Logo
শিরোনাম

হুমায়ুন আজাদ হত্যা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত:বুধবার ১৩ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১০০জন দেখেছেন
Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় জেএমবির ৪ সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন, নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মামুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন হুমায়ুন আজাদ। তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পরদিন তার ভাই মঞ্জুর কবির রাজধানীর রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

ওই হামলার পর ২২ দিন রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এবং ৪৮ দিন থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন হুমায়ুন আজাদ। পরে জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১২ আগস্ট মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে হত্যা এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- জেএমবির শুরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন, হাফিজ মাহমুদ ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু। আসামিদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ার কারাগারে। সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ পলাতক। এছাড়া হাফিজ মারা গেছেন।

এ মামলায় জেএমবির শুরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক ও আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যা মামলায় ৫৮ সাক্ষীর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৪১ জন সাক্ষ্য দেন।


আরও খবর



তের ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারলো শেখ জামাল

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩৮জন দেখেছেন
Image

টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর অবশেষে হারের স্বাদ পেলো শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। শনিবার রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে পুলিশ ফুটবল ক্লাব ১-০ গোলে হারিয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের।

এই ম্যাচের পর প্রিমিয়ার লিগে আর কোন দল অপরাজিত থাকলো না। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ভালোভাবেই টিকে ছিল শিরোপা লড়াইয়ে। প্রথমবার এক ম্যাচে ৩ পয়েন্ট হারিয়ে তারা খেলো বড় ধাক্কা। শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে পড়লো ৮ পয়েন্টে।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি হয়েছে ৬২ মিনিটে। গোল করেছেন বদলি খেলোয়াড় শেখ বাবলু। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আল আমিনের পরিবর্তে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ পুলিশ এই জয়ে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এলো টেবিলের সপ্তম স্থানে।

শেখ জামাল ধানমন্ডিক্লাব প্রথম হারে ১৪ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে পড়ে রইলো টেবিলের তৃতীয় স্থানে। দলটির পক্ষে শিরোপা লড়াইয়ে ফেরা কঠিন হয়ে গেলো।


আরও খবর



সৃষ্টির সেবায় স্রষ্টার সন্তুষ্টি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৩জন দেখেছেন
Image

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বুধবার (১৮ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেট নগরীতে আরও দুই ইঞ্চি পানি বেড়েছে। এছাড়া জেলার আট উপজেলায়ও বন্যার পানি বাড়ছে। এ অবস্থায় সিলেট জেলা ও মহানগরের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব বন্যাদুর্গত মানুষজন বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকটে পড়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী খেটে খাওয়া এবং অসহায়দের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য।

হাদিস শরীফে এসেছে, ‘হজরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ সে ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ করেন না, যে মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না। (বুখারি ও মুসলিম)
আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, মানুষ হিসেবে আল্লাহপাকের কাছে সবাই সমান। কার ধর্ম কী তা পরের বিষয়, কেননা সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার ভুক্ত। কেউ বিপদে পড়লে আরেকজন তাকে উদ্ধার করবে এটাই ধর্মের শিক্ষা। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলের প্রতি এমনকি অপরাপর জীবজন্তুর প্রতি দয়া প্রদর্শন করাই হচ্ছে ধর্ম।

হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব কষ্টসমূহ থেকে কোনো কষ্ট দূর করবে কিয়ামতের কষ্টসমূহ থেকে আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়াতে ছাড় দেবে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে যায়।’ (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি)।

মানব সেবার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কেয়ামত দিবসে নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা বলবেন, ‘হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমার শুশ্রূষা করোনি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনিতো বিশ্বপালনকর্তা কীভাবে আমি আপনার শুশ্রূষা করব?’ তিনি বলবেন, ‘তুমি কী জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, অথচ তাকে তুমি দেখতে যাওনি। তুমি কী জান না, যদি তুমি তার শুশ্রূষা করতে তবে তুমি তার কাছেই আমাকে পেতে।’ আল্লাহতায়ালা বলবেন ‘হে আদম সন্তান, আমি তোমার কাছে আহার চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে আহার করাওনি?’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার রব! আপনি হলেন বিশ্ব পালনকর্তা, আপনাকে আমি কীভাবে আহার করাব?’ তিনি বলবেন, ‘তুমি কী জান না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিল, কিন্তু তাকে তুমি খাদ্য দাওনি। তুমি কি জান না যে, তুমি যদি তাকে আহার করাতে তবে আজ তা প্রাপ্ত হতে?’ আল্লাহতায়ালা বলবেন ‘হে আদম সন্তান, তোমার কাছে আমি পানীয় চেয়েছিলাম, অথচ তুমি আমাকে পানীয় দাওনি।’ বান্দা বলবে, ‘হে আমার প্রভু! আপনি তো রাব্বুল আলামিন, আপনাকে আমি কীভাবে পান করাব?’ তিনি বলবেন, ‘তোমার কাছে আমার অমুক বান্দা পানি চেয়েছিল কিন্তু তাকে তুমি পান করাওনি। তাকে যদি পান করাতে তবে নিশ্চয় আজ তা প্রাপ্ত হতে।’ (মুসলিম)

আমরা বিভিন্নভাবে বান্দার হক আদায় করতে পারি। এক কথায়, ডাক্তার তার সেবা দ্বারা, বক্তা তার বক্তৃতার মাধ্যমে, লেখক তার লেখার মাধ্যমে, বিত্তশালীরা তার সম্পদ দ্বারা, বুদ্ধিমান তার বুদ্ধির দ্বারা, জ্ঞানী তার জ্ঞান দ্বারা, স্বাস্থ্যবান তার শক্তির দ্বারা সমাজের সেবা করতে পারে। একজন ডাক্তার সহজেই পারেন চিকিৎসার মাধ্যমে জনসেবা করতে আর এরফলে তার বিদ্যা কমে যাবে না বরং তার বৃদ্ধি ঘটবে, প্রদীপ্ত হয়ে উঠবে।

কারো শরীরের কোন অঙ্গ যদি আঘাত পায় বা দুর্বল হয়ে পড়ে তবে সে কী আনন্দ পায়? বরং কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক। সমাজের এক অংশ ক্ষুধার্ত, ব্যাধিগ্রস্ত, বস্ত্রহীন হলে অপর অংশ তাদের সাহায্যার্থে প্রাণঢালা সাহায্য করবে। তবেই সুষ্ঠু ও বলিষ্ঠ জাতি গড়ে উঠবে। আত্মতুষ্টির জন্যও সৃষ্টি সেবার প্রয়োজন রয়েছে। সামর্থবানদের উচিত সিলেটের বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

প্রত্যেক ব্যক্তি যদি তার দায়িত্বের প্রতি সজাগ থাকে তবেই সৃষ্টি সেবার মহান এক সংঘ গড়ে উঠবে। অপরের প্রতি অনুকম্পা, সহানুভূতি, উদারতা ও দয়া প্রদর্শন করা আজ আমাদের মৌলিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দয়া হতে দানশীলতার সৃষ্টি হয়। দানশীলতা ও সেবা করা মানবচরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য আর নির্দয় ব্যক্তি পাষাণবৎ।
অপরের অশ্রু দর্শনে যার হৃদয় বিগলিত হয় না, সে জনসেবার দাবি করতে পারে বটে, কিন্তু কার্যত: কোনো উপকারই করতে পারে না। দুঃখির দুঃখমোচন, বিপন্নকে উদ্ধার, শোকাতুরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা সৃষ্টি সেবার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেটের প্লাবিত এলাকার মানুষের পাশে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে।


আরও খবর



তালেবান বর্বরতার টার্গেটে যখন সাংবাদিক গোষ্ঠী

প্রকাশিত:রবিবার ০১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

 

আফগানিস্তানে তালেবানদের স্বেচ্ছাচারিতা ও ভয়াবহতার প্রকৃতরূপ তুলে ধরতে জীবনবাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। আর এ কারণেই দেশটিতে বারবার তালেবান বর্বরতার টার্গেটে পরিণত হচ্ছে সাংবাদিক গোষ্ঠী।

আফগানিস্তানে তালেবানদের শাসনে লুণ্ঠিত হচ্ছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। সরকারের পছন্দের বিরুদ্ধে খবর করলেই নেমে আসছে অমানবিক অত্যাচার। বিনা বিচারে আটকে রাখা হচ্ছে সাংবাদিকদের। ভয়ঙ্কর মারধর করা হচ্ছে। স্বাধীন মত প্রকাশের বিন্দুমাত্র সুবিধা নেই। সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচারের বহর দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে ছবি সমেত উঠে আসছে তালেবান হামলার ভয়ঙ্কর খবর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তালেবান বর্বরতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানালেও বিন্দুমাত্র কমছে না অত্যাচারের মাত্রা। ফলে বহু গণমাধ্যম বন্ধ হচ্ছে। বেকার হচ্ছে তাদের কর্মীরা।

অতি সম্প্রতি তালেবান বর্বরতার শিকার হলেন আফগান টেলিভিশনের ঘোষক মহেব জলিলী। ১৬ এপ্রিল রাত ৮টা নাগাদ কাবুল শহর থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। হাত-ই-সুভ গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাতকারে জলিলী বলেছেন, কী কারণে গ্রেফতার হতে হয়েছে সেটাও তালেবান সরকার তাকে জানায়নি। বন্দি অবস্থায় অকথ্য পন্থায় অত্যাচার করা হলেও নিজের অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। সরকার জলিলীর বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক শরীফ হাসানিয়ারের অভিযোগ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকায় প্রতিনিয়ত ভুগতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। তিনি জানান, তাঁর সহকর্মী জলিনীকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। সামাজিক গণমাধ্যমে তিনি লেখেন, 'রাতের অন্ধকারে আমার প্রাক্তন সহকর্মী জলিনীকে আফগান গোয়েন্দারা তুলে নিয়ে যায়। তারপর বর্বরোচিত হামলা চালায় জলিনীর ওপর। তালেবানদের বেধড়ক মারধরে সে এখন গুরুতর জখম।'

রাসা টিভি-র ম্যানেজার জামশী আহমাদ আহমদী কাবুল শহরেই গুলিবিদ্ধ হন। তালেবানরাই তাকে জখম করেছে বলে অনেকেরই সন্দেহ। গুলিবিদ্ধ জামশী এখন কোথায় আছেন বা কেমন আছেন, সেটাও জানা যাচ্ছেনা।

তালেবানরা ফের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দুর্ভোগে রয়েছেন আফগান সাংবাদিকরা। বিশেষত যারা বিদেশী গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা রয়েছেন, তারা রয়েছেন সবচাইতে বড় ঝুঁকিতে। এমন এক নিরাপত্তাহীন অবস্থা যেখানে কোন সাংবাদিক নিহত হলে তার কোন দায় দেশটির তালেবান সরকারের নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে খুন, গুমসহ বিবিধ অত্যাচার।

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবানরা কাবুল দখলের পর থেকেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নারীদের অর্জিত মৌলিক অধিকারের মতোই লুণ্ঠিত হয়। ২০০১ সাল থেকে লিঙ্গ সমতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে যেসব প্রয়াস শুরু হয়েছিল সেগুলির আর কোনও অস্তিত্ব নেই। তালেবান শাসনে হিংসাই একমাত্র প্রাপ্তি নাগরিকদের।

গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর ২৮ মার্চ তালেবান জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ ইন্টেলিজেন্স অন্তত চারটি রেডিও স্টেশনে তল্লাশির নামে হুজ্জুতি চালায়। ৬ জন গণমাধ্যম কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এ সময়। একই দিনে বিবিসি ও ডিডব্লিউ-সহ জনপ্রিয় অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকেও আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তালেবান সরকার। পরের দিনই ডিডব্লিউ ও বিবিসি সংবাদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান আফগানিস্তানে বন্ধ করার কথা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

পাশাপাশি, সরকারি কর্মকাণ্ডের প্রচারণার জন্য তালেবান সরকারের আধিকারিকরা নিয়মিত গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন। প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের সরকারি বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবগত করার নামে তাদের অধিকার খর্ব করা হয়। সাংবাদিকরা অনেকেই অভিযোগ করছেন, বৈঠকে ডেকে নিয়ে তাদের হয়রানি ও মারধর করা হয়। কোনও অভিযোগ ছাড়াই বন্দি করে রাখা হয় সাংবাদিকদের।

আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় টেলিভিশন টলো নিউজ-এর অন্তত তিন জন কর্মীকে ১৭ মার্চ উঠিয়ে নিয়ে যায় গোয়েন্দারা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষেধাজ্ঞা অবজ্ঞা করে বিদেশী নাটক সম্প্রচারের।

সংবাদ পাঠক বাহরাম আমান তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, 'প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর আমাকে জেলখানা থেকে ছাড়া হয়েছে। চিরকাল আমি মানুষের কথা বলে যাব।'

আলজাজিরা-র খবর, বাহরামকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তালেবান সিক্রেট সার্ভিস সকলকে বিবৃতি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে 'ইসলামের মূলনীতি' লঙ্ঘন করা চলবেনা। সেইসঙ্গে তালেবানদের বিরুদ্ধে আফগান নাগরিকদের মগজধোলাইও বরদাস্ত করা হবেনা।

সিক্রেট সার্ভিসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'কোনও কোনও গণমাধ্যম ইসলামধর্মীদের 'ধর্মীয় অনুভূতি' এবং জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকারক খবর সম্প্রচার করছে। মন্দ এবং দুষ্ট লোকেরা এইসব গণমাধ্যম থেকে দেশবিরোধী কাজের রসদ পাচ্ছে।'

আফগানিস্তানে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা লুণ্ঠিত হওয়ায় উদ্বেগে আন্তর্জাতিক মহলও। জাতিসংঘ এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) সাংবাদিকদের গ্রেফতার ও হয়রানির নিন্দা করেছে। সেইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, তালেবান সরকারকে অবিলম্বে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, মারধর করা বন্ধ করতে হবে। সেইসঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, সিপিজে তাদের বিবৃতিতে বলেছে, 'তালেবানকে অবিলম্বে... আফগানিস্তানের গণমাধ্যম কর্মীদের আটক ও ভয় দেখানো বন্ধ করতে হবে'। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-ও সাংবাদিকদের কথায় কথায় বন্দি করা বা তাদের কাজের স্বাধীনতা হরণ করে বিধিনিষেধের বহর বাড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করেছে। ইউএনএএমএ টুইটারে লিখেছে, 'তালেবানদের হুমকি প্রদান এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা বন্ধ করার সময় হয়েছে। সময় হয়েছে আফগানিস্তানের গণমাধ্যমের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা শুরু করার।'

কুনার অঞ্চলের এক সাংবাদিকের বরাত দিয়ে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিডাব্লিউ জানায়, সশস্ত্র তালেবান সেই সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়েছিল। তিনি তখন ঘরে ছিলেন না। তার বাবাকে বলে আসা হয়, ছেলে এলে যেন খবর দেওয়া হয়। তার সঙ্গে জরুরি দরকার আছে। তার পর থেকে ওই সাংবাদিক গা ঢাকা দিয়ে আছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, জেহাদ-বিরোধী প্রোপাগান্ডা করেছেন তিনি। কিছুদিন বিদেশি সংবাদসংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এমন সাংবাদিকদের খুঁজে বের করছে তালেবানরা।

দেশটিতে নারী সাংবাদিকদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। তালেবান জানিয়ে দিয়েছে, ক্যামেরার সামনে নারীরা আসতে পারবেন না। রেডিও-তে কথা বলতে পারেন। তবে সেই অফিসে সকলকে নারী হতে হবে! এক নারী সাংবাদিকের মুখের ভাষা শুনলেই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, 'বহু সংবাদসংস্থার অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। নারীরাও কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি যে রেডিও-তে কাজ করেন, সেখানে টেকনিশিয়ানরা পুরুষ। ফলে তিনি অফিসে যেতে পারছেন না।'

দেশটিতে কাবুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানেও সাংবাদিকদের রাস্তায় ফেলে পেটানো হয়েছে, সংবাদ 'পছন্দ না হওয়ায়' তালেবানরা কাজটি করেছেন। ২০২১ সালে কাবুলে দুইজনকে এভাবে মারাও হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেয়া এক বিবৃতিতে হোম অব ফ্রিডম অফ স্পিচ দাবি করে, তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর মিডিয়া, আফগান সাংবাদিক, বাক স্বাধীনতা এবং মিডিয়ার স্বাধীনতার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের মিডিয়া এবং সাংবাদিকরা তাদের স্বাধীনতা হারিয়েছে এবং তারা কাবুল কর্তৃপক্ষ দ্বারা পদ্ধতিগতভাবে দমনের শিকার হচ্ছে। আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের (আইইএ) গোয়েন্দারা আফগান মিডিয়া এবং সাংবাদিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং তারা চাচ্ছে মিডিয়া তাদের প্রোপ্যাগান্ডা প্লাটফর্মে পরিণত হোক। গোয়েন্দারা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে তা করতে সফল হয়েছে কারণ তারা হুমকি, বল এবং চাপ হিসাবে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার এবং আফগান ইন্ডিপেনডেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর সেখানকার ৫৪৩টি গণমাধ্যমের মধ্যে ২৩১টিই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ৬ হাজার ৪০০-রও বেশি সাংবাদিক হারিয়েছেন তাদের কর্মসংস্থান। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়েছে দুটি কারণে। প্রথমটি হলো মারাত্মক আর্থিক সঙ্কট। এবং দ্বিতীয়টি, সাংবাদিকরা অনেকেই তালেবানদের অত্যাচারে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। চলতি বছরেও বহু গণমাধ্যম বন্ধ হয়েছে। তালেবানরা তাদের অমানবিক বর্বরতার বিষয়ে দুনিয়ার মানুষকে অন্ধকারে রাখতে ধনে-প্রাণে শেষ করে দিতে চাইছে সংবাদমাধ্যমকে। তাই দিন দিন বাড়ছে অত্যাচারের বহর।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।


আরও খবর



বিশ্বে করোনায় আরও ১১১৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৭ লাখ ৩২ হাজার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৯জন দেখেছেন
Image

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে এক হাজার ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৩২ হাজার ৪৯৯ জন। এছাড়া একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৯০ জন।

এ নিয়ে করোনায় বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ ৯০ হাজার ৩২৪ জনে। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ২৮ লাখ ৪৩ হাজার ২০২ জনে। এছাড়া করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৪৯ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯৭ জন।

মঙ্গলবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে আটটায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৪ হাজার ৯৩৩ জন রোগীর শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন ১০৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো আট কোটি ৪৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬০৭ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১০ লাখ ২৬ হাজার ৮৯৯ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আট কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ১৩১ জন।

ভারতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০৭৮ জনের। তবে এ সময়ে কারো মৃত্যুর খবর ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৯ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচ লাখ ২৪ হাজার ২৪১ জন।

এছাড়া ব্রাজিলে একদিনে মারা গেছেন ৮৯ জন, ইতালিতে ১০২ জন, ফ্রান্সে ১২৬ জন, যুক্তরাজ্যে ১৭৬ জন, জার্মানিতে ৮৬ জন, রাশিয়াতে ৮৯ জন।

এ সময়ে বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে টানা ২৬ দিন করোনায় মৃত্যুশূন্য রয়েছে দেশ।


আরও খবর



ফেসবুক পাসওয়ার্ড চুরি করছে যেসব অ্যাপ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২২জন দেখেছেন
Image

স্মার্টফোনে যখন তখন বিভিন্ন অ্যাপ ইনস্টল করছেন। কিছু আছে কাজের আবার কিছু অপ্রয়োজনেই পড়ে থাকে অ্যাপগুলো। আর অজান্তেই এসব অ্যাপ আপনার ফোনের ব্যস্তিগত তথ্য চুরি করছে।

স্মার্টফোনে প্রবেশের জন্য নিয়মিত সুরক্ষার ফাঁক খুঁজতে থাকে হ্যাকাররা। সম্প্রতি এক নতুন ফিশিং অ্যাটাকের খবর সামনে এসেছে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা অ্যাপের মাধ্যমে এই ফিশিং অ্যাটাক করছে হ্যাকাররা। তবে শুধু ব্যক্তিগত তথ্য নয়, চুরি করছে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডও।

আপনার অজান্তেই এ কাজগুলো করছে হ্যাকারা। সম্প্রতি ২০০টিরও বেশি অ্যাপের মধ্যে স্পাইওয়্যারের হদিশ পেয়েছে বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে কিছু অ্যাপ ১ লাখেরও বেশি বার গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড হয়েছে।

সম্প্রতি ট্রেন্ড মাইক্রো নামে একটি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাপ এই স্পাইওয়্যারসহ অ্যাপগুলোর নাম প্রকাশ করেছে। দেখে নিন সেগুলো। আপনার ফোনে এর মধ্যে যে কোনো অ্যাপ ইনস্টল থাকলে তা এখনই ডিলিট করুন।

> ডেইলি ফিটনেস ওএল।
> প্যানোরমা ক্যামেরা।
> বিজনেস মেটা ম্যানেজার
> সোয়াম ফটো।
> এনজয় ফটো এডিটর।
> ক্রিপ্টোমিনিং ফার্ম ইওর কয়েন।
> ফটো গেমিং পাজেল।


আরও খবর