Logo
শিরোনাম

কাবা শরিফ-মদিনায় শাওয়ালের দ্বিতীয় জুমা পড়াবেন যারা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪১জন দেখেছেন
Image

৬ রোজার মাস শাওয়াল। ১৪৪৩ হিজরির শাওয়ালের দ্বিতীয় জুমা আজ। পবিত্র কাবা শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববিতে আজকের জুমায় খুতবাহ এবং ইমামতি করবেন বিশ্ববিখ্যাত দুই ইসলামিক স্কলার। যথাযথ নিরাপত্তার সঙ্গে দুই পবিত্রতম স্থানে খুতবাহ শুনে এবং নামাজ পড়ে হৃদয় জুড়াবেন জিয়ারতকারী ও ওমরাহ পালনকারীরা।

আজ ১৩ মে ২০২২ইং মোতাবেক ১২ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরি (সৌদিতে)। আজ শাওয়ালের দ্বিতীয় জুমা। প্রতি সপ্তাহের মতো আজও পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদে হারাম তথা কাবা শরিফ এবং মদিনার মসজিদে নববিতে অনুষ্ঠিত হবে জুমার খুতবাহ ও নামাজ।

হারামাইন কর্তৃপক্ষ রমজান পরবর্তী বছরজুড়ে মুসলিম উম্মাহর করণীয় তুলে ধরতে বিশ্ববিখ্যাত দুইজন প্রসিদ্ধ ইসলামিক স্কলারকে আজকের জুমায় খতিব হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচিত দুই খতিব হলেন-
কাবা শরিফ কোরআনের প্রসিদ্ধ কারি হিসেবে পরিচিত কাবা শরিফ ও মদিনার প্রধান ইমাম, প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ বিন মুয়াক্বল আল-মুয়াইকিলি।।

মসজিদে নববি
মদিনার মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-বুয়াইজান।

যথাযথ নিরাপত্তার মধ্যেই মুসল্লিরা রমজানের প্রথম জুমার খুতবা শুনবেন এবং জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করবেন।


আরও খবর



মোক্ষম সময়ে জ্বলে উঠলেন কোহলি, আশা টিকে রইলো ব্যাঙ্গালুরুর

প্রকাশিত:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২২জন দেখেছেন
Image

তার ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে সমালোচনার কমতি নেই। আইপিএলে আজকের ম্যাচের আগে ১৩ ইনিংসে মাত্র একটি হাফ সেঞ্চুরি। রান করেছেন কেবল ২৩৬। গড় ১৯.৬৭ করে।

বিরাট কোহলির এতটা হতশ্রী ব্যাটিং নিয়ে হতাশ পুরো ভারত। রবি শাস্ত্রী থেকে শুরু করে অনেকেই তাকে বিশ্রামের পরামর্শ দিচ্ছেন। বলছেন কিছুদিন বিরতি নিতে।

এমন পরিস্থিতিতে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর একেবারে মোক্ষম সময়ে এসে জ্বলে উঠলো বিরাট কোহলির ব্যাট। হারলেই বিদায় নিশ্চিত। জিতলে আশা টিকে থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টেবিল টপার গুজরাট টাইটান্সের মুখোমুখি হয়ে আজ ব্যাঙ্গালুরু জয়লাভ করেছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে।

গুজরাট টাইটান্সের ছুঁড়ে দেয়া ১৬৯ রানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে নেমে বিরা কোহলি আর ফ্যাফ ডু প্লেসিই ম্যাচটা শেষ করে দেন। দু’জন মিলে উদ্বোধনী উইকেটে ১৪.৩ ওভারে গড়ে তোলেন ১১৫ রানের জুটি। এ সময় আউট হন ডু প্লেসি। ৩৮ বলে ৪৪ রান করেন তিনি।

ডু প্লেসি আউট হলেও বিধ্বংসী চেহারায় দেখা যায় বিরাট কোহলিকে। ৫৪ বল খেলে তিনি করেন ৭৩ রান। ৮টি বাউন্ডারির সঙ্গে ২টি ছক্কার মার মারেনে তিনি।

১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে রশিদ খানকে ছক্কা মারতে যান কোহলি। কিন্তু সম্পূর্ণ পরাস্ত হন। বল ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে প্যাডের ফাঁক গলে চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। খুব দ্রুত ঋদ্ধিমান উইকেট ভেঙে দেন। আউট হয়ে যান কোহলি। ততক্ষণে অবশ্য জয়ের আসল কাজটি সেরে ফেলেন তিনি।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১৮ বলে অপরাজিত ৪০ রান করে জয়ের বাকি কাজ শেষ করেন। ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে তিনি ছক্কা মারেন ২টি। দিনেশ কার্তিক অপরাজিত থাকেন ২ রানে। গুজরাটের হয়ে ২ উইকেট নেন রশিদ খান।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে হার্দিক পান্ডিয়ার ৪৭ বলে ৬২ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান করেছিল গুজরাট টাইটান্স। ৩৪ রান করেন ডেভিড মিলার এবং ৩১ রান করেন ঋদ্ধিমান সাহা।

এই জয়ে ব্যাঙ্গালুরুর পয়েন্ট দাঁড়ালো ১৬। তারা উঠে এলো চতুর্থ স্থানে। রান রেট -০.২৫৩। শনিবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে দিল্লি হেরে গেলে ব্যাঙ্গালুরুর প্লে-অফ নিশ্চিত। আর যদি দিল্লি জিতে যায়, তাহলে ব্যাঙ্গালুরুকে বিদায় নিতে হবে। কারণ, দিল্লি আর ব্যাঙ্গালুরুর পয়েন্ট সমান হলেও রান রেটে এগিয়ে থাকবে দিল্লি।

ব্যাঙ্গালুরুর এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে পাঞ্জাব কিংস এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদেরও। যদিও এই দুই দল শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে। কিন্তু তাদের মধ্যে বিজয়ী দলের কোনো লাভ হবে না। ১৪ পয়েন্ট হলেও তাদের আর প্লে-অফ খেলার সম্ভব হবে না। কেকেআর আগের দিনই বিদায় নিয়েছে মাত্র ২ রানে হেরে।


আরও খবর



নামাজের সময়সূচি : ০৩ মে ২০২২

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ৬৫জন দেখেছেন
Image

আজ মঙ্গলবার ০৩ মে ২০২২ ইংরেজি, ২০ বৈশাখ ১৪২৯ বাংলা, ০১ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

> জোহর- ১১:৫৯ মিনিট।
> আসর- ৪:৩১ মিনিট।
> মাগরিব- ৬:৩২ মিনিট।
> ইশা- ৭:৫২ মিনিট।
> ফজর (০৪ মে)- ৪:০০ মিনিট।

> আজ সুর্যাস্ত- ৬:২৭ মিনিট।
> আগামীকালের (০৪ মে) সূর্যোদয়- ৫:২২ মিনিট।

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তাহলো-

বিয়োগ করতে হবে-
> চট্টগ্রাম : -০৫ মিনিট
> সিলেট : -০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে-
> খুলনা : +০৩ মিনিট
> রাজশাহী : +০৭ মিনিট
> রংপুর : +০৮ মিনিট
> বরিশাল : +০১ মিনিট

তথ্যসূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন


আরও খবর



কুষ্টিয়ায় ট্রাকচাপায় প্রাণ গেলো মা-ছেলের

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৫০জন দেখেছেন
Image

কুষ্টিয়ায় ট্রাকচাপায় মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৬ মে) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বটতৈল মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বটতৈলে ইউনিয়নের কবুরহাট গ্রামের নাজমুলের স্ত্রী অঞ্জনা খাতুন ও তার বড় ছেলে ইফতিয়াজ। ইফতিয়াজ কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শেষে বর্ষের ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অঞ্জনা খাতুনের শিশুপুত্র ইফাদ। তাকে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সকালে ইফতিয়াজ মা ও তার ছোট ভাইকে নিয়ে কবুরহাট থেকে মোটরসাইকেলযোগে কুষ্টিয়া শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় বটতৈল মোড়ে পৌঁছলে বিপরীত থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইফতিয়াজের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে মা অঞ্জনা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অঞ্জনা খাতুনের শিশুপুত্রকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঘটনাটি মর্মান্তিক। এ ঘটনায় ঘাতক চালক পালিয়ে গেলেও ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


আরও খবর



দুধ ও আনারস একসঙ্গে খেলে কী হয়?

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি দুধ ও আনারস একসঙ্গে খেলে তা বিষ হয়ে যায়। এতে মানুষ মারা যায়। তাই ভয়ে অনেকেই এই দুটি খাবার একসঙ্গে খান না। সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (ওপিডি) ডা. মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘গরুর দুধের সাথে আনারস খেলে কি মানুষ মারা যায়? এমন প্রশ্ন অনেক বার শুনলেও এ নিয়ে কথা বলার তেমন আগ্রহ জন্মায়নি। সম্প্রতি একটি ভিডিও দেখলাম, এক ভদ্রলোক ভিডিও তৈরি করে দেখাচ্ছেন যে, এক গ্লাস দুধের মধ্যে একটি আনারসের জুস ঢেলে দিলে কেমন বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে। ধারা বর্ণনা এতটাই ভয়ংকর লেগেছে যে, মনে হচ্ছিল এটি খাওয়ার সাথে সাথে মানুষ মারা যাবে।’

ডা. মোস্তফা বলেন, ‘আসলে আনারস আর গরুর দুধ একত্রে খেলে কোনো সমস্যাই হয় না। আনারসে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে বলে খেতে কিছুটা টক লাগে। আর আনারসে ব্রোমেলেইন নামে একটি এনজাইম থাকে, যা দুধের ক্যাসিন নামক প্রোটিন ভেঙে ছানা বা দইয়ে পরিণত করতে পারে। এ ছাড়া তেমন কোনো সমস্যা হয় না।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় চিজ বানাতে আনারস আর গরুর দুধ ব্যবহার করা হয়। সেখানে এটি খেয়ে কেউ মারা গেছে বলে এখনো শোনা যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া দুধ আর আনারস একত্রে খেলে সেটি ক্ষতিকর হয়। কারণ নষ্ট দুধে অনেক ব্যাকটেরিয়া থাকে। যা আনারসের ব্রোমেলেইনের সাহায্য নিয়ে দুধকে বিষাক্ত করে ফেলতে পারে। আর নষ্ট দুধ কোনো সুস্থ মানুষ খায় বলে আমার মনে হয় না।’

ডা. মোস্তফা কামাল সবশেষে বলেন, ‘আনারস আর দুধ একত্র খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যাসিডিটি বা পেটে একটু ব্যথা হতে পারে।’


আরও খবর

কাঁচা কাঁঠালের কাবাব

শুক্রবার ২০ মে ২০22




‘পাগলের সুখ মনে মনে, দিনের বেলা তারা গোনে’

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | ২৩জন দেখেছেন
Image

বহুল প্রচারিত একটি প্রবাদ আছে, ‘পাগলের সুখ মনে মনে, দিনের বেলা তারা গোনে।' সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতাদের উল্লাস দেখে প্রবাদটি বার বার মনে পড়ছে। অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা সরকারের পতন দেখে বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা আনন্দে নৃত্য শুরু করে দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম তো বরাবরের মত হুঙ্কার দিয়ে বলেই দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের অবস্থা শ্রীলঙ্কার চেয়ে খারাপ হবে। সেখানে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে সব। আর এরা (আওয়ামী লীগ) ঝাঁপিয়ে পড়বে বঙ্গোপসাগরে।

বর্তমান সরকারের এক যুগেরও বেশি সময়ের শাসনামলে মির্জা সাহেবদের আশা বারবার হতাশায় পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির পার্টি অফিস গুলোতে মিষ্টি বিতরণ হয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের সাথে যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকারের ভালো সম্পর্ক ছিল সেহেতু বিজেপি এসে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে তাদের কোলে তুলে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে। এবং খালেদা জিয়া তো নিজেই মিথ্যা অপপ্রচার রটালো তাকে নাকি বিজেপির তৎকালীন সভাপতি অমিত শাহ ফোন করে খোঁজ-খবর নিয়েছে। ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। 

অমিত শাহের অফিস থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। যদিও একটি দেশের ক্ষমতায় কারা থাকবেন, সেটা নির্ধারণ করেন সে দেশের জনগণ। সেনা গর্ভে জন্মে নেয়া বিএনপি সেটা বারবার ভুলে যান। আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে বিজেপি সরকারের সুমধুর সম্পর্কে দ্রুতই বিএনপির রণে ভঙ্গ হয়। আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পরও বিএনপির মধ্যে চাপা উল্লাস দেখা গেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন র‌্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিল, তখন তো বিএনপি নেতারা বলতে শুরু করলো আওয়ামী লীগ সরকারে পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আবার বর্তমানে শ্রীলঙ্কার গণবিক্ষোভ দেখে উল্লাস নৃত্য শুরু করে দিয়েছে।

শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি আর বাংলাদেশের পরিস্থিতি এক নয়। শ্রীলঙ্কার বর্তমান অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ পর্যালোচনা করলে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শ্রীলঙ্কা সরকার বিগত ১৫ বছরে বিদেশি ঋণ সুবিধা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল ও উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ করেছে যা পরবর্তীতে অলাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।

একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে দরকার নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ। কিন্তু প্রতিবছর ৮ শতাংশ হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও ২০১৪ সালের পর এক মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করতে পারেনি। যার কারণে দিনের অধিকাংশ সময় জনগণকে বিদ্যুৎ বিহীন থাকতে হচ্ছে। জনগণকে খুশি করতে মূল্য সংযোগ কর (ভ্যাট) হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশ এবং ২ শতাংশ ‘নেশন উন্নয়ন কর’ বিলুপ্ত করার কারণে ২৫ শতাংশ রাজস্ব আহরণ কমে গেছে। যার ফলে দেশ পরিচালনা করতে অধিক বৈদেশিক ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার বড় উৎস হলো পর্যটন শিল্প। জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ। করোনা মহামারির কারণে এ খাতে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসে। কৃষি খাতে ‘অর্গানিক ফার্মিং’ চালুর কারণে খাদ্য উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়। বেড়ে যায় খাদ্য পণ্যের দাম। আমদানি করতে হয় বিপুল সংখ্যক খাদ্য পণ্য, যার কারণে এ খাতেও ব্যাপক সংখ্যক বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশের কখনোই শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি হবে না। কারণ অর্থনীতির সব ক্ষেত্রেই শ্রীলঙ্কার চেয়ে কয়েক গুণ ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার ঋণের হার জিডিপির ১১৯ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশে বৈদশিক ঋণের হার জিডিপির মাত্র ১৩ শতাংশ। আইএমএফের হিসাবে এই হার ৫৫ শতাংশের বেশি হলেই অর্থনীতির জন্য বিপদ বলে ধরা হয়। শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৬৫০ মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে বাংলাদেশে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ২৯২.১১ ডলার। শ্রীলঙ্কার রপ্তানি আয় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার, সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩৮.৭৫ বিলিয়ন ডলার। শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলার হলেও হাতে আছে মাত্র ৫০ মিলিয়ন ডলার ,বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৪৪.৪৪ বিলিয়ন ডলার। যা শ্রীলঙ্কার চেয়ে এখনও ২২ গুণ বেশি।‘অর্গানিক কৃষি’ চালুর কারণে শ্রীলঙ্কায় যেখানে খাদ্য ঘাটতির পরিস্থিতি দেখা গেছে সেখানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে রপ্তানিকারক দেশের পর্যায়ে চলে গেছে।

শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাহীন দুর্নীতি, অদূরদর্শী অর্থনৈতিক সিন্ধান্ত, অপরিকল্পিত বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ ও ভুল খাদ্য নীতির কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের কারণে শিল্প কারখানা বন্ধ, রাস্তাঘাট অন্ধকার। কাগজের অভাবে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল। মুদ্রার অবমূল্যায়নে ১ ডলার গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ শ্রীলঙ্কান রুপিতে।

এমন পরিস্থিতিতে ১ টি ডিম ৩৪ টাকা, ১ কাপ চা ২৯ টাকা, ১ কেজি চাল ২৫১ টাকা,১ কেজি চিনি ২৭৪ টাকা, ১ লিটার পেট্রোল ৩৫০ টাকা গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ১ লিটার কেরোসিন কিনতে গিয়ে লাইন দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে বয়স্ক ব্যক্তিদের মৃত্যুবরণের মত পরিস্থিতিও ঘটেছে। সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রা হয়ে উঠে দুর্বিষহ। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই তৈরি হয় গণবিক্ষোভ। যার কারণে সরকারকে পদত্যাগ করে পালাতে বাধ্য হয়েছে। বৈশ্বিক করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশেও দ্রব্যমূল্যের দাম কিছুটা বাড়লেও তা কোন মতেই জনগণের ক্রয় ক্ষমতায় বাইরে যায়নি। সরকারের কঠোর মনিটরিংয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিটি মেগাপ্রকল্প দেশের অর্থনীতি ও জনগণের সার্বিক উন্নতির কথা বিবেচনা করেই নেয়া হয়েছে। পদ্মাসেতু, কর্ণফুলী ট্যানেল, মেট্রোরেল, ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল ও মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দরে এলএমজি টার্মিনাল, ঢাকা বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনাল নির্মাণসহ মেগাপ্রকল্প গুলো চালুর পর বাংলাদেশের অর্থনীতির চেহারাই বদলে যাবে। আগামী মাসেই পদ্মাসেতু চালু হয়ে যাচ্ছে। শুধু এই সেতু চালুর কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, গত এক দশকে (২০১০-২০২০) উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে দারুণ নজির সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অর্থনৈতিক দেশ গুলোর একটি বলে পরিচিতি পেয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে সঠিক নেতৃত্বের কারণে।

শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশের মত বাংলাদেশের অর্থনীতিও করোনাকালে নিম্নমুখী প্রবণতার শিকার হয়েছিল, কিন্তু সরকারের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার কারণে দ্রুততম সময়েই তা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যার জন্য করোনা মোকাবেলায় বিশ্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে স্বীকৃতি।

এক শ্রেণির স্ব-ঘোষিত বিশেষজ্ঞরা শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে সুপরিকল্পিত ভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের অপপ্রচারের জবাবে জনগণকে আশস্ত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। অনেকে বাংলাদেশের আকাশে শ্রীলঙ্কার ছায়া দেখছেন, আবার কেউ কেউ উল্লেখ করছেন দেশ শ্রীলঙ্কার পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাদের সমালোচনার জবাবে তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে কোনো ঋণ নেওয়া হয়নি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা অর্থনৈতিক সমীক্ষার মাধ্যমে আমাদের অন্য মেগা প্রকল্পগুলো গৃহীত হয়েছে। আর শুধু ঋণ নয়, বিদেশি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতির চেহারা বদলে যাবে। বাংলাদেশ দেশি-বিদেশি ঋণ নিচ্ছে। তবে তা যাতে বোঝা হয়ে না ওঠে সেদিকে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদ বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা। ২০২২ এবং ২০২৩ হবে বাংলাদেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের এক মাইলফলক বছর।’

ঘর পুড়লে যারা আলু খাওয়ার ধান্ধায় আছেন, তাদের স্বপ্ন অতীতের মত দিবাস্বপ্নেই পরিণত হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে উন্নয়নের মহাসড়কে। বাংলাদেশ এখন এশিয়ার এমার্জিং টাইগার। উন্নয়নশীল দেশের স্বপ্নপূরণ করে ভিশন- ২০৪১ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ।
[email protected]


আরও খবর