Logo
শিরোনাম

নামাজের সময়সূচি : ১৮ জুন ২০২২

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২ | ৫৭জন দেখেছেন
Image

আজ শনিবার ১৮ জুন ২০২২ ইংরেজি, ০৪ আষাঢ় ১৪২৯ বাংলা, ১৭ জিলকদ ১৪৪৩ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

> জোহর- ১২:০৩ মিনিট।
> আসর- ৪:৩৯ মিনিট।
> মাগরিব- ৬:৫১ মিনিট।
> ইশা- ৮:১৮ মিনিট।
> ফজর (১৯ জুন)- ৩:৪৪ মিনিট।

> আজ সুর্যাস্ত- ৬:৪৭ মিনিট।
> আগামীকালের (১৯ জুন) সূর্যোদয়- ৫:১১ মিনিট।

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তাহলো-

বিয়োগ করতে হবে-
> চট্টগ্রাম : -০৫ মিনিট
> সিলেট : -০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে-
> খুলনা : +০৩ মিনিট
> রাজশাহী : +০৭ মিনিট
> রংপুর : +০৮ মিনিট
> বরিশাল : +০১ মিনিট

তথ্যসূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন


আরও খবর



‘তিনবছরেই তেলের আমদানি ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব’

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
Image

তৈলজাতীয় ফসলের চাষ বাড়ানো গেলে মাত্র তিনবছরেই ভোজ্যতেলের আমদানি ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) গাজীপুরে ব্রির প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে আয়োজিত শস্য বিন্যাস উন্নয়ন ও ফসলের জাত নির্বাচন পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ব্রি মহাপরিচালক বলেন, ধান আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। তাই ধাননির্ভর খাদ্যনিরাপত্তার কোনো ব্যতয় ঘটানো যাবে না। সেটি নিশ্চিত রেখে অন্যান্য ক্যাশ ফসল উৎপাদন করার জন্য আমরা ব্রি ও বারি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশা করি, এই পদক্ষেপের ফলে উফশী ধানের শস্য বিন্যাসে সরিষা, পেঁয়াজসহ অন্যান্য দামি ফসলের আবাদ অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমানে দেশের ৮৮ শতাংশ তেলের চাহিদা আমদানিনির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই যৌথ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী তিনবছরেই তেলের আমদানি ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ব্রির পরিচালক (গবষেণা) ড. মো. খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবষেণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্রির রাইস ফার্মিং সিস্টেম বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইব্রাহিম এবং সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বারির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাজহারুল আনোয়ার।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে উভয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে দেশের ১৪টি অঞ্চলের শস্য বিন্যাসে আরও কী কী ফসল অন্তর্ভুক্ত করা যায় সে বিষয়ে সাতটি দলগত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

কর্মশালায় বারির মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সরকারের নির্দেশনা হচ্ছে- ধান যেহেতু আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য সেহেতু ধানের উৎপাদন অক্ষুণ্ণ রেখে অন্যান্য দামি ফসল যেমন- তৈলবীজ, ফলমূল ও শাকসবজি চাষ বাড়াতে হবে যাতে চালের পাশাপাশি অন্য ফসলেও আমরা স্বনির্ভর হতে পারি। কেননা করোনাকালে আমরা দেখেছি অনেক দেশ খাদ্য আমদানিতে হিমশিম খেয়েছে। টাকা থাকা সত্ত্বেও অনেকসময় আমদানি করা যায় না। তাই আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে প্রয়োজনীয় সব ফসলে আমাদের স্বনির্ভর হতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যে ব্রি-বারি এই যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিজ্ঞানী এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা অংশ নেন।


আরও খবর



সংক্রমণ বাড়ছে, শিগগির বুস্টার ডোজ নিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
Image

দেশ এবং দেশের বাইরে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে জানিয়ে সবাইকে শিগগির করোনা প্রতিরোধী টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেছেন, যারা এখনো বুস্টার ডোজ নেননি, শিগগির নিয়ে নিন। কারণ, করোনা কিছুটা হলেও বাড়তি আমাদের দেশে। আশপাশের দেশগুলোতেও সংক্রমণ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ওষুধ শিল্প সমিতির সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার বিষয়ে অনীহা আছে। এক্ষেত্রে বুস্টার ডোজ দ্রুত নিশ্চিত করতে কোনোরকম বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে কি না- জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বুস্টার ডোজ যারা নিয়েছেন তাদের মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে। তাই আমরা আহ্বান করবো, যারা এখনো নেননি অতি শিগগির নিয়ে নিন।

দেশে করোনা সংক্রমণের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে এখনই বুস্টার ডোজ নেয়ার প্রকৃত সময় বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


আরও খবর



বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ‘হাউজিং লোন’ নামে ২০ হাজার কোটি টাকার রিফাইন্যান্সিং তহবিল গঠনসহ নির্মাণসামগ্রীর মূল্য কমানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘ঘোষিত জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩ সম্পর্কিত রিহ্যাবের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, আমাদের দাবিসমূহ সম্পৃক্ত করা হলে এই খাত সরকারের রাজস্ব আয়ে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ঝুঁকি মুক্ত হবে। কারণ নতুন সম্পদ সৃষ্টি প্রবৃদ্ধিকে সরাসরি ধনাত্মক করে। অন্যথায় এ খাতের সঙ্গে যুক্ত সব ব্যবসায়ী মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হবেন। সর্বোপরি দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এরআগে আবাসন শিল্পের সব সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাশে থেকেছেন, নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন। এই শিল্পের বর্তমান সংকটেও সঙ্গে থাকবেন এমনটাই প্রত্যাশা এই খাতের বিনিয়োগকারীদের।

শামসুল আলামিন বলেন, রিহ্যাবের বাজেট প্রস্তাবনায় আমরা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলাম স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখা। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অর্থনীতির মূল ধারায় এসেছে। সরকার দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব পেয়েছে। এই টাকা দেশে বিনিয়োগ না হলে তার গন্তব্য কোথায় তা আপনারা নিশ্চয়ই জানেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে ডলারের সংকট কেন তৈরি হয়েছে সেটাও আপনারা জানেন। গত বাজেট অনুমোদনের পর অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যার অভাবে বিনিয়োগ কম হয়েছে। স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিতে একটা ভালো সুফল আসবে।

‘নানা কারণে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি টালমাটাল। আগামীতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। সেটির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মানি ট্রাফিকিং রোধ করার চেষ্টা করছে। স্ব-স্ব দেশ বৈদেশিক মুদ্রা কীভাবে দেশের ভেতরে রাখা যায় তার ব্যবস্থা করছে। কাজেই আমরা এই অবস্থায় যদি অপ্রদর্শিত অর্থ পাচারের সুযোগ না রেখে মূল ধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসতে পারি তবে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং আসন্ন সঙ্কট মোকাকিলা করা সহজ হবে।’

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, অর্থমন্ত্রী গত ১৫ জুন সরকারি অর্থনৈতিক ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে বলেছেন, ‘অপ্রদর্শিত অর্থ উৎপাদনের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থাটাই দায়ী’। হঠাৎ করে বা রাতারাতি সিস্টেম পরিবর্তন করা সম্ভব না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে নিবন্ধন ব্যয় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ থেকে ৩ শতাংশে নিয়ে এসে ধীরে ধীরে সিস্টেম পরিবর্তন করলে তবেই সঠিক মূল্যে রেজিস্ট্রেশন হবে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ বলে গণ্য করা যাবে।

ঘোষিত বাজেটে পাচারকৃত টাকা দেশে আনার বিষয়ে আইন করা হয়েছে, এটি সাহসী পদক্ষেপ। কিন্তু দেশ থেকে যাতে টাকা পাচার না হয়, সেদিকেই আমাদের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। বিনা প্রশ্নে উত্তম বিনিয়োগের সুযোগ ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে নির্দেশিত নির্দেশনার আদলে এখন বাস্তব সম্মত ও সময় উপযোগী বলে মন্তব্য করেন শামসুল আলামিন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- রিহ্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইন্তেখাবুল হামিদ, সহ-সভাপতি (প্রথম) কামাল মাহমুদ, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল, লায়ন শরীফ আলী খান, প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা প্রমুখ।


আরও খবর



পড়তে এসেছি, মরতে নয়

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ | ২২জন দেখেছেন
Image

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তার বিখ্যাত কবিতা ‘ছাড়পত্রে’ লিখেছেন;
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব-তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ।
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

জাতির কারিগরদের উচিত কবি সুকান্তের সুরে সুর মিলিয়ে ‘প্রাণপণে পৃথিবীর জঞ্জাল সরানোর অঙ্গীকার করা। বিশেষ করে শিশুর বাসযোগ্য একটি সমাজ ব্যবস্থার জন্য। যেটি সবারই কাম্য। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের শিশু-কিশোররা তাদের শৈশব হারিয়ে ফেলছে। তাদের কাঁধে চেপেছে বিদ্যার ভার। অনেক ক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে বিদ্যার ভার বেশি।

শিক্ষার্থীদের বয়সের তুলনায় পাঠ্যবই এত বেশি থাকে যে তা একজন শিশু-কিশোরের পক্ষে বয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অভিভাবকরাও এই ইঁদুর দৌড়ে শামিল হন। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে মাত্রাতিরিক্ত প্রত্যাশা জন্মে। শুরু হয় অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এজন্য আশ-পাশের সবচেয়ে ভাল বা নামকরা প্রতিষ্ঠানে (যে স্কুলে যত শাসন, যত বেশি টাকা বেতন, যত বেশি পাঠ্যবই সেটিকেই ভাল প্রতিষ্ঠান মনে করা হয়।) সন্তানকে না পড়ালে যেন জীবন বৃথা। আর এই চাওয়া-পাওয়ার যাঁতাকলে পড়ে শিক্ষার্থীর জীবন হয়ে পড়ে অতিষ্ঠ। একদিকে স্কুলের চাপ, অন্যদিকে অভিভাবকের আকাশসম প্রত্যাশা। মাঝখানে গিনিপিগ শিক্ষার্থীরা। এই সুযোগে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো-যেগুলোকে আসলে শিক্ষাবাণিজ্যের জন্যই সৃষ্টি করা হয়-তাদের অবস্থা রমরমা। এই বাণিজ্য এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠছে যে কোনো উপায়ে একজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যা গেলানো হবে। এতে তার জীবন থাক বা না থাক- সেটি বিবেচ্য নয়। বাণিজন্যই প্রধান।

টাঙ্গাইলের শিশু শিহাবের অপমৃত্যু কি শিক্ষার এই বাণিজ্যিকীকরণের ফল? টাঙ্গাইলের সৃষ্টি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু শিহাবের (১২) মরদেহ গত ২০ জুন আবাসিক ভবনের সাত তলার বাথরুমের একটি কক্ষ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। এর পর থেকেই শিশুটির মৃত্যু নিয়ে নানা আলোচনার জন্ম দেয়। শিহাব জেলার সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেন ও আসমা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান।

পড়তে এসেছি, মরতে নয়

শিশুর পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে সাজিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আর স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি শিশুটি আত্মহত্যা করেছে। রোববার (২৬ জুন) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে গলাটিপে বা শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এর পরই রোববার পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই স্কুল ভবনে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের সৃষ্টি স্কুলের অধ্যক্ষসহ ৯ শিক্ষককে আটক করেছে।

শিহাবের বাবা ইলিয়াস হোসেনের ভাষ্যমতে, 'বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে বাচ্চাকে ভালো শিক্ষার জন্য যাদের কাছে দিয়েছিলাম তাদের কাছ থেকে সন্তানকে লাশ হিসাবে ফেরত পেয়েছি। আমার বাবারে ওরা মাইরা ফেলছে। স্কুলটি মানুষ গড়ার কারখানা নয়, টাকা কামানোর কারখানা! আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার চাই।’

শিহাবের মা আসমা আক্তারের দাবি- ‘আমার সন্তান কিছুতেই আত্মহত্যা করতে পারে না, আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই’। শিহাবের মা-বাবার আহাজারিতে গোটা এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। সন্তান হারানোর শোকে শিহাবের বাবা-মা বাকরুদ্ধ। তাদের আহাজারিতে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। এমন মৃত্যু কিছুতেই কাম্য নয়।

পড়তে এসেছি, মরতে নয়

শিহাব হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকা। বিচার দাবিতে অভিভাবক-শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষেরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ করছেন। রাজু ভাস্কর্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত টাঙ্গাইলের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। এসব মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সৃষ্টি স্কুলের ছাত্রাবাসে শিশু শিক্ষার্থী শিহাবের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করা হয়। এবং সৃষ্টি স্কুল-কলেজ বন্ধ করার দাবি করা হয়।

গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে, স্কুলের আবাসিক ভবনের যেখানে শিহাব থাকত, সেখানে তার পরিবারের কাউকে যেতে দেওয়া হতো না। তাকে হত্যা করে আত্মত্যা বলে ধামাচাপার নানা ফন্দি স্কুল কর্তৃপক্ষ করেছিল।

মৃত্যুর চার মাস আগে সৃষ্টি একাডেমিতে পঞ্চম শ্রেণিতে শিহাব মিয়াকে ভর্তি করা হয়। শিহাবের দাদা ইসমাইল হোসেনের ভাষ্য, ‘বাড়ি থেকে যোগাযোগের জন্য ফোন করা হলে সব সময় শিহাবকে পাওয়া যেত না। সৃষ্টি কর্তৃপক্ষ শিহাবের হাতে ফোন দিত না। বিষয়টি খুব রহস্যজনক ছিল।’

পড়তে এসেছি, মরতে নয়

শিশু শিহাব হত্যার বিষয়ে নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। যে কক্ষে শিহাব থাকতো সে কক্ষে বাথরুম থাকলেও শিহাবের মরদেহ পাওয়া গেছে একই ফ্লোরের অন্য একটি বাথরুমে। শিশু শিহাব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠেছে টাঙ্গাইলসহ সারা দেশে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিশুটির ছবি দিয়ে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন নেটনেটিজেনরা। এমনকি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধেরও দাবি করছেন তারা। সৃষ্টি স্কুল-কলেজে অনেক শাখা রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। অভিযোগ রয়েছে, সৃষ্টি শিক্ষা পরিবারের কর্ণধার বহু অর্থের মালিক বনে গেছেন শিক্ষাবাণিজ্যে।

শিশু শিহাবের কী অপরাধ ছিল তাকে এভাবে জীবন দিতে হল? আমরা চাই শিহাব হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন হোক। শিহাবের মতো আর কোনো শিশু যেন এভাবে নির্মমতার শিকার না হয়। আর কোনো মা-বাবার বুক যেন খালি না হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা আশা করবো তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। আর সে অনুযায়ী দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হবে।

বন্ধ হোক শিক্ষার নামে বাণিজ্য। আর কোনো শিহাবকে যেন শিক্ষাবাণিজ্যের শিকার হয়ে পৃথিবী থেকে অকালে বিদায় নিতে না হয়। কবি সুকান্তের চাওয়ার মতো আমরা এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাওয়ার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাব- এই হোক অঙ্গীকার।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।


আরও খবর



ভয় নেই, আমরা আপনাদের পাশে আছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 | ২৩জন দেখেছেন
Image

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, অনেকেই পানিবন্দি হয়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে আমরা আর্মি নিয়োগ করেছি। নৌকা ও স্পিডবোট সংগ্রহ করা হচ্ছে। সবাইকে দ্রুত উদ্ধার করে আশ্রয়স্থলে নিয়ে যাওয়া হবে। সবাইকে উদ্ধার করা হবে। ভয় নেই, আমরা আপনাদের পাশে আছি।

আজ শুক্রবার বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ভিডিওবার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত রাত ও আজ সকাল থেকে সিলেটের নেতাকর্মীরা কন্টিনিউয়াসলি আমাকে জানাচ্ছেন, সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, সুনামগঞ্জ, ছাতক, সদরের জালালাবাদ, হাটখোলা, কান্দিরগাঁও, মোংলাগাঁও টোকেরগাঁও- সব এলাকায় যথেষ্ট পানি উঠেছে। এ নিয়ে আমাকে ডিসি, মেয়র ও সহকর্মীরা জানিয়েছেন। এটা জানার পর যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি বলেন, আমি জানার পরপরই প্রধানমন্ত্রী, আমাদের কেবিনেট সেক্রেটারি, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, সংশ্লিষ্ট আর্মি অফিসার, দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আমাদের রিলিফের কোনো অভাব নেই। যথেষ্ট রিলিফ দেওয়া হয়েছে। নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। আর শুকনো খাবারও দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে সিলেটে ২০০ টন চাল, নগদ ৩০ লাখ টাকা, ৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে আরও পাঠানো হবে।

এসময় মন্ত্রী স্থানীয় নেতাকর্মীদের খাবার রান্না করে নিয়ে বানভাসিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ইলেকট্রিসিটির সমস্যাও সমাধান করা যায়নি। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে এ সমস্যা হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এগুলো নিয়ে কাজ করছেন। আপনাদের ভয় নেই, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমাদের সব প্রশাসন কাজ করছে। আপনারা বিশ্বাস রাখতে পারেন, আওয়ামী লীগ সরকার যতদিন আছে আপনাদের সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবে।


আরও খবর