Logo
শিরোনাম

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভুট্টায় স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৫১জন দেখেছেন
Image

ঠাকুরগাঁওজুড়ে দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি, ঝড়োবৃষ্টি ও কালবৈশাখী হানা দিয়েছে। ফলে ভুট্টার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হেক্টরকে হেক্টর ভুট্টার মাঠ। উৎপাদন ব্যাহত হলেও বাজারে দাম ভালো থাকায় ভুট্টা ঘরে তুলতে দেখা গেছে কৃষকের ব্যস্ততা।

সোমবার (৯ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে ঝড়ে নুইয়ে পড়া ডাটা থেকে ভুট্টার মোচা ভাঙছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।

সদর উপজেলার চিলারংয়ের সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার গ্রামে গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছিল। যেসব কৃষক ভুট্টার চাষ করেছেন তাদের মাঝে আমিও একজন চাষি। প্রতিবছর এখানে বাম্পার ফলন হয়।

চলতি বছরেও দ্বিগুণ ফলন হত। কিন্তু ঝড়ের কারণে ভুট্টার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই খুব দুশ্চিন্তা করছিলাম। তবে বাজারে ভুট্টার দাম ভালো যাচ্ছে তাই লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব বলে প্রত্যাশা করছি। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুট্টা বিক্রি করতে চাই।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক রমিজ উদ্দীন বলেন, আমার আবাদের অর্ধেক ভুট্টা ক্ষেত ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দাম থাকায় খরচ উঠে আসবে আশা করছি। প্রতি বছর ৭ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করি। প্রতি বিঘাতে পেতাম ৭০ থেকে ৮০ মণ ভুট্টা। কিন্তু এবারে ৪০ মণের বেশি পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক মিঠু রহমান বলেন, গত বছর লাভবান হয়ে এবার ৪ বিঘা থেকে ৮ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। বার বার ঝড়ের কবলে না পড়লে এবার ভুট্টা চাষিরা অনেক বেশি লাভবান হতাম। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারের দামে ক্ষতি কিছু কমিয়ে আনলেও লাভবান হতে পারব না।

এবার মাঠেই কাঁচা ভুট্টা বিক্রি করছি ৮২ কেজির বস্তা ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকা। গতবছর বিক্রি করেছিলাম সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা। দামে আমি বেশ খুশি। তবে আগাম ভুট্টা ছাড়াও যারা একটু দেরিতে ভুট্টার চাষ করেছেন তারা একটু বেশি হতাশাগ্রস্ত।

এ বিষয়ে আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামের কৃষক হাসেম আলী বলেন, কিছুদিন আগে দফায় দফায় শিলাবৃষ্টির কারণে মচা হওয়ার আগেই ভুট্টার চারা ডাটা ভেঙে গেছে। অনেকের ভুট্টা গাছ আবার নুইয়ে পড়েছে। ফলন ভালো হয়নি। সেক্ষেত্রে আমার মতো চাষিরা লোকসানে পড়বেন। উৎপাদন খরচ উঠানোও কষ্টসাধ্য হবে।

জেলার ভুট্টা ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বলেন, এবারে ভুট্টার উৎপাদন ভালো হয়নি। অনেক টাকা বিনিয়োগ করে ভুট্টা কিনতে হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ভুট্টা কিনতে গেলে দেখা যাচ্ছে ভালোমানের দানাদার ভুট্টা মিলছে না। ঝড়ের কারণে যেসব ভুট্টা গাছ হেলে পড়েছে সেসব গাছের ভুট্টার দানা খুব একটা ভালো নয়। তবে দাম ভালো পাওয়ায় ওভাবেই ভুট্টা দ্রুত সংগ্রহ করছেন কৃষক।

ঠাকুরগাঁও থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ ট্রাক ভুট্টা জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে বলে জানান ভুট্টা ব্যবসায়ী আখতার হোসেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যসূত্রে এবারে জেলাজুড়ে রবি ভুট্টার চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে এবং গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা ১৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৭ টন ভুট্টা।

এখন পর্যন্ত রবি ভুট্টা সংগ্রহ করা হয়েছে ৭ হাজার ৬৪৮ হেক্টর জমির। যা থেকে উৎপাদন এসেছে ৮১ হাজার ৮৩৪ মেট্রিক টন। গ্রীষ্মকালীন ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৯ টন। তবে ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা।

কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমি। যার মধ্যে চূড়ান্ত ক্ষতির হিসাব দেখানো হয়েছে ৬৪২ হেক্টর জমির।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এবারে কয়েক দফায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। যার কারণে উৎপাদন কিছুটা ব্যাবহত হতে পারে। তবে এখনো যে পরিমাণ ফসল মাঠে আছে তা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য হতে পারে।


আরও খবর



বেতন ছাড়াই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা দিচ্ছেন তারা

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
Image

সমাজের পিছিয়েপড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় অটিজম স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করে শারীরিক, মানসিক, বাকসহ নানা প্রকৃতির বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা।

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জে মোট এনডিডি (নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজ) ও নন-এনডিডি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে ৩৫টি। এই স্কুলগুলোতে জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের অবহেলিত প্রায় ৯ হাজার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু অধ্যয়ন করে। এদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন ৯৮০ শিক্ষক।

তবে স্কুলগুলোতে যেসব শিক্ষক পাঠদান করেন তাদের নেই কোনো বেতন-ভাতা। ২০০৯ সালের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠা পাওয়া স্কুলগুলোর শিক্ষক-শিক্ষিকারা বেতন-ভাতা ছাড়াই মানবেতর জীবনযাপন করে নিয়মিত স্কুলের শিক্ষা দিয়ে আসছেন।

জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরমিনা খাতুন বলেন, আমার স্কুলে শিক্ষার্থী ২০০ জন। কিন্তু আমরা যারা শিক্ষক রয়েছি তাদের কোনো বেতন বা ভাতা নেই। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা বিনা বেতনে ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিচ্ছি।

Sirajganj-2.jpg

উল্লাপাড়া উপজেলার নন্দকোষা সমন্বিত প্রতিবন্ধী আদর্শ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহানারা খাতুন বলেন, ২০০৯ সালে আমার স্কুলটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এই স্কুলে ৪৪ জন শিক্ষক ২৬০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পড়ালেখা করিয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত কোনো বেতন বা ভাতা পাই না।

তিনি বলেন, স্বামীর পকেটের টাকায় রিকশা ভাড়া করে স্কুলে আসি আবার স্কুল শেষে বাসায় যাই তার টাকার ওপর নির্ভর করে। নিজে নামমাত্র চাকরি করি তাই অসুস্থ হলেও স্বামীকে বলতে সাহস পাই না চিকিৎসার কথা। জানি না এভাবে বেতন -ভাতার আশায় আর কতদিন পার করতে হবে।

বেলকুচি অটিজম স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক বেলকুচি পৌরসভার মেয়র বেগম আশানূর বিশ্বাস। তিনি যখন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন আমরা পৌরসভা থেকে কিছু সম্মানী ভাতা পেতাম। কিন্তু নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রায় দুই বছর হলো তা বন্ধ রয়েছে। এখন আমাদের বেতন-ভাতা ছাড়াই খেয়ে না খেয়ে ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিতে হচ্ছে। এখন যদি সরকার আমাদের দিকে সদয় হোন তাহলে আমাদের রক্ষা হবে। তাছাড়া তো বিকল্প কোনো ব্যবস্থা দেখছি না।

এদিকে, বেলকুচি পৌরসভার মেয়র সাজ্জাদূল হক রেজার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বেলকুচি প্রতিবন্ধী স্কুল নামে যে প্রতিষ্ঠান রয়েছে তা সাবেক মেয়র কীভাবে পরিচালনা করেছে তা আমার জানা নেই। কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের বেতন তো আমার পৌরসভা থেকে দিতে পারি না। যদি ওটা পৌরসভা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হতো তবে তা পৌরসভা দেখতো।

অটিজম স্কুলগুলোর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে কথা হয় জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সরকারিভাবে ওনাদের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকলে আসলেই আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে যদি কোনো সরকারি সহায়তা বা বরাদ্দ আসে তবে এসব স্কুলের শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দিতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলে দেওয়া রয়েছে।


আরও খবর



কিশোরগঞ্জে হাজতির মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৩৫জন দেখেছেন
Image

কিশোরগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার আটক মো. শামীম (৩৫) নামের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৮ মে) ভোরে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মো. শামীম বাজিতপুর উপজেলার মধ্য ভাগলপুর গ্রামের মৃত কালা চান মিয়ার ছেলে।

জেল সুপার মো. বজলুর রশীদ জানান, বিচারাধীন মাদক মামলার আসামি মো. শামীম। শনিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়ে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



দৃষ্টিনন্দন হচ্ছে রাজধানীর সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৪৮জন দেখেছেন
Image

ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হবে। বর্তমান অবকাঠামো পরিবর্তন করে নতুন আঙ্গিকে বিদ্যালয়গুলোকে সাজানো হবে। অবকাঠামো অনুযায়ী আধুনিক করে তোলা হবে। সমাজের সব স্তরের মানুষের সন্তানদের ভর্তিতে আগ্রহী করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামীকাল বুধবার (১১ মে) মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, সব শ্রেণি-পেশার অভিভাবকের সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী করতে ঢাকা মহানগরীতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় ঢাকা মহানগরীর সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামোর নকশা আধুনিক করে তোলা হবে। এ জন্য ‘ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগরীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫৪টি বিদ্যালয়ের দুই হাজার ৯৭৫টি কক্ষ নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ১৭৭টি বিদ্যালয়ের এক হাজার ১৬৭টি কক্ষের অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দন করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় উত্তরায় তিনটি ও পূর্বাচলে ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্প শেষ হবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৫৯ কোটি দুই লাখ ৫৩ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) ও প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় ঢাকা মহানগরীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো নাজুক। এ কারণে সব শ্রেণি-পেশার অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এসব বিদ্যালয়ে পড়াতে আগ্রহী হন না। আমরা অভিভাবকদের এসব বিদ্যালয়ে সন্তানদের পাঠাতে উৎসাহিত করতে চাই। বিদ্যালয়গুলো দৃষ্টিনন্দন করার উদ্যোগ এর অন্যতম পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হলেও করোনা মহামারির কারণে যথাসময়ে কাজ শুরু করা যায়নি। তবে ইতোমধ্যে প্রকল্পের সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামীকাল (বুধবার) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হবে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম মঙ্গলবার (১০ মে) জাগো নিউজকে বলেন, প্রথম ধাপে রাজধানীর ২০টি বিদ্যালয়ের নকশা তৈরি করা হচ্ছে। দুটি নকশা (ডিজাইন) চূড়ান্ত হওয়ায় সেগুলোর কাজ শুরু করা হচ্ছে। অবকাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের আলাদা আর্কিটেকচার ডিজাইন করা হবে।

তিনি বলেন, বাহিরে খেলার মাঠ ছাড়াও ভেতরে ইনডোর মাঠ করা হবে। আধুনিক ওয়াশরুম, অভিভাবক ছাউনি, শহীদ মিনারসহ বিদ্যালয়ের জন্য সব সুবিধা তৈরি করা হবে।


আরও খবর



বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবেশ ভাবনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৬৫জন দেখেছেন
Image

সাইফুর রহমান তুহিন

এশিয়া মহাদেশের মধ্যে প্রথমবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিবেশবাদী কবিতায় রেখে গেছেন তার গভীর প্রভাব। যদিও সাহিত্যে পরিবেশবাদ একটি সাম্প্রতিক ধারণা। তারপরও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মে এর চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়। তার সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে প্রকৃতি ছিল একটি নিয়মিত বিষয়। পরিবেশবাদী কবিতার ক্ষেত্রে প্রকৃতিকে শুধু সৌন্দর্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেয়ে একে বাঁচিয়ে রাখার দিকটিই প্রাধান্য পেয়ে থাকে।

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অসাধারণ চিন্তাবিদ, লেখক, সংগীতজ্ঞ ও দার্শনিক। নিজের লেখা কবিতা, ছোটগল্প, গান এমনকি চিঠিপত্রেও তিনি প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আকর্ষণ প্রকাশ করেছেন। তার সাহিত্যকর্মে প্রকৃতি যেন আমাদের কাছে জীবন্ত হয়ে দেখা দেয়। তার প্রথম কবিতা ‘জল পড়ে, পাতা নড়ে’ প্রকৃতির সৌন্দর্যকেই ফুটিয়ে তোলে। কবিগুরুর জীবদ্দশায়ই (১৮৬১ থেকে ১৯৪১ সাল) প্রকৃতিকে ধ্বংসের বিষয়টি একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সময়টা ছিল বিজ্ঞানের সম্মুখ পানে এগিয়ে যাওয়ার। রবীন্দ্রনাথ কিন্তু শিল্প বিপ্লবের সাথে সাথে উন্নত দেশগুলোয় আধুনিক কৃষি পদ্ধতি প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি বন-জঙ্গল এবং তরতাজা জমি ধ্বংস হতে দেখেছেন। একদিকে প্রকৃতির প্রতি আধ্যাত্মিক অনুরাগ আর অন্যদিকে প্রকৃতি ধ্বংস হওয়া কবিগুরুকে এ বিষয়ে লিখতে প্রবলভাবে আগ্রহী করে তোলে।

পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতার বিষয়টি সাহিত্যের ক্ষেত্রে বেশ সাম্প্রতিক ধারণা হলেও রবীন্দ্রনাথ এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে এটি নিয়ে ভেবেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে তাকে একজন পরিবেশবাদী বলাও অযৌক্তিক হবে না। ১৯১৬ সালে জাপান সফরে যাওয়ার সময় সাগরে তেল নিঃসরণের বিষয়টি পরিবেশের ওপর মানুষের নেতিবাচক প্রভাবের ব্যাপারে কবিগুরুকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। আপাতদৃষ্টিতে প্রকৃতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগের ঘাটতি তাকে বিষয়টি নিয়ে বিশদভাবে লেখার রসদ জোগায়। প্রকৃতিকে চিত্তাকর্ষক ও আবেগময় ভাষায় উপস্থাপনের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ তার কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ ও গানে স্পষ্ট ভাবেই পরিবেশ সচেতনতার নিদর্শন রাখেন। বিষয়টিকে তিনি শুধুই তার সাহিত্যকর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি।

কুষ্টিয়ার শিলাইদহ ও পতিসার গ্রামে যথাক্রমে ১৮৯৪ ও ১৯১৪ সালে তার পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগ ছিল কৃষকদের জন্য কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মতোই। এর পাশাপাশি কুটির শিল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করে রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতি নিয়ে তার গভীর চিন্তা-ভাবনার প্রমাণ দেন। প্রকৃতির সবচেয়ে ফলদায়ক উপাদান গাছ শুধুই অতি সাধারণ বৃক্ষমাত্র নয়, কবিগুরুর সাহিত্যকর্মেরও উপাদান। তিনি তাদের সাথে কথা বলতেন এবং সানন্দে তাদের নিজের প্রতি এক উপহার হিসেবে স্বীকার করতেন। ১৯২৯ সালে তিনি ‘বনবাণী’ কবিতাটি রচনা করেছিলেন বৃক্ষরোপণ উৎসব উপলক্ষে। এ কবিতায় কবি নির্বিচারে প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহারের জন্য আধুনিক সভ্যতার সমালোচনা করেন।

পরিবেশের প্রতি মানুষের নিষ্ঠুরতার বিষয়টি নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন খুবই সোচ্চার। ‘সভ্যতার প্রতি’ কবিতায় আধুনিক জীবনের অবসাদের বিষয়টি এতটা নিঃসারভাবে ফুটে উঠেছে যে, কবি প্রস্তর-হৃদয় থেকে মুক্তি লাভের জন্য খুব সাদামাটাভাবে আগের সেই বন্য জীবনে ফিরে যেতে চেয়েছেন। সর্বনাশা সভ্যতার কবল থেকে তিনি রেহাই চেয়েছেন এভাবেই। ‘বসুন্ধরা’ কবিতায়ও তিনি প্রকৃতির সাথে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি প্রবন্ধও পরিবেশবাদী চিন্তার প্রকাশ ঘটায়। ‘তপোবন’ রচনায় বন হচ্ছে একটি জীবন্ত প্রাণিসত্তা। এখানে রবীন্দ্রনাথ স্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন যে, একসময় বনই ছিল সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু।

তিনি আরও বলেছেন, এটি জ্ঞানের উৎস, এটি আমাদের পরিচর্যা করে এবং আমাদের সভ্যতার কর্ণধার হলো সাধু-সন্ন্যাসীরা যারা প্রাচীন বনে বসবাস করতো। রবীন্দ্রনাথের পরিবেশ সচেতনতার আরও প্রমাণ পাওয়া যায় ‘পল্লী প্রকৃতি’, ‘উপেক্ষিত পল্লী’, ‘ভূমিলক্ষ্মী’, ‘বৃক্ষরোপণ’ ও ‘হালকারশানা’ গ্রন্থে। ‘শ্রীনিকেতন’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ শহর ও নগরের সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে তার প্রবল বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। ‘পল্লীপ্রকৃতি’ গ্রন্থের ‘অরণ্যদেবতা’ রচনায় তিনি আগামী দিনের পরিবেশ সংকটের বিষয়টি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সমসাময়িক খুব কম সাহিত্যিকই বিংশ শতাব্দীতে পরিবেশের এ বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিতে পেরেছিলেন। এ ক্ষেত্রে তিনি একজন সত্যিকারের স্বপ্নচারী; যিনি একবিংশ শতাব্দীর একজন নাগরিকের মতো চিন্তা করতে পেরেছিলেন। চিঠিপত্রের সংকলন ‘ছিন্নপত্রাবলী’তে রবীন্দ্রনাথ পদ্মা নদী ও তার চারপাশের অনুপম সৌন্দর্য সম্পর্কে একটি দারুণ চিত্র উপস্থাপন করেছেন।

কুষ্টিয়ার শিলাইদহে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ পূর্ব বাংলার নজরকাড়া সৌন্দর্যের সংস্পর্শে আসেন। গড়াই নদীতে বার বার ভ্রমণ এবং মানুষের জীবনে ঋতু পরিবর্তনের বৈচিত্র্যের প্রভাবের বিষয়টির উপস্থিতি তার লেখায় পাওয়া যায়। ‘মুক্তধারা’ ও ‘রক্তকরবী’ নৃত্যনাট্যেও রবীন্দ্রনাথের পরিবেশবাদী চিন্তাধারার জোরালো উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। ১৯২২ সালে রচিত ‘মুক্তধারা’ ছিল যান্ত্রিক জীবনের প্রতি তার প্রবল অনীহার এক প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ। ১৯২৫ সালে রচিত ‘রক্তকরবী’ পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার অনৈতিক দিকটি চিত্রায়িত করে, যারা প্রকৃতি ও পরিবেশকে অগ্রাহ্য করেছে। এই রক্তকরবী এখনো আধুনিক যুগের দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ে দোলা দেয়।

রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ‘বলাই’তে প্রকৃতির প্রতি তার গভীর অনুরাগ ও আধ্যাত্মিক একত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায়। মাতৃহীন বালক বলাই ভীষণ প্রকৃতিপ্রেমী এবং প্রকৃতি মাতা ছাড়া সে অসম্পূর্ণ। বিখ্যাত কবিতা ‘দুই পাখি’তে (যেটিকে গানেও রূপ দেওয়া গয়েছিল) কবিগুরু পরিবেশ ও সংস্কৃতির মধ্যে বৈসাদৃশ্য তুলে ধরেছেন দুটি পাখিকে চিত্রায়িত করে, যার একটি বনের মধ্যে মুক্ত এবং আরেকটি খাঁচায় বন্দি। দুই ধরনের দুটি সৃষ্টির মধ্যে কলহ-বিবাদ প্রকারান্তরে মানব সৃষ্ট সংস্কৃতি ও আদিম প্রকৃতির মধ্যে প্রতীকী সংঘাতকেই সামনে নিয়ে আসে। ‘প্রশ্ন’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ স্পষ্টভাবেই পরিবেশ ধ্বংসের ব্যাপারে তার মানসিক আঘাতের বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। নিজের ভেতরের পরিবেশবাদী সত্তা তাকে খুব ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, অবাধে পরিবেশ ধ্বংস হওয়া প্রতিরোধ করা ক্রমান্বয়ে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

রবীন্দ্রনাথের এই পরিবেশবাদী চেতনা খুব সহজেই তাকে সমসাময়িক অন্যান্য অনেক সাহিত্যিকের চেয়ে আলাদা করে তোলে। আর কোনো সাহিত্যিক এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের কেউ এতো তাড়াতাড়ি পরিবেশ ধ্বংসের ব্যাপারে আন্তরিকভাবে এমন জোরালো প্রতিবাদ করেননি। নিজের সাহিত্যকর্মে রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতিকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তাতে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, পরিবেশের প্রতি বাধাহীন নিষ্ঠুরতার বিষয়ে তিনি কতটা সজাগ ও সমালোচনামুখর ছিলেন।

অর্থহীন এ ধ্বংসলীলাকে প্রতিরোধ করার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন। প্রকৃতি আধ্যাত্মিকভাবে আমাদের ধারণ করে এবং টিকে থাকার ব্যাপারে সুরক্ষা দেয়। তাই আমরা এর ওপর নিষ্ঠুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পারি না এবং প্রকৃতির সাথে জটিল বন্ধন ভাঙতেও পারি না। আর এ কারণেই প্রকৃতি মাতাকে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কবল থেকে রক্ষার জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিল অক্লান্ত প্রচেষ্টা, যার ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রয়েছে। তার শতাব্দী-প্রাচীন চিন্তা-ভাবনা এখনকার যুগেও খুবই বাস্তবসম্মত। পরিবেশ রক্ষায় তার প্রবল আকুতি ক্রমেই বাস্তব রূপ লাভ করছে।

লেখক: ফিচার লেখক ও সাহিত্য সমালোচক।


আরও খবর



সব ক্লাব রিয়ালকে ভয় পায়, রিয়াল ভয় পায় বার্সাকে!

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ড থিয়েরি অঁরির মতে, ইউরোপের সব ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে ভয় পায়। তবে রিয়াল মাদ্রিদ আবার ভয় পায় তাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে।

২০০৭ থেকে ২০১০ পর্যন্ত বার্সেলোনার জার্সিতে খেলেছেন এ ফরাসি মিডফিল্ডার। তাই দুই ক্লাবের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ ভালোভাবেই জানা রয়েছে অঁরির।

সেই অভিজ্ঞতার আলোকে সিবিএস স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অঁরি বলেছেন, ‘সব ইউরোপিয়ান ক্লাব ভয় পায় রিয়াল মাদ্রিদকে... আর রিয়াল ভয় পায় বার্সেলোনাকে।’

আগামী ২৮ মে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুলের মুখোমুখি হবে রিয়াল। এই ম্যাচ নিয়ে অঁরির ভবিষ্যদ্বাণী, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি লিভারপুল এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতবে। তারা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে শক্তিশালী।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালটি আরও বড় লড়াই। কারণ ব্যালন ডি অরের দুই সম্ভাব্য দাবিদার সাদিও মানে এবং করিম বেনজেমা একে অপরের বিপক্ষে লড়বে।’

চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ব্যালন ডি অরের দৌড়ে ফরাসি তারকা বেনজেমাই সবার চেয়ে এগিয়ে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৩ গোল ও ১৪ অ্যাসিস্ট করেছেন বেনজেমা। অঁরিও এগিয়ে রাখছেন স্বদেশি বেনজেমাকে। তবে মানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি অঁরি।

তার ভাষ্য, ‘আমি এখনও মনে করি বেনজেমা এগিয়ে রয়েছে। তবে মানে যদি লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে এবং তারা কোয়াড্রপল (চার শিরোপা) জেতে, তাহলে এটি হয়তো আফ্রিকায় চলে যাবে। কিন্তু আমি এখনও বেনজেমার পক্ষে।’


আরও খবর