯ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি বছর বহু মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। দুর্বল নিরাপত্তা মান ও অবকাঠামোর কারণে দেশটিতে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই নিয়মিত ঘটনা।


আরও খবর