Logo
শিরোনাম

ইভিএম যাচাইয়ে ইসির আমন্ত্রণে যাচ্ছে না বিএনপি

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
Image

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) যাচাইয়ের জন্য সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (১৯ জুন) থেকে পর্যায় ক্রমে তিন দিনব্যাপী এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে বিএনপিসহ ৩৯টি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি।

আগামী ২১ জুন বিএনপিকে সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা এ সংলাপে যাচ্ছি না। শুধু এই আমন্ত্রণ না, এ সংক্রান্ত কোনো আমন্ত্রণ নিয়েই বিএনপির কোনো আগ্রহ নেই। বিএনপির মূল লক্ষ্য এই সরকার হটিয়ে জনগণকে মুক্ত করা।

তিনি বলেন, এসব লোক দেখানো সংলাপ করে চোখে ঠুলি পড়ানোর আমন্ত্রণে বিএনপি সাড়া দেবে না।
দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি এই সংলাপে যাচ্ছে না। আমরা বলতে চাই, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান, এমনকি কোনো ব্যক্তির সঙ্গেও কোনো প্রকার বৈঠক বা আলাপচারিতায় বিএনপি অংশ নিবে না। বিএনপি ইসি নিয়েই ভাবছে না।


আরও খবর



উপহারের ঘরে এসি, চলছে সম্প্রসারণ কাজও

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৩১জন দেখেছেন
Image

অতিদরিদ্র হিসেবে পাওয়া উপহারের ঘরে রয়েছে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), আকাশ ডিটিএইচ, ফ্রিজসহ নানা সামগ্রী। ঘরের বারান্দার অংশ ভেঙে চলছে সম্প্রসারণ কাজও।

ঘটনাটি পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের। জাতীয় পার্টির (জেপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের ইউনিয়ন কমিটি আহ্বায়ক মো. ইকবাল সেপাই পেয়েছেন উপহারের ঘরটি। উপহারের ঘরে এসি লাগিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্প থেকে ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আলম সেপাই ও তার ছেলে ইকবাল সেপাই দুটি ঘর পান।

pi-(3).jpg

সম্প্রতি ইকবাল তার ঘরে এসি, আকাশ ডিটিএইচ লাগিয়েছেন। এছাড়া ঘরে রয়েছে ফ্রিজসহ নানা বিলাস সামগ্রী। ইকবালের রয়েছে মোটরসাইকেলও। নিজ খরচে সম্প্রসারণ করছেন উপহারের ঘরটি।

ইকবাল ও তার স্বজনরা জানান, ইকবাল ২০১৩ সালে উপজেলার চন্ডিপুর কে সি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন। রাজমিস্ত্রি বাবার কাজে সহযোগিতা করে যে টাকা পেতেন তা দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালাতেন। এইচএসসিতে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। ২০১৭ সালে বিয়ে করেন।

ইকবাল বলেন, ‘বিয়ে যখন করি তখন আমি বেকার। স্ত্রীকে নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা প্রফেসর হারুন অর রশিদের বাসায় ভাড়া থাকতাম। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সেখানে থেকেছি। রাজমিস্ত্রি বাবার সহযোগী হিসেবে কাজ করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে ঘর ভাড়া দিয়ে সংসার চালাতাম। আমার কোনো জায়গাজমিও ছিল না। পরে দাদি লতিমুননেছার তিন শতক জমি বাবা আমাকে দিয়েছেন। ওই জমিতে সরকারি ঘর করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আমার ঘরটি যেখানে তার আশপাশে কোনো গাছপালা নেই। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের চাল প্রচণ্ড গরম হয়ে যায়। এক বছর বয়সী মেয়েটি গরমে কষ্ট পায়। এ জন্য একটি এসি কিস্তিতে কিনে উপহারের ঘরে লাগিয়েছি।’

pi-(3).jpg

তিনি আরও বলেন, ‘এক বছর আগে আমি বালুর ব্যবসা শুরু করি। পরে লোন নিয়ে দেড় লাখ টাকায় একটি ড্রেজার মেশিন কিনেছি। ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে এলাকায় সরবরাহ করে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকা পাই। এখন কিছুটা সচ্ছল হওয়ায় আমার উপহারের ঘর নিয়ে সমালোচনা করছে কেউ কেউ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুৎফুন্নেসা খানম বলেন, ‘২০২০ সালে গৃহহীন হিসেবে বালিপাড়া গ্রামের ইকবাল সেপাইকে উপহারের একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। তখন সে দিনমজুর ছিলেন। তার মাসিক আয় ছিল ৫ হাজার টাকা। তবে এখন যে তথ্য আছে তাতে সে সচ্ছল। এরপরও ওই সময় কোনো ভুলত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছি।’


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে: ড. মসিউর

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৩০জন দেখেছেন
Image

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেছেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর মতো বড় কাজে অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কারণ পদ্মা সেতুর মতো এমন জটিল ও বড় কাজ বাস্তবায়ন আগামী একশ বা দেড়শ বছরেও হবে না।

শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত ‘শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু নির্মাণ: বিশ্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশ তথা উন্নয়নশীল দেশসমূহের এক যুগান্তকারী বিজয়’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের বৈশিষ্ট্য আছে, তারা ঝুঁকির দিকে যাবে না। মোটামুটি যেখান থেকে সহজেই লাভটা তুলে নিতে পারবে, সেখানেই তারা যাবে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবি যখন পিছিয়ে গেলো, প্রধানমন্ত্রী ঠিক করলেন, তিনি জাপান যাবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি পদ্মা, রূপসা আরও দুই একটা সেতু সম্পর্কে বলেন। তারা পদ্মা সেতুতে রাজিও হয়। কিন্তু রাজি হওয়াটা ‘আমরা তোমাদের অনুরোধ শুনলাম। আমরা জানাবো’ ঠিক এমন।

পদ্মা সেতুর শুরুর সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জাইকার এক প্রতিনিধি আমাকে বললো দুদিনের ভেতর আমাদের জানাতে হবে কোন বড় প্রকল্পটা নিতে চাও। কারণ আমরা বাজেট ঠিক করবো। তখন সংসদ অধিবেশন চলছে। প্রধানমন্ত্রী একদিন সংসদে যাচ্ছেন। তখন আমাকে ডাকলেন। প্রধানমন্ত্রীকে এটা জানানোর পর তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, কার বাড়ি যেতে কতক্ষণ লাগবে। পদ্মা সেতু হলে কোন জেলার কার বাড়ি যেতে কতক্ষণ লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা হলো, এই কল্যাণটা দেশের মানুষের কাছে কতটুকু ছড়াবে।

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের পুরোনো সম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাপান সরকারকে অনুরোধের বিষয়টি কেন আসলো। বঙ্গবন্ধু ৭৪ সালে জাপানে যান। তখন জাপান সরকারকে তিনি যমুনা সেতুর কথা বলেন। জাপান তখন রাজি হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য শেখ হাসিনা জাপানের কথাই মাথায় নেন। ভাগ্যক্রমে যখন বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন হয়, তিনিও তখন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক যদি কোনো দুর্নীতির গন্ধ পায় তখন নাকি জাইকা ও এডিবিও পাবে। তখন তারা টাকা ছাড় বন্ধ করলো। কিন্তু বিশ্বব্যাংক কোনো কোর্টে যেতে পারবে না। কারণ তারা যার কাছ থেকে তথ্য পাচ্ছে, তাদের কখনো সামনে আনবে না। আনতেও পারবে না।

দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. মসিউর বলেন, একবার কোথাও উন্নয়ন শুরু হলে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষাও বাড়ে। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যে উন্নয়ন শুরু হয়েছে, এটা বাড়বে। মোংলা বন্দরের উন্নয়ন করা হবে। কিন্তু মোংলায় অনেকগুলো সীমাবদ্ধতা আছে।

ড. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ সময় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।

এছাড়া সেমিনারে আলোচনা করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, অর্থনীতিবিদ ড. এম খলীকুজ্জামান, পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য, পানি সম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু প্রমুখ।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে টমটম চালককে হত্যা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

কক্সবাজারে রমজান আলী (২৩) নামের এক টমটম চালককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

রমজান আলী পিএমখালীর জুমছড়ি এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি মিনি টমটম চালক।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভোরে একটি রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশিকুর রহমান বলেন, সকাল ৭টার দিকে এক তরুণকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তার অবস্থা ক্রিটিকাল থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তা বের করতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




দাম কমবে হুইল চেয়ারের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ২৭জন দেখেছেন
Image

আগের অর্থবছরে হুইল চেয়ারে ভ্যাট ছিল ১৫ শতাংশ। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে হুইল চেয়ার কেনায় ভ্যাট প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে হুইল চেয়ারের।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই প্রস্তাব করেন।

এছাড়া অর্থমন্ত্রী চলতি বাজেটে মুড়ি ও চিনির ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করেছেন।

এছাড়া সব ধরনের পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক ব্যাগ (ওভেন প্লাস্টিক ব্যাগসহ) ও মোড়কে কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের শিরোনাম ‘কোভিড অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’।

নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এর ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়। অনুদান বাদে এই বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট। এবার বাজেটে সঙ্গত কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিখাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




মোহাইমিনুলের পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়ার গল্প

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
Image

মোহাইমিনুল ময় ৪০তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে (সুপারিশপ্রাপ্ত) প্রথম হয়েছেন। এটি তার প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। সম্প্রতি তার বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ক্যারিয়ার ভাবনা জানিয়েছেন জাগো নিউজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিসুল ইসলাম নাঈম—

জাগো নিউজ: প্রথমেই আপনার পড়াশোনা সম্পর্কে জানতে চাই—
মোহাইমিনুল ময়: আমার পড়াশোনা শুরু গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায়। এখানে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনা করি। তারপর পারিবারিক কারণে ঢাকায় চলে আসি। আমি ২০১০ সালে শেরে বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১২ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করি। তারপর ২০১২-২০১৩ সেশনে বুয়েটে ভর্তি হই এবং পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করি।

জাগো নিউজ: আপনার শৈশবের দিনগুলো কেমন ছিল?
মোহাইমিনুল ময়: আমার শৈশব কেটেছে মফস্বল শহর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায়। প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটতো। তেমন চাকচিক্যময় জীবন ছিল না। মস্বফলে অন্যদের মতো সাধারণভাবে জীবন কেটেছে। তবে ছোটবেলায় বই পড়ার একটা ঝোঁক ছিল। তিন গোয়েন্দার বই অনেক বেশি পড়তাম। সেটার অনেক প্রভাব আছে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও। বই জোগার করা অনেক কঠিন ছিল। বই কালেকশনের জন্য অনেক মেমোরি রয়েছে।

জাগো নিউজ: প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম হওয়ার অনুভূতি কেমন?
মোহাইমিনুল ময়: এটি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কারণ প্রথম হবো এটি একদমই আশা করিনি। তবে রিটেন ও ভাইবা দেওয়ার পর আশা ছিল ভালো রেজাল্ট আসবে। প্রথম যে হবো তখন এটি চিন্তাই করিনি। মনে মনে ভেবেছি, হয়তো ভালো কিছুই হবে। প্রথম হওয়ার অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ, যা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।

জাগো নিউজ: আপনার পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল?
মোহাইমিনুল ময়: সত্য বলতে পড়াশোনার জন্য তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়নি। কারণ আমার বাবা একজন ব্যাংকার ছিলেন। তিনি বর্তমানে অবসরে। পড়াশোনার জন্য সব সময় আমাকে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার থেকে উৎসাহ দেওয়া হতো। তাই বলা যায়, পড়ালেখার জন্য আমাকে কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়নি।

জাগো নিউজ: বিসিএস নিয়ে স্বপ্ন দেখলেন কবে থেকে?
মোহাইমিনুল ময়: ছাত্রাবস্থায় বা গ্র্যাজুয়েশনের আগে বিসিএস নিয়ে তেমন চিন্তা করিনি। তখন বিসিএস দেবো এরকম ইচ্ছে জাগতো না। গ্র্যাজুয়েশনের পর ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু থাকি। জানি, বর্তমানে অন্যান্য চাকরির চেয়ে বিসিএস সবচেয়ে ভালো। এখানে কাজের পরিবেশ উন্নত এবং সুযোগ-সুবিধাও বেশি। তখন থেকেই বিসিএস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ভাবি, অন্য যাই করি না কেন, বিসিএসকে মেইন ফোকাসে রেখে এগিয়ে যাবো। পাশাপাশি চেষ্টা করি, যাতে প্রথম বিসিএসেই একটা ভালো রেজাল্ট চলে আসে।

জাগো নিউজ: বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই, প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছেন?
মোহাইমিনুল ময়: বিসিএসের সিলেবাসে বিভিন্ন বিষয়ের টপিক থাকায় প্রথমে কাজটি একটু কঠিন মনে হয়েছে। কোন অংশ পড়ব, কোন অংশ বাদ দেবো তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। এরপর বিসিএসের সিলেবাস বাদ দিয়ে প্রশ্ন অ্যানালাইসিস করতে শুরু করি। তখন বুঝতে পারি, কোন টপিকে কম এবং কোন টপিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দিতে হবে। পাশাপাশি কোন বিষয়ে কতটুকু বেসিক জানতে হবে। বেসিক জানার জন্য বাজারের বইয়ের তুলনায় বোর্ড বইগুলো বেশি ফলো করি। এমসিকিউর জন্য বাজারের বই থেকে প্রচুর অনুশীলন করেছি। প্রিলিতে এমসিকিউ কনফিডেন্টলি দাগানোর চেষ্টা করতাম। রিটেনের ক্ষেত্রে অনেক ভালো পড়েও লেখা যায়। আবার না পড়েও লেখা যাবে। রিটেনের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকে। কিন্তু এই অল্প জানা থেকে ভালো নম্বর তোলা যায় না। রিটেনের প্রিপারেশনের জন্য বাজারের বই বাদে ইন্টারনেটের সহযোগিতা নিয়েছি। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর জন্য বিভিন্ন প্রবন্ধ ও কলাম ফলো করেছি। লিখিতে প্রত্যেকটা টপিক একটু আলাদাভাবে খাতায় দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভাইবার ক্ষেত্রে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না। এখানে পরীক্ষার্থীর গোছানো লুক ও কথা বলার স্টাইল ফলো করা হয়। ভাইবায় আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী থাকার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি ক্যাডার চয়েস, পঠিত বিষয়, নিজ জেলা, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়গুলো আগে থেকেই জেনে গেছি। স্যারদের প্রশ্নের উত্তর ভিন্নভাবে গুছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

jagonews24

জাগো নিউজ: বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে কেন এলেন?
মোহাইমিনুল ময়: এত এত ক্যাডারের মাঝে পররাষ্ট্র ক্যাডারকে প্রথম দেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ, আমার যে পারসোনালিটি রয়েছে, সেটি পররাষ্ট্র ক্যাডারের কাজের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। নিজ দেশের সংস্কৃতিকে এবং নিজের দেশকে অন্য দেশে উপস্থাপনের যে সুযোগ পররাষ্ট্র ক্যাডার দেয়; সেটি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আকর্ষণ করে। এ জন্য পররাষ্ট্র ক্যাডারকে নিজের প্রথম ক্যাডার হিসেবে বেছে নিই।

জাগো নিউজ: নতুনরা বিসিএস প্রস্তুতি কীভাবে শুরু করবেন?
মোহাইমিনুল ময়: প্রথমেই প্রিলির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিসিএসের সিলেবাস সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। পাশাপাশি টপিক অনুযায়ী পড়াশোনা এগিয়ে নিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোয় কম সময় দেওয়াই শ্রেয়। যে কোনো টপিকের বেসিক সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। বেসিক জানা থাকলে যে কোনোভাবে প্রশ্ন আসলে দেওয়া যায়। বেসিকের জানার জন্য বোর্ড বই, ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজা ও নিয়মিত পত্রিকা পড়া উচিত। এমনভাবে পড়তে হবে, যাতে যে কোনো টপিক পড়ার পর অন্যদের সে সম্পর্কে পড়াতে পাড়েন। পাশাপাশি নিয়মিত এমসিকিউ অনুশীলন করতে হবে। বাজারের বই কিনে সময় ধরে প্র্যাক্টিস চালিয়ে যেতে হবে। এতে প্রশ্ন সম্পর্কে ও টাইম মেনেজমেন্ট নিয়ে ভালো ধারণা হয়।

জাগো নিউজ: বিসিএস লিখিতের জন্য কোন বিষয়গুলো ফোকাস করা উচিত?
মোহাইমিনুল ময়: বিসিএস লিখিতের সাথে প্রিলির যথেষ্ট মিল রয়েছে। লিখিতের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে সবাই পরিচিত থাকে। কিন্তু খাতায় লেখার ক্ষেত্রে কোয়ালিটিফুল লেখা জরুরি। লিখিতের টপিক দেখে অনেকেই কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকায় সহজ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এখানে এসএসসি বা এইচএসসির মতো লিখলে ভালো মার্ক পাওয়া যাবে না। লেখার প্রেজেন্টেশন, খাতার স্কিল ও টাইম ম্যানেজমেন্ট মাথায় রাখতে হবে। লেখায় ডাটা বা তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। লেখার প্রেজেন্টেশন অন্যদের থেকে একটু আলাদা লেখার চেষ্টা করতে হবে। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিকের জন্য নিজের মতো করে ভালো লিখতে হবে। পত্রিকার প্রবন্ধ ও কলাম পড়ে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি ম্যাথের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে।

জাগো নিউজ: বিসিএস যাত্রায় সোশ্যাল মিডিয়া কি কোনোভাবে কাজে এসেছে?
মোহাইমিনুল ময়: আমার বিসিএস জার্নিতে সোশ্যাল মিডিয়ার বড় একটি ভূমিকা রয়েছে। কারণ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া কোনো কিছু চিন্তা করা যায় না। তবে সোশ্যাল মিডিয়া সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। ফেসবুকে অসংখ্য বিসিএস রিলেটেড গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপে প্রতিনিয়ত পরীক্ষার আপডেট, নোট, বিভিন্ন তথ্য ও দিকনির্দেশনামূলক বিভিন্ন লেখা পড়া হতো। গ্রুপগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতাম। এ ছাড়াও আউট নলেজ অর্জনের ক্ষেত্রে ফেসবুক একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ভালো ভালো মানুষের ফলো করে তাদের থেকে বিভিন্ন উপদেশমূলক ও দরকারি তথ্য নিয়ে নিজের জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। বিসিএস প্রস্তুতির সময় আমি চাকরিতে ছিলাম। তখন বই সাথে নিয়ে নিয়ে পড়াটা একটুু কঠিন ছিল। তাই ফেসবুকে বিসিএস রিলেটেড গ্রুপগুলোয় ঢুকে বিভিন্ন বিষয় পড়ার চেষ্টা করতাম। সোশ্যাল মিডিয়া আবার পড়াশোনায় বড় একটি ভূমিকা পালন করেছে। তবে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলবো, সোশ্যাল মিডিয়া প্রকৃতভাবে ব্যবহার করার জন্য। এর নেগেটিভ দিক বাদ দিয়ে পজিটিভ দিকে সময় দেওয়া উচিত।

জাগো নিউজ: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মোহাইমিনুল ময়: বিসিএস দেওয়ার আগে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নানা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেত। কী করবো, না করবো দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে যেহেতু একটি অবস্থানে আসতে পেরেছি; সেহেতু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আলাদাভাবে কিছু নেই। বাংলাদেশ সরকার থেকে যেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি চেষ্টা করবো দেশের মানুষের জন্য সততার সাথে সেই কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য। একজন পররাষ্ট্র ক্যাডার হিসেবে নিজের দেশকে যেভাবে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যতে নিজের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যায়, সেই চেষ্টা থাকবে। সততা ও নিষ্ঠার সাথে সবার দোয়া নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।


আরও খবর

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২