Logo
শিরোনাম

মনসুর মুসা: ভাষার বিশুদ্ধ চেতনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৬২জন দেখেছেন
Image

আলীনূর রহমান

কিছু মানুষের সংস্পর্শে গেলে সব সময়ই ভালো লাগে। মনে হয় আরও কিছু সময় তার সংস্পর্শে কাটিয়ে আসি—কিছু কথা শুনি, নিজেকে ঋদ্ধ করি। এই মহান মানুষেরা সর্বময় জ্ঞানদান করে তাদের ছাত্রছাত্রীদের পৌঁছে দিতে চান শীর্ষে। এটা যে যেভাবে গ্রহণ করবে, সে সেভাবেই নিজেকে সমৃদ্ধ করে তুলবে। আমি বলছি তেমনই একজন মানুষ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও ভাষাতাত্ত্বিক মনসুর মুসা স্যারের কথা। আমরাই তাকে প্রথম পেয়েছিলাম গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা বিভাগে যখন তিনি ডিন হয়ে আসেন। অবশ্য তার আগেও তিনি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

আমি অনেক আগে থেকেই এই মহান মানুষের নামের সাথে পরিচিত ছিলাম। কেননা সর্বপ্রথম কবি অতীন অভীক আমাকে ঝিনাইদহের কবি ও গল্পকার শহীদুর রহমানের কথা বলেছিলেন। যার বিখ্যাত ছিল বিড়াল গল্প। পরবর্তীতে তার বিড়াল গল্পের নামে বইও প্রকাশিত হয়েছিল। এই শহীদুর রহমানের মৃত্যুর পরে তাকে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ করা হয়, সেটি সম্পাদনা করেছিলেন মনসুর মুসা ও জিয়া হায়দার। এই প্রথম স্যারের নামের সাথে পরিচিতি—তারও পূর্বে বোধহয় শিক্ষক ও গবেষক মাহমুদ শাহ কোরেশী স্যারের মুখে তার কিছু কথা শুনেছি।

অনেক বইয়ের ভূমিকায় তার নাম দেখেছি। কারণ তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ভাষা ইনিস্টিটিউটেও তিনি কর্মরত ছিলেন। এই মানুষটিকে পেয়ে আমি ভেতরে ভেতরে একটু বেশিই উৎফুল্ল হয়েছিলাম। এমন ভাষাতাত্ত্বিক মানুষের সংস্পর্শ পাওয়াটাও তো ভাগ্যের ব্যাপার। ছাত্রাবস্থায় তিনি আমার হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছেন। ডিন অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে গণ’র খোলা খেলার মাঠ দেখা যেত—আমরা সেখানে নিয়মিত ভিড় জমাতাম। কোনদিন ডিন অফিসে আমাদের কাজ থাকত না। তবুও স্যারকে দেখার জন্য সামনে ঘোরাঘুরি করতাম—সে ঘোরাটাও কয়েকদিনের। পরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ করে বের হয়ে আসি।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসার বেশ কিছুদিন পর আবার গিয়েছিলাম লেখাপড়ার প্রমাণপত্র আনতে। কারণ সে সময় আমি লক্ষ্মীপুর ভবানীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেছি। স্যারের রুমে ঢুকতেই চিনলেন এবং বললেন, ‘কেমন চলছে দিন—লেখালেখি কিছু কি হচ্ছে?’ ‘চলছে স্যার, কলেজেও জয়েন করেছি বাংলার শিক্ষক হিসেবে।’ জানতে চাইলেন, ‘কোথায়?’ লক্ষ্মীপুর শুনতেই স্যার জানালেন, ‘এত দূর?’ পরে স্যারের সাথে কাজ শেষ করে রুম থেকে বের হয়ে আসি। স্যার শুধু একটি কথাই বললেন, ‘লেগে থাকো, হাল ছেড়ে দিও না।’ আমি সেই কথাটি আজও মনে রেখেছি।

কয়েকদিন আগেও স্যারের সঙ্গে দেখা হলো। স্যার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে আছেন। মাঝে শুনেছিলাম তিনি স্ট্রকও করেছিলেন। সেই সাথে বয়সেরও তো একটি বিষয় সব সময় থেকে যায়। স্যারের রুমে ঢুকতেই কয়েস স্যার (বাংলা বিভাগের প্রথম ছাত্র। আমাদের বড় ভাই। পরে তিনি বাংলা বিভাগে যোগ দিয়েছেন) আমাকে স্যারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। ‘স্যার, এ আমাদের ছাত্র—আলীনূর। বঙ্গ রাখাল নামে লেখালেখি করে।’ স্যার কিছু সময় মুখের দিখে তাকিয়ে থাকলেন। কথা শুরু হলো। আমি আমার ‘ছোটবোয়ালিয়া-জয়ন্তীনগর-বসন্তপুর গণহত্যা’ (মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা), ‘কবিতার করতলে’ (প্রবন্ধ) ও ‘কবিতায় ঘর-বসতি’ (প্রবন্ধ) বই তিনটি দিলাম। স্যার বইগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখলেন এবং বললেন, ‘আপনারা যারা লেখালেখি করছেন, তারা কবি তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে কেন লেখেন না?’ আমি বললাম, ‘স্যার, আমার প্রিয় কবি-লেখকদের মধ্যে তসলিমাও একজন। তাকে নিয়ে একটা লেখাও আমি লিখেছি।’ স্যার তখন বললেন, ‘আমার তো আপনার সাথে এর আগেও কথা হয়েছে। আপনি কোন কলেজে যেন চাকরি করতেন? সেখানে আছেন না অন্য কোথাও ঢুকেছেন?’ তখন জানালাম, ‘স্যার, আমি কলেজের চাকরি ছেড়ে একটি বেসরকারি চাকরি করছি।’ বাসার কথা জানতে চাইলেন। বললাম, ‘মিরপুর-২।’ গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কথা বলতেই তিনি বললেন, ‘ওখানে তো আমার একটা বন্ধু থাকতো।’ তার কথার লেশ ধরেই বললাম, ‘স্যার, আমি জানি। আপনি শিক্ষক ও গল্পকার শহীদুর রহমানের কথা বলছেন। আপনি যে তার মৃত্যুর পরে একটা স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনা করেছিলেন সেটাও জানি এবং সেটা আমার সংগ্রহেও আছে।’ এবার স্যারের সাথে কথার পর্ব শেষ করে বের হয়ে এলাম।

রুম থেকে বের হয়ে আসতে আসতে মনে পড়ল, কী মানুষ আর কী হয়ে গেছেন। তবুও একটি বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন গভীর মনোযোগে। এই বয়সে এসেও তিনি তার দায়িত্ব থেকে এতটুকু ক্ষ্যান্ত দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠবাদাম বৃক্ষতলে বসে মনে করার চেষ্টা করলাম স্যারের কোনো বই কি সত্যিই আমি পড়েছি। তখন মনে পড়ে গেল, মুক্তধারা প্রকাশনী থেকে ১৯৮৪ সালে শিল্পী হাশেম খানের প্রচ্ছদ করা একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। বইটির নাম ‘ভাষা পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’। এই গ্রন্থে দশটি প্রবন্ধ ছিল। বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, বাংলাদেশের ভাষাপরিস্থিতি, বাংলা ভাষালেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণ, তুর্কী ভাষা-আন্দোলন, ভাষাতাত্ত্বিক ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ঔপনিবেশিক ভাষানীতি প্রসঙ্গে, ভাষার বিশুদ্ধতা, ভাষা পরিকল্পনা, বাংলা ভাষা ও প্রশাসনিক নির্দেশ, বাংলা প্রচলন সংক্রান্ত বিবেচনা।

বইটি যে কেউ হাতে নিলেই হয়তো ভয়ে কিছুটা শিহরিত হয়ে উঠবেন—ভাষা হয়তো কত কঠিনই বা হয়ে উঠবে। কিন্তু বইটা পড়তে শুরু করলেই সারল্যতা নিয়ে শুধু পড়েই যেতে ইচ্ছে করবে। ভূমিকা একটু পড়ে নিলেই আমরা বুঝতে পারব—‘ ভাষা কাকে বলে এবং কাকে বলে না এ ধরনের দার্শনিক কূটতর্কে অবতীর্ণ না হয়ে আমরা শুধু স্বীকার করে নেবো যে, ভাষা হচ্ছে মানুষের এক ধরনের মস্তিষ্কজাত মানবীয় ক্ষমতা, যা সামাজিক আবহাওয়ায় পরিপুষ্ট হয়ে মানুষের সামাজিক মানবত্বকে প্রতিষ্ঠা দান করে। জৈবিক মানুষ যখন সামাজিক মানুষে রূপান্তরিত হয়েছিল তখন থেকেই ভাষা মানব-জীবনের অপরিহার্য উপকরণ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল।’

এভাবেই বইয়ের লেখা কত সহজ-সরল বাক্যের মধ্য দিয়ে তিনি শুরু করেছেন—আমাদের ভাষার গুরুত্ব কিংবা ভাষার তৎপর্যের কথা তার এই লেখার মাধ্যমে সব পাঠকের কাছেই তিনি তুলে ধরছেন। তিনি ভাষা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করেছেন এবং এই ভাষার তাৎপর্য মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করে চলেছেন এখনো। তবে এই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তার ভাষার ব্যবহার নিয়ে অনেক ক্ষোভ আছে। তিনি সেই ১৯৮৪ সালেই বলেছেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ভাষাতত্ত্ব চর্চার গুরুত্ব নানাভাবে স্বীকৃত হয়েছে। অনুন্নত দেশ বলে আমাদের দেশে ভাষাতত্ত্বের বহুমুখী গুরুত্ব স্বীকৃত হয়নি। অবশ্য ‘লবণ আনতে পান্তা ফুরায়’ যে দেশে সেখানে ভাষাতত্ত্বের মতো প্রত্যক্ষ উৎপাদন কর্মের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিষয় কম আলোচিত হওয়াই মঙ্গলজনক। তবে ভাষাতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদ যে দেশে শ্লোগান, যেখানে ভাষা একটি মৌলিক রাজনৈতিক হাতিয়ার সেখানে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হলেও কিঞ্চিৎ ভাষাতত্ত্বের চর্চা অধিক হওয়া উচিত ছিল। (তাহলে আমাদের দেশে ভাষার অপব্যবহার যে পরিমাণ বেড়েছে সেটা হতো না)।’

আমাদের দেশে কিছু প্রতিষ্ঠান ভাষা নিয়ে কাজ করলেও তাদের কাজ সেভাবে চোখে পড়ার মতো নয়। আমাদের প্রতিনিয়ত ভুল এবং অশুদ্ধ শব্দের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যে দেশের রাজনৈতিক শক্তি সঞ্চালিত হয় বায়ান্ন থেকে—সেখানকার ভাষার ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের কোন বিধি-নিষেধ নেই। টেলিভিশন, বেসরকারি রেডিওগুলোয় হরহামেশা তাদের ইচ্ছামতো বাংলা ভাষাকে ব্যবহার করে থাকেন। আসলে ইতিহাস হাতড়ে দেখতে গেলে আমাদের এই ভাষা ঐতিহাসিকভাবেই অবজ্ঞার বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে—এমনকি এখনো এই ভাষা অবহেলার পাত্র। বাংলায় যারা পড়ালেখা করেন, তাদের করুণ অবস্থা দেখলেও কিছুটা অনুমান করা যায়।

আর্যদের কাছে সব সময়ই এই ভাষা ছিল ‘পাখির ডাকের মতো অস্পষ্ট’। তাদের সময়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ ভাষাছিল সংস্কৃত ভাষা। শাসক পুরোহিত বা অভিজাতদের ভাষাই ছিল সংস্কৃত। সমাজের নিম্নগোছের মানুষেরা এই ভাষা কখনো চর্চা করতে পারতো না। কারণ তারা চর্চা করলেই তাদের রৌরব নামে এক ধরনের নরকের নিকৃষ্টতম জায়গায় নিক্ষেপ করা হতো। এভাবেই নানা ভাবে তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে রাখা হয়েছে—এভাবেই শাসক সম্প্রদায় ভাষাকে সত্যিকার অর্থেই বিকশিত হতে দেয়নি। এই ভাষার অপমানজনক ব্যবহার নিয়েও লেখক মনসুর মুসা অনেক আফসোস করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়োবৃদ্ধ শিক্ষকও ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে এক ধরনের জগাখিচুড়ি ভাষা ব্যবহার করে থাকেন।

সদ্য আগত নবীন অধ্যাপক বিনয়াবনত কণ্ঠে বলেন যে, বহুদিন পর বাংলা বলতে একটু তার অসুবিধা হচ্ছে, কিন্তু শিগগিরই তিনি চমৎকার রপ্ত করতে পারবেন। এই আমাদের ভাষার হাল। এভাবেই তিনি তার ‘ভাষা পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ গ্রন্থে ভাষা নিয়ে অনেক কথাই ধারাবাহিকভাবে বলে গেছেন। কারণ আমরা যে ভাষার ওপর নির্ভর করেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি—সে জায়গাটাই নড়বড়ে হলে আমরা একদিন মুখ থুবড়ে পড়ব। তাই ভাষাকে রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। আমাদের সন্তানদের ভাষার তাৎপর্য তুলে ধরে তাদের ভাষার প্রতি মমতা বাড়াতে হবে। আর এভাবে লাগামহীন ভাষার যাচ্ছেতাই চলতে থাকলে ভাষাহীন মানব একদিন দানবে রূপান্তরিত হবে। তবে ভাষাতত্ত্বের বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অনুধ্যানীত হলেও তা আজ অনেকটা অনালোচিতও বটে।

আবারও মনসুর মুসা স্যারের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে হয়, ভাষার বিশুদ্ধিচেতনা ব্যাপারটি পুরাপুরি ভাষাতাত্ত্বিক নয়, সমাজতাত্ত্বিক। ভাষাকে সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বিশ্লেষণ করতে হবে, সমাজবিচ্ছিন্ন করে নয়।


আরও খবর

জাহিদ নয়নের দুটি কবিতা

সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২




সীতাকুণ্ডের ঘটনায় কুয়েতের আমিরের শোক

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৪৮জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুয়েতের আমির শেখ নওয়াফ আল-আহমেদ আল-সাবাহ।

মঙ্গলবার (৭ জুন) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ শোক জানান কুয়েতের আমির। শোকবার্তায় তিনি অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

এর আগে শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর রাসায়নিকের কনটেইনারে একের পর এক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে বহু দূর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯জন ফায়ার সার্ভিসের ৯ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া দগ্ধ ও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৬৩ জন।


আরও খবর



সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ কর্মীসহ নিহত ৩১

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনের পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জন হয়েছে। এদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী রয়েছেন পাঁচজন।

এছাড়া আগুনে আহত হয়েছেন আরও চার শতাধিক। তাদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও রয়েছেন।

রোববার (৫ জুন) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আহতদের দেখতে আসেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।


আরও খবর



গোপালগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ২২জন দেখেছেন
Image

গোপালগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে সহিদুল মোল্লা নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রোববার (৩ জুন) দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হায়দার আলী খোন্দকার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

সরকার পক্ষের কৌঁসুলি রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ জানান, ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর স্ত্রী লাভলী বেগমকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির পাশের ফাঁকা মাঠে মাফলার পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরদিন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ওই দিন নিহতের বাবা ছমির গাজী সাত জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে সহিদুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।


আরও খবর



নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে যেসব দেশ জ্বালানি কিনছে

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হয় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। দেশ দুটির যুদ্ধ গড়িয়েছে পঞ্চম মাসে। এখনো চলছে লড়াই। ইউক্রেনে হামলার কারণে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার পাহাড় জমেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে মূল্যছাড়ে জীবাশ্ম জ্বালানি কিনছে বিভিন্ন দেশ।

ইউক্রেন আগ্রাসনের শুরু থেকে গত ৪ জুন পর্যন্ত একশ দিনে ৯ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি বিক্রি করেছে রাশিয়া। সে হিসেবে দেশটি প্রতিদিন গড়ে ৯৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের জ্বালানি বিক্রি করেছে। এসব জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রয়েছে অপোরিশোধিত তেল, পাইপলাইনে গ্যাস নেওয়া, তেলজাত পণ্য, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং কয়লা।

চলুন দেখা যাক, রাশিয়া তাহলে, কোন জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি করছে এবং কারা এই জ্বালানি আমদানি করছে?

gass

ওপরের ইনফোগ্রাফিক সেন্টার ফর রিসার্চ অন অ্যানার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) তথ্যের ভিত্তিতে যুদ্ধের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানির সবচেয়ে বড় আমদানিকারকদের নাম জানা যাচ্ছে।

চাহিদার বেড়েছে রাশিয়ার কালো স্বর্ণের।

ইউক্রেন আগ্রাসনের কয়েক বছর আগে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার বেশ কয়েকবার চক্রাকারভাবে ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে করোনা মহামারিতেও। রাশিয়া বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী দেশ ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক। ইউক্রেন আগ্রাসনের পর থেকে জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রাশিয়া তেল থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় করেছে। এ খাত থেকে দেশটি ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার আয় করে, যা সব জ্বালানির মধ্যে এটি অর্ধেক।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে রাশিয়া থেকেই ৪১ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি হয়। কিছু দেশ ব্যাপকভাবে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। রাশিয়া এই সময়ের মধ্যে যে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের পাইপলাইন গ্যাস রপ্তানি করেছে, তার মধ্যে ৮৫ শতাংশই গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে।

জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসসহ ইইউ এবং ন্যাটো উভয়ের সদস্যই আছে বৃহত্তম আমদানিকারকদের মধ্যে। শুধু চীন তাদের ছাড়িয়ে গেছে আমদানিতে। চীন মে মাসে প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল আমদানি করেছে রাশিয়া থেকে। এটি আগের বছরের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি। চীনের কাছে তেল বিক্রিতে সৌদি আরবকে পেছনে ফেলেছে রাশিয়া।

আমদানিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারত। ১০০ দিনে রাশিয়ার মোট তেল রপ্তানির ১৮ শতাংশই হয়েছে ভারতে। এই তেলের একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পরিশোধিত পণ্য হিসাবে পুনরায় রপ্তানি করা হচ্ছে।

রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা হ্রাস করেছে যেসব দেশ

gass

যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেনসহ আরও কয়েকটি দেশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়ার কাছ থেকে। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও সুইডেনের প্রতি মাসের আমদানির পরিমাণ ১০০ থেকে ৯৯ শতাংশ কমে গেছে।

বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনায় রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির পরিমাণ এ মাসে ১৫ শতাংশ কমেছে। ইইউ নিষেধাজ্ঞার নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সম্প্রতি। এ নিষেধাজ্ঞা রাশিয়া থেকে আনা ৯০ শতাংশ তেলের ওপরই কার্যকর হবে। কিছু দেশ রুবল পেমেন্ট স্কিম প্রত্যাখ্যান করেছে, যার ফলে আমদানি কমে গেছে।

আমদানি নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ইইউ সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ষষ্ঠ নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়ান সমুদ্রজাত অপরিশোধিত তেলে ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইইউ। যা রাশিয়া থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তেল আমদানির ৯০ শতাংশ পূরণ করে। সম্ভবত ছয় থেকে আট মাস পর সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন রাশিয়ার তেল নেওয়া পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করছে, তখন বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ান গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর পূর্ণ বয়কট ইউরোপীয় অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্থ করবে।

সূত্র: ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ডট কম


আরও খবর



‌‌‌‌‘পদ্মা সেতু খুলে দেবে খেলাধুলার দুয়ারও’

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
Image

রাত পোহালেই নতুন এক বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে স্বপ্নের একটি সেতু প্রমত্ত পদ্মার দুই পাড়ের স্বপ্নের বন্ধন তৈরি করেছে । এটা কেবল একটি সেতুই নয়, বাঙালি জাতির গর্ব, অহংকার। শনিবার সকালে সেই অহংকারের পূর্ণতা পাবে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন বহুল প্রতীক্ষিত এই সেতু।

বাংলাদেশও যে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প করতে পারে, সেটাই দেখিয়ে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এই সেতু দেশের অর্থনৈতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, চিকিৎসা, পর্যটন ও খেলাধুলাসহ সব বিষয়ে আনবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার মেলবন্ধন হবে পুরো দেশের সঙ্গে।

আবদুস সালাম মুর্শেদী-যিনি একাধারে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক। সাবেক এই তারকা ফুটবলার খুলনা-৪ আসনের সরকারী দলীয় সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি এবং বাফুফের প্রফেশনাল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান।

পদ্মা সেতুর প্রভাব খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সেক্টরে কিভাবে পড়বে, তা নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জাগো নিউজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ সংবাদদাতা রফিকুল ইসলাম।

জাগো নিউজ: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তারপরই যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে পদ্মা সেতু। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কিভাবে দেখছেন স্বপ্নের এই বাস্তবায়নকে?

সালাম মুর্শেদী: পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বললে কেবল খেলাধুলার মধ্যে সীমিত রাখা যাবে না। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সব সময়ই খেলাধুলায় বিশেষ অবদান রেখে এসেছে। কেবল ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা হকিই নয়-এই অঞ্চলের মানুষ প্রায় সব খেলাতেই অবদান রেখে আসছে। তারা আবার নতুন করে ব্যাপকভাবে খেলাধুলায় অবদান রাখতে পারবে।

জাগো নিউজ: পদ্মার কারণে দেশের বড় অংশের সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর একটা দূরত্ব ছিল। পদ্মা সেতু সেই দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে। আপনিও ওই অঞ্চলের মানুষ। নিশ্চয়ই আপনিও সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়।

সালাম মুর্শেদী: দেখুন, আমি আপনার সঙ্গে কথা বলা শেষ করেই রওয়ানা দেবো পদ্মার পাড়ের দিকে। রাতে সেখানেই আমার এক বন্ধুর বাসায় থাকবো। কারণ, সকালে এত ভিড় ঠেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়া কঠিন হবে। আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কথা বলছেন? ওই অঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের জন্য পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার। আমার খুলনা শিল্প নগরী। ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়ে গিয়ে ওই অঞ্চলের মাধ্যমে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে ১.২৩ শতাংশ অবদান রাখবে এই সেতু।

জাগো নিউজ: পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। এই সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। দেশের এই অর্জনকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

সালাম মুর্শেদী: দেখুন, এই সেতুটা কেবল একটু সেতুই নয়, এটা আমাদের সামর্থ্যর প্রতীক, গর্বের প্রতীক। এই সেতু তৈরির একক কৃতিত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনার। তার সাহস আর প্রজ্ঞা দেশ ও জাতিকে উপহার দিতে পেরেছে এই সেতু।

জাগো নিউজ: ব্যবসা-বাণিজ্যে এই সেতু কিভাবে কাজে আসবে?

সালাম মুর্শেদী: এই সেতুর কয়েকটি মৌলিক দিক আছে। এক. এই সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দেশের সব অঞ্চলের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করবে। দুই. ওই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে যাতায়াতের সময় কমবে, মানুষের খরচ কমবে। পায়রা বন্দর, বেনাপোলের ব্যবহার বেড়ে যাবে। এই সেতু ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রও তৈরি হবে। কুয়াকাটা, সুন্দরবন ঘিরে পর্যটক বাড়বে। নতুন নতুন হোটেল, মোটেল তৈরি হবে। তিন. সার্কসহ আঞ্চলিক যোগসূত্র বেড়ে যাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হবে।

জাগো নিউজ: যুগের পর যুগ দেখে আসছি এই প্রমত্ত পদ্মায় নানা দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। চিকিৎসা নিতেও ওই অঞ্চলের মানুষ প্রয়োজনীয় সময়ের মধ্যে ঢাকা পৌঁছাতে পারতো না।

সালাম মুর্শেদী: ঠিকই বলেছেন-এই ভয়াল পদ্মা পার হতে গিয়ে অনেক মানুষ মারা গেছেন। সেই করুণ ইতিহাস আমরা জানি। মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে ঢাকা যেতে পারতো না। নদী পাড় হতে হতে অসুস্থ মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনাও আছে। এখন আর ঘাটে বসে বা পদ্মায় ডুবে মানুষকে মরতে হবে না। ওই অঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ বিশেষ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে দ্রুতসময়ে ঢাকায় আসতে পারবে।

জাগো নিউজ: খেলাধুলায় কেমন প্রভাব ফেলবে এই পদ্মা সেতু?

সালাম মুর্শেদী: আমি বলবো অন্যান্য সেক্টরের মতো খেলাধুলার দুয়ারও খুলে যাবে পদ্মা সেতুতে। আর সেটা সব ধরনের খেলারই। আমি যদি ফুটবলের কথা বলি, তাহলে বেশ কয়েকটি জেলায় এখন খেলা চালাতে পারবো। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনা করছি। এখন ভেন্যু নিয়ে ক্লাবগুলোকে আর হাপিত্যেশ করতে হবে না। ভেন্যু ভাগাভাগি করেও ব্যবহার করতে হবে না। এখন প্রিমিয়ার লিগটা সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে।

জাগো নিউজ: পদ্মার পশ্চিম পাড়ে এতদিন একটি মাত্র ভেন্যু ছিল গোপালগঞ্জে। সেখানে খেলতে যাওয়া-আসার সময় ক্লাবগুলোকে পদ্মার পাড়ে নাকাল হতে হতো। এখন আর সেই অবস্থা থাকবে না। আপনি চাইলে আরো ভেন্যু বাড়াতে পারবেন।

সালাম মুর্শেদী: আমি বিশ্বাস করি, বরিশাল ও খুলনায় দ্রুতই প্রিমিয়ার লিগের ভেন্যু কার সম্ভব হবে। এ ছাড়াও ভেন্যু করার মতো স্টেডিয়াম আছে বরিশাল, ফরিদুপর, যশোর, মাগুড়া, বাগেরহাটে। কিছু স্টেডিয়াম ছোট হলেও সেখানে নতুন করে কিভাবে কি করা যায় সেটা দেখবো।

জাগো নিউজ: আপনার জেলা খুলনার খেলাধুলায় অতীত ঐতিহ্য আছে। পদ্মা সেতু হওয়ার পর নিজের জেলা নিয়ে কি ভাবছেন?

সালাম মুর্শেদী: আমি মনে করি, পদ্মা সেতু চালুর মধ্যে দিয়ে খুলনার খেলাধুলার অতীত ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে। সব খেলার জাতীয় দলেই এই জেলা এবং এই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।

জাগো নিউজ: আপনি যদি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভেন্যু বাড়াতে পারেন তাহলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ওপর চাপও কমবে। তখন দেশের খেলাধুলার প্রধান এই ভেন্যু নিয়ে কি ভাববেন?

সালাম মুর্শেদী: বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ছাড়াই ১২ ক্লাবের জন্য ১২টি ভেন্যু করা হবে। প্রিমিয়ার লিগের কোনো খেলা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হবে না। এখানে জাতীয় অনুষ্ঠান, ফেডারেশন কাপ ফুটবল, স্বাধীনতা কাপ ফুটবল, ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক খেলা হবে।

জাগো নিউজ: বাফুফে চাইলে তো ঢাকার বাইরে আন্তর্জাতিক ভেন্যুও বাড়াতে পারবেন, তাই না?

সালাম মুর্শেদী : অবশ্যই। আমাদের বরিশাল স্টেডিয়ামে তো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ও ম্যাচ আয়োজন করাই যায়। এর বাইরেও যে সব জেলা শহরের স্টেডিয়ামের সাইজ আন্তর্জাতিক মানের সেই সব স্টেডিয়ামকেও আমরা আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে রূপান্তরিত করতে পারবো।

জাগো নিউজ: সরকারের একটা পরিকল্পনা আছে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল নিয়ে একটি নতুন বিভাগ করার। যার নাম হতে পারে পদ্মা বিভাগ। সেটা হলে তো একটি বিভাগীয় শহরও থাকবে। যেখানে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধাও তৈরি করতে হবে।

সালাম মুর্শেদী: অবশ্যই। নতুন বিভাগ চালু হলে সেখানে দেশের প্রধান তিন খেলা ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির জন্য আলাদা স্টেডিয়ামতো থাকবেই। সেই সঙ্গে অন্যান্য খেলার সুযোগ-সুবিধাও তৈরি করবে সরকার।

জাগো নিউজ: পদ্মার পাড়ে একটি অত্যাধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স তৈরির চিন্তা-ভাবনাও আছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের। সেটা হলেও তো ক্রীড়া ক্ষেত্রে আরো বড় অবদান রাখবে এই কমপ্লেক্স?

সালাম মুর্শেদী: এমন একটা পরিকল্পনা আছে। পদ্মার পশ্চিম পাড়ে কমপ্লেক্স তৈরির জন্য জমিও খোঁজা হচ্ছে। এই কমপ্লেক্সটা এতটাই আধুনিক হবে যে, এখানে দেশের সব খেলার জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এটা হবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নতুন এক অধ্যায়। যে কমপ্লেক্সে খেলাধুলার অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা, থাকার জন্য ডরমেটরি-সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে।

জাগো নিউজ: অতি ব্যস্ত এক সন্ধ্যায় অনেক সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

সালাম মুর্শেদী: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।


আরও খবর