Logo
শিরোনাম

মাঠে নামতেই বৃষ্টিতে ভিজলেন মুশফিক-ইয়াসিররা

প্রকাশিত:রবিবার ১০ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ১১৮জন দেখেছেন
Image

আকাশে মেঘের ঘনঘটা ছিল আগে থেকেই। অন্ধকারে ছেয়ে ছিল পুরো স্টেডিয়াম। তবু যতটুকু আলো ছিল তাতেই দিনের খেলা শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন দুই আম্পায়ার। মাঠেও নেমে গিয়েছিলেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। কিন্তু প্রথম বল করার আগেই নামলো বৃষ্টি।

ফলে মাঠে গড়ালো না কোনো বল। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে দৌড়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশ দলের দুই ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলি রাব্বি। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডাররা ধীর পায়ে অনেকটা অনিচ্ছা নিয়েই মাঠের বাইরে যান।

বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায় শুরুর কথা ছিল পোর্ট এলিজাবেথ (গেবেখা) টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে যথাসময়ে শুরু হলো না আজকের খেলা। উইকেট ও এর আশপাশের জায়গা ঢেকে দেওয়া হয়েছে কভার দিয়ে। বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রিকেটাররা।

ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৩৯ রান। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে এখনও ৩১৪ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। ফলোঅন এড়াতেও করতে হবে আরও ১১৫ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে আজকের দিনের খেলা শুরু করবেন দুই অপরাজিত ব্যাটার মুশফিকুর রহিম (৩০) ও ইয়াসির আলি রাব্বি (৮)। সাজঘরে ফিরে গেছেন তামিম ইকবাল (৪৭), মাহমুদুল হাসান জয় (০), নাজমুল হোসেন শান্ত (৩৩), মুমিনুল হক (৬) ও লিটন দাস (১১)।


আরও খবর



ওদের জীবনেও ঈদ আসুক

প্রকাশিত:রবিবার ০১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৫০জন দেখেছেন
Image

আজ মে দিবস। দিবসকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিকতায় যতটা জোরেশোরে শ্রমিক অধিকারের কথা উচ্চারিত হয়, বাস্তবের সঙ্গে তার বিস্তর ব্যবধান। বাস্তবতা হচ্ছে, শ্রমিকদের বঞ্চনার ইতিহাস নতুন নয়। দেশে দেশে, কালে কালে নানাভাবে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। রাতদিন পরিশ্রম করেও তারা ঠিকমতো মজুরি পায় না। তার ওপর বেতন বকেয়া থাকা, কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই, লকআউট— এসব কারণেও শ্রমিকদের দুর্দশার সীমা থাকে না।

কর্মস্থলের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। অনেক ফ্যাক্টরির কাজের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ঝুঁকিমুক্ত নয়। ফলে কাজ করতে গিয়ে অনেককে জীবনও দিতে হয়। সঠিক অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা না থাকায় অনেক শ্রমিকের জীবন গেছে। তামাকজাত কারখানা, চামড়া, লবণ, জাহাজভাঙাসহ এজাতীয় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগতে হয় শ্রমিকদের। কিন্তু তারা কোনো চিকিৎসা সুবিধা পায় না, মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণও পাওয়া যায় না। সার্বিকভাবে বাংলাদেশে শ্রমিকদের জীবন তাদের জন্য কল্যাণকর নয়— এটা বলা যায়। অনেক ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা আদায়ের জন্য রাস্তায় নামতে হয় তাদের। কিন্তু সেখানেও নানা ঝক্কি। পুলিশের লাঠিপেটা, মালিকের চোখরাঙানি। চাকরিচ্যুতির ভয়। এ যেন অমোঘ নিয়তি।

এবারের মে দিবসের বাস্তবতা ভিন্ন। করোনা মহামারি কেড়ে নিচ্ছে মানুষের জীবন। কেড়ে নিচ্ছে জীবিকা। কেড়ে নিচ্ছে পেশা। সবচেয়ে করুণ দশায় আছেন পরিবহন শ্রমিকরা। গত বছর মহামারিজনিত সাধারণ ছুটির কারণে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। সেই ধাক্কা কাটিয়ে না উঠতেই আবারও লকডাউন। এর প্রভাব পড়ছে সব সেক্টরের শ্রমিকের ওপর। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তারা যেন ঈদ আনন্দে শরীক হতে পারে নিশ্চিত করতে হবে সেটিও। তবেই মে দিবস তাদের কাছে তাৎপর্ময় হবে।

বাংলাদেশে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে শিশুশ্রমিকরা। শিশুশ্রম আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়। কিন্তু বিশ্বের কোনো দেশই শিশুশ্রমের বাইরে নয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ সমস্যা আরো প্রকট। বাংলাদেশের শিশুদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই শিশুশ্রমে নিয়োজিত। মূলত দরিদ্র পরিবারে অর্থনৈতিক সহায়তার জন্যই এদের শ্রমে নিযুক্ত হতে হয়। আর এরা শুধু দিনান্ত পরিশ্রমই করে না, বরং তাদের এমন সব কাজ করতে হয়, যা তাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

শিশুশ্রম অপেক্ষাকৃত সস্তা এবং সহজলভ্য হওয়ায় বাংলাদেশের শিশুশ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অপরাধমূলক ও অনৈতিক কাজের সঙ্গে তাদের যুক্ত করা হচ্ছে জোর করে। বলা হয়ে থাকে, আজকের শিশুই আগামী দিনের সম্পদ। অধিকারবঞ্চিত এসব শিশুকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে না পারলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কি আদৌ সম্ভব? অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গার্মেন্ট সেক্টর শিশুশ্রমমুক্ত করা গেছে। তাহলে অন্যান্য সেক্টর শিশুশ্রমমুক্ত করতে বাধা কোথায়? একদিকে স্কুলগামী শিশুদের এক বিরাট অংশ শিশুশ্রমে বাধ্য হচ্ছে, অন্যদিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা। এই বৈপরীত্যের মানে কী?

বাংলাদেশে নারী শ্রমিকরাও বৈষম্যের শিকার। শুধু নারী হওয়ার কারণে একই শ্রমের ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিক ও নারী শ্রমিকের মজুরি পার্থক্য রয়ে গেছে। ধরা যাক, একজন পুরুষ শ্রমিক সারা দিন ইট ভাঙার কাজ করে তিন শ টাকা পান, এ ক্ষেত্রে নারী শ্রমিক পাবেন ২৫০ টাকা। এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। তবু চলছে এটাই। আসলে নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার, সম্পদ ও ভূমিতে সমঅধিকার, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীর সমান সুযোগ ও অংশীদারত্ব এখনো নিশ্চিত হয়নি। বৈষম্য রয়েই যাচ্ছে।

বাংলাদেশে রপ্তানি খাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থানকারী গার্মেন্টশিল্প খাতের শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ বাংলাদেশের গার্মেন্ট কারখানাগুলোর অবকাঠামো, কর্মপরিবেশ, শ্রমিক নিরাপত্তা ও অধিকারের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। কিন্তু গার্মেন্ট মালিকরা এসব বাস্তবায়ন না করায় একের পর এক ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ, অবহেলাজনিত কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া, ক্ষতিপূরণ এবং আইনি দুর্বলতা ইত্যাদি কারণে প্রতিবছর নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু তাদের পরিবার ক্ষতিপূরণও পাচ্ছে না। অথচ মারাত্মক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার জন্য ১৯৫৫ সালের আইনে নিহত শ্রমিকের সারা জীবনের আয়ের সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস জনশক্তি রপ্তানি। বিদেশের মাটিতে ঘাম-শ্রম ঝরিয়ে লাখ লাখ প্রবাসী এ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, এসব শ্রমিকের অনেকেই বিদেশের মাটিতে গিয়ে নানা রকম প্রতারণার শিকার হন। যে বেতন দেওয়ার কথা, সেটি দেওয়া হয় না। যে কাজ করার কথা, তার চেয়ে নিম্নমানের কাজ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও মানসম্মত হয় না। এসব কারণে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের যেমন মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়, তেমনি তারা কাঙ্ক্ষিত অর্থ উপার্জন করতে না পারায় রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে শুধু শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতিও। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি তাঁদের ওপর অর্পিত কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতেন, তাহলে এ সমস্যার উদ্ভব হতো না।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ গিয়ে তারা সামান্য আয় করলে নিজে চলবে কী আর দেশেই বা পাঠাবে কী। এ অবস্থায় শ্রমিকরা যাতে প্রতিশ্রুত বেতন পায়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কথা। অভিযোগের তীরটা সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের প্রতিও। বাংলাদেশি শ্রমিক অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে শ্রমিকদের সমস্যাদি দেখা। কিন্তু সমস্যা দেখা তো দূরের কথা, শ্রমিকরা তাদের সমস্যা জানাতে গিয়ে দূতাবাস কর্মকর্তাদের দেখাটা পর্যন্ত পায় না। এসব বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সবার সমন্বিতভাবে কাজ করা উচিত।

এবারের মে দিবসের বাস্তবতা ভিন্ন। করোনা মহামারি কেড়ে নিচ্ছে মানুষের জীবন। কেড়ে নিচ্ছে জীবিকা। কেড়ে নিচ্ছে পেশা। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই মে দিবস তাদের কাছে তাৎপর্ময় হবে।

শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণের জন্যই প্রতিবছর পালন করা হয় মে দিবস। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে দিনটি ১৮৯০ সালের ১ মে থেকে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় মে দিবস পালিত হয়ে আসছে। সভা-সেমিনারে উচ্চারিত হয়েছে অগ্নিউদ্গারী ভাষণ। কিন্তু আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এখনো পর্বতপ্রমাণ বেকার সমস্যা। শ্রমিকরা অধিকার থেকে বঞ্চিত। নানা রকম বৈষম্যেরও শিকার। সেখানে মে দিবস পালন কেবলই আনুষ্ঠানিকতালব্ধ আয়োজন হয়তো বা। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধতাড়িত সমাজব্যবস্থা এই অন্ধকারে পথ দেখাতে পারে। এই আত্মোপলব্ধি কাজ করুক সবার মধ্যে। এটাই প্রত্যাশা।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।
[email protected]


আরও খবর



খুলনায় খোলা সয়াবিনের কেজি ২১০ টাকা

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪১জন দেখেছেন
Image

খুলনায় বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে গেছে। কেজিতে ডাবল সেঞ্চুরি পার করেছে খোলা তেলের দাম। শনিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকেই খুলনার বাজারে সর্বাধিক বিক্রি হওয়া এই ভোজ্যতেল বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকা কেজি দরে।

খুচরা ও পাইকারি দোকান মালিকদের অভিযোগ, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও তেলকল মালিকরা কৃত্রিম এ সংকট সৃষ্টি করে তেলের দাম বাড়িয়েছে।

শনিবার বিকেলে নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বর্তমানে ২১০ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা। অথচ গত ২৩ এপ্রিল এ পণ্যটি বিক্রি হয়েছে ১৭৫ টাকায়। বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল ১৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৬৫ টাকায়। তবে বাজারে মিলছে ২ থেকে ৫ লিটারের বোতলজাত তেল।

বড় বাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন সরদার বলেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে শতকরা ৮৫ শতাংশ পাম ওয়েল আমাদের দেশে আমদানি করা হয়। সয়াবিন তেলের প্রভাব কিছুটা পাম ওয়েল দিয়ে পূরণ করা হয়। ইন্দোনেশিয়া হঠাৎ পাম ওয়েলের রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে সয়াবিন তেলের ওপর। বাজার স্থির হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। মূল্য বাড়ার আগে প্রতি মণ সয়াবিন তেলে ৬ হাজার ৮০০ টাকায় কিনলেও বর্তমানে তা ৭ হাজার ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অনুরূপভাবে পাম ওয়েল ৬ হাজার টাকায় কিনলে বর্তমানে তা সাড়ে ৬ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য বাড়ার জন্য সরাসরি মিল মালিকদের দায়ী করেছেন। তারা সরকারের কোনো নির্দেশ মানছেন না।

তারা আরও বলেন, রমজানের শুরুতে তেলের দাম বেড়েছিল। কিন্তু সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে দাম কমে ১৫৮ টাকায় নেমে যায়। কিন্তু কোনো ঘোষণা ছাড়াই গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে।

টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের ব্যবসায়ী আবু বক্কর, আতাহার আলী, আব্দুল্লাহ বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের বাজার অস্থির। এ সময়ে খোলা তেলের দাম তিনবার বেড়েছে। প্রথমদিকে ১৭২ টাকা পরে ১৮০ টাকা ও সর্বশেষ ১৯২ টাকায় প্রতি কেজি খোলা তেল কিনতে হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে গেলে কোম্পানির কর্মকর্তারা বিভিন্ন ফর্দ ধরিয়ে দিচ্ছেন। তেল নিতে গেলে চিনিগুড়া চাল, হলুদ না হয় গুড়া মরিচ নিতে হয়। এমনিতে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে, এরওপর এসব পণ্য নেওয়ায় আরও লোকসান বাড়ছে। তাই আমরা বোতলজাত সয়াবিন না নিয়ে খোলা তেল বিক্রি করছি। প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ২১০ টাকায় বিক্রি করছি। এ দরে বিক্রি না করলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।

এ বাজারের নিয়মিত ক্রেতা হাজেরা পারভিন, বাদল হাওলাদার, নাসির হোসেন বলেন, প্রতি সপ্তাহে যদি তেলের দাম বেড়ে যায় তাহলে চলবো কী করে। গত সপ্তাহে আমি বাজার থেকে ১৭৮ টাকায় তেল কিনেছি। আজ তেলের দাম শুনে রীতিমতো হতবাক।

তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে সেভাবে মানুষের আয় বাড়ছে না। আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে। অভাব শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের এককভাবে লাগেনি। এখন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের দরজায় কড়া নাড়ছে। বাজার ব্যবস্থায় সরকারের দৃষ্টির অনুরোধ জানাচ্ছি। না হলে মধ্যবিত্তরা মারা যাবে। কারণ তারা কারও কাছে হাত পাততে পারে না।

তবে নগরীর সব বাজারে প্রায় প্রতিদিন অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহিনুর আলম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকার তেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। চুরি করে যদি কেউ বিক্রি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু বড় বাজারই নয়, নগরীর প্রায় সব বাজারেই অভিযান চালানো হচ্ছে। মূল্যবাড়ার অভিযোগ প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গত ২০ মার্চ ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে সময় সরকার এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ১৬০ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৭৬০ টাকা ও প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দেয়।


আরও খবর



রান্নাঘরের তেল চিটচিটে টাইলস পরিষ্কারের ৩ উপায়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৬জন দেখেছেন
Image

রান্নাঘর সবচেয়ে বেশি নোংরা হয়। বিশেষ করে চুলার আশপাশের দেওয়াল বা টাইলস নিয়মিত রান্নার পর পরিষ্কার করা না হলে নোংরা জমে যায়। যা পরে পরিষ্কার করা বেশ কঠিন।

তবে কয়েকটি উপায় মেনে আপনি কিন্তু খুব সহজেই পরিষ্কার করতে পারেন তেল চিটচিটে রান্নাঘরের টাইলস। সেক্ষেত্রে কী করণীয় চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক-

>> রান্নাঘরের সিংক বা টাইলসে তেলের আস্তরণ পড়লে, ওই স্থানে লেবুর রস ছড়িয়ে কিছুক্ষণ স্থানটিতে বরফ ঘষে নিন। দেখবেন নোংরা পরিষ্কার হয়ে তেলচিটে ভাব চলে গেছে।

jagonews24

এছাড়া পানির সঙ্গে ভিনেগার মিশিয়েও বরফ জমিয়ে সেটা দিয়েও সরাসরি পরিষ্কার করতে পারেন তেল চিটচিটে টাইলস।

>> ২ পানিতে ২ কাপ ভিনেগার মিশিয়ে ওই মিশ্রণ একটি স্প্রে বোতলে ভরে টাইলসে স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে নি। তারপর সাবান পানি দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে টাইলস।

jagonews24

>> পরিষ্কারক হিসেবে ব্লিচ বেশ জনপ্রিয়। অনেকদিনের জমা তেল ও ময়লা পরিষ্কার করা বেশ কষ্টকর।

সেক্ষেত্রে পানির সঙ্গে ব্লিচ মিশিয়ে টাইলসে ঘষলেই উঠে যাবে ময়লা। তারপর একটি কাপড় দিয়ে মুছে নিন।


আরও খবর

কাঁচা কাঁঠালের কাবাব

শুক্রবার ২০ মে ২০22




মধ্যপাড়া পাথর খনিতে বিস্ফোরক সংকটে ফের উৎপাদন বন্ধ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ৪৭জন দেখেছেন
Image

পাথর উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক (অ্যামালসন এক্সপোসিভ) সংকটে পঞ্চমবারের মতো দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রতিদিন সরকারের লোকসান হবে প্রায় দেড় কোটি টাকা।

গত রোববার (১ মে) সকাল থেকে খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

এর আগে গত ১২ মার্চ পাথর উৎপাদন ও উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) সংকটে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

সে সময় খনি কর্তৃপক্ষ (এমজিএমসিএল) বলেছিল, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে পরিবহন সংকট সৃষ্টি হওয়ায় বিস্ফোরক আমদানিতে বিলম্ব হয়েছিল। কিন্তু এবার কেউ কথা বলছেন না।

চুক্তি অনুযায়ী খনির উন্নয়ন, উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাহিদামতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিস্ফোরক সরবরাহ করবে খনি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে (জিটিসি) চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক সরবরাহ করতে না পারায় খনির উন্নয়ন ও পাথর উৎপাদন কাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

খনি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পাথর উত্তোলন কাজের জন্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও অ্যামালসন এক্সপোসিভ অতিপ্রয়োজনীয় উপাদান। চুক্তি অনুযায়ী খনি কর্তৃপক্ষ সময়মতো জিটিসিকে চাহিদা মাফিক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও অ্যামালসন এক্সপোসিভ সরবরাহ করবে। কিন্তু গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে খনি কর্তৃপক্ষ জিটিসিকে চুক্তি মোতাবেক সময়মতো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও অ্যামালসন এক্সপোসিভ সরবরাহ করতে পারেনি। এবার অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহ থাকলেও অ্যামালসন এক্সপোসিভের সরবরাহ নেই। খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তাগাদা সত্বেও যথাযথ সহযোগিতার অভাবে বর্তমান এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, সময়মতো বিস্ফোরক সরবরাহ না করায় দৈনিক গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রতিদিন সরকারের লোকসান হবে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি উন্নয়ন কাজে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পাথর সংকটে পড়ে চলমান নির্মাণ কাজ ব্যাহত হবে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অন্যদিকে, পাথর আমদানি করে সংকট মোকাবিলা করতে গেলেও সরকারের বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে। কবে নাগাদ আমদানি করা এই বিস্ফোরক দেশে এসে পৌঁছাবে এর সঠিক কোনো দিনক্ষণও বলতে পারছে না খনি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে এসব বিস্ফোরক আমদানি করা হয়। তবে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে পরিবহন সংকট সৃষ্টি হওয়ায় বিস্ফোরক আমদানিতে বিলম্ব হচ্ছে। এ মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ বিস্ফোরকের একটি চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা যায়।

খনির একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, পাথর উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত বিস্ফোরকের (অ্যামালসন এক্সপোসিভ) অভাবে গত ১ মে থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এরইমধ্যে বিস্ফোরক আমদানি করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে বিস্ফোরক আসবে। উত্তোলন বন্ধ থাকায় কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। তবে যেসব পাথর মজুত রয়েছে সেসব বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে খনি অভ্যন্তরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পাথর মজুত রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু দাউদ মোহাম্মদ ফরিদুজ্জামানকে তার মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

২০০৭ সালে মধ্যপাড়া পাথর খনিতে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। এর আগে বিস্ফোরকের অভাবে প্রথম ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস, ২০১৮ সালের জুন মাসে সাতদিন ও ২০২২ সালের মার্চ মাসে ১৪ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল।


আরও খবর



শত্রুতার জেরে পুুকুরে বিষ, মরে ভেসে উঠলো ২ লাখ টাকার মাছ

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২০ মে ২০22 | ২৯জন দেখেছেন
Image

ঝিনাইদহে পুকুরে বিষ দিয়ে দুই লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করেছে প্রতিপক্ষরা। রোববার (১৫ মে) রাতে সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের পানামী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মৎস্যচাষি বাবুল মণ্ডলের পুকুরে এ বিষ দেওয়া হয়।

বাবুল মণ্ডল জানান, বাড়ির পাশের পুকুরে তিনি মাছ চাষ করে আসছেন। পুকুরে ৮ মাস আগে বিভিন্ন জাতের পাঁচ মণ মাছের পোনা ছাড়েন। কিছুদিনের মধ্যে মাছগুলো বিক্রি করার আশা করছিলেন। সোমবার (১৬ মে) সকালে পুকুরে মাছের খাবার দিতে গেলে মাছগুলো ভেসে উঠতে দেখেন। দুপুর পর্যন্ত পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এতে তার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন।

বাবুল মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে প্রতিবেশী ছমির মোল্লার সঙ্গে তার বিরোধ হয়। এরপর থেকে তারা মাছ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। রোববার রাতে তারা বাড়িতে মিটিংও করেছেন। আমাদের পুরো সন্দেহ ছমির মোল্লা ও তার লোকজন আমার পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলেছেন।’

jagonews24

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ছমির মোল্লা বলেন, ‘আমরা এ কাজ করিনি। আমরা করলাম নাকি তৃতীয় পক্ষ করলো আপনারা তদন্ত করে দেখেন।’

হরিশংকরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবু আলম লালু বলেন, পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মারা একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। মানুষের সঙ্গে বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে মাছ নিধন করা খুবই জঘন্যতম কাজ।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর