Logo
শিরোনাম

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের কার্যকলাপের ফল, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটাতে পারে। করোনা মহামারি ও ইউক্রেন সংকটের মধ্যে আরও একটি দুঃসংবাদ পেল বিশ্ব। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) তাদের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এখনই কমানো না গেলে শিগগির বিশ্ববাসীকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে বিশ্বে খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহের মতো বিপর্যয় বাড়তেই থাকবে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন অত্যন্ত অনুভূত হচ্ছে। মানুষ এবং প্রকৃতিকে ২০ বছর আগের তুলনায় আরও চরম আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাপমাত্রার পরিবর্তন বা ভারী বৃষ্টিপাতের মতো ঘটনাগুলো প্রায়শই ঘটছে। পশুপাখি, কৃষি ও মানুষের মধ্যে ক্রমশ প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘ বলছে যে, এই ধরনের প্রবণতা রোধ করতে একটি সুস্থ বাস্তুতন্ত্র এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে হবে। এটা সম্ভব হলে জনগণের কল্যাণ ও জীবনযাত্রার পথ টিকবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে এই বছরটিই সম্ভবত এই শতাব্দীর সবচেয়ে শীতলতম একটি বছর হবে কারণ আমাদের গ্রহ ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছে। আইপিসিসি বলছে, বিশ্বের সরকারগুলো জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে প্রতিশ্রুত বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ করবে না। বিপরীতে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বাড়ছে। এমনকি কয়েক দশকের গড় নির্গমন সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

এ অবস্থায় আগামী কয়েক দশকে বিশ্ব তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। এই হারে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বিশ্বকে এতটাই উত্তপ্ত করবে যে স্বাভাবিক কাজকর্ম করা যাবে না। ফসলের চাষাবাদ ও জীবনযাপন অসহনীয় হয়ে ওঠবে। বরফের পাহাড়গুলো অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং বড় শহরগুলো ডুবে যাবে। কিন্তু সরকার এখনও তাদের স্বার্থ ত্যাগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত। পরিবর্তে, তারা জীবাশ্ম জ্বালানিতে তাদের করা বিনিয়োগ রক্ষার দিকে বেশি মনোনিবেশ করে আছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উল্লেখ করেছেন যে এই ব্যবস্থা চলতে পারে না। তিনি যথার্থই বলেছেন যে, পৃথিবী দ্রুত জলবায়ু বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি অকপটে আরও বলেন যে, বিশ্বের দেশ এবং করপোরেশনগুলো শুধু একটি গ্রহগত বিপর্যয় দেখার ভান করছে না, আগুনের লেলিহান শিখায় ইন্ধনও দিচ্ছে। বিপরীতে, প্রয়োজনীয় পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গ্রহণ এবং সস্তা এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য বিকল্পের প্রচারের জন্য গৃহীত নীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য খুব কম সময় রয়েছে। ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য, বিশ্বকে ২০৩০ সালের মধ্যে তার বার্ষিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন প্রায় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্যে পৌঁছাতে হবে। এজন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমাতে হবে।

আন্তোনিও গুতেরেস এক টুইট বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের অনেক প্রতিবেদন দেখেছেন। কিন্তু আইপিসিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্বের ব্যর্থতা তুলে ধরার মতো ভয়াবহ চিত্র তিনি আগে কখনও দেখেননি। তার মতে, তার মতো সারা বিশ্বের মানুষ চিন্তিত ও ক্ষুব্ধ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে জনগণকে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মুষ্টিমেয় কিছু দেশ এবং বড় করপোরেশন কীভাবে বাকি বিশ্বের অধিকার খর্ব করছে সে বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকার তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, যাকে তিনি অপরাধ বলে মনে করেন।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা এখন প্যারিস চুক্তিতে প্রতিশ্রুত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই সীমা অতিক্রম করা মানে এটি একটি মৃত প্রবাল প্রাচীরের মতো একই প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের বর্তমান মহামারি থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য দ্রুত পরিবর্তনের একটি দুর্দান্ত সুযোগ ছিল। বিশ্বের বেশিরভাগ সরকার সেই সুযোগটি হারিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে হাইড্রোকার্বনের ওপর নির্ভরশীল উদ্বিগ্ন দেশগুলোর জন্য এখন আরেকটি সুযোগ এসেছে।

বাংলাদেশ ১৭০ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যেমন- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, এবং জলাবদ্ধতা, মাটির লবণাক্ততা ইত্যাদির কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ।

এই জলবায়ু পরিবর্তন দেশের কৃষি, অবকাঠামো এবং জীবনযাত্রার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ইতিমধ্যে আমরা সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে অকাল বন্যা হতে দেখেছি। যাতে হাওর অঞ্চলের ফসল বিশেষ করে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে এ বছর কলেরার প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগও বেড়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ । বাংলাদেশ একটি সমতল ও নিচু ভূমি এলাকা নিয়ে গঠিত। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের নাগরিক এবং সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। দেশের ৮০ শতাংশেরও বেশি জমি বন্যাপ্রবণ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত, তাই জলবায়ু পরিবর্তন এই কৃষকদের খারাপভাবে প্রভাবিত করবে।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ২১০০ সালের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হবে। প্রতিবেদনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়বে বলে অনুমান করা হয়েছে। এতে দেশে ব্যাপক বন্যা হবে এবং ফসলহানি ঘটবে। এতে দারিদ্র্য ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-১৩) জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছে। এসডিজি-১৩ এর টার্গেটগুলো হলো- ১. সব দেশে জলবায়ু সম্পর্কিত বিপদ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্থিতিস্থাপকতা এবং অভিযোজিত ক্ষমতা জোরদার করা, ২. জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যবস্থাগুলোকে জাতীয় নীতি, কৌশল এবং পরিকল্পনায় একীভূত করা,

৩. শিক্ষার উন্নতি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন, অভিযোজন, প্রভাব হ্রাস এবং প্রারম্ভিক সতর্কতা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, ৪. অর্থবহ প্রশমন কর্ম এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাহিদা মোকাবিলা করার জন্য ২০২০ সালের মধ্যে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার যৌথভাবে সংগ্রহ করার লক্ষ্যে UNFCCC-তে উন্নত-দেশের পক্ষগুলোর গৃহীত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা এবং সবুজ জলবায়ুকে সম্পূর্ণরূপে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করা;

৫. স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে কার্যকর জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রক্রিয়াগুলো প্রচার করা এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র, নারী, যুবক এবং স্থানীয় এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলোর ওপর ফোকাস করা; এবং ৬. স্বীকার করা যে, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য প্রাথমিক আন্তর্জাতিক, আন্তঃসরকারি ফোরাম। সুতরাং সেই লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে ব্যর্থতা দেশগুলোকে আরও জলবায়ু-প্ররোচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিকে নিয়ে যাবে।

২৭তম জলবায়ু সম্মেলন সামনে। পরিবেশ রক্ষায় সেখানে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু প্যারিস জলবায়ু বৈঠকে ১২০টি দেশ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা পূরণ হয়নি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি শতাব্দীতে বিশ্বের তাপমাত্রায় দূষণের মাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। যদিও প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে সব পক্ষ একমত হয়েছিল, তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ করতে হলে প্রতি বছর বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ ২৬ গিগাটন কমাতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি দেশকে তাদের বার্ষিক কার্বন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। এটি ২০২২ সাল। আর মাত্র আট বছর বাকি। সুতরাং এখনই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করলে বিশ্বকে আরও ভয়াবহতার সম্মুখীন হতে হবে।

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন প্রতিটি দেশকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন এটা স্পষ্ট যে কোনো উল্লেখযোগ্য লাভ হয়নি। ফলে তাপমাত্রা বেড়েছে ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ বছর বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দাবানল, তাপপ্রবাহ ও বন্যায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়ার বিচিত্র রূপ দেখা যাচ্ছে সর্বত্র।

জলবায়ু পরিবর্তন এই মুহূর্তে মানুষ এবং অন্যান্য জীবের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আরও বিধ্বংসী প্রভাব পড়বে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর মৃত্যু ইতিমধ্যে এটির ভয়াবহতা প্রমাণ করেছে। সুতরাং মানবজাতিসহ অন্যান্য প্রাণীর স্বার্থে আমাদের ভালোবাসার গ্রহকে রক্ষার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মোকাবিলা করা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।


আরও খবর



আম কাসুন্দিতে ভাঁপা ইলিশ রাঁধবেন যেভাবে

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

বর্ষা আসতেই বেড়ে যায় ইলিশের চাহিদা। এ সময় কমবেশি সবাই সরিষা ইলিশ, দই ইলিশ, ভাপা ইলিশ, ইলিশ মাছের তেল ঝাল ইত্যাদি পদ খেয়ে থাকেন!

চাইলে স্বাদ পাল্টাতে এবার না হয় তৈরি করুন আম ও কাসুন্দি দিয়ে তৈরি মাখা মাখা ইলিশের জিভে জল আনা পদ। জেনে নিন রেসিপি-

উপকরণ

১. ইলিশ মাছ ৪ পিস
২. লবণ স্বাদমতো
৩. হলুদ গুঁড়া ২ চা চামচ
৪. সরিষা ১ চা চামচ
৫. কাঁচা মরিচ বাটা ১ টেবিল চামচ
৬. কাঁচা আম বাটা ১ টেবিল চামচ
৭. চিনি স্বাদমতো
৮. কাসুন্দি ১ টেবিল চামচ ও
৯. সরিষার তেল ১ টেবিল চামচ।

পদ্ধতি

প্রথমে মাছের টুকরোগুলো লবণ আর হলুদ দিয়ে মাখিয়ে মেরিনেট করে রাখুন। এরপর প্যানে তেল গরম করে তাতে হলুদ ও সরিষা ফোড়ন দিয়ে কাঁচা মরিচের ফালি দিয়ে দিন।

এরপর কাঁচা আম বাটা প্যানে দিয়ে লবণ ও চিনি স্বাদমতো দিয়ে নাড়তে থাকুন। অল্প কষিয়ে এতে পানি মিশিয়ে দিন। ঢেকে কয়েক মিনিট রান্না করে মাছের পিসগুলো দিয়ে দিন।

কয়েক মিনিট পর কাসুন্দি মিশিয়ে সামান্য পানি দিন। মাখা মাখা হয়ে গেলে আম কাসুন্দি ভাপা নামিয়ে গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।


আরও খবর

ঘরেই তৈরি করুন ছোলা ভাটোরা

রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২




আ’লীগ ও জাপার সঙ্গে ইসির সংলাপ আজ

প্রকাশিত:রবিবার ৩১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
Image

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে আজ সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রোববার (৩১ জুলাই) বিকেল ৩টায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সংলাপে অংশ নেবে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল।

এরআগে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ইসির সঙ্গে সংলাপে বসবে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এ সংলাপে অংশ নেবে বলে জানা গেছে।

এছাড়া সকাল ১০টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ২০২১ পঞ্জিকা বছরের নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদন দাখিল করবে আওয়ামী লীগ।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গত ১৭ জুলাই থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে ইসি। প্রথমদিন সংলাপে বসে চারটি দল। প্রতিটি দল থেকে ১০ জন করে প্রতিনিধির এ সংলাপে অংশগ্রহণের সুযোগ রেখেছে ইসি।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক সংলাপের শেষ দিন রোববার (৩১ জুলাই)।

তবে এবারও ইসির সংলাপে যোগ দেয়নি বিএনপি। এরআগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসি সংলাপ করলেও বিএনপি তাতে অংশ নেয়নি। এছাড়া দলটির জোটে থাকা অন্যান্য দল এবং আওয়ামী লীগের জোটে থাকা বেশ কয়েকটি দলও অংশ নেয়নি।


আরও খবর



গাজায় অস্ত্রবিরতি ঘোষণা

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ | ১৫জন দেখেছেন
Image

গাজায় টানা তিন ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ। ইসরায়েলের গত কয়েক দিনের হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ১৫ শিশুসহ ৪৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩৫০ ফিলিস্তিনি।

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের রকেট হামলার অজুহাতে ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরু হয়। এরপর দু’পক্ষের লড়াই অব্যাহত থাকে। রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১ টা ৩০ মিনিটের দিকে উভয় পক্ষই যুদ্ধ থামাতে সম্মত হয়েছে। তবে তারা একে অপরকে সতর্ক করেছে যে কোনো সহিংসতার পথ যেনো এড়িয়ে চলে।

ইসলামিক জিহাদ ও ইসরায়েল, উভয়পক্ষই আলাদা বিবৃতির মাধ্যমে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা এ দেয়।।

স্থানীয় সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জনসাধারণের জন্য চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। গাজার পৌরসভাসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা ধ্বংসস্তূপ অপসারণের জন্য সরঞ্জাম পাঠাবে এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করবে।

গাজার ক্ষমতাসীন দল হামাস এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত ছিল। যদিও হামাস ইরান-সমর্থিত ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।

jagonews24

গত শুক্রবার থেকে ইসরায়েল ব্য্যাপক হারে হামলা শুরু করে গাজার বিভিন্ন এলাকার শরণার্থী শিবিরগুলোকে লক্ষ্য করে। তাদের দাবি, ইসলামিক জিহাদের শীর্ষ কমান্ডারদের টার্গেট করে এ হামলা চালায় তারা। অপরদিকে, ফিলিস্তিনের সরকারি সূত্রে জানা যায়, ৪৪ জন নিহত ফিলিস্তিনির মধ্যে অর্ধেকের বেশি বেসামরিক লোক।

উভয়পক্ষের এ অস্ত্রবিরতিতে জাতিসংঘ ও কাতারের সহায়তায় মধ্যস্থতা করে মিশর। ইসলামিক জিহাদের সেক্রেটারি জেনারেল জিয়াদ আল-নাখালা জানিয়েছেন, মিশর নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, ইসরায়েলের হাতে আটক ইসলামিক জিহাদের নেতাদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কাজ করবে তারা।

তবে এ ব্যাপারে এখনো ইসরায়েলের তরফে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এ অস্ত্ররিবতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদের অস্ত্রবিরতির ঘোষণার ফলে রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল করেন স্থানীয়রা।

সূত্র: আল-জাজিরা


আরও খবর



ভুয়া পরোয়ানায় কারাবাস: ৩২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেন আওলাদ হোসেন

প্রকাশিত:সোমবার ০১ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ১৪জন দেখেছেন
Image

ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কৃষি বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার মো. আওলাদ হোসেনকে কারাগারে রাখার ঘটনায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তার মধ্যে ৩২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হাতে পেয়েছেন আওলাদ হোসেন।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমাদুল হক বশির।

বিষয়টি সোমবার (১ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে জানানো হয়। একই সাথে ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিট আবেদনের ওই মামলা আর পরিচালনা করবেন না বলেও আদালতকে জানানো হয়।

এর ফলে প্রথম কোনো আসামি বিনা অপরাধে জেল খাটার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পেলেন।


আরও খবর



চার বছরে বিশ্বের সর্বোচ্চ ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ২৮জন দেখেছেন
Image

ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের মধ্যে ওয়ানডেতে তুলনামূলক সাবলীল বাংলাদেশ দল। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে এখনও পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পায়নি টাইগাররা। কিন্তু ওয়ানডেতে ঠিকই নিজেদের শক্তির জানান দেয় নিয়মিত। যার প্রমাণ মেলে সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন সিরিজের ফল থেকে।

ওয়ানডেতে ভালো খেলা বাংলাদেশের জন্য সুখবর রয়েছে আইসিসির ভবিষ্যত সূচিতে (ফিউচার ট্যুর প্ল্যান- এফটিপি)। আগামী চার বছরের জন্য প্রস্ততকৃত এফটিপিতে বাংলাদেশের জন্য রাখা হয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চসংখ্যক ওয়ানডে ম্যাচ। ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে জানা গেছে এ তথ্য।

এফটিপির ২০২৩-২৭ চক্রে সর্বোচ্চ ৫৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই চক্রে বাংলাদেশ ছাড়া পঞ্চাশের বেশি ওয়ানডে রয়েছে শুধুমাত্র শ্রীলঙ্কা, ৫৮টি। এছাড়া এই চার বছরে এফটিপির অধীনে ৫১টি কুড়ি ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ পাবে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে মোট আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে ১৪৪টি।

এই চার বছরের চক্রে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে শুধুমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১৪৬টি। এছাড়া এই ভবিষ্যত সূচির বাইরে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সমঝোতার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজও আয়োজন করতে পারবে।

এদিকে আগামী চার বছরে এফটিপিতে মোট ৩৪টি টেস্ট পাবে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে ২০২৩-২০২৫ চক্রে ছয়টি সিরিজ এবং ২০২৫-২০২৭ চক্রে থাকছে আরও ছয়টি টেস্ট সিরিজ। এর বাইরে কোনো দেশের সঙ্গে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেও সিরিজ আয়োজন করা যাবে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৩-২০২৫ চক্রে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খেলবে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এছাড়া বিদেশ সফরে গিয়ে খেলতে হবে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। ঘরের মাঠের তিন সিরিজ নিয়ে আশাবাদী হতেই পারে টাইগাররা।

পরের চক্রেই ঘুচবে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার আক্ষেপ। ফাঁস হওয়া এফটিপি অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৭ চক্রে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের তিন সিরিজ অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সবশেষ ২০০৩ সালে অসিদের মাটিতে টেস্ট খেলেছিল টাইগাররা।

এই চক্রে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে। এ তিন সিরিজের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো করার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশ দলের সামনে। সবমিলিয়ে এই দুই চক্রে বাংলাদেশের টেস্টের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৪টি।

ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইসিসির পরবর্তী দুই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড- ৪২টি। এছাড়া ৩০-র বেশি ম্যাচ খেলবে আর মাত্র চারটি দেশ। তারা হলো অস্ট্রেলিয়া (৪১), ভারত (৩৮), বাংলাদেশ (৩৪) ও নিউজিল্যান্ড (৩২)।


আরও খবর