Logo
শিরোনাম

কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, আমরাই বিজয়ী: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

খরস্রোতা পদ্মার ওপর নির্মিত হয়েছে দীর্ঘ সেতু। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত দেশবাসী। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এমনকি পাকিস্তানও বাংলাদেশের জনগণকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। দেশবাসী ও বিশ্বনেতাদের এমন উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আগ মূহুর্তে আজ মাওয়া প্রান্তের সুধী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যেও প্রকাশ পেয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যার সেই উচ্ছ্বাস।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজকে গর্বিত। সেই সঙ্গে আমিও আনন্দিত, গর্বিত ও উদ্বেলিত। অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে, ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে, আজকে আমরা এ পদ্মা সেতু নির্মাণে সক্ষম হয়েছি। এ সেতু শুধু একটি সেতু নয়, এ সেতু যে দুই পাড়ের বন্ধন সৃষ্টি করেছে শুধু তাই নয়, এ সেতু শুধু ইট-সিমেন্ট-স্টিল-লোহার কংক্রিটের একটি অবকাঠামো নয়, এ সেতু আমাদের অহংকার, গর্ব, সক্ষমতা আর মর্যাদার প্রতীক।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মাার বুকে আজ জ্বলে উঠেছে লাল, নীল, সবুজ, সোনালি আলোর ঝলকানি। ৪১টি স্প্যান যেন স্পর্ধিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।’

তিনি বলেন, ‘এ সেতু বাংলাদেশের জনগণের। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির আবেগ, সৃজনশীলতা, সাহসিকতা, সহনশীলতা আর প্রত্যয় এবং এই জেদ যে, পদ্মা সেতু আমরা তৈরি করবোই। যদিও ষড়যন্ত্রের কারণে এ সেতুর নির্মাণ দুই বছর বিলম্বিত হয়। কিন্তু আমরা কখনো হতোদ্যম হইনি, হতাশায় ভুগিনি। আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছি এবং শেষ পর্যন্ত সব অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে যাত্রা করতে সক্ষম হয়েছি।’

জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সেই অমোঘ মন্ত্র ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’র পুনরুল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, আমরা বিজয়ী হয়েছি।’

মাথা নোয়াইনি, নোয়াবোও না
তারুণ্যের কবি সুকান্তের ভাষায় তিনি বলেন, ‘সাবাস, বাংলাদেশ। এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়/জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার/ তবু মাথা নোয়াবার নয়। আমরা মাথা নোয়াইনি। কোনোদিন মাথা নোয়াবো না, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবও কখনো মাথা নোয়াননি। তিনি আমাদের মাথা নোয়াতে শেখাননি, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও তিনি জীবনের জয়গান গেয়েছেন। তিনি বাংলার মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতা চেয়েছিলেন এবং তারই নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’

জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তার এবং তার সরকারের পথচলা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আজকে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।’

প্রকৌশলবিদ্যায় অন্তর্ভুক্ত হবে পদ্মা সেতু
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে কোনো আপস করা হয়নি। এ সেতু নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ দিয়ে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে। পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে। পদ্মা সেতুর পাইল বা মাটির গভীরে বসানো ভিত্তি এখন পর্যন্ত বিশ্বে গভীরতম। সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীর পর্যন্ত এ সেতুর পাইল বসানো হয়েছে। ভূমিকম্প প্রতিরোধ বিবেচনায় ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এ রকম আরও বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এ সেতুর নির্মাণ পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে প্রকৌশলবিদ্যার পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আমি আশা করি। কারণ এটা একটি আশ্চর্য সৃষ্টি।’

তিনি বলেন, ‘এ বিশাল কর্মযজ্ঞ থেকে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছেন আমাদের প্রকৌশলীরা। ভবিষ্যতে নিজেরাই এ ধরনের জটিল সেতু বা অবকাঠামো নির্মাণ করতে সক্ষম হবো আমরা। সেতু নির্মাণ যেমন কঠিন ছিল, তেমনি আঁকাবাঁকা, খরস্রোতা উন্মত্ত পদ্মা নদীকে শাসনে রাখাটাও একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জও সফলভাবে মোকাবিলা করে নদীর দুই পাড়কে সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেতুর উভয়দিকে রয়েছে উন্নত ব্যবস্থাপনাসমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন সার্ভিস এরিয়া।’

জিডিপিতে ১.২ শতাংশ অবদান রাখবে পদ্মা সেতু
সরকারপ্রধান বলেন, ‘প্রকল্প এলাকায় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আওতায় বনায়ন কর্মসূচির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ইতিহাস ও নমুনা সংরক্ষণের জন্য জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। বহুমুখী এ সেতুর ওপরের ডেক দিয়ে যানবাহন এবং নিচের ডেক দিয়ে চলাচল করবে ট্রেন। সেতু চালু হওয়ার পর সড়ক ও রেলপথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের একদিকে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে, অন্যদিকে অর্থনীতি হবে বেগবান। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে। আশা করা হচ্ছে, এ সেতু জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১ দশমিক দুই-তিন শতাংশের বেশি হারে অবদান রাখবে। এর ফলে দারিদ্র্য নিরসন হবে।’

শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘এ সেতুকে ঘিরে গড়ে উঠবে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দেশের শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। পদ্মা সেতু এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগের একটা বড় লিংক। তাই আঞ্চলিক বাণিজ্যে এ সেতুর ভূমিকা অপরিসীম। তাছাড়া পদ্মার দুপাড়ে পর্যটনশিল্পেরও ব্যাপক প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি এ বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল এবং ঢাকায় মেট্রোরেল। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন শুরু হবে। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সেটিও ২০২৩ নাগাদ চালু হবে।’

অপবাদে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছেন শেখ রেহানা-জয়ও
প্রধানমন্ত্রী এসময় দেশের একজন স্বনামধন্য ব্যক্তির ষড়যন্ত্রে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে বিশ্বব্যাংকের পদক্ষেপ এবং তাকে, তার পরিবারের সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দেওয়ার অপচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তা মোকাবিলার ইতিবৃত্তও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘এ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা পর্যায়ে চক্রান্তকারীদের মিথ্যা ষড়যন্ত্রের কারণে আমার পরিবারের সদস্য ছোটবোন শেখ রেহানা, আমার দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ, রেহানার পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, আমার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক যোগাযোগ সচিব মোশাররফ হোসেন ভুইয়াসহ কয়েকজন সহকর্মী চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছিলেন। আমি তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।’

ষড়যন্ত্রকারীদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মা, বাবা, ভাইসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে হারিয়ে ছয় বছর রিফিউজি হিসেবে জীবন কাটিয়েছি। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করলে এক রকম জোর করে দেশে ফিরে আসি। তখন এ জনগণই আমাকে আপন করে নেন। আমি যখন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন, তখনো এ জনগণই এগিয়ে আসে। তাকে সাহস ও শক্তি জোগায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ জনগণই আমার সাহসের ঠিকানা, এ জনগণকে আমি স্যালুট জানাই। পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা করি। তাদের হয়তো চিন্তা-চেতনার দৈন্যতা রয়েছে। আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। আশা করি, আগামীতে তাদের দেশপ্রেম জাগ্রত হবে ও দেশের মানুষের প্রতি তারা আরও দায়িত্বশীল হবেন।’

নির্মাণে জড়িতদের মধ্যে মৃতদের জন্য দোয়া
প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীসহ যারা মৃত্যুবরণ করছেন, তাদের রুহের মাগফিরাত এবং আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা
তিনি এ সেতু নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ পরার্শক, ঠিকাদার, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, শ্রমিক, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পদ্মা সেতুর নির্মাণবিষয়ক সূচনা বক্তৃতা করেন। তিনি প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান, প্রজেক্ট ম্যানেজার অ্যান্ড সুপারভিশন কনসালটেন্ট রবার্ট জন এভিসসহ প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির নির্মিত দেশের বরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে থিম সং পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতুর ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর এবং ১০০ টাকা মূল্যের স্মারক নোট অবমুক্ত করেন।

পদ্মা সেতুর নির্মাণকারক কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পদ্মা সেতুর একটি রেপ্লিকা উপহার দেওয়া হয়। নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে টোল দিয়ে সেতুর মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচন করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং বাংলাদেশের অটিজম আন্দোলনের পথিকৃৎ সায়মা ওয়াজেদ এসময় তার সঙ্গে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার গাড়িবহর নিয়ে সেতু অতিক্রমের সময় মাঝ বরাবর নেমে সেতু এবং প্রমত্তা পদ্মার উত্তাল তরঙ্গ প্রত্যক্ষ করেন। এসময় তিনি বিমানবাহিনীর একটি মনোজ্ঞ ডিসপ্লে উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু পার হয়ে জাজিরা প্রান্তে উপস্থিত হন এবং সেতুর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-২ উন্মোচন করেন ও মোনাজাতে অংশ নেন। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভাতে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।


আরও খবর



এক রাতে কবরস্থান থেকে ১৯ কঙ্কাল চুরি

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ আগস্ট ২০২২ | ১৫জন দেখেছেন
Image

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে এক রাতে কবরস্থান থেকে ১৯টি মরদেহের কঙ্কাল চুরির খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (৩০ জুলাই) সকালে পৌর শহরের পীরডাঙ্গী কবরস্থানে গিয়ে এমনটা দেখতে পান স্থানীয়রা।

নানি শাশুড়ির মরদেহ দাফনের জন্য সকালে কবরস্থানে আসেন জাহাঙ্গীর হোসেন। কবরে মাটি দিয়ে ফেরার পথে তার চোখে পড়ে কিছু পোশাকের স্তূপ।

তিনি বলেন, ‘একটু ভয় পেয়েছিলাম। পরে কয়েকজনকে ডাকলাম। তারা এলে কাছাকাছি গিয়ে দেখি সেখানে তোয়ালে, টাউজারসহ অনেকগুলো পোশাক পড়ে আছে আর কবরগুলোর বেড়া ভাঙা। ভেতরে গিয়ে দেখি ১৯টি কবর থেকে কঙ্কাল চুরি হয়ে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কঙ্কাল চুরির পর হয়তো পোশাক পরিবর্তন করে এখান থেকে চলে যায়। ১৯টি কবরের ভেতরে মরদেহের কোনো কঙ্কাল নেই। সেগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে আমরা অনেক আতঙ্কে আছি।’

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে আমি গোরস্থান পরিদর্শনে আছি। বিস্তারিত একটু পরে বলা যাবে।


আরও খবর



১০ জনকে চাকরি দেবে জেন্টল পার্ক

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ৪৮জন দেখেছেন
Image

ফ্যাশন হাউজ জেন্টল পার্কে ‘ব্র্যাঞ্চ ক্যাশিয়ার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: জেন্টল পার্ক

পদের নাম: ব্র্যাঞ্চ ক্যাশিয়ার
পদসংখ্যা: ১০ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিকম/স্নাতক
অভিজ্ঞতা: ০১-০২ বছর
বেতন: ১৫,০০০-১৭,০০০ টাকা

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: পুরুষ
বয়স: ২৫-২৮ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৭ আগস্ট ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর



৭৬ হাজার টন টমেটো আমদানির কারণ জানতে চান কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২ | ২৮জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশে টমেটোর ভালো ফলন হলেও কেন বছরে ৭৬ হাজার টন টমেটো আমদানি করতে হয় তার কারণ জানতে চেয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

রোববার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে বিএআরসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী এ প্রশ্ন করেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশে শীতকালের পাশাপাশি সামার টমেটোরও ভালো ফলন হয়। তাহলে কেন ৭৬ হাজার টন টমেটো আমদানি করতে হচ্ছে? অনেকে আবার কেচাপ তৈরির জন্য টমেটোর পেস্ট আমদানি করছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, বীজ উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন। একই সঙ্গে সারাবছর যাতে টমেটো উৎপাদন করা যায় সে মানের বীজ উৎপাদন ও বাজারজাতের নির্দেশনা প্রদান করেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখন অনেক বীজ- যেমন ২৮ জাতের ধানবীজ। এটা এখন রিপ্লেস করা দরকার। কারণ একটা বীজ অনেকদিন ব্যবহার করা হলে ধীরে ধীরে এটার উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এরকম অনেক জাতই এখন তুলে নেওয়ার সময় হয়েছে। বিজ্ঞানীরা রিল্পেসের চেষ্টা করছেন। তবে একটা রিপ্লেস মাঠে ছড়াতে অনেক সময় ৮-১০ বছর লাগে। এটাকে দুই তিন বছরের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে ভালো জাতের বীজ উৎপাদন করেও খুব একটা কাজে আসবে না।

তিনি বলেন, আমরা ভালো মানের বীজ উৎপাদনের স্বার্থে একটি সার্টিফিকেশন এজেন্সি করার পরিকল্পনা করছি। যেটা সম্পূর্ণ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞাননির্ভর হবে।

অনুষ্ঠানে সারাদেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ধানের বিভিন্ন জাতের বীজ তুলে দেওয়া হয়। সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জে মোট ১০ হাজার কেজি এবং টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটের কৃষকদের মাঝে ২০ হাজার কেজি বীজ বিতরণ করা হয়। সিড অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সবগুলো জেলার মোট ১৩৫২৫ জন কৃষককে এই বীজ প্রদান করা হয়। এই বীজগুলো মূলত আমন ধানের।


আরও খবর



রাজধানীতে দুই গৃহবধূ, এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ আগস্ট ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধূসহ এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৭ আগস্ট) রাত ও সোমবার (৮ আগস্ট) সকালে এসব মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এরা হলেন সবুজ বাগ এলাকার ঝর্না আক্তার (২৫), মুগদার রিকশাচালক মো. শুভ মিয়া (২৮) ও হাতিরঝিল এলাকার মোছা. তাহমিনা আক্তার (২২)।

সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোছা. রবিনা আউয়াল জানান, খবর পেয়ে মাদারটেক উত্তরপাড়ার একটি বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঝর্না আক্তারের স্বজনদের বরাত দিয়ে এসআই জানান, ঝর্নার স্বামী ইকবাল হোসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার ২১ দিন বয়সী এক সন্তান রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

এদকে মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মান্নান জানান, ৯৯৯- এ ফোন পেয়ে মুগদার দানবীর গলির একটি বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

অন্যদিকে হাতিরঝিলের মগবাজার গাবতলা এলাকার একটি বাসা থেকে রোববার রাতে মোসাম্মৎ তাহমিনা আক্তার (২২) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাহমিনা আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা না বলে এড়িয়ে যান। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার ছোট শাহাতলী গ্রামে। বর্তমানে মগবাজারের গাবতলা এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন তারা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।


আরও খবর



দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, লোডশেডিং, পরিবহন সংকট এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নূরে আলম এবং স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আব্দুর রহিম নিহতের ঘটনায় আগামী ১১ ও ১২ আগস্ট দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

সোমবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সড়কে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোলায় পুলিশের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আব্দুর রহিম এবং ছাত্রদল নেতা নূরে আলম নিহত হওয়ার ঘটনায় এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, রোববার (৭ আগস্ট) সরকার বামপন্থি ছাত্রদের আন্দোলনে হামলা চালিয়েছে। গত ১৫ বছরে বিএনপির ছয় শতাধিক নেতা কর্মীকে গুম, সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা, ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং আমাদের নেত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় আটক করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের বিকল্প কোনো পথ নেই। ক্ষমতায় থাকতে হলে তাদের নির্যাতন হত্যা করে টিকে থাকতে হবে। কিন্তু তাদের দিন ফুরিয়ে আসছে। দুর্বার আন্দোলনে তাদের পতন হবে। আওয়ামী লীগকে জবাবদিহিতা করতে হবে, এ সরকারকে জবাব দিতে হবে। তারা দেশকে ফোকলা করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ নেই, জ্বালানি নেই।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আমিন মজনু, উত্তরের আহ্বায়ক আমানুল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ মহানগরের সদস্য ইশরাক হোসেন, সাবেক যুবদল নেতা নেওয়াজ আলী, কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।


আরও খবর