Logo
শিরোনাম

কড়া রোদে যানজটে ভোগান্তিতে নগরবাসী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

রাজধানী ঢাকায় কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি নেই। আকাশও পরিষ্কার। বেলা গড়াতেই তাপ বাড়ছে সূর্যের। তাপমাত্রা বাড়ায় তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে হাসফাঁস। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজধানীর চিরচেনা যানজট। সবমিলিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে জাগো নিউজের প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো আজও রাজধানীতে বেশ যানজট চোখে পড়েছে। তীব্র রোদের তাপে যানজটে বসে জনজীবন হাসফাঁস অবস্থা।

জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মফিজুল সাদিক জানিয়েছেন, বেলা ১১টায় রাজধানীর মিরপুর থেকে পল্টন গেছেন তিনি। পথিমধ্যে বিজয় সরণি ও সাতরাস্তা মোড়ে দীর্ঘ যানজটে পড়েছেন। রাজধানীর মহখালী থেকে সাতরাস্তা হয়ে মগবাজার-মৌচাক সড়কে তীব্র যানজট। গাড়ি চলেই না। তার ওপরে জ্যেষ্ঠের কড়া রোদে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

jagonews24

নিজস্ব প্রতিবেদক নাজমুল হোসাইন আছেন রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায়। তিনি জানিয়েছেন, পল্টন থেকে শাহবাগ হয়ে নিউমার্কেটের সড়কে গাড়ির চাপ আছে। প্রতিটি সিগন্যালে বেশ খানিক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে গাড়িগুলোকে। এছাড়া নিউমার্কেট থেকে মিরপুর সড়কেও গাড়ির চাপ রয়েছে। বিশেষ করে লোকাল বাসগুলো যাত্রী তোলার জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় জটলার সৃষ্টি হচ্ছে।

জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক আবদুল্লাহ আল মিরাজ দুপুর ১২টায় শাহবাগ থেকে বনানী গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই সড়কেও যানজট রয়েছে। বনানীর সড়কের দুদিকেই গাড়ির দীর্ঘ সারি। রাজধানীর মহাখালী-গুলশান-বাড্ডা সড়কেও গাড়ির চাপ আছে। তবে ট্রাফিক সিগন্যালের বাইরে সড়কের কোথাও যানজট নেই।


আরও খবর



কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, আমরাই বিজয়ী: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ২৮জন দেখেছেন
Image

খরস্রোতা পদ্মার ওপর নির্মিত হয়েছে দীর্ঘ সেতু। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত দেশবাসী। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এমনকি পাকিস্তানও বাংলাদেশের জনগণকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। দেশবাসী ও বিশ্বনেতাদের এমন উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আগ মূহুর্তে আজ মাওয়া প্রান্তের সুধী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যেও প্রকাশ পেয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যার সেই উচ্ছ্বাস।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজকে গর্বিত। সেই সঙ্গে আমিও আনন্দিত, গর্বিত ও উদ্বেলিত। অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে, ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে, আজকে আমরা এ পদ্মা সেতু নির্মাণে সক্ষম হয়েছি। এ সেতু শুধু একটি সেতু নয়, এ সেতু যে দুই পাড়ের বন্ধন সৃষ্টি করেছে শুধু তাই নয়, এ সেতু শুধু ইট-সিমেন্ট-স্টিল-লোহার কংক্রিটের একটি অবকাঠামো নয়, এ সেতু আমাদের অহংকার, গর্ব, সক্ষমতা আর মর্যাদার প্রতীক।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মাার বুকে আজ জ্বলে উঠেছে লাল, নীল, সবুজ, সোনালি আলোর ঝলকানি। ৪১টি স্প্যান যেন স্পর্ধিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।’

তিনি বলেন, ‘এ সেতু বাংলাদেশের জনগণের। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির আবেগ, সৃজনশীলতা, সাহসিকতা, সহনশীলতা আর প্রত্যয় এবং এই জেদ যে, পদ্মা সেতু আমরা তৈরি করবোই। যদিও ষড়যন্ত্রের কারণে এ সেতুর নির্মাণ দুই বছর বিলম্বিত হয়। কিন্তু আমরা কখনো হতোদ্যম হইনি, হতাশায় ভুগিনি। আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছি এবং শেষ পর্যন্ত সব অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে যাত্রা করতে সক্ষম হয়েছি।’

জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সেই অমোঘ মন্ত্র ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’র পুনরুল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, আমরা বিজয়ী হয়েছি।’

মাথা নোয়াইনি, নোয়াবোও না
তারুণ্যের কবি সুকান্তের ভাষায় তিনি বলেন, ‘সাবাস, বাংলাদেশ। এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়/জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার/ তবু মাথা নোয়াবার নয়। আমরা মাথা নোয়াইনি। কোনোদিন মাথা নোয়াবো না, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবও কখনো মাথা নোয়াননি। তিনি আমাদের মাথা নোয়াতে শেখাননি, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও তিনি জীবনের জয়গান গেয়েছেন। তিনি বাংলার মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতা চেয়েছিলেন এবং তারই নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’

জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তার এবং তার সরকারের পথচলা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আজকে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।’

প্রকৌশলবিদ্যায় অন্তর্ভুক্ত হবে পদ্মা সেতু
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে কোনো আপস করা হয়নি। এ সেতু নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ দিয়ে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে। পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে। পদ্মা সেতুর পাইল বা মাটির গভীরে বসানো ভিত্তি এখন পর্যন্ত বিশ্বে গভীরতম। সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীর পর্যন্ত এ সেতুর পাইল বসানো হয়েছে। ভূমিকম্প প্রতিরোধ বিবেচনায় ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এ রকম আরও বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এ সেতুর নির্মাণ পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে প্রকৌশলবিদ্যার পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আমি আশা করি। কারণ এটা একটি আশ্চর্য সৃষ্টি।’

তিনি বলেন, ‘এ বিশাল কর্মযজ্ঞ থেকে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছেন আমাদের প্রকৌশলীরা। ভবিষ্যতে নিজেরাই এ ধরনের জটিল সেতু বা অবকাঠামো নির্মাণ করতে সক্ষম হবো আমরা। সেতু নির্মাণ যেমন কঠিন ছিল, তেমনি আঁকাবাঁকা, খরস্রোতা উন্মত্ত পদ্মা নদীকে শাসনে রাখাটাও একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জও সফলভাবে মোকাবিলা করে নদীর দুই পাড়কে সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেতুর উভয়দিকে রয়েছে উন্নত ব্যবস্থাপনাসমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন সার্ভিস এরিয়া।’

জিডিপিতে ১.২ শতাংশ অবদান রাখবে পদ্মা সেতু
সরকারপ্রধান বলেন, ‘প্রকল্প এলাকায় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আওতায় বনায়ন কর্মসূচির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ইতিহাস ও নমুনা সংরক্ষণের জন্য জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। বহুমুখী এ সেতুর ওপরের ডেক দিয়ে যানবাহন এবং নিচের ডেক দিয়ে চলাচল করবে ট্রেন। সেতু চালু হওয়ার পর সড়ক ও রেলপথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের একদিকে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে, অন্যদিকে অর্থনীতি হবে বেগবান। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে। আশা করা হচ্ছে, এ সেতু জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১ দশমিক দুই-তিন শতাংশের বেশি হারে অবদান রাখবে। এর ফলে দারিদ্র্য নিরসন হবে।’

শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘এ সেতুকে ঘিরে গড়ে উঠবে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দেশের শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। পদ্মা সেতু এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগের একটা বড় লিংক। তাই আঞ্চলিক বাণিজ্যে এ সেতুর ভূমিকা অপরিসীম। তাছাড়া পদ্মার দুপাড়ে পর্যটনশিল্পেরও ব্যাপক প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি এ বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল এবং ঢাকায় মেট্রোরেল। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন শুরু হবে। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সেটিও ২০২৩ নাগাদ চালু হবে।’

অপবাদে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছেন শেখ রেহানা-জয়ও
প্রধানমন্ত্রী এসময় দেশের একজন স্বনামধন্য ব্যক্তির ষড়যন্ত্রে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে বিশ্বব্যাংকের পদক্ষেপ এবং তাকে, তার পরিবারের সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দেওয়ার অপচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তা মোকাবিলার ইতিবৃত্তও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘এ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা পর্যায়ে চক্রান্তকারীদের মিথ্যা ষড়যন্ত্রের কারণে আমার পরিবারের সদস্য ছোটবোন শেখ রেহানা, আমার দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ, রেহানার পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, আমার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক যোগাযোগ সচিব মোশাররফ হোসেন ভুইয়াসহ কয়েকজন সহকর্মী চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছিলেন। আমি তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।’

ষড়যন্ত্রকারীদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মা, বাবা, ভাইসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে হারিয়ে ছয় বছর রিফিউজি হিসেবে জীবন কাটিয়েছি। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করলে এক রকম জোর করে দেশে ফিরে আসি। তখন এ জনগণই আমাকে আপন করে নেন। আমি যখন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন, তখনো এ জনগণই এগিয়ে আসে। তাকে সাহস ও শক্তি জোগায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ জনগণই আমার সাহসের ঠিকানা, এ জনগণকে আমি স্যালুট জানাই। পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা করি। তাদের হয়তো চিন্তা-চেতনার দৈন্যতা রয়েছে। আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। আশা করি, আগামীতে তাদের দেশপ্রেম জাগ্রত হবে ও দেশের মানুষের প্রতি তারা আরও দায়িত্বশীল হবেন।’

নির্মাণে জড়িতদের মধ্যে মৃতদের জন্য দোয়া
প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীসহ যারা মৃত্যুবরণ করছেন, তাদের রুহের মাগফিরাত এবং আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা
তিনি এ সেতু নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ পরার্শক, ঠিকাদার, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, শ্রমিক, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পদ্মা সেতুর নির্মাণবিষয়ক সূচনা বক্তৃতা করেন। তিনি প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান, প্রজেক্ট ম্যানেজার অ্যান্ড সুপারভিশন কনসালটেন্ট রবার্ট জন এভিসসহ প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির নির্মিত দেশের বরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে থিম সং পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতুর ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর এবং ১০০ টাকা মূল্যের স্মারক নোট অবমুক্ত করেন।

পদ্মা সেতুর নির্মাণকারক কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পদ্মা সেতুর একটি রেপ্লিকা উপহার দেওয়া হয়। নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে টোল দিয়ে সেতুর মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচন করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং বাংলাদেশের অটিজম আন্দোলনের পথিকৃৎ সায়মা ওয়াজেদ এসময় তার সঙ্গে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার গাড়িবহর নিয়ে সেতু অতিক্রমের সময় মাঝ বরাবর নেমে সেতু এবং প্রমত্তা পদ্মার উত্তাল তরঙ্গ প্রত্যক্ষ করেন। এসময় তিনি বিমানবাহিনীর একটি মনোজ্ঞ ডিসপ্লে উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু পার হয়ে জাজিরা প্রান্তে উপস্থিত হন এবং সেতুর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-২ উন্মোচন করেন ও মোনাজাতে অংশ নেন। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভাতে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।


আরও খবর



অফিসার পদে চাকরি দেবে আড়ং

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

পোশাক প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান আড়ংয়ে ‘অ্যাসোসিয়েট অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: আড়ং
বিভাগের নাম: ইনবাউন্ড অপারেশনস, ই-কমার্স

পদের নাম: অ্যাসোসিয়েট অফিসার
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক
অভিজ্ঞতা: ০১ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: নির্ধারিত নয়
কর্মস্থল: ঢাকা

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা [email protected] এই ঠিকানায় সিভি পাঠাতে পারবেন অথবা jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ২৩ জুন ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর



পছন্দের প্রার্থী মেয়র হলে কর্মসংস্থান চাইবেন তৃতীয় লিঙ্গের আরিফুল

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ৩৭জন দেখেছেন
Image

পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আরিফুল ইসলাম।

বুধবার (১৫ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হারুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৮ নম্বর কক্ষে তিনি ভোট দেন।

ভোট দেওয়া শেষে আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিলাম। সুন্দরভাবে ভোট দিতে পেরে আমি খুশি।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমার নিজের ভোট নিজে দিয়েছি। যাকে খুশি তাকে দিয়েছি। পছন্দের প্রার্থী যদি পাস করেন তাহলে তার কাছে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরতে পারবো। এটাই তাদের কাছে আমার চাওয়া-পাওয়া। বিশেষ করে বিজয়ী ব্যক্তির কাছে আমাদের চাওয়া হলো বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের।’

সিটি করপোরেশনের ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট শেষ হয় বিকেল ৪টায়।

jagonews24

এ সিটিতে মোট ভোটার দুই লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন এবং পুরুষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। দুজন রয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।


আরও খবর



১০ মরদেহ শনাক্তে ১৭ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে যাদের শনাক্ত করা যায়নি তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার পর তা মিলিয়ে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে জেলা প্রশাসনে সহায়তা সেলের পাশে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বুথ স্থাপন করে নমুনা নেওয়া হচ্ছে।

নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে সোমবার দুপুর ১২টার পর সিআইডি চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার শাহ নেওয়াজ খালেদ জানিয়েছেন, ১২টা পর্যন্ত ১০ মরদেহের বিপরীতে ১৭ জনের নমুনা নেওয়া হয়েছে। সিআইডির টিম নমুনা সংগ্রহ করছে।

রোববার রাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান জানান, নিহতদের মাঝে ২১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এদের মাঝে রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অনেক মরদেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তাই নিহতদের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্ট করা হবে।

এদিকে আগুন লাগার পর প্রায় ৩৯ ঘণ্টা পার হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এখনো বেশ কয়েকটি কনটেইনার দাউ দাউ করে জ্বলছে। ধোঁয়া বোরোচ্ছে অর্ধশতাধিক কনটেইনার থেকে।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, জ্বলন্ত কনটেইনারগুলোর পাশে একটি কনটেইনারে কেমিক্যাল থাকতে পারে। এ কারণে সতর্কতার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা। তাদের মূল লক্ষ্য এখন কেমিক্যাল কনটেইনারটি নিয়ন্ত্রণে আনা।

অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জন হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে মৃতের সংখ্যা ৪৬ জন। দগ্ধ ও আহত ১৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতেই শনাক্ত হওয়া নিহতদের পরিবারে জেলা প্রশাসনের সহায়তার টাকা হস্তান্তর হয়েছে।


আরও খবর



‘ব্যবসায়ীরা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে ভয় পাচ্ছে না’

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

খাদ্য সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ীদের এক সংস্থার অধীনে আনতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

মঙ্গলবার (৭ জুন) রাজধানীতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘উন্নত অর্থনীতির জন্য নিরাপদ খাদ্য’ শীর্ষক এক সেমিনারের তিনি এ কথা জানান।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা সরকারি ১৮টি সংস্থার অধীনে কাজ করে। এজন্য তারা বিভিন্ন জটিলতার পাশাপাশি হয়রানিরও শিকার হন।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কৃষি বাণিজ্য শিল্প এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থাগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এজন্য এটি কারা তদারকি করবে সে বিষয়টি কেবিনেটে (মন্ত্রীপরিষদ সভা) উত্থাপন করা হয়েছে। কেবিনেট বলে দেবে এগুলো কার কাজ।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, খাদ্য নিরাপত্তায় সব থেকে বেশি কাজ করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা লাইসেন্সিং অথরিটি না। এজন্য ব্যবসায়ীরা ভয় পাচ্ছে না এ সংস্থাকে। তারা (ব্যবসায়ী) লাইসেন্স যে দেয় তাদের সবচেয়ে বেশি ভয় করে।

jagonews24

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেমিনারে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার

খাদ্য ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ কেউ মুনাফার জন্য ইচ্ছা করে অনিরাপদ খাদ্য তৈরি করে। আমরা চাই দেশের খাদ্য বিদেশের বাজার জয় করুক। এখন যেটুকু বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, সেটা প্রবাসী বাংলাদেশিরা খাচ্ছেন। আমরা চাই অন্যান্য দেশের মানুষ বাংলাদেশি পণ্য খাবে। আপনারা খাদ্যের মান উন্নয়ন করুন।

চাল নিয়ে মন্ত্রী বলেন, চাল নিরাপদ করতে কতটুকু ছাঁটাই করা যাবে, কী মেশানো যাবে, কোনটা যাবে না, সে আইন করছি। তাতে ঠিক থাকবে পুষ্টিমান। খসড়া আইনটি কেবিনেটে পাস হয়ে এখন ভেটিংয়ে রয়েছে। আশা করছি আগামী অধিবেশনে সেটি হবে। তখন চাল ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে জনসচেতনতাও দরকার বলে জানান সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, আমরা বস্তায় চাল কিনি না। কিন্তু সেটা যখন পালিশ করে প্যাকেটে ভরা হয়, তখন ১০ টাকা বেশি দিয়ে কিনি। সেজন্য ব্যবসায়ীরাও সেটা করে।

এসময় খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, আমরা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। এখনও এ সংস্থা অনেক কাজ করছে।

এসময় খাদ্য সচিবের সভাপতিত্বে আর উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গিয়াসউদ্দিন মিয়া, এফএওর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টিটিভ রবার্ট সিম্পসনসহ খাদ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান, এফএওর প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।


আরও খবর