Logo
শিরোনাম

ইউক্রেনের সংঘাত প্রতিবেশী দেশে ছড়াতে পারে বলে সতর্কতা ফ্রান্সের

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
Image

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এখনো চলছে। এ যুদ্ধ ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মলদোভার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল ট্রান্সনিস্ট্রিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এমন সতর্কতা উচ্চারণ করেন। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দুর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলন করেন ম্যাক্রোঁ। এসময় তিনি বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অগ্রহণযোগ্য আগ্রাসনের কারণে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে বিশেষ করে মলদোভার।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের সীমান্তের কাছে ট্রান্সনিস্ট্রিয়ায় ড্রোন দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ম্যাক্রোঁ এগুলোকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ফলে প্রতিবেশীদেশগুলোতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিকে উড়েয়ে দেওয়া যায় না।

ম্যাক্রো জোর দিয়ে বলেন, অঞ্চলটির ইস্যুগুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে তার দেশ। তাছাড়া ফ্রান্স মলদোভার স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সুবিধা করতে না পারলেও পূর্বের শিল্পাঞ্চল ডনবাসকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, দখলকারীরা আরও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। সেখানকার অবস্থা নারকীয়।


আরও খবর



সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে অর্ধেকেরও বেশি

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ২৮জন দেখেছেন
Image

সঞ্চয়পত্র বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। মূলত অতিরিক্ত সুদ পরিশোধ ও ঋণের পরিধি কমাসহ নানা শর্তের বেড়াজালে আটকে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) পুরোনো সঞ্চয়পত্রের মূল টাকা ও মুনাফা পরিশোধের পর নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা।

যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের (২০২০-২১ এর প্রথম ১১ মাস) চেয়ে ১৯ হাজার ২২৯ কোটি টাকা কম, যা শতকরা হিসাবে ৫১ শতাংশ। সেই হিসেবে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। অর্থবছরে ১১ মাসে নিট বিক্রি ছিল ৩৭ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে বিভিন্ন স্কিমে মোট ৯৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র জমা হয়েছে। এর মধ্যে মূল টাকা ও মুনাফার অর্থ পরিশোধ হয়েছে ৭৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। আর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ২৮ কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সঞ্চয়পত্রে নানা শর্তজুড়ে দেওয়ায় বিক্রি কমছে। বিশেষ করে মুনাফা কমিয়ে দেওয়া, অতিমাত্রায় সুদ পরিশোধ করায় বিক্রি কমেছে।

বর্তমানে ১৫ লাখ টাকা, ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন সুদহার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হারে সরকার হাত দেয়নি। অর্থাৎ আগের হারে সুদ পাওয়া যায়। আর ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে তারা মেয়াদ শেষে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফা পাবেন ৯ দশমিক ৩ শতাংশ হারে।

চলতি বছরে একক মাস হিসেবে মে মাসে জমা হয়েছে ৭ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। মূল অর্থ ও মুনাফা এসময়ে পরিশোধ করা হয়েছে ৭ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা গ্রাহকের মুনাফাবাবদ পরিশোধ হয়েছে। আর নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩৮ কোটি টাকা।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। ১১ মাসে অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার ঋণ নিয়েছে ৫৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গেলো ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার।


আরও খবর



সিলেট ও সুনামগঞ্জ যেসব কারণ বারবার প্লাবিত হচ্ছে

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

এ বছর তৃতীয় দফায় বন্যার কবলে পড়েছে দেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এ জেলায় প্রায় ৩৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়া সারাদেশের সঙ্গে সুনামগঞ্জের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারীসহ আরও ১৭টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে নদী গবেষকরা বলেছেন, হঠাৎ শুরু হওয়া এই বন্যার পেছনে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে অতিবৃষ্টি ছাড়াও কয়েকটি কারণ রয়েছে।

নদী গবেষকরা বলছেন, সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত থেকেই ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি এলাকা শুরু হয়েছে। ফলে সেখানকার পানি সরাসরি বাংলাদেশের হাওরে এসে মেশে। ভৈরব বা মেঘনা নদী হয়ে সাগরে চলে যায়। কিন্তু অতীতের বৃষ্টিপাতের প্রেক্ষাপট আর এখনকার নদীগুলোর অবস্থার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে অতিবৃষ্টির কারণে এবারের ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, গত তিনদিন চেরাপুঞ্জিতে দুই হাজার ৪৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ও এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৫ সালে একবার এরকম বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তিনদিনে দুই হাজার ৭৯৮ মিলিমিটার আর ১৯৭৪ সালে দুই হাজার ৭৬০ মিলিমিটার। এরকম খুব কম দেখা যায়।

এই হঠাৎ বন্যার পেছনে চেরাপুঞ্জির এই প্রবল বৃষ্টিপাতকে প্রধান কারণ বলে মনে করছেন অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে আবহাওয়া-জলবায়ু বা বৃষ্টির ধরন বদলে গেছে। এখন বৃষ্টি হলে অনেক বেশি গভীর বৃষ্টি হয়। প্যাসিফিকেও একটা লা নিনো আছে। সেটাও অতিবৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। চেরাপুঞ্জিতে যখন বৃষ্টি হয়, সেটা ছয় থেকে আট ঘণ্টার ভেতরে তাহিরপুরে চলে আসে। কিন্তু সেখানে এসে পানি তো আর দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে তখন সেটা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে বন্যার তৈরি করছে।

নদীর নাব্যতা নষ্টের জন্য ভারত অংশে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনকে দায়ী করেন বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক।

তিনি বলেন, বিশেষ করে ভারতের উজানে পাথর উত্তোলনের ফলে মাটি আলগা হয়ে নদীতে চলে আসে। ফলে নদীর তলদেশ ভরে যায়। সেখানে নাব্যতা সংকট তৈরি হচ্ছে। সেখানে গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নদীগুলো ঠিকমতো ড্রেজিং না হওয়া, ময়লা-আবর্জনায় নদীর তলদেশ ভরে যাওয়া, ঘরবাড়ি বা নগরায়নের ফলে জলাভূমি ভরাট হয়ে যাওয়া এই বন্যার জন্য দায়ী। এই কারণে মেঘালয় বা আসামে বেশি বৃষ্টিপাত হলেই সিলেট বা কুড়িগ্রাম এলাকায় বন্যার তৈরি হচ্ছে।

‘এবারের হঠাৎ বন্যার পেছনে মানুষের নিজেদের তৈরি কতগুলো কারণ রয়েছে। সিলেট বা সুনামগঞ্জ এলাকায় আগে ভূমি যে রকম ছিল, নদীতে নাব্যতা ছিল, এতো রাস্তাঘাট ছিল না বা স্থাপনা তৈরি হয়নি। ফলে বন্যার পানি এখন নেমে যেতেও সময় লাগে। আগে হয়তো জলাভূমি, ডোবা থাকায় অনেক স্থানে বন্যার পানি থেকে যেতে পারতো। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, হাওরে বিভিন্ন জায়গায় পকেট পকেট আমরা রোড করে ফেলেছি। ফলে পানি প্রবাহে বাধার তৈরি হচ্ছে। শহর এলাকায় বাড়িঘর তৈরির ফলে পানি আর গ্রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। যার ফলে বন্যার তীব্রতা আমরা বেশি অনুভব করছি। এসব কারণে আগাম বন্যা হচ্ছে এবং অনেক তীব্র বন্যা হচ্ছে।

অধ্যাপক সাইফুল বলেন, আমাদের দেশে উজান থেকে পানি নামে উত্তর থেকে দক্ষিণে। এই রাস্তাটিও কিন্তু উত্তর থেকে দক্ষিণে তৈরি। ফলে এটা হয়তো হাওরের পানি প্রবাহের কিছুটা বাধার তৈরি করছে। কিন্তু বন্যার এটাই একমাত্র কারণ নয়।

নদী গবেষক মুমিনুল হক সরকার বলেন, প্রতি বছর উজান থেকে পানির সঙ্গে পলি আর পাথর নেমে আসে। সেটা এসে বাংলাদেশের অংশে নদীর তলদেশ ভরে ফেলে। নদীর পানি বহনের ক্ষমতা কমে যায়। তখন এই নদীতে বেশি পানি আসলে সেটা উপচে আশেপাশের এলাকা ভাসিয়ে ফেলে।

তিনি বলেন, হাওরে যেসব রাস্তা পূর্ব-পশ্চিমে তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোই হাওরের পানি চলাচলে মূল বাধার তৈরি করছে। এরকম অনেক রাস্তা কোনোরকম পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ বা নেত্রকোনা হাওর এলাকায় বেশিরভাগ জনপদে শহর রক্ষা বাঁধ নেই। ফলে কোনো কারণে হাওরে বা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করলে তার খুব দ্রুত শহরে বা আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে। তবে এবার বাংলাদেশে যেভাবে আকস্মিকভাবে বৃষ্টির বা পানি বাড়ার রেকর্ড ভেঙে বন্যার তৈরি হয়েছে, এরকম পরিস্থিতিতে বন্যা ঠেকানো খুব কঠিন হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


আরও খবর



বিপৎসীমার ওপরে ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের পানি, পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৩৫জন দেখেছেন
Image

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ জুন) বিকেলে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও
ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে।

jagonews24

এদিকে, নদ-নদীর পানি বাড়ায় জেলা সদরের ঘোগাদহ, যাত্রাপুর, হলোখানা, পাঁচগাছি, মোগলবাসা, ভোগডাঙ্গা, নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা, নুনখাওয়া, বল্লভেসের খাস, কালীগঞ্জ, বেরুবাড়ি, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, সাহেবের আলগা, বেগমগঞ্জ, চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ, অষ্টমীর চর, রমনা, নয়ারহাট, চিলমারী সদর, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট, পাইকের ছড়াসহ চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়ন, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা, ছিনাইসহ বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকার ধান, পাট ও শাকসবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।

এসব এলাকার মানুষ নৌকা ও কলা গাছের ভেলায় করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করছেন। অনেকের ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তারা নৌকাযোগে ঘরের জিনিসপত্র উঁচু স্থানে তুলছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রাত কাটছে তাদের।

jagonews24

পাঁচগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমার ইউনিয়নের সাতটি ওয়ার্ডের প্রায় ২০-২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসন থেকে পানিবন্দি মানুষের তালিকা করার নির্দেশনা পেয়েছি।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমার ইউনিয়নের ১৫-২০টি গ্রামের প্রায় পাঁজ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি এলাকার সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছি।

মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমার ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় চার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ইউনিয়নের সমস্ত আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।

jagonews24

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমার ইউনিয়নের ১১-১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চারটি বাড়ির বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া চার কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা বলেন, ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমার ইউনিয়নের প্রায় ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে অন্তত ৩০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া চর আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় ধরলার ভাঙনে এরইমধ্যে কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে রক্ষার আশ্বাস দিয়েছে।

jagonews24

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বাড়ছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, এরইমধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। কারও প্রয়োজন হলে আমরা তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করতে পারবো।


আরও খবর



গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন প্রায় ৩ লাখ

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

গুচ্ছভুক্ত ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯২ হাজার শিক্ষার্থী। গত ১৫ জুন (বুধবার) থেকে শনিবার (২৫ জুন) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়।

রোববার (২৬ জুন) জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার।

তিনি বলেন, এবার দুই লাখ ৯২ হাজার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। যার মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটে এক লাখ ৬০ হাজার, মানবিক অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটে ৯০ হাজার ও ব্যবসা শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটে ৪২ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। আবেদনকৃতদের মধ্যে ভর্তি ফি জমা দেননি পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী।

আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা। এরপর ১৩ ও ২০ আগস্ট যথাক্রমে ‘বি’ ইউনিট ও ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিস্তারিত তথ্য গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইট-এ পাওয়া যাবে।


আরও খবর

ঢাবি ‘ক’ ইউনিটে সেরা যারা

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




৩ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি বার কাউন্সিল নেতাদের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৪৮জন দেখেছেন
Image

ঢাকা আইনজীবী সমিতির তিন বিজ্ঞ সদস্যকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতার, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় নিন্দা, প্রতিবাদ ও অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নেতারা।

বুধবার (৮ জুন) এক বিবৃতিতে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত চার সদস্য এ দাবি জানান।

বিবৃতি দেওয়া আইনজীবীরা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল) ও অ্যাডভোকেট এ এস এম বদরুল আনোয়ার।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৭ জুন সকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশে আদালতে আসার পথে ঢাকা আইনজীবী সমিতির দুজন বিজ্ঞ সদস্য সোহাবুল ইসলাম রনি ও তার স্ত্রী ইয়াসিন জাহান নিশানের সঙ্গে জুরাইন পুলিশ বক্সের কাছে একজন ট্রাফিক সার্জেন্টের বাগবিতণ্ডা ও নারী আইনজীবীকে হেনস্তার ঘটনা ঘটে।

‘ওই ঘটনায় ওই আইনজীবী দম্পতিসহ অপর বিজ্ঞ আইনজীবী ইয়াছিন আরাফাত ভূঁইয়াকে পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫০-৪০০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়।’

‘ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ (বুধবার) তিন বিজ্ঞ আইনজীবীকে আদালতে নেওয়া হয়। এরপর পুলিশ হেফাজতে তাদের মধ্যে বিশেষ করে সোহাবুল ইসলাম রনিকে নির্যাতনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। এরপরও দুজন বিজ্ঞ সদস্যের জামিন আবেদন নাকচ করে উল্টো পুলিশের আবেদনে তাদের তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ রিমান্ডে বিজ্ঞ আইনজীবীদের আরও নির্যাতনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

বিবৃতিতে বার কাউন্সিলের নেতারা বলেন, আমরা পুলিশের হেফাজতে এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত। আমরা অবিলম্বে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক এ মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ড বাতিল ও অবিলম্বে তাদের মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।


আরও খবর